📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হজ্জ ও অন্যান্য মৌসুমে আরব গোত্রসমূহের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁর ইসলামের প্রতি দাওয়াত

📄 হজ্জ ও অন্যান্য মৌসুমে আরব গোত্রসমূহের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁর ইসলামের প্রতি দাওয়াত


ইবন ইসহাক বলেন: এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় ফিরে আসেন। কিন্তু এবার তাঁর সম্প্রদায় তাঁর বিরোধিতা ও ইসলামের শত্রুতায় আরও কঠোর হয়ে উঠল। সামান্য কিছুসংখ্যক দুর্বল লোকই ছিল ব্যতিক্রম, যারা তাঁরা প্রতি ঈমান এনেছিল। তিনি হজ্জ ইত্যাদি মৌসুমে আরব গোত্রসমূহের সামনে নিজেকে পেশ করে, তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। তিনি তাদের জানাতে থাকলেন: তিনি আল্লাহর প্রেরিত নবী। তিনি তাদেরকে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁর সমর্থন করতে অনুরোধ জানালেন। যাতে তিনি তাদের সামনে আল্লাহ্ সে বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন, যার জন্য তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে হুসায়ন ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রবী'আ ইব্‌ন আব্বাদের কাছে আমার পিতাকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি প্রথম যৌবনে পিতার সাথে মিনায় যাই। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন আরব গোত্রসমূহের তাঁবুতে গিয়ে বলছিলেন: হে অমুক গোত্র! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি। তাঁর নির্দেশ, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে। তাঁর সাথে কোন শরীক স্থির করবে না। তোমরা এই সব দেবদেবীর পূজা-অর্চনা করছ, তা পরিত্যাগ কর। আমার প্রতি ঈমান আন, আমার দীন স্বীকার কর এবং আমার পক্ষ হয়ে দুশমনের প্রতিরোধ কর। এটা করলে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ্র বাণী পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারব।
রাবী বলেন: তখন আদানী পোশাক পরিহিত এক টেরাচোখবিশিষ্ট উজ্জ্বল চেহারার লোক তার পিছু নিয়েছিল, যার মাথায় ছিল চুলের দু'টি খোঁপা। রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ভাষণ ও দাওয়াত শেষ হলে সে বলে উঠল: হে অমুক গোত্র! এই লোকটা তো তোমাদের লাত ও উয্যাকে পরিত্যাগ করার আহবান জানাচ্ছে। তাঁর কথা হচ্ছে, তোমরা মালিক ইব্‌ন উকায়শ গোত্রীয় জিনদের বন্ধুত্ব পরিহার করে তার উপস্থাপিত অভিনব ও বিভ্রান্তির মতাদর্শ গ্রহণ করে নাও। সাবধান! তোমরা তাঁর অনুসরণ করো না। তাঁর কথায় কর্ণপাত করো না।
রাবী বলেন: তখন আমি আমার পিতাকে বললাম: হে পিতা! রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর পেছনের এই লোকটা কে, যে তাঁর কথা খণ্ডন করার চেষ্টা করছে? তিনি বললেন: এ হচ্ছে তাঁর চাচা আবদুল উয্যা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব অর্থাৎ আবূ লাহাব।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ কালবকে ইসলামের দাওয়াত

📄 বনূ কালবকে ইসলামের দাওয়াত


ইবন ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুর রহমান ইবন হুসায়ন আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) কালব গোত্রের তাঁবুতে উপস্থিত হন। তাদের একটি শাখার নাম ছিল বনু আবদুল্লাহ। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান জানান এবং নিজেকে তাদের সামনে পেশ করেন। তিনি তাদের বলছিলেন: হে বনু আবদুল্লাহ্! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের পূর্বপুরুষের বড় সুন্দর নামকরণ করেছেন। কিন্তু তারাও তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করল না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনূ হানীফাকে ইসলামের দাওয়াত

📄 বনূ হানীফাকে ইসলামের দাওয়াত


ইবন ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ ইব্‌ন কা'ব ইবন মালিকের সূত্রে আমাদের জনৈক সাথী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনূ হানীফার তাঁবুতে গিয়ে তাদেরকে আল্লাহ্ দিকে ডাকেন এবং তাদের সামনে নিজেকে পেশ করেন। কিন্তু তাদের মত নিকৃষ্টভাবে তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান আর কোন আরব গোত্র করেনি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বনু আমিরকে ইসলামের দাওয়াত

📄 বনু আমিরকে ইসলামের দাওয়াত


ইবন ইসহাক বলেন: ইমাম যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বনু আমির ইবন সা'সা'আর তাঁবুতে পৌঁছে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি আহবান করেন এবং তাদের সামনে নিজকে পেশ করেন। তাদের মধ্যে বায়হারা ইব্‌ন ফিরাস নামে এক লোক ছিল। ইন্ন হিশাম তার বংশ তালিকা এরূপ বর্ণনা করেন: ফিরাস ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন সালামা (ঝাল-খায়র) ইব্‌ন কুশায়র ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন রবী'আ ইবন আমির ইবন সা'সা'আ। বায়হারা বলে উঠল: আল্লাহর কসম! আমি যদি এই কুরায়শ যুবককে গ্রহণ করি, তাহলে সারা আরব জাহানকে আমি গ্রাস করতে পারব। এরপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে লক্ষ্য করে বলল:
আমরা যদি আপনার ধর্মাদর্শ গ্রহণ করে আপনার আনুগত্য স্বীকার করি, এরপর আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে আপনার প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী করেন, তবে আপনার পরে কি আমরা ক্ষমতা লাভ করব?
তিনি বললেন: সকল কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা আল্লাহ্রই হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। বায়হারা বলল: বটে, আপনি আপনার জন্য আমাদের বক্ষকে সারা আরব সম্প্রদায়ের অস্ত্রের লক্ষ্য বানাবেন, আর বিজয় লাভের পর কর্তৃত্ব পাবে অন্যরা? আমাদের কোন দরকার নেই আপনার দাওয়াত গ্রহণের। এভাবে তারাও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল।
হজ্জ শেষে অপরাপর লোকের মত বনূ আমির গোত্রও দেশে ফিরে গেল। তাদের এক বয়োবৃদ্ধ মুরব্বী ছিল। অনেক তার বয়স। তাদের সাথে হজ্জে যাওয়ার শক্তি সে রাখত না। প্রতি বছর তারা হজ্জ থেকে ফিরে এসে তাকে সে বছরের হজ্জের বিবরণ শোনাত। বরাবরের মত এ বছরও তারা ফিরে আসলে, সে তাদের কাছে হজ্জের ঘটনাবলী জিজ্ঞেস করল। তারা বলল: এবার জনৈক কুরায়শী যুবক আমাদের কাছে এসেছিল। সে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর। তার দাবি, সে নবী। আমাদেরকে তাঁর ধর্মাদর্শ গ্রহণ ও তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ানোর দাওয়াত দিয়েছিল। আরও প্রস্তাব করেছিল, তাকে আমাদের দেশে নিয়ে আসি। এ কথা শুনে বৃদ্ধ মাথায় হাত দিল। তারপর বলল: হে বনু 'আমির! এর কি কোন ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা আছে? যা হারিয়েছ, তা কি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব? আল্লাহর কসম! ইসমাঈলের বংশে কেউ কখনও মিথ্যা নবুওয়াতের দাবি করেনি। তার দাবি সত্য। তোমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কি করে ভুল করলে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00