📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর ওফাতের পর তাঁর জিহাদে অংশগ্রহণ, তাঁর স্বপ্ন ও শাহাদত প্রসংগে
এরপর তুফায়ল (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট ফিরে আসেন এবং তাঁর ওফাত পর্যন্ত তিনি মদীনাতেই তাঁর সংগে অবস্থান করেন। আরবের বিভিন্ন গোত্রের ধর্মত্যাগ-এর ফিতনা বিস্তার লাভ করলে তিনি মুসলিম মুজাহিদদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। তুলায়হাকে দমন ও নাজদের বিদ্রোহ প্রশমনের কাজ' সমাপ্ত করে মুজাহিদগণ ইয়ামামা যাত্রা করেন। তুফায়ল (রা) এসব অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁর পুত্র 'আমর (রা)-ও তাঁর সাথে ছিলেন। ইয়ামামা যাত্রার পথে তুফায়ল (রা) একটি স্বপ্ন দেখে সঙ্গীদের কাছে তা এভাবে বর্ণনা করেন যে, আমি দেখলাম আমার মাথা কামিয়ে ফেলা হয়েছে। আমার মুখ থেকে একটি পাখি উড়ে গেল। একটি নারী এসে আমাকে তার গুপ্ত অঙ্গের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলল। আর দেখলাম আমার পুত্র আমাকে দিশেহারা হয়ে খুঁজছে, শেষ পর্যন্ত সে বাধাপ্রাপ্ত হল। তোমরা আমাকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল। তারা বলল: ভালই তো দেখেছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি নিজে এর এক ব্যাখ্যা করেছি। তারা জিজ্ঞেস করল কি ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: আমার মাথা কামানোর অর্থ হচ্ছে মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। যে পাখিটি আমার মুখ থেকে বের হয়ে গেল, সে হচ্ছে আমার আত্মা। স্ত্রীলোকটি আমাকে তার যোনি গহবরে লুকিয়ে ফেলল-এর অর্থ আমার জন্য কবর খনন করা হবে এবং তার ভেতরে আমাকে ঢেকে ফেলা হবে। আর আমাকে আমার পুত্রের খুঁজে বেড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার মানে হচ্ছে, সেও আমার অনুরূপ অবস্থা প্রাপ্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে (কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে বেঁচে যাবে)।
বস্তুত তুফায়ল (রা) ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হন। আর তাঁর পুত্রও এ যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে 'উমর (রা)-এর আমলে তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে শহীদ হন।