📄 আবূ জাহলের কাছে জনৈক ইরাশীর উট বিক্রয়
ইবন ইসহাক বলেন: জ্ঞানী আবদুল মালিক ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ সুফইয়ান সাকাফী আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, ইব্ন হিশাম বলেন: ইরাশা গোত্রের এক ব্যক্তি তার কয়েকটি উট নিয়ে মক্কায় আসে। আবু জাহল তার থেকে সে উট খরিদ করে নেয়। কিন্তু দাম নিয়ে টালবাহানা শুরু করে দেয়। নিরুপায় হয়ে সে ইরাশী কুরায়শদের একটি সভাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) মসজিদের এক পাশে বসেছিলেন। ইরাশী লোকটি বলল: হে কুরায়শরা। কেউ আছে কি, যে আবুল হাকাম ইব্ন হিশামের কাছ থেকে আমার উটের দাম আদায় করে দেবে? আমি একজন বিদেশী মুসাফির। সে আমার হক আদায়ে গড়িমসি করছে। রাবী বলেন: তখন সে মজলিসের লোকেরা তাকে বলল: তুমি কি ঐ বসা লোকটি [রাসূলুল্লাহ্ (সা)]-কে দেখতে পাচ্ছ না, তুমি তাঁর কাছে যাও সে তোমার পাওনা তার থেকে আদায় করে দেবে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও আবূ জাহলের মধ্যকার দুশমনির কথা জানত বলেই তারা এরূপ করেছিল।
📄 আবূ জাহল থেকে লোকটির জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ন্যায়বিচার আদায়
ইরাশী লোকটি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সামনে এসে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আবুল হাকাম ইবন হিশামের কাছে আমার কিছু পাওনা আছে, কিন্তু আমাকে দুর্বল পেয়ে সে তা আদায়ে গড়িমসি করছে। আমি একজন বিদেশী মুসাফির। আমি ঐ মজলিসের লোকদের কাছে তার থেকে আমার হক আদায়ের ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছে। সুতরাং আপনি তার কাছ থেকে আমার পাওনা আদায় করে দিন, আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করবেন। তিনি (সা) বললেন: তার কাছে চল, রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজেও তার সঙ্গে উঠলেন। তা দেখে মজলিসের লোকেরা তাদের একজনকে বলল : তুমি তাঁর অনুসরণ কর আর তিনি কি করেন তা দেখ।
📄 আবূ জাহলের ভীত হওয়ার কারণ
রাবী বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হয়ে সোজা আবূ জাহলের বাড়ি উপস্থিত হলেন এবং তার দরজায় করাঘাত করলেন।
তখন সে জিজ্ঞেস করল : তুমি কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। তুমি আমার কাছে বেরিয়ে এস।
আবু জাহল বের হয়ে তাঁর কাছে আসল। এ সময় ভয়ে তার মুখ বিবর্ণ ছিল, প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: তুমি এই লোকটির পাওনা দিয়ে দাও। সে বলল: হ্যাঁ, দাঁড়ান, আমি এক্ষণই তার পাওনা দিয়ে দিচ্ছি। রাবী বলেন: এই বলে সে ভিতরে চলে গেল এবং তার পাওনাসহ বেরিয়ে এসে তাকে তা দিয়ে দিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) ফিরে আসলেন এবং ইরাশীকে বললেন: তুমি আপন কাজে চলে যাও। ইরাশী আবার সেই মজলিসে গিয়ে হাযির হল। তাদের লক্ষ্য করে সে বলল: আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে উত্তম বিনিময় দিন। আল্লাহর কসম! তিনি আমার পাওনা আদায় করে দিয়েছেন।
কুরায়শদের প্রেরিত লোকটিও ফিরে আসল। তারা জিজ্ঞেস করল: আচ্ছা, কি দেখলে? সে বলল: দেখালাম এক মহা-বিস্ময়। আল্লাহ্র কসম! তিনি গিয়ে শুধু আবূ জাহলের দরজায় করাঘাত করলেন। তখন আবু জাহল বেরিয়ে আসল। কিন্তু ভয়ে তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। মুহাম্মদ (সা) তাকে বললেন: এই লোকটির পাওনা দিয়ে দাও। তখন সে বলল : হ্যাঁ, দিচ্ছি। একটু দাঁড়ান, এক্ষণই তার পাওনা দিয়ে দিচ্ছি। এই বলে সে ভিতরে গেল এবং তার পাওনা এনে তাকে দিয়ে দিল।
রাবী বলেন: একটু পরেই আবু জাহল স্বয়ং সে মজলিসে গিয়ে উপস্থিত হল। তখন তারা তাকে ধিক্কার দিয়ে বলল: আপনার কি হয়েছে? আজ যা করলেন, আল্লাহর কসম! এরূপ করতে আর কখনও আপনাকে দেখিনি। সে বলল : ধিক তোমাদের! আল্লাহ্র কসম! সে গিয়ে যখন আমার দরজায় করাঘাত করল এবং আমি তাঁর সামনে বেরিয়ে এসে দেখি যে, তাঁর মাথার উপর একটি ভয়ানক আজব উট। অতবড় মাথা, কাঁধ আর দাঁতবিশিষ্ট উট আমি ইতিপূর্বে আর কখনো দেখিনি। আল্লাহ্র কসম! তখন যদি আমি তার পাওনা শোধ করতে অস্বীকার করতাম, তবে সে উট আমাকে খেয়ে ফেলত।