📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইস্রা সম্পর্কে কাতাদার বর্ণনা
ইব্ন ইসহাক বলেন : কাতাদার বর্ণনায় শুনেছি যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আমি আরোহণ করার জন্য যখন ঐ বুরাকের কাছে গেলাম, তখন সে ছটফট শুরু করে দিল। জিবরাঈল তার ঝুটে হাত রেখে বললেন : হে বুরাক! কি করছ? তোমার লজ্জা হয় না? আল্লাহ্র কসম! এর আগে তোমার পিঠে মুহাম্মদ অপেক্ষা বেশি সম্মানী কোন আল্লাহর বান্দা আরোহণ করেননি। রাবী বলেন : এ কথা শুনে বুরাক লজ্জায় ঘর্মাক্ত হয়ে উঠল এবং সে সম্পূর্ণ শান্ত হয়ে গেল। তখন আমি তার পিঠে সওয়ার হলাম।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইস্রা সম্পর্কে হাসান বসরীর বর্ণনার অবশিষ্টাংশ ও আবূ বকর (রা)-এর সিদ্দীক উপাধি লাভ
হাসান বসরী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) চলতে লাগলেন। জিবরাঈল (আ)-ও তাঁর সংগে চলতে লাগলেন। এভাবে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে নিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি ইবরাহীম (আ), মূসা (আ) ও ঈসা (আ)-সহ বহু নবীর সাক্ষাৎ লাভ করলেন। তিনি তাঁদের সালাতে ইমামতি করলেন। এরপর তাঁর সামনে দু'টি পাত্র রাখা হল। একটিতে মদ, অপরটিতে দুধ ছিল। তিনি দুধের পেয়ালা গ্রহণ করলেন এবং তা থেকে পান করলেন। মদের পেয়ালা স্পর্শ করলেন না। তখন জিবরাঈল (আ) তাঁকে বললেন : হে মুহাম্মদ (সা)! আপনি স্বভাব ধর্মের হিদায়াত লাভ করলেন, আর আপনার উম্মতও হিদায়াত লাভ করল। আপনাদের জন্য মদ হারাম করা হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় প্রত্যাবর্তন করলেন।
পরদিন সকালে তিনি কুরায়শদের কাছে এ ঘটনা প্রকাশ করলেন। অধিকাংশ লোক বলে উঠল : আল্লাহ্র কসম! এ তো এক আজব ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার, যা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ্র কসম! একটি কাফেলার শামে (সিরিয়া) যাতায়াত করতে দু'মাস সময় লাগে। একমাস যেতে, এক মাস আসতে। আর মুহাম্মদ কিনা এই এক রাতের মধ্যে মধ্যে সেখানে গিয়ে আবার মক্কায় ফিরে আসল!
এ ঘটনার ফলে বহু নও-মুসলিম ইসলাম ত্যাগ করল। একদল লোক আবূ বকর (রা)-কে গিয়ে বলল : হে আবূ বকর! তোমার বন্ধু সম্পর্কে তুমি কি এখনও ভাল ধারণা পোষণ কর? সে তো দাবি করে, এই রাতে সে বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়েছিল। সেখানে সে সালাতও আদায় করেছে।
তখন আবূ বকর (রা) তাদের বললেন : তোমরা কি তাঁকে মিথ্যাবাদী মনে কর? তারা বলল : অবশ্যই। সে তো এখনও মসজিদে বসে মানুষের সামনে এ কথাই বলছে।
আবূ বকর (রা) বললেন : আল্লাহ্র কসম! তিনি যদি এরূপ বলে থাকেন, তবে তিনি সত্যই বলেছেন। এতে তোমরা অবাক হচ্ছ কেন? আল্লাহর কসম! তিনি তো আমাকে এ সংবাদও দেন যে, দিন-রাতের এক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর কাছে আল্লাহ্ তরফ থেকে, আসমান থেকে বার্তা চলে আসে, আর আমি তা বিশ্বাসও করি। এ ঘটনা কি তার চেয়েও কঠিন, যে তোমরা অবাক হচ্ছ? এরপর তিনি সেখান থেকে সোজা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট চলে আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর নবী! আপনি কি এদের কাছে বলেছেন যে, এই রাতে আপনি বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়েছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আবূ বকর (রা) বললেন: হে আল্লাহর নবী! সে মসজিদটির বর্ণনা দিন তো; আমি সেখানে গিয়েছিলাম। হাসান (র) বলেন: তখন নবী (সা) বললেন: তখন বায়তুল মুকাদ্দাসকে আমার সামনে তুলে ধরা হল। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ বকর (রা)-এর কাছে বায়তুল মুকাদ্দাসের বর্ণনা দিতে লাগলেন। আর আবূ বকর (রা) প্রতিবারই কলতে থাকলেন: صَدَّقت আপনি সত্যই বলেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহর রাসূল। এভাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) মসজিদটির পূর্ণ বর্ণনা দিলেন এবং আবূ বকর (রা) সাথে সাথে বললেন: আপনি সত্য বলেছেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহ্র রাসূল। সবশেষে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবু বকর (রা)-কে বললেন: হে আবু বকর! তুমি সিদ্দীক। সেদিনই রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে সিদ্দীক উপাধি প্রদান করেন। হাসান বসরী বলেন: এ ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে যারা মুরতাদ হয়, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন:
وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَكَ إِلا فِتْنَةً لِّلنَّاسِ وَالشَّجَرَةَ المَلْعُونَةَ فِي الْقُرْآنِ وَتُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ الأطغْيَانًا كبيرا.
"আমি যে দৃশ্য আপনাকে দেখিয়েছি তা এবং কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য। আমি তাদের ভীতি প্রদর্শন করি, কিন্তু তা তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে।” (১৭: ৬০)
'এ হচ্ছে ইসরা সম্পর্কে হাসান বসরীর বর্ণনা। অবশ্য এর মাঝে কাতাদা (র)-এর বর্ণনাও রয়েছে।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সম্পর্কে আয়েশা (রা)-এর বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন: আবু বকর (রা)-এর খান্দানের কেউ কেউ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা)-এর স্ত্রী 'আয়েশা (রা) বলতেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দেহ মুবারক অদৃশ্য হয়নি, বস্তুত আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে রূহানীভাবে এ সফর করিয়েছিলেন।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইস্রা সম্পর্কে মু'আবিয়া (রা)-এর বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন: ইয়াকূব ইব্ন 'উতবা ইব্ন মুগীরা ইব্ন আখনাস আমার কাছে বর্ণনা করেন, মু'আবিয়া ইবন আবু সুফইয়ান (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ইস্রা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলতেন: নবী (সা)-এর এ সফর মূলত আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে একটি সত্য স্বপ্ন ছিল।