📄 মি'রাজ সম্পর্কে আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-এর বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন: আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে আমার কাছে এমন এক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, যার নির্ভরযোগ্যতায় আমি সন্দেহ পোষণ করি না। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি যে, বায়তুল মুকাদ্দাসের কাজ শেষ হওয়ার পর আমার সামনে একটি সিঁড়ি উপস্থিত করা হল। আমি এমন সুন্দর জিনিস আর কখনো দেখিনি। এটাই সে বস্তু যার দিকে তোমাদের মত ব্যক্তিরা মৃত্যুকালে বিস্ফোরিত নেত্রে তাকিয়ে থাকে। আমার সঙ্গী আমাকে তার উপর সওয়ার করাল। সেটি আমাকে নিয়ে আকাশের একটি দরজায় উপনীত হল, যার নাম বাবুল হাফাযা অর্থাৎ প্রহরীদের ফটক। ইসমাঈল নামক একজন ফেরেশতা তার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল। তাঁর দুই হাতের নীচে ছিল বার হাজার ফেরেশতা, যাদের প্রত্যেকের হাতের নীচে ছিল বার হাজার করে ফেরেশতার অবস্থান।
আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন: এ হাদীস বর্ণনাকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) কুরআন মাজীদের এ আয়াত পাঠ করেন:
وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلا هُوَ
"আপনার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন।" (৭৪ : ৩১)।
এরপর তিনি বলেন, আমাকে যখন দরজার মুখে হাযির করা হল, তখন প্রশ্ন করা হল, ইনি কে, হে জিবরাঈল! তিনি বললেন: মুহাম্মদ! পুনরায় প্রশ্ন হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বলেন: হ্যাঁ। তখন সে ফেরেশতা আমার জন্য কল্যাণের দু'আ করলেন।
📄 জাহান্নামের অধিনায়ক ফেরেশতার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে দেখে না হাসা
ইবন ইসহাক বলেন: এক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন, আমি প্রথম আসমানে প্রবেশ করলে সকল ফেরেশতাই আমাকে হাসিমুখে স্বাগতম জানাল এবং আমার জন্য কল্যাণের দু'আ করল, কিন্তু এক ফেরেশতা ছিল এর ব্যতিক্রম। সে আমাকে মুবারকবাদ জ্ঞাপন ও আমার জন্য দু'আ করল ঠিকই, কিন্তু একটুও হাসল না। অন্য ফেরেশতাদের মধ্যে যে আনন্দ খুশি লক্ষ্য করলাম, তা তার মধ্যে দেখলাম না। তখন আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল! এই ফেরেশতা কে? সে তো অন্য ফেরেশতাদের মত আমাকে মুবারকবাদ জানাল ঠিকই, কিন্তু সে আমাকে দেখে একটু হাসল না এবং আমি তার মধ্যে অন্য ফেরেশতাদের মত আনন্দের ভাবও লক্ষ্য করলাম না? তখন জিবরাঈল (আ) আমাকে বলেন: শুনুন, সে যদি আপনার আগে কারও জন্য হাসত এবং আপনার পরেও কারও জন্য যদি হাসে, তবে সে অবশ্যই আপনার জন্য হাসত। আসলে সে কখনই হাসে না। এ হচ্ছে মালিক ফেরেশতা, জাহান্নামের দারোগা।
রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন: তখন আমি জিবরাঈলকে বললাম, আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে مُطَاعٍ ثُمَّ أَمِينٌ বিশেষণে ভূষিত করেছেন। অর্থাৎ ফেরেশতাগণ আপনার নির্দেশ পালন করে এবং আপনি বিশ্বাসভাজন। কাজেই এ ফেরেশতাও নিশ্চয়ই আপনার নির্দেশ পালনে বাধ্য থাকবে? আপনি তাকে বলুন না, আমাকে জাহান্নাম দেখাক?
জিবরাঈল (আ) বললেন: হে মালিক! মুহাম্মদ (সা)-কে জাহান্নাম দেখাও। সে তখন জাহান্নামের ঢাকনা খুলে দিল। সাথে সাথে জাহান্নাম বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। তার লেলিহান আগুন দাউ দাউ করে উপরে উঠে আসল। এ অবস্থা দেখে আমি মনে করলাম যে, আমি যা কিছু দেখছি, সে তা সবই গ্রাস করে ফেলবে। তখন আমি জিবরাঈলকে বললাম: শীঘ্র মালিক ফেরেশতাকে বলুন একে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিক। তিনি তাঁকে এরূপ করার জন্য নির্দেশ দিলেন। সে বলল: হে জাহান্নাম! শান্ত হও। সঙ্গে সঙ্গে সে পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল। তার সে প্রত্যাবর্তনকে আমি বিস্তারিত ছায়ার সংকোচনের সাথে তুলনা করতে পারি। জাহান্নাম তার পূর্বস্থানে ফিরে আসার পর মালিক তার উপর আবার ঢাকনা স্থাপন করল।
📄 মি'রাজ সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর হাদীসের অবশিষ্টাংশ
আবূ সাঈদ খুদরী (রা) তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: প্রথম আসমানে প্রবেশ করার পর আমি এক ব্যক্তিকে বসা অবস্থায় দেখতে পেলাম। তাঁর সামনে বনী আদমের রূহ পেশ করা হচ্ছে। কোনটিকে পেশ করা হলে তিনি খুশি হয়ে বলেন: এ একটি পবিত্র আত্মা যা একটি পবিত্র দেহ হতে নির্গত। আবার কোনটিকে পেশ করা হলে তিনি মুখে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন উহু! এ একটি নিকৃষ্ট আত্মা যা একটি নিকৃষ্ট দেহ হতে নির্গত।
আমি বললাম: হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি বললেন ইনি আপনার পিতা আদম (আ)! তাঁর সামনে তার সন্তানদের আত্মা পেশ করা হয়। কোন মু'মিনের আত্মা হাযির করা হলে তিনি খুশি হন এবং বলেন: একটি পবিত্র আত্মা, যা পবিত্র দেহ হতে নির্গত। পক্ষান্তরে তাঁর সামনে কাফিরের আত্মা হাযির করা হলে তিনি কষ্ট পান ও বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন: একটি নিকৃষ্ট আত্মা, যা নিকৃষ্ট দেহ হতে নির্গত।
📄 ইয়াতীমদের মাল আত্মসাৎকারীদের অবস্থা
তিনি বলেন, এরপর আমি কতগুলো লোক দেখলাম, যাদের ঠোঁট উটের ঠোঁটের মত। তাদের হাতে প্রস্তরখণ্ডের মত আগুনের টুকরা। তারা তা নিজেদের মুখের ভেতর নিক্ষেপ করছে, আর পরক্ষণেই তা পশ্চাদদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল। এরা কারা? জিবরাঈল বললেন এরা হলো অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎকারী।