📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মুতঈম ইব্‌ন আদীকে দল ভিড়ানোর জন্য হিশামের প্রচেষ্টা

📄 মুতঈম ইব্‌ন আদীকে দল ভিড়ানোর জন্য হিশামের প্রচেষ্টা


তখন হিশাম গিয়ে মুতঈম ইবন 'আদী ইব্‌ন নাওফাল ইবন 'আব্দ মানাফের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাকে বললেন : হে মুতঈম! তোমার কি এটা পসন্দ যে, তোমার চোখের সামনে 'আব্দ মানাফ গোত্রের দু'টি শাখা ধ্বংস হয়ে যাবে, আর তুমি তাতে কুরায়শদের সমর্থনে থাকবে? শোন, আল্লাহ্র কসম করে বলছি, তোমরা যদি কুরায়শদের এভাবে সুযোগ দিতে থাক, তা হলে তারা একদিন তোমাদের দিকে আরও দ্রুত অগ্রসর হবে। মুতঈম বললেন: আফসোস! আমি তো একা—কাজেই আমি কি করতে পারি? হিশام বললেন: তুমি একা নও, তোমার দাস আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কে সে? হিশাম বললেন: আমি! মুতঈম বললেন: আমাদের জন্য তৃতীয় একজন খোঁজ কর। হিশাম বললেন: তাও পেয়েছি। মুতঈম জিজ্ঞেস করলেন: কে সে? তিনি বললেন: যুহায়র ইব্‌ন আবূ উমাইয়া। মুতঈম বললেন: আমাদের জন্য চতুর্থ আরেকজনের অনুসন্ধান কর।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবুল বাখতারীকে দলে ভিড়ানোর জন্য হিশামের চেষ্টা

📄 আবুল বাখতারীকে দলে ভিড়ানোর জন্য হিশামের চেষ্টা


এরপর হিশাম বাখতারী ইব্‌ন হিশামের কাছে গেলেন। তাকেও মুতঈম্ ইব্‌ন 'আদীর অনুরূপ বললেন। তিনি বললেন: আমাদের সমর্থন করবে এমন কেউ কি আছে? হিশাম বললেন : আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কে আছে? হিশাম বললেন: যুহায়র ইব্‌ন আবূ উমাইয়া, মুতঈম ইব্‌ন আদী ও আমি। তখন বাখতারী বললেন: দেখ পঞ্চম একজন পাওয়া যায় কিনা।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যাম'আকে দলে ভিড়ানোর জন্য হিশামের প্রচেষ্টা

📄 যাম'আকে দলে ভিড়ানোর জন্য হিশামের প্রচেষ্টা


হিশাম যাম'আ ইব্‌ন আসওয়াদ ইবন মুত্তালিব ইব্‌ন আসাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং এ বিষয়ে তার সাথে আলাপ-আলোচনা করলেন। তিনি তাকে তাদের আত্মীয়তা এবং তাদের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দিলেন। তখন যাম'আ তাকে বললেন: এ কাজে আর কেউ আমাদের সহযোগিতা করবে কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর উপরিউক্ত চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেন।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলার সংকল্প করলে হিশামের দল ও আবু জাহলের মাঝে যা ঘটে

📄 চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলার সংকল্প করলে হিশামের দল ও আবু জাহলের মাঝে যা ঘটে


তারা মক্কার উঁচু দিকে হাজুন নামক স্থানের সূচনাভাগে একটি জায়গা ঠিক করে নিলেন যে, সেখানে তারা রাত্রিকালে গোপনে মিলিত হয়ে এ ব্যাপারে সলা-পরামর্শ করবেন। কথামত তাঁরা সেখানে একত্রিত হলেন এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন যে, উক্ত অন্যায় চুক্তিপত্র রদ করার জন্য তারা জোর তৎপরতা চালাবেন। যতক্ষণ না তাঁরা সফলকাম হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। তখন যুহায়র ইব্‌ন আবূ উমাইয়া বললেন: আমিই তোমাদের আগে ভাগে থাকব এবং এ ব্যাপারে আমিই প্রথম কথা বলব।
পরদিন সকালে তারা নিজ-নিজ সভাস্থলগুলোর দিকে রওয়ানা হলেন। যুহায়র ইব্‌ন আবূ উমাইয়া অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান করে, প্রথমে সাতবার কা'বা শরীফের তাওয়াফ করলেন। এরপর লোকদের কাছে এসে এ মর্মে ভাষণ দিলেন যে, হে মক্কাবাসী! আমরা খেয়ে-পরে সুখে থাকব, আর বনু হাশিম সমাজ-বর্জিত অবস্থায় ধ্বংস হবে, তাদের সাথে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে, এটা কি করে হতে পারে? আল্লাহর কসম! এই সম্পর্ক নষ্টকারী অন্যায় চুক্তিপত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো না করা পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না।
তখন আবু জাহল মসজিদে হারামের এক কিনারায় বসা ছিল। সে বলল: তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহ্র কসম, ওটা ছেঁড়া যাবে না। যাম'আ ইব্‌ন আসওয়াদ বললেন: বরং আল্লাহর কসম! তুমিই বড় মিথ্যাবাদী। আমরা শুরুতেই এ চুক্তিতে সম্মত ছিলাম না। আবুল বাখতারী বললেন: যাম'আ ঠিকই বলেছে, এতে যা লেখা হয়েছে, তাতে আমরা রাযী নই এবং আমরা তা স্বীকারও করি না। মুতঈম ইবন 'আদী বললেন তোমরা দু'জনে সত্যই বলেছ। এর বিপরীত যে বলে, সে-ই মিথ্যুক। আমরা আল্লাহ্ তা'আলার কাছে এই চুক্তির সাথে নিজেদের সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। হিশাম ইবন 'আমরও তাদের সমর্থন করলেন। আবূ জাহল এসব শুনে বলল: নিশ্চয়ই এটা রাতের অন্ধকারে স্থির করা হয়েছে এবং অন্য কোথাও বসে সলা-পরামর্শ করে এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তখন আবূ তালিব মসজিদের এক কোণে উপবিষ্ট ছিলেন। মুতঈম উঠে গিয়ে চুক্তিপত্রটি ছেঁড়ার জন্য নামিয়ে আনলেন। দেখা গেল তার باسمك اللهم (হে আল্লাহ! আপনার নামে আরম্ভ করছি) অংশটুকু ছাড়া, বাকি টুকু উইপোকা খেয়ে ফেলেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00