📄 ইবন উম্মু মাকতুম (রা) ও তাঁর সম্পর্কে অবতীর্ণ সূরা আবাসা
একদা ওয়ালীদ ইব্ন মুগীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে কথা বলছিলেন। তার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তাদের এই আলাপ-আলোচনার মাঝখানেই অন্ধ সাহাবী ইব্ন উম্মু মাকতুম (রা) সেখানে হাযির হন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন এবং তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। তাঁর এ আচরণে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বিরক্তবোধ করলেন এবং বেজার হলেন। কারণ ওয়ালীদের ইসলাম গ্রহণে আশাবাদী হয়ে তিনি তার প্রতি মনোসংযোগ করেছিলেন। ইবন উম্মু মাকতূমের কারণে তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। এভাবে যখন তিনি বেশি পীড়াপীড়ি শুরু করলেন, তখন তিনি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং উপেক্ষা করলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা فِي صُحُفِ مُّكَرَّمَةٍ مُرْفُوعَةٍ عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْلَى مُطَهَّرَة পর্যন্ত সূরা 'আবাসা-এর এ আয়াতগুলো নাযিল করেন।
অর্থ: "তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তার নিকট অন্ধ লোকটি আসল। আপনি কেমন করে জানবেন-সে হয়ত পরিশুদ্ধ হত অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে যে পরওয়া করে না, আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। অথচ সে নিজে পরিশুদ্ধ না হলে আপনার কোন দায়িত্ব নেই। অন্যপক্ষে যে আপনার নিকট ছুটে আসল, আর সে সশংকচিত্ত, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন; 'না, এ আচরণ অনুচিত, এ তো উপদেশ-বাণী; যে ইচ্ছা করবে সে এটা স্মরণ রাখবে। এটা আছে মহান লিপিসমূহে, যা উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন, পবিত্র।" (৮০: ১-১৪)
অর্থাৎ হে নবী! আমি তো আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। বিশেষ কারও জন্য আপনি প্রেরিত নন। কাজেই যে হিদায়াত পেতে ইচ্ছুক, তাকে বঞ্চিত করবেন না এবং এ ব্যাপারে যার আগ্রহ নেই, তার প্রতি এত বেশি মনোযোগ দেবেন না।
ইব্ন হিশাম বলেন: ইব্ন উম্মু মাকতুম (রা) ছিলেন 'আমির ইব্ন লুআঈ গোত্রের লোক। আসল নাম 'আবদুল্লাহ্, কারও মতে 'আমর।