📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে আবু লাহাবের হঠকারিতা এবং তার সম্পর্কে অবতীর্ণ ওহী

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সাথে আবু লাহাবের হঠকারিতা এবং তার সম্পর্কে অবতীর্ণ ওহী


ইবন ইসহাক বলেন: হুসায়ন ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু লাহাব স্বগোত্র ছেড়ে কুরায়শদের পক্ষ অবলম্বন করার পর, উতবা ইবন রবী'আর কন্যা হিন্দার সাথে সাক্ষাৎ করল। তাকে বলল: হে উতবা তনয়া! তুমি কি লাত ও 'উয্যার সমর্থন করেছ? যারা তাদের পরিত্যাগ ও বিরোধিতা করেছে তুমি কি তাদের বর্জন করেছ? সে বলল: হ্যাঁ, হে আবু 'উতবা! আল্লাহ্ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
ইবন ইসহাক বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে বলত মুহাম্মদ আমাকে এমন সব বিষয়ের কথা বলে ভয় দেখায়, যা আমি দেখি না। সে বলে, মৃত্যুর পর সেগুলো হবে। এসব বলে সে আমার হাতে কি যেন তুলে দিল। এরপর সে তার দু'হাতে ফুঁ দিয়ে বলে ওঠে, তোমরা ধ্বংস হও, মুহাম্মদ যা বলে তার কিছুই আমি তোমাদের মাঝে দেখছি না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করেন : تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وتَبٌ "আবু লাহাবের দু'হাত ধ্বংস হোক, ধ্বংস হোক সে নিজেও।"
ইব্‌ন হিশাম বলেন : ثبت মানে خسرت ধ্বংস হোক, ক্ষতিগ্রস্ত হোক( التباب )হতে ক্রিয়াটি উদ্ভূত; যার) অর্থ الخسران )ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ধ্বংস হওয়া)। বনু হিলাল-ইবন আমির ইবন সা'সা'আ গোত্রীয় হাবীব ইবন খুদ্রা খারিজীর একটি কাসিদায় আছে: হে তায়ব! আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের লোক যাদের শ্রম পণ্ড ও ব্যর্থ হয়ে গেছে।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শদের সম্পর্কে আবু তালিবের কবিতা

📄 কুরায়শদের সম্পর্কে আবু তালিবের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন: যখন কুরায়শরা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বিরুদ্ধাচরণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আবু তালিব বলেন:
ওচ্ছে। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে বন্ধু লুআঈকে এ বার্তা পৌছে দাও, বিশেষত বনূ লুআঈ-এর শাখা বনূ কা'বকে।
তোমরা কি জান না, আমরা মুহাম্মদকে একজন নবীরূপে পেয়েছি, যেমন নবী ছিলেন হযরত মূসা। পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে তাঁর বর্ণনা আছে।
وان عليه في العباد محبة × ولاخير ممن خصه الله بالحب -
মানুষের অন্তরে তাঁর জন্য আছে ভালবাসার ঠাঁই। আল্লাহ্ তা'আলা যাকে নিজ ভালবাসার জন্য বাছাই করেছেন, তাঁর থেকে বিছিন্ন হয়ে কোন কল্যাণের আশা করা যায় না।
তোমরা যে চুক্তিপত্র লিখেছ, তা তোমাদের নিজেদেরই জন্য অশুভ প্রমাণিত হবে, যেমন অশুভ প্রমাণিত হয়েছিল সালিহ (আ)-এর উট শাবকের আওয়ায।
তোমরা সচেতন হও, সচেতন হও, কবর খননের আগেই। সাবধান হও সেদিনের আগে, যেদিন নিষ্পাপ লোক হবে পাপীদের মত।
তোমরা নিন্দুকদের কথায় পড়ে, আমাদের পূর্ব ভালবাসা ও নৈকট্যের বন্ধন ছিন্নভিন্ন করে ফেল না।
তোমরা টেনে এনো না ক্রমাগত যুদ্ধ। কারণ, যুদ্ধের স্বাদ যে একবার গ্রহণ করেছে, সে তা তেঁতোই পেয়েছে।
কা'বার রবের কসম! আমরা এমন লোক নই যে, কালচক্রের আঘাত ও বিপদাপদে জর্জরিত হয়ে আহমদকে তোমাদের হাতে ছেড়ে দেব-
এখনও তো তোমাদের আমাদের গর্দান বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং তোমাদের আমাদের হাত তীক্ষ্ণ কুসাসী তরবারিতে কর্তিত হয়নি।
بمعترك ضيق ترى كسر القنا × به والنسور الطخم يعكفن كالشوب -
আমরা এখনও মুখোমুখি হইনি এমন সুকঠিন রণাঙ্গণে, যেখানে তুমি দেখতে পাবে- ইতস্তত খণ্ড-বিখণ্ড বর্শা, আর কালো মাথাবিশিষ্ট একঝাঁক শকুন, যারা নেশাগ্রস্থদের মত বুঁদ হয়ে পড়ে আছে।
তার আশেপাশে ঘোড়ার ছোটাছুটি ও দুর্দান্ত বীরদের হাঁক-ডাক দেখলে তুমি ভাববে, এ বুঝি এক মহাব্যস্ত রণক্ষেত্র।
আমাদের পূর্বপুরুষ কি হাশিম নন, যিনি নিজ শক্তিকে করে যান সুদৃঢ় এবং সন্তানদের উপদেশ দিয়ে যান বর্শা ও তলোয়ারবাজীর?
আমরা যুদ্ধে ক্লান্ত হই না, যতক্ষণ না যুদ্ধই শ্রান্ত হয়ে ওঠে, যে কোন বিপদ-আপদই আসুক, আমরা কারও কাছে তার অভিযোগ করি না।
والكننا اهل الحفائط والنهى * اذا طار ارواح الكماة من الرعب -
বস্তুত আমরা সুদক্ষ প্রতিরোধকারী, জ্ঞানের অধিকারী এমনকি সেই মুহূর্তেও, যখন ভয়-ত্রাসে বাহাদুদেরও প্রাণ উড়ে যায়।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাকীম ইন্ন হিযামের সাহায্য প্রেরণ, আবু জাহল কর্তৃক বাধা প্রদান ও আবুল বাখতারীর মধ্যস্থতা

