📄 উবায় ইব্ন খাল্ল্ফ ও উব্বা ইব্ন আবূ মু'আয়ত এবং তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ যা নাযিল করেন
রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর উপর অপর দুজন নির্যাতনকারী ব্যক্তি হচ্ছে-উবায় ইব্ন খাল্ল্ফ ইব্ন ওয়াহব ইবন হুযাফা ইব্ন জুমাহ ও 'উব্বা ইব্ন আবূ মু'আয়ত। তারা ছিল একে অপরের অন্তরঙ্গ বন্ধু। একবার 'উব্বা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মজলিসে বসে তাঁর কথা শুনেছিল। একথা উবায়-এর কানে পৌঁছায়। সে তখন 'উব্বার কাছে এসে বলল: আমি কি শুনিনি, তুমি মুহাম্মদের সাথ ওঠাবসা কর এবং তার কথা শোন? আমি যদি তোমার সাথে কথা বলি, তবে আমার জন্য তোমার চেহারা দেখা হারাম। সে একটা কঠিন শপথ করে বলল: যদি তুমি তাঁর কাছে বস, বা তাঁর কথা শোন, তবে তাঁর মুখে থুথু মেরে আসতে হবে। আল্লাহর দুশমন 'উব্বা এ ঘৃণ্য কাজটি সম্পন্ন করে। আল্লাহ্ তাকে লা'নত করুন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ لِيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلاً . يُوَيْلَتي لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذُ فلانًا خَلِيلاً - لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَنُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولاً .
"যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের দু'হাত দংশন করতে করতে বলবে, 'হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম! হায়, 'দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার নিকট উপদেশ পৌঁছাবার পর। শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।” (২৫: ২৭-২৯)
একদিন উবায় ইব্ন খাল্ল্ফ একখণ্ড জরাজীর্ণ হাড় নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হল। সে বলল: হে মুহাম্মদ! তোমার বিশ্বাস আল্লাহ্ তা'আলা এই ক্ষয়প্রাপ্ত অস্থিকেও পূনরুজ্জীবিত করবেন? এই বলে সে অস্থিটিকে হাতের মাঝে গুড়োগুড়ো করে ফেলল এবং তা ফুঁ দিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দিকে উড়িয়ে দিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন: হ্যাঁ, আমি তাই বলি। আল্লাহ তা'আলা এর পুনরুত্থান ঘটাবেন এবং তোমারও এরূপ অবস্থা হওয়ার পর আল্লাহ তোমাকেও পুনরায় জীবিত করে তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। এ সময় আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন:
وَضَرَبَ لَنَا مَثَلاً وَنَسِيَ خَلَقَهُ قَالَ مَنْ يُحْى العِظامَ وَهِيَ رَمِيمٌ - قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَاهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ - الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنْتُمْ مِّنْهُ تُوقِدُونَ -
"এবং সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়; বলে, 'অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবে কে, যখন তা পঁচে গলে যাবে?' বল, 'তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই, যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।' তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা তা দ্বারা অগ্নি প্রজ্বলিত কর।" (৩৬: ৭৮-৮০)
📄 সূরা কাফিরূনের শানে নুযুল
একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) কা'বার তাওয়াফ করছিলেন। এমন সময় আসওয়াদ ইব্ন মুত্তালিব ইব্ন আসাদ ইব্ন 'আবদুল উয্যা, ওয়ালীদ ইব্ন মুগীরা, উমাইয়া ইব্ন খাল্ল্ফ ও আস ইব্ন ওয়ায়ল সাহমী তাঁকে ঘিরে ধরল। তারা ছিল নিজ নিজ গোত্রের প্রবীণ ব্যক্তি। তারা বলল, হে মুহাম্মদ! আচ্ছা এসো, আমরা তাঁর ইবাদত করি, যাঁর ইবাদত তুমি কর এবং তুমিও তাদের ইবাদত কর, যাদের ইবাদত আমরা করি। এভাবে তুমি এবং আমরা একে অন্যের দীনে শরীক হয়ে যাই। যদি আমাদের উপাস্যদের চেয়ে তোমার উপাস্য উত্তম হন, তবে আমরা তার ইবাদত করে ধন্য হব, আর যদি তোমার উপাস্য অপেক্ষা আমাদের উপাস্যগণ শ্রেষ্ঠ হয়, তবে তাদের পূজা করে তুমিও ধন্য হবে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন: قُلْ يَأَيُّهَا الْكَفَرُونَ - لا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ - وَلَا أَنتُمْ عَبِدُونَ مَا أَعْبُدُ - وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدتُمْ - وَلَا أَنتُمْ عَبدُونَ مَا أَعْبُدُ - لَكُمْ دِينَكُمْ وَلِيَ دِيْنِ -
"বলুন, 'হে কাফিররা! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা কর এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি আর আমিও ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদত তোমরা করে আসছ এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের দীন তোমাদের, আমার দীন আমার।” (১০৯ : ১-৬)। অর্থাৎ আমি তোমাদের উপাস্য দেব-দেবীদের পূজা না করলে, তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে না এটাই যদি তোমাদের অভিপ্রায় হয়ে থাকে, তাহলে আমার তোমাদের এ ধরনের পূজার কোন প্রয়োজন নেই। তোমাদের দীন তোমাদেরই জন্য এবং আমার জন্য আমার দীন।
📄 আবূ জাহল এবং আল্লাহ্ তার সম্পর্কে যা নাযিল করেন
আবু জাহল ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অন্যতম উৎপীড়নকারী। আল্লাহ্ তা'আলা যখন যাক্কুম বৃক্ষের উল্লেখ করে কাফিরদের ভয় দেখালেন, তখন আবু জাহল ইবন হিশাম বলল: হে কুরায়শ সম্প্রদায়! মুহাম্মদ তোমাদের যে যাক্কুম বৃক্ষের ভয় দেখাচ্ছে, তা কি, জান? তারা বলল: না। সে বলল: তা হচ্ছে মদীনার 'আজওয়া' খেজুর, যা মাখন সহকারে খাওয়া যায়। আল্লাহর কসম! আমরা যদি মদীনায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তা হলে এ খেজুর পেটপুরে খাব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন: إِنَّ شَجَرَةَ الزَّقُوْمِ - طَعَامُ الْأَثِيْمِ - كَالْمُهْلِ يَغْلِي فِي الْبُطُونِ - كَغَلِي الْحَمِيمِ -
"নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হবে-পাপীর খাদ্য; গলিত তামার মত; তা তার উদরে ফুটতে থাকবে ফুটন্ত পানির মত।" (৪৪ : ৪৩-৪৬)
অর্থাৎ সে যা বলছে, যাকুম বৃক্ষ তা নয় মোটেই। ইবন হিশাম বলেন : المهل অর্থ যে কোন গলিত দ্রব্য, যথা তামা, সিসা ইত্যাদি। আবু 'উবায়দা এরূপই বলেছেন।
📄 ইবন মাসউদ (রা) (المهل)-এর যেভাবে ব্যাখ্যা করেন
হাসান বসরী (র)-এর সূত্রে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, 'আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) কৃষ্ণায় 'উমর ফারুক (রা)-এর পক্ষ হতে খাজাঞ্চীর দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। একদিন তাঁর নির্দেশে রূপা গলানো হল। সে উত্তপ্ত গলিত রূপা হতে বিচিত্র রং বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: দরজায় কেউ আছে কি? লোকেরা বলল: আছে। তিনি বললেন: তাদের ভিতরে আসতে বল। তারা এলে পরে তিনি বললেন: এই যে গলিত তপ্ত রূপা দেখছ, এটা হচ্ছে المهل-এর একটা তুচ্ছ দৃষ্টান্ত। কোন কবি বলেন:
يسقيه ربي حميم المحل يجرعه x يشوى الوجوه في بطنه صهر .
"আমার রব তাকে গলিত ধাতুর ন্যায় উত্তপ্ত পানীয় পান করাবেন, সে তা অতি কষ্টে গলাধঃকরণ করবে। সে পানীয় তার মুখমণ্ডল ঝলসে দেবে এবং তার পেটের ভেতর টগবগ করে ফুটবে।" অন্য মতে المهل অর্থ দেহের গলিত পুঁজ।