📄 উমর ইবন খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে আতা ও মুজাহিদের বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নুজায়হ মাক্কী তাঁর সংগী আতা , মুজাহিদ অথবা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে যে , তিনি নিজে এরূপ বলতেন : “ আমি ইসলামের কট্টর বিরোধী ছিলাম । জাহিলী যুগে আমি মদের খুব ভক্ত ছিলাম । মদ পেলে খুবই আনন্দিত হতাম । আমাদের একটা মজলিস বসত , যেখানে কুরায়শ নেতারা একত্র হত । উমর ইব্ন আব্দ ইব্ন ইমরান মাখযুমীর বাড়ির নিকট হাযওয়ারা নামক স্থানে । রাবী বলেন , এক রাতে আমি ঐ আসরে আমার সহযোগীদের উদ্দেশ্যে বের হলাম । কিন্তু সেখানে তাদের কাউকেই পেলাম না । এরপর ভাবলাম , মক্কায় অমুক মদ বিক্রেতার কাছে গেলে হয়ত মদ খেতে পারতাম । তার
উদ্দেশে গেলাম কিন্তু তাকে পেলাম না । এরপর মনে মনে বললাম , কা'বা শরীফে গিয়ে যদি সাতবার অথবা সত্তরবার তওয়াফ করতাম তা মন্দ হয় না । অবশেষে আমি কা'বা শরীফের তওয়াফ করার জন্য মাসজিদুল হারামে উপনীত হলাম । সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলাম । তিনি তখনো সিরিয়ার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং কা'বাকে নিজের ও সিরিয়ার মাঝখানে রাখতেন । রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মাঝে তাঁর সালাত আদায়ের স্থান ছিল । রাবী বলেন ; তাকে দেখেই আমি আপন মনে বললাম , আল্লাহর কসম ! আজকের রাতটা যদি মুহাম্মদ (সা:) -এর আবৃত্তি শুনে কাটিয়ে দিতাম এবং তিনি কি বলেন তা যদি শুনতাম , তাহলেও একটা কাজ হত । কিন্তু সেই সাথে এটাও ভাবলাম যে , মুহাম্মদ (সা:) -এর খুব কাছে গিয়ে যদি শুনি , তাহলে তিনি ভয় পেয়ে যাবেন । তাই হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে এলাম , কা'বা শরীফের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম । রাসূলুল্লাহ্ তখনো যথারীতি দাঁড়িয়ে সালাতে কুরআন পাঠ করছিলেন । অবশেষে আমি তাঁর ঠিক সামনে , কা'বার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম । যখন কুরআন শুনলাম , তখন আমার মন নরম হয়ে গেল । আমি কেঁদে ফেললাম । আমার ওপর ইসলাম প্রভাব বিস্তার করল । রাসূলুল্লাহ্ সালাত শেষ করে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম । তিনি যখন কা'বা থেকে ফিরে যেতেন , তখন তিনি ইবন আবূ হুসায়নের বাড়ির কাছ দিয়ে যেতেন । এটা ছিল তাঁর যাতায়াতের পথ । এরপর তিনি সাফা ও মারওয়ার মধ্যস্থিত দৌড়ের জায়গা অতিক্রম করতেন । সেখান থেকে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালib এবং ইবন আযহার ইবন আবদ আওফ যুহরীর বাড়ির মাঝখান দিয়ে আখনাস ইবন তরায়কের বাড়ি হয়ে নিজের বাড়িতে চলে যেতেন । ' দারুর রাকতায় ' ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বাড়ি । এ জায়গাটা ছিল আবূ সুফিয়ানের ছেলে মুআবিয়ার মালিকানাধীন । উমর ( রা ) বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পিছু পিছু চলতে লাগলাম । যখন তিনি আব্বাসের বাড়ি ও ইব্ন আযহারের বাড়ির মাঝখানে পৌঁছলেন , তখন আমি তাঁকে পেয়ে গেলাম । আমার আওয়াজ শুনেই রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমাকে চিনে ফেললেন । তিনি মনে করলেন যে , আমি তাঁকে কষ্ট দিতে এসেছি । তাই তিনি আমাকে একটা ধমক দিলেন । ধমক দিয়েই আবার জিজ্ঞেস করলেন হে খাস্তাবের পুত্র । এ মুহূর্তে তুমি কি উদ্দেশ্য এসেছ ? আমি বললাম : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর কাছে যা কিছু আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে , তার প্রতি ঈমান আনার উদ্দেশ্যে । রাবী বলেন : এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আল্লাহ্ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন । তারপর বললেন : “ হে উমর ! আল্লাহ্ তোমাকে হিদায়াত করেছেন । ” তারপর তিনি আমার বুকে হাত বুলালেন এবং আমি যাতে ইসলামের ওপর অবিচল থাকি , সেজন্য দু'আ করলেন । এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছ থেকে ফিরে এলাম এবং তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করলেন । ”
