📄 আবূ জাহল এবং আল্লাহ্ তার সম্পর্কে যা নাযিল করেন
আবু জাহল ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অন্যতম উৎপীড়নকারী। আল্লাহ্ তা'আলা যখন যাক্কুম বৃক্ষের উল্লেখ করে কাফিরদের ভয় দেখালেন, তখন আবু জাহল ইবন হিশাম বলল: হে কুরায়শ সম্প্রদায়! মুহাম্মদ তোমাদের যে যাক্কুম বৃক্ষের ভয় দেখাচ্ছে, তা কি, জান? তারা বলল: না। সে বলল: তা হচ্ছে মদীনার 'আজওয়া' খেজুর, যা মাখন সহকারে খাওয়া যায়। আল্লাহর কসম! আমরা যদি মদীনায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তা হলে এ খেজুর পেটপুরে খাব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন: إِنَّ شَجَرَةَ الزَّقُوْمِ - طَعَامُ الْأَثِيْمِ - كَالْمُهْلِ يَغْلِي فِي الْبُطُونِ - كَغَلِي الْحَمِيمِ -
"নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে-পাপীর খাদ্য; গলিত তামার মত; তা তার উদরে ফুটতে থাকবে ফুটন্ত পানির মত।" (৪৪ : ৪৩-৪৬)
অর্থাৎ সে যা বলছে, যাকুম বৃক্ষ তা নয় মোটেই। ইবন হিশাম বলেন : المهل অর্থ যে কোন গলিত দ্রব্য, যথা তামা, সিসা ইত্যাদি। আবু 'উবায়দা এরূপই বলেছেন।
📄 ইবন মাসউদ (রা) (المهل)-এর যেভাবে ব্যাখ্যা করেন
হাসান বসরী (র)-এর সূত্রে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) কৃষ্ণায় 'উমর ফারুক (রা)-এর পক্ষ হতে খাজাঞ্চীর দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। একদিন তাঁর নির্দেশে রূপা গলানো হল। সে উত্তপ্ত গলিত রূপা হতে বিচিত্র রং বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: দরজায় কেউ আছে কি? লোকেরা বলল: আছে। তিনি বললেন: তাদের ভিতরে আসতে বল। তারা এলে পরে তিনি বললেন: এই যে গলিত তপ্ত রূপা দেখছ, এটা হচ্ছে المهل-এর একটা তুচ্ছ দৃষ্টান্ত। কোন কবি বলেন:
يسقيه ربي حميم المحل يجرعه x يشوى الوجوه في بطنه صهر .
"আমার রব তাকে গলিত ধাতুর ন্যায় উত্তপ্ত পানীয় পান করাবেন, সে তা অতি কষ্টে গলাধঃকরণ করবে। সে পানীয় তার মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং তার পেটের ভেতর টগবগ করে ফুটবে।" অন্য মতে المهل অর্থ দেহের গলিত পুঁজ।
📄 আবূ বকর (রা)-এর উক্তি দ্বারা (المهل)-এর ব্যাখ্যা
বর্ণিত আছে যে, আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর মৃত্যু সন্নিকট হলে তিনি তাঁর কাফনের জন্য দু'খানি পুরাতন ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে রাখতে বললেন। 'আয়েশা (রা) বললেন: আব্বা! আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে তো এত দুরাবস্থায় রাখেন নি। কাজেই কাফনের জন্য নতুন কাপড় কিনে নিলেই হয়। তিনি বললেন: এ দেহ তো ক্ষণিকের জন্য, শেষ পর্যন্ত তো এটা গলিত পুঁজে পরিণত হবে। কোন কবি বলেন:
شاب بالماء منه مهلا كريها × ثم عل المتون بعد النهار -
"তার পূতিগন্ধময় পুঁজ পানির সাথে মিশে গেছে, ঐ গলিত পুঁজে তার পিঠ বার বার সিক্ত হয়েছে।"
ইবন ইসহাক বলেন: আবূ জাহেলের উক্ত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন:
وَالشَّجَرَةَ المَلْعُونَةَ فِي القُرْآنِ وَنُخَوِّفُهُمْ فَمَا يَزِيدُهُمْ إِلَّا طُغْيَانًا كَبِيرًا -
"কুরআনে উল্লিখিত অভিশপ্ত বৃক্ষটিও কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য। আমি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করি, কিন্তু তা তাদের ঘোর অবাধ্যতাই বৃদ্ধি করে।" (১৭:৬০)
📄 ইবন উম্মু মাকতুম (রা) ও তাঁর সম্পর্কে অবতীর্ণ সূরা আবাসা
একদা ওয়ালীদ ইব্ন মুগীরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার সাথে কথা বলছিলেন। তার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তাদের এই আলাপ-আলোচনার মাঝখানেই অন্ধ সাহাবী ইব্ন উম্মু মাকতুম (রা) সেখানে হাযির হন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন এবং তাঁকে কুরআন শিখিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। তাঁর এ আচরণে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বিরক্তবোধ করলেন এবং বেজার হলেন। কারণ ওয়ালীদের ইসলাম গ্রহণে আশাবাদী হয়ে তিনি তার প্রতি মনোসংযোগ করেছিলেন। ইবন উম্মু মাকতূমের কারণে তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছিল। এভাবে যখন তিনি বেশি পীড়াপীড়ি শুরু করলেন, তখন তিনি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং উপেক্ষা করলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা فِي صُحُفِ مُّكَرَّمَةٍ مُرْفُوعَةٍ عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْلَى مُطَهَّرَة পর্যন্ত সূরা 'আবাসা-এর এ আয়াতগুলো নাযিল করেন।
অর্থ: "তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন, কারণ তার নিকট অন্ধ লোকটি আসল। আপনি কেমন করে জানবেন-সে হয়ত পরিশুদ্ধ হত অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত। পক্ষান্তরে যে পরওয়া করে না, আপনি তার প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। অথচ সে নিজে পরিশুদ্ধ না হলে আপনার কোন দায়িত্ব নেই। অন্যপক্ষে যে আপনার নিকট ছুটে আসল, আর সে সশংকচিত্ত, আপনি তাকে অবজ্ঞা করলেন; 'না, এ আচরণ অনুচিত, এ তো উপদেশ-বাণী; যে ইচ্ছা করবে সে এটা স্মরণ রাখবে। এটা আছে মহান লিপিসমূহে, যা উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন, পবিত্র।" (৮০: ১-১৪)
অর্থাৎ হে নবী! আমি তো আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। বিশেষ কারও জন্য আপনি প্রেরিত নন। কাজেই যে হিদায়াত পেতে ইচ্ছুক, তাকে বঞ্চিত করবেন না এবং এ ব্যাপারে যার আগ্রহ নেই, তার প্রতি এত বেশি মনোযোগ দেবেন না।
ইব্ন হিশাম বলেন: ইব্ন উম্মু মাকতুম (রা) ছিলেন 'আমির ইব্ন লুআঈ গোত্রের লোক। আসল নাম 'আবদুল্লাহ্, কারও মতে 'আমর।