📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাকীম ইন্ন হিযামের সাহায্য প্রেরণ, আবু জাহল কর্তৃক বাধা প্রদান ও আবুল বাখতারীর মধ্যস্থতা

📄 হাকীম ইন্ন হিযামের সাহায্য প্রেরণ, আবু জাহল কর্তৃক বাধা প্রদান ও আবুল বাখতারীর মধ্যস্থতা


বর্ণিত আছে, হাকীম ইবন হিযাম ইব্‌ন খুওয়ায়লিদ ইব্‌ন আসাদ তাঁর ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ (রা)-এর জন্য কিছু গম নিয়ে যাচ্ছিলেন, তার একটি গোলাম তা বয়ে নিচ্ছিল। খাদীজা (রা) তখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সহধর্মিণী এবং তাঁরই সংগে গিরিসংটে অবস্থানরত ছিলেন। আবু জাহল তাদের দেখতে পেয়ে রুখে দাঁড়ায় এবং বলে ওঠে: তুমি এই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বনু হাশিমের কাছে যাবে? আল্লাহর কসম! এ খাদ্যদ্রব্য নিয়ে তোমাকে এক কদমও অগ্রসর হতে দেব না। তার আগে আমি তোমাকে মক্কায় অপদস্থ করে ছাড়ব। এমনি মুহূর্তে সেখানে আবুল বাখতারী ইব্‌ন হিশাম ইন্ন হারিস ইন্ন আসাদ এসে উপস্থিত হলেন। তিনি আবূ জাহলকে বললেন তোমার কি হয়েছে? আবু জাহল বলল: সে বনূ হাশিমের কাছে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। আবুল বাখতারী বললেন আরে, তার ফুফুর এই সামান্য কিছু খাদ্যদ্রব্য তার কাছে রক্ষিত ছিল। তিনি এখন চেয়ে পাঠিয়েছেন আর তুমি তাতে বাধা দিচ্ছ? ছেড়ে দাও, ও চলে যাক। কিন্তু আবূ জাহল অনড়। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কটুক্তি বিনিময়ও হল। এক পর্যায়ে আবুল বাখতারী উটের একটি চোয়াল তুলে আবু জাহলকে প্রচণ্ড আঘাত করলেন। ফলে তার মাথা ফেটে যায়। এরপর তাকে আচ্ছা করে পদদলিত করেন। হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব কাছ থেকে এসব লক্ষ্য করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ও সাহাবীদের নিকট কোনরূপ সাহায্য-সামগ্রী পৌঁছুক, এটা কাফিরদের পসন্দ ছিল না। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশায় তারা রীতিমত কৌতুকবোধ করছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) এ অবস্থায়ও নিজ সম্প্রদায়কে রাত-দিন, প্রকাশ্যে-গোপনে সর্বাবস্থায় হিদায়াতের পথে আহবান জানাচ্ছিলেন। এভাবে আল্লাহ্ নির্দেশ পালন করে যাচ্ছিলেন। এতে কোন মানুষকে তিনি একবিন্দু পরওয়া করতেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00