📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে আস ইব্‌ন ওয়ায়লের উক্তি এবং সূরা কাওসার নাযিল হওয়া

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) সম্পর্কে আস ইব্‌ন ওয়ায়লের উক্তি এবং সূরা কাওসার নাযিল হওয়া


ইবন ইসহাক বলেন বর্ণিত আছে যে, 'আস ইব্‌ন ওয়ায়ল আস-সাহমীর কাছে কেউ যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কথা উত্থাপন করত, তখন সে বলত, আরে তার কথা রেখে দাও, সে তো একজন নির্বংশ লোক, তার কোন সন্তানাদি নেই। মারা গেলে তার চর্চা করার কেউ থাকবে না। তখন তোমরা এমনিতেই তার থেকে নিস্তার পেয়ে যাবে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ ভা'আলা নাযিল করেন : إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرَ অর্থাৎ "আমি অবশ্যই আপনাকে কাওসার দান করেছি,” যা আপনার জন্য দুনিয়া ও দুনিয়ার অন্তর্গত যাবতীয় বস্তু হতে উত্তম। কাওসার অর্থ মহা-মঙ্গলের প্রাচুর্য।
ইবন ইসহাক বলেন: লাবীদ ইবন রাবী'আ কিলাবী, তাঁর একটি কাসীদায় বলেন:
وصاحب ملحوب فجعنا بيومه * وعند الرداع بيت اخر كوثر
"মালহূব কুয়ার মালিকের মৃত্যুর দিন আমাদের খুব কষ্ট হয়, আর রিদা' কুয়ার পাশেও একটা ঘর আছে, প্রচুর মঙ্গলময়।"
ইন্ন হিশাম বলেন: মালহুবের লোকটি বলতে আওফ ইব্‌ন আহওয়াস ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন কিলাবকে বুঝান হয়েছে, এখানে সে মারা গিয়েছিল।
আর রিদা'র পাশে একটা ঘর বলে, শুরায়হ ইব্‌ন আহওয়াস ইব্‌ন জা'ফর ইন কিলাবকে বোঝানো হয়েছে। তার মৃত্যু হয়েছিল এই কুয়ার পাশে।
كوثر শব্দ کثیر হতে উদ্ভূত। কুমায়ত ইব্‌ন যায়দ হিশام ইব্‌ন আবদুল মালিক ইব্‌ন মারওয়ানের প্রশংসায় বলেন:
وانت كثير يابن مروان طيب × وكان ابوك ابن العقائل كوثرا
"হে মারওয়ান তনয়! আপনি একজন উত্তম পবিত্র ব্যক্তি, আর আপনার পিতা ছিলেন এক অভিজাত বংশের মহান সন্তান।"
উমাইয়া ইব্‌ন আবূ 'আইয হুয়ালী একটি বন্য গাধার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:
يحمامي الحقيق اذا ما احتدمن × وحمحمن في كوثر كالجلال
"সে প্রয়োজন ক্ষেত্রে উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ করে। যখন সবেগে ধাবিত হয়, তখন ধূলোর শামিয়ানার মাঝে ফোঁসফোঁস করতে থাকে।"
এতে كوثر দ্বারা কবি অধিক ধূলোবালি বুঝিয়েছেন এবং আধিক্যের কারণে তাকে তুলনা করেছেন শামিয়ানার সাথে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কাওসার কি? এ প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন

📄 কাওসার কি? এ প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন


ইবন ইসহাক বলেন: আনাস ইবন মালিক (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে যে কাওসার দান করেছেন, তা কি? তিনি বললেন: সান'আ হতে আয়লা পর্যন্ত প্রশস্ত একটি নহর। তার পানপাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্রমালাতুল্য। তাতে এমন সব পাখি আনাগোনা করে, উটের মত যাদের গ্রীবাদেশ। এ কথা শুনে উমর ইবন খাত্তাব (রা) বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)! এ তো ভারী উত্তম বস্তু। তিনি বললেন: এর পানকারীরা আরও উত্তম।
ইবন ইসহাক বলেন: আমি এই হাদীস কিংবা এতদসংশ্লিষ্ট অপর কোন হাদীসে শুনেছি, যে ব্যক্তি একবার এর পানি পান করবে, সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যাম'আ ও তার সাথীদের উক্তি এবং এর জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়

📄 যাম'আ ও তার সাথীদের উক্তি এবং এর জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর সম্প্রদায়কে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলেন। তিনি তাদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে থাকলেন এবং তাদের আহ্বান জানালেন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শেষে যাম'আ ইব্‌ন আসওয়াদ, নাফ্র ইবন হারিস, আসওয়াদ ইব্‌ন আব্দ ইয়াগুস, উবায় ইব্‌ন খালাফ ও 'আস ইব্‌ন ওয়ায়ল তাঁকে বলল: হে মুহাম্মদ! তোমার সাথে যদি কোন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হত, যে তোমার পক্ষে কথা বলত এবং মানুষ তা চাক্ষুষ দেখত! তাদের এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ وَلَوْ أَنْزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنْظَرُوْنَ - وَلَوْ جَعَلْتُهُ مَلَكًا لَّجَعَلْتُهُ رَجُلاً وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِمْ مَّا يَلْبَسُونَ -
“তারা বলে, তাঁর নিকট কোন ফেরেশতা কেন প্রেরিত হয় না? যদি আমি ফেরেশতা প্রেরণ করতাম তা হলে তাদের কর্মের চূড়ান্ত ফয়সালাই তো হয়ে যেত, আর তাদের কোন অবকাশ দেওয়া হতনা। যদি তাকে ফেরেশতা করতাম, তবে তাকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম, আর তাদের সেরূপ বিভ্রমে ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন রয়েছে।” (৬ : ৮-৯)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়ালীদ ও তার সাথীদের উক্তি এবং এর জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়

📄 ওয়ালীদ ও তার সাথীদের উক্তি এবং এর জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়


ইবন ইসহাক বলেন : একদা রাসূলুল্লাহ্ (সা) ওয়ালীদ ইব্‌ন মুগীরা, উমাইয়া ইব্‌ন খালাফ ও আবু জাহল ইব্‌ন হিশাম-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তাঁকে দেখে পরস্পরে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করল। তাদের সে আচরণে তিনি রাগান্বিত হন। তখন আল্লাহ্ তাদের এ আচরণ সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ -
"তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকেই ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে। পরিণামে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছিল তাই বিদ্রুপকারীদের পরিবেষ্টন করেছে।” (৬ : ১০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00