📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলের আগমন ও ইসলাম গ্রহণ

📄 খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলের আগমন ও ইসলাম গ্রহণ


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খবর পেয়ে আবিসিনিয়া হতে আনুমানিক বিশ সদস্যের একটি খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল তাঁর সংগে সাক্ষাতের জন্য আসে। এ সময় তিনি مক্কাতেই ছিলেন। তারা তাঁকে মসজিদে হারামে পেল। তারা তাঁর কাছে এসে বসল এবং তাঁর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করল। এ সময় কুরায়শরা কা'বার পাশে স্ব-স্ব মজলিসে বসা ছিল। প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশ্নাদি, যা তারা জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল, তা শেষ করলে, তিনি তাদেরকে মহান আল্লাহ্র পথে দাওয়াত দিলেন এবং তাদের কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন। তারা যখন কুরআন শুনলো, তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। তারা সকলে আল্লাহ্র দাওয়াত স্বীকার করে নিল এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনল এবং তাঁকে বিশ্বাস করে নিল। তারা বুঝে ফেলল, তাদের কিতাবে যে আখিরী নবীর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, ইনিই সেই নবী।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবু জাহল কর্তৃক তাদেরকে ইসলাম হতে ফেরানোর চেষ্টা

📄 আবু জাহল কর্তৃক তাদেরকে ইসলাম হতে ফেরানোর চেষ্টা


খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল ইসলাম গ্রহণ করে যখন নবী (সা)-এর নিকট হতে চলে গেল, তখন আবু জাহ্‌ল ইব্‌ন হিশাম কতিপয় কুরায়শসহ তাদের সম্মুখীন হল। তারা তাদের বলল, আল্লাহ্ তোমাদের অমঙ্গল করুন, কি অশুভ কাফেলা তোমরা! তোমাদের স্বধর্মীয় ভাইরা তোমাদের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছেন, যাতে তোমরা ফিরে গিয়ে এই লোকটির খবরাখবর তাদের জানাতে পার। আর তোমরা কি না তার মজলিসে বসতে না বসতেই ধর্মচ্যুত হলে এবং তার কথায় বিশ্বাস করলে? তোমাদের মত আহাম্মক কাফেলা আর আমরা দেখিনি। তারা তাদের বলল: ভাই, তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা তোমাদের সাথে মূর্খের ন্যায় তর্ক করব না। আমরা আমাদের কর্মফল ভোগ করব, আর তোমরা তোমাদের কর্মফল ভোগ করবে। আমরা আমাদের কল্যাণ সাধনে কোন ত্রুটি করিনি।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 প্রতিনিধি দলটির নিবাস ও তাদের সম্পর্কে কুরআনের নাযিলকৃত আয়াত

📄 প্রতিনিধি দলটির নিবাস ও তাদের সম্পর্কে কুরআনের নাযিলকৃত আয়াত


আর বলা হয়ে থাকে এ প্রতিনিধি দলটি ছিল নাজরানবাসী খ্রিস্টানদের। প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভাল জানেন। এ মত সঠিক হলে বলা যাবে এদের সম্পর্কেই এ আয়াত নাযিল হয়: الَّذِينَ آتَيْنَهُمُ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ - وَإِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ قَالُوا أَمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَّبِّنَا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ - لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلَّامٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ
"এর পূর্বে আমি যাদের কিতাব দিয়েছিলাম, তারা এতে বিশ্বাস করে। যখন তাদের নিকট এটা আবৃত্তি করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা এতে ঈমান আনি, এটা আমাদের প্রতিপালক হতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসমর্পণকারী ছিলাম। তাদের দু'বার পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। কারণ তারা ধৈর্যশীল এবং তারা ভালোর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে ও আমি তাদের যে রিস্ক দিয়েছি, তা হতে তারা ব্যয় করে। তারা যখন অসার বাক্য শোনে, তখন তারা তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলে, 'আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাই না।” (২৮: ৫২-৫৫)।
ইবন ইসহাক বলেন: আমি ইব্‌ন শিহাব যুহরী (র)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এ আয়াতগুলো কাদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়েছে? তিনি আমাকে বললেন: আমি আমাদের আলিমদের কাছে এমন শুনেছি যে, এগুলো নাজাশী ও তার লোকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, আর সূরা মায়িদার এ আয়াতগুলো: فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسَيْسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ পর্যন্ত। "যারা বলে আমরা খ্রিস্টান, মানুষের মধ্যে তুমি তাদেরকেই মু'মিনদের নিকটতর বন্ধুরূপে দেখবে; কারণ, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগী আছে, আর তারা অহংকারও করে না। রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন তারা শোনে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে, তার জন্য তুমি তাদের চক্ষু অশ্রুবিগলিত দেখবে, তারা বলে, “হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং তুমি আমাদের সাক্ষ্যবহদের তালিকাভুক্ত কর।" (৫: ৮২-৮৩)

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আল্লাহ্র অনুগ্রহপ্রাপ্তদের প্রতি মুশরিকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং এ সম্পর্কে নাযিলকৃত আয়াত

📄 আল্লাহ্র অনুগ্রহপ্রাপ্তদের প্রতি মুশরিকদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ এবং এ সম্পর্কে নাযিলকৃত আয়াত


ইবন ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মসজিদে হারামে বসতেন, তখন খাব্বাব, 'আম্মার, সাফওয়ান ইবন উমাইয়া ইব্‌ন মুহাররিসের আযাদকৃত গোলাম আবূ ফুকায়হা, ইয়াসার, সুহায়ব (সা) প্রমুখ দুর্বল সাহাবীগণও তাঁর সঙ্গে বসতেন। কুরায়শরা তাদের দেখে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত এবং তারা পরস্পরে বলাবলি করত: এ হলো এঁর সাথী, যেমন তোমরা দেখছ। আল্লাহ্ এদের হিদায়াত ও সত্য দ্বারা অনুগৃহীত করার জন্য আমাদের থেকে বেছে নিয়েছেন। মুহাম্মদের দীন যদি সত্যই হত, তা হলে এরা আমাদের অগ্রগামী হতে পারত না; আর আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের বাদ দিয়ে এদেরকে এ নি'আমতের জন্য বাছাই করে নিতেন না। আল্লাহ্ এদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন:
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدْوَةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ - مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِّنْ شَيْيْ - وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِّنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّلِمِيْنَ وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَيَقُولُوا أَهْؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنْ بَيْنِنَا اليْسَ اللهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّكِرِينَ - وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِابْتِنَا فَقُلْ سَلَّمَ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوْنَا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ -
"যারা তাদের রবকে সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ডাকে, তাদের আপনি বিতাড়িত করবেন না। তাদের কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব আপনার নয় এবং আপনার কোন কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব তাদের নয় যে, আপনি তাদের বিতাড়িত করবেন; করলে আপনি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এভাবে আমি তাদের একদলকে অন্যদল দিয়ে পরীক্ষা করেছি, যেন তারা বলে, "আমাদের মধ্যে কি তাদের প্রতিই আল্লাহ্ অনুগ্রহ করলেন?" আল্লাহ্ কি কৃতজ্ঞ লোকদের সম্বন্ধে বিশেষ অবহিত নন? যারা আমার আয়াতে ঈমান আনে, তারা যখন আপনার নিকট আসে, তখন আপনি তাদের বলুন, "তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক দয়া করা তাঁর কর্তব্য বলে স্থির করেছেন। তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত যদি মন্দকাজ করে, এরপর তওবা করে এবং সংশোধন করে, তবে তো আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৬: ৫২-৫৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00