📄 প্রতিনিধি দলটির নিবাস ও তাদের সম্পর্কে কুরআনের নাযিলকৃত আয়াত
আর বলা হয়ে থাকে এ প্রতিনিধি দলটি ছিল নাজরানবাসী খ্রিস্টানদের। প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভাল জানেন। এ মত সঠিক হলে বলা যাবে এদের সম্পর্কেই এ আয়াত নাযিল হয়: الَّذِينَ آتَيْنَهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ - وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا أَمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ - لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَّامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ
"এর পূর্বে আমি যাদের কিতাব দিয়েছিলাম, তারা এতে বিশ্বাস করে। যখন তাদের নিকট এটা আবৃত্তি করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা এতে ঈমান আনি, এটা আমাদের প্রতিপালক হতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসমর্পণকারী ছিলাম। তাদের দু'বার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। কারণ তারা ধৈর্যশীল এবং তারা ভালোর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে ও আমি তাদের যে রিস্ক দিয়েছি, তা হতে তারা ব্যয় করে। তারা যখন অসার বাক্য শোনে, তখন তারা তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলে, 'আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাই না।” (২৮: ৫২-৫৫)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমি ইব্ন শিহাব যুহরী (র)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এ আয়াতগুলো কাদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়েছে? তিনি আমাকে বললেন: আমি আমাদের আলিমদের কাছে এমন শুনেছি যে, এগুলো নাজাশী ও তার লোকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর সূরা মায়িদার এ আয়াতগুলো: فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسَيْسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ পর্যন্ত। "যারা বলে আমরা খ্রিস্টান, মানুষের মধ্যে তুমি তাদেরকেই মু'মিনদের নিকটতর বন্ধুরূপে দেখবে; কারণ, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগী আছে, আর তারা অহংকারও করে না। রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন তারা শোনে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে, তার জন্য তুমি তাদের চক্ষু অশ্রুবিগলিত দেখবে, তারা বলে, “হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং তুমি আমাদের সাক্ষ্যবহদের তালিকাভুক্ত কর।" (৫: ৮২-৮৩)
📄 আল্লাহ্র অনুগ্রহপ্রাপ্তদের প্রতি মুশরিকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং এ সম্পর্কে নাযিলকৃত আয়াত
ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মসজিদে হারামে বসতেন, তখন খাব্বাব, 'আম্মার, সাফওয়ান ইবন উমাইয়া ইব্ন মুহাররিসের আযাদকৃত গোলাম আবূ ফুকায়হা, ইয়াসার, সুহায়ব (সা) প্রমুখ দুর্বল সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে বসতেন। কুরায়শরা তাদের দেখে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত এবং তারা পরস্পরে বলাবলি করত: এ হলো এঁর সাথী, যেমন তোমরা দেখছ। আল্লাহ্ এদের হিদায়াত ও সত্য দ্বারা অনুগৃহীত করার জন্য আমাদের থেকে বেছে নিয়েছেন। মুহাম্মদের দীন যদি সত্যই হত, তা হলে এরা আমাদের অগ্রগামী হতে পারত না; আর আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের বাদ দিয়ে এদেরকে এ নি'আমতের জন্য বাছাই করে নিতেন না। আল্লাহ্ এদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدْوَةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ - مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِّنْ شَيْيْ - وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِّنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّلِمِيْنَ وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَيَقُولُوا أَهْؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنْ بَيْنِنَا اليْسَ اللهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّكِرِينَ - وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِابْتِنَا فَقُلْ سَلَّمَ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْنَا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
"যারা তাদের রবকে সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না। তাদের কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব আপনার নয় এবং আপনার কোন কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব তাদের নয় যে, আপনি তাদের বিতাড়িত করবেন; করলে আপনি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এভাবে আমি তাদের একদলকে অন্যদল দিয়ে পরীক্ষা করেছি, যেন তারা বলে, "আমাদের মধ্যে কি তাদের প্রতিই আল্লাহ্ অনুগ্রহ করলেন?" আল্লাহ্ কি কৃতজ্ঞ লোকদের সম্বন্ধে বিশেষ অবহিত নন? যারা আমার আয়াতে ঈমান আনে, তারা যখন আপনার নিকট আসে, তখন আপনি তাদের বলুন, "তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক দয়া করা তাঁর কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত যদি মন্দকাজ করে, এরপর তওবা করে এবং সংশোধন করে, তবে তো আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৬: ৫২-৫৪)।
📄 মুশরিকদের দাবি খ্রিস্টান জার রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে শিক্ষা দান করত: এ সম্পর্কে আল্লাহ্ নাযিল করেন
ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা) প্রায়ই মারওয়ার কাছে এক খ্রিস্টান গোলামের দোকানের পাশে বসতেন। সেই ছিল হাদরামী গোত্রের গোলাম, যাকে জাবর বলা হত। ফলে কাফিররা বলত: আল্লাহ্র কসম! মুহাম্মদ যা কিছু শোনায় তা ঐ খ্রিস্টান গোলাম জাবরেরই শেখানো। তাদের এ বক্তব্যের জবাবে আল্লাহ্ নাযিল করেন: وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عربی مبین - "আমি তো জানি, তারা বলে, তাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ। তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে তার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী ভাষা।” (১৬: ১০৩)।
ইবন হিশাম বলেন, يلحدون اليه অর্থ 'যার দিকে তারা আকৃষ্ট হয় ' الإلحاد অর্থ সত্য হতে বিচ্যুত হওয়া। রু'বা ইবন 'আজ্জাজ তার এক কবিতায় বলে: اذا تبع الضحاك كل ملحد "যখন সকল সত্যত্যাগী দাহ্হাকের অনুসরণ করল।"
ইব্ন হিশাম বলেন: এ দ্বারা দাহ্হাক খারিজীকে বোঝানো হয়েছে। এটা তার কবিতার অংশ।