📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুদখোরদের অবস্থা

📄 সুদখোরদের অবস্থা


তিনি বলেন: এরপর আমি আরও কিছু লোক দেখলাম, যাদের পেটের মত বীভৎস পেট আমি আর কখনও দেখিনি। তারা ফির'আউন সম্প্রদায়ের গমন পথে তৃষ্ণার্ত উটের মত পড়েছিল। ফির'আউন সম্প্রদায় জাহান্নামে গমনকালে তাদের পায়ের তলে পিষ্ট করে যাচ্ছিল। তাদের এতটুকু ক্ষমতা ছিল না যে, সে স্থান থেকে সরে গিয়ে নিজেদের সে দুর্গতি হতে রক্ষা করবে।
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হচ্ছে সুদখোরের দল।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ব্যভিচারীদের অবস্থা

📄 ব্যভিচারীদের অবস্থা


নবী (সা) বলেন: এরপর আমি আরও একদল লোক দেখলাম। তাদের সামনে রয়েছে পরিপুষ্ট উপাদেয় গোশত এবং তার পাশে দুর্গন্ধযুক্ত নিকৃষ্ট গোশত। তারা সেই উৎকৃষ্ট গোশত রেখে নিকৃষ্ট পুঁতিগন্ধময় গোশত খাচ্ছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যে সব স্ত্রীলোক অন্যান্য ঔরসজাত সন্তানকে স্বামীর ঔরসজাত বলে চালিয়ে দেয়

📄 যে সব স্ত্রীলোক অন্যান্য ঔরসজাত সন্তানকে স্বামীর ঔরসজাত বলে চালিয়ে দেয়


তিনি বলেন: এরপর আমি স্তনে রশি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা একদল নারী দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা সেইসব নারী, যারা অন্যের ঔরসজাত সন্তানকে স্বামীর ঔরসজাত সন্তানরূপে চালিয়ে দিত।
ইবন ইসহাক বলেন: কাসিম ইবন মুহাম্মদ হতে জা'ফর ইব্‌ন আমর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: সেই নারীর প্রতি আল্লাহ্ প্রচণ্ড ক্রোধ নিপতিত হয়, যে অন্য বংশের সন্তানকে স্বামীর বংশের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। ফলে সে সন্তান অন্যায়ভাবে তাদের অর্থ-সম্পদ ভোগ করে এবং তাদের গোপনীয়তায় (অর্থাৎ যাদের দেখা তার জন্য জায়েয নয় তাদের প্রতি) দৃষ্টিপাত করে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মি'রাজ সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর হাদীসের বাকী অংশ

📄 মি'রাজ সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর হাদীসের বাকী অংশ


আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, প্রিয় নবী (সা) বলেছেন: এরপর জিবরাঈল (আ) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছলেন। সেখানে দুই খালাত ভাই ঈসা ইবন মারইয়াম ও ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন যাকারিয়ার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়।
পরে তিনি আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে আরোহণ করেন। সেখানে আমি পূর্ণিমার চাঁদের মত সুন্দর দীপ্তিমান এক পুরুষকে দেখতে পাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি আপনার ভাই ইউসুফ ইন্ন ইয়াকুব (আ)।
তারপর তিনি আমাকে নিয়ে চতুর্থ আসমানে পৌঁছেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি হলেন ইদরীস (আ)।
আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইদরীস (আ)-এর প্রসংগ আসলে এ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। وَرَفَعْنَهُ مَكَانًا عَلِيًّا "এবং আমি তাঁকে উন্নীত করেছিলাম মর্যাদায়।” (১৯: ৫৭)।
নবী (সা) বলেন: এরপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে পঞ্চম আসমানে আরোহণ করলেন, সেখানে আমি সাদা চুল-দাড়ি ও ঘন-দীর্ঘ শ্মশ্রুমণ্ডিত এক বৃদ্ধলোককে দেখতে পেলাম। এত সুন্দর বৃদ্ধলোক আমি আর কখনো দেখিনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল। ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি স্বজাতির কাছে সমাদৃত ব্যক্তি হারুন ইবন ইমরান (আ)।
তিনি বলেন: এরপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানে আরোহণ করলেন। সেখানে আমি একজন বাদামী রংয়ের উন্নত নাসিকাবিশিষ্ট দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। তিনি ছিলেন অনেকটা শানুআ গোত্রের লোকদের মত। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি আপনার ভাই মূসা ইব্‌ন ইমরান (আ)।
এরপর তিনি আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানে আরোহণ করলেন। সেখানে দেখলাম, বায়তুল মা'মূরের দরজার কাছে এক বৃদ্ধলোক চেয়ারে বসে আছেন। বায়তুল মা'মুর এমন মসজিদ যার মধ্যে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে। একবার যারা তার মধ্যে প্রবেশ করে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত পুনরায় সেখানে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। চেয়ারে উপবিষ্ট ব্যক্তির সাথে তোমাদের এই সঙ্গীর চাইতে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি এবং তোমাদের এই সাথীর সাথেও তাঁর চাইতে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বললেন : ইনি আপনার পিতা ইবরাহীম (আ)।
নবী (সা) বলেন : এরপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করলেন। সেখানে ঈষৎকালো রক্তিম অধরবিশিষ্ট এক রূপসীকে দেখতে পেলাম। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কার? সে বলল : যায়দ ইব্‌ন হারিসার। নবী (সা) যায়দ (রা)-কে এর সুসংবাদ দান করেছিলেন।
ইব্‌ন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন : জিবরাঈল আমাকে নিয়ে যে আসমানেরই দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতেন এবং প্রবেশের অনুমতি চাইতেন, সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞেস করা হত : হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বলতেন : মুহাম্মদ! আবার জিজ্ঞেস করা হত, তাঁকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি উত্তর দিতেন : হ্যাঁ। তখন তাঁরা আমাকে স্বাগতম জানিয়ে বলতেন : তিনি একজন শ্রেষ্ঠ ভাই, উত্তম বন্ধু। এভাবে তিনি তাঁকে নিয়ে সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌঁছান। এরপর তাঁকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছান হয়। এ সময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর উপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করে দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00