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ নুজায়হ মাক্কী তাঁর সংগী আতা , মুজাহিদ অথবা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে যে , তিনি নিজে এরূপ বলতেন : “ আমি ইসলামের কট্টর বিরোধী ছিলাম । জাহিলী যুগে আমি মদের খুব ভক্ত ছিলাম । মদ পেলে খুবই আনন্দিত হতাম । আমাদের একটা মজলিস বসত , যেখানে কুরায়শ নেতারা একত্র হত । উমর ইব্ন আব্দ ইব্ন ইমরান মাখযুমীর বাড়ির নিকট হাযওয়ারা নামক স্থানে । রাবী বলেন , এক রাতে আমি ঐ আসরে আমার সহযোগীদের উদ্দেশ্যে বের হলাম । কিন্তু সেখানে তাদের কাউকেই পেলাম না । এরপর ভাবলাম , মক্কার অমুক মদ বিক্রেতার কাছে গেলে হয়ত মদ খেতে পারতাম । তার উদ্দেশ্যে গেলাম কিন্তু তাকে পেলাম না । এরপর মনে মনে বললাম , কা'বা শরীফে গিয়ে যদি সাতবার অথবা সত্তরবার তওয়াফ করতাম তা মন্দ হয় না । অবশেষে আমি কা'বা শরীফের তওয়াফ করার জন্য মাসজিদুল হারামে উপনীত হলাম । সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলাম । তিনি তখনো সিরিয়ার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন এবং কা'বাকে নিজের ও সিরিয়ার মাঝখানে রাখতেন । রুকনে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মাঝে তাঁর সালাত আদায়ের স্থান ছিল । রাবী বলেন ; তাকে দেখেই আমি আপন মনে বললাম , আল্লাহর কসম ! আজকের রাতটা যদি মুহাম্মদ (সা:) -এর আবৃত্তি শুনে কাটিয়ে দিতাম এবং তিনি কি বলেন তা যদি শুনতাম , তাহলেও একটা কাজ হত । কিন্তু সেই সাথে এটাও ভাবলাম যে , মুহাম্মদ (সা:) -এর খুব কাছে গিয়ে যদি শুনি , তাহলে তিনি ভয় পেয়ে যাবেন । তাই হাজরে আসওয়াদের দিক থেকে এলাম , কা'বা শরীফের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম । রাসূলুল্লাহ্ তখনো যথারীতি দাঁড়িয়ে সালাতে কুরআন পাঠ করছিলেন । অবশেষে আমি তাঁর ঠিক সামনে , কা'বার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম । যখন কুরআন শুনলাম , তখন আমার মন নরম হয়ে গেল । আমি কেঁদে ফেললাম । আমার ওপর ইসলাম প্রভাব বিস্তার করল । রাসূলুল্লাহ্ সালাত শেষ করে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম । তিনি যখন কা'বা থেকে ফিরে যেতেন , তখন তিনি ইবন আবূ হুসায়নের বাড়ির কাছ দিয়ে যেতেন । এটা ছিল তাঁর যাতায়াতের পথ । এরপর তিনি সাফা ও মারওয়ার মধ্যস্থিত দৌড়ের জায়গা অতিক্রম করতেন । সেখান থেকে আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং ইবন আযহার ইবন আবদ আওফ যুহরীর বাড়ির মাঝখান দিয়ে আখনাস ইবন তরায়কের বাড়ি হয়ে নিজের বাড়িতে চলে যেতেন । ' দারুর রাকতায় ' ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বাড়ি । এ জায়গাটা ছিল আবূ সুফিয়ানের ছেলে মুআবিয়ার মালিকানাধীন । উমর ( রা ) বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পিছু পিছু চলতে লাগলাম । যখন তিনি আব্বাসের বাড়ি ও ইব্ন আযহারের বাড়ির মাঝখানে পৌঁছলেন , তখন আমি তাঁকে পেয়ে গেলাম । আমার আওয়াজ শুনেই রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমাকে চিনে ফেললেন । তিনি মনে করলেন যে , আমি তাঁকে কষ্ট দিতে এসেছি । তাই তিনি আমাকে একটা ধমক দিলেন । ধমক দিয়েই আবার জিজ্ঞেস করলেন হে খাস্তাবের পুত্র । এ মুহূর্তে তুমি কি উদ্দেশ্য এসেছ ? আমি বললাম : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর কাছে যা কিছু আল্লাহ্র কাছ থেকে এসেছে , তার প্রতি ঈমান আনার উদ্দেশ্যে । রাবী বলেন : এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আল্লাহ্ প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন । তারপর বললেন : “ হে উমর ! আল্লাহ্ তোমাকে হিদায়াত করেছেন । ” তারপর তিনি আমার বুকে হাত বুলালেন এবং আমি যাতে ইসলামের ওপর অবিচল থাকি , সেজন্য দু'আ করলেন । এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছ থেকে ফিরে এলাম এবং তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করলেন ।