📄 হাকীম ইন্ন হিযামের সাহায্য প্রেরণ, আবু জাহল কর্তৃক বাধা প্রদান ও আবুল বাখতারীর মধ্যস্থতা


বর্ণিত আছে, হাকীম ইবন হিযাম ইব্‌ন খুওয়ায়লিদ ইব্‌ন আসাদ তাঁর ফুফু খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ (রা)-এর জন্য কিছু গম নিয়ে যাচ্ছিলেন, তার একটি গোলাম তা বয়ে নিচ্ছিল। খাদীজা (রা) তখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সহধর্মিণী এবং তাঁরই সংগে গিরিসংটে অবস্থানরত ছিলেন। আবু জাহল তাদের দেখতে পেয়ে রুখে দাঁড়ায় এবং বলে ওঠে: তুমি এই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে বনু হাশিমের কাছে যাবে? আল্লাহর কসম! এ খাদ্যদ্রব্য নিয়ে তোমাকে এক কদমও অগ্রসর হতে দেব না। তার আগে আমি তোমাকে মক্কায় অপদস্থ করে ছাড়ব। এমনি মুহূর্তে সেখানে আবুল বাখতারী ইব্‌ন হিশাম ইন্ন হারিস ইন্ন আসাদ এসে উপস্থিত হলেন। তিনি আবূ জাহলকে বললেন তোমার কি হয়েছে? আবু জাহল বলল: সে বনূ হাশিমের কাছে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। আবুল বাখতারী বললেন আরে, তার ফুফুর এই সামান্য কিছু খাদ্যদ্রব্য তার কাছে রক্ষিত ছিল। তিনি এখন চেয়ে পাঠিয়েছেন আর তুমি তাতে বাধা দিচ্ছ? ছেড়ে দাও, ও চলে যাক। কিন্তু আবূ জাহল অনড়। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কটুক্তি বিনিময়ও হল। এক পর্যায়ে আবুল বাখতারী উটের একটি চোয়াল তুলে আবু জাহলকে প্রচণ্ড আঘাত করলেন। ফলে তার মাথা ফেটে যায়। এরপর তাকে আচ্ছা করে পদদলিত করেন। হামযা ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব কাছ থেকে এসব লক্ষ্য করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ও সাহাবীদের নিকট কোনরূপ সাহায্য-সামগ্রী পৌঁছুক, এটা কাফিরদের পসন্দ ছিল না। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশায় তারা রীতিমত কৌতুকবোধ করছিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) এ অবস্থায়ও নিজ সম্প্রদায়কে রাত-দিন, প্রকাশ্যে-গোপনে সর্বাবস্থায় হিদায়াতের পথে আহবান জানাচ্ছিলেন। এভাবে আল্লাহ্ নির্দেশ পালন করে যাচ্ছিলেন। এতে কোন মানুষকে তিনি একবিন্দু পরওয়া করতেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00