📄 ইসলামের ওপর উমর (রা)-এর দৃঢ়তা
ইবন ইসহাক বলেন উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে উপরোক্ত ঘটনা দু'টির কোটি সঠিক , তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ( রা ) -এর আযাদকৃত গোলাম নাফে ' উমর ( রা ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন । তিনি বলেন : আমার পিতা উমর ( রা ) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন , তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন যে , কুরায়ণের কোন ব্যক্তি সর্বাধিক প্রচারমুখরা তাকে বলা হল , জামীল ইবন মা'মার জুমহী । তিনি তৎক্ষণাৎ তার উদ্দেশ্যে বের হলেন । আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ( রা ) বলেন , আমি তাঁর পেছনে ছুটলাম এবং তিনি কি করেন তা দেখতে লাগলাম । তখন আমি বালক হলেও , যা কিছু দেখতাম সবই বুঝতে পারতাম । উমর ( রা ) জামীলের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন , “ হে জামীল । তুমি কি জান , আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মদ (সা:) -এর দীন কবুল করেছি । ” ইবন উমর বলেন : আল্লাহর কসম ! আমার পিতা দ্বিতীয়বার এ কথা বলার আগেই আমিল তার চাদর ঘটিয়ে হাঁটা শুরু করল । উমর ( রা ) তার পিছু পিছু চললেন । আমিও আমার পিতার পিছু পিছু চললাম । সে ( জামীল ) চলতে চলতে মাসজিদুল হারামের দরজার কাছে পৌঁছে বিকট চিৎকার করে বলল : “ হে কুরায়শ জনমণ্ডলী শুনে নাও , উমর স্বধর্মত্যাগী হয়ে গেছে । এ সময় কুরায়শ নেতৃবৃন্দ । কা'বার চত্বরে তাদের আড্ডায় বসে ছিল । উমর ( রা ) তার পেছনে দাঁড়িয়ে বললেন : জামীল মিথ্যা বলেছে আমি ধর্মচ্যুত হইনি ; তবে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি । আমি সাক্ষ্য দিয়েছি যে , আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা:) তাঁর বান্দা ও রাসূল । সংগে সংগে সকলে তাঁর দিকে মারমুখী হয়ে ছুটে এলো । উমর ( রা ) ও কুরায়শদের মধ্যে দুপুর পর্যন্ত লড়াই চলল । রাবী বলেন : এক সময় উমর ( রা ) ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে বসে পড়লেন । কুরায়শরা তখনো তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে ছিল । উমর ( রা ) বলতে লাগলেন : “ তোমরা যা খুশি কর । আল্লাহ্র কসম ! আমরা যদি তিনশ লোক হতাম , তাহলে আমরা তোমাদের জন্য মক্কা ছেড়ে দিতাম অথবা তোমরা আমাদের জন্য মক্কা ছেড়ে দিতে । ” রাবী বলেন : উভয় পক্ষ যখন এ পর্যায়ে , তখন সহসা সেখানে একজন প্রবীণ কুরায়শ সরদারের আবির্ভাব ঘটল , যার গায়ে মূল্যবান ইয়ামানী চাদর ও নকশাদার জামা ছিল । তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন , তোমাদের কি হয়েছে ? সকলে বলল : উমর স্বধর্মত্যাগী হয়ে গেছে । বৃদ্ধ বললেন : তাতে কি হয়েছে , থামো ! একজন মানুষ নিজের ইচ্ছায় একটা জিনিস গ্রহণ করেছে , তোমরা তার কি করতে চাও ? তোমরা কি ভেবেছ যে , বন্ আদী ইবন কা'ব [ উমুর ( রা ) -এর গোত্র ) তাদের সদস্যকে তোমাদের হাতে এভাবেই ছেড়ে দেবে ? ওকে ছেড়ে দাও । ইবন উমর ( রা ) বলেন , আল্লাহ্র শপথ ! এ কথার পর তারা গুটিয়ে নেয়া কাপড়ের মত নিজেদের ভাবাবেগকে সংযত করল । পরে মদীনায় হিজরত করার পর আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলোম : আ :
বৃদ্ধটি কে ছিলেন , যিনি আপনার ইসলাম গ্রহণের দিন বিক্ষুব্ধ জনতাকে ধমক দিয়ে আপনার কাছ থেকে হটিয়ে দিয়েছিলেন ? তিনি বললেন : হে আমার পুত্র । তিনি ছিলেন আস ইবন ওয়ায়ল সামী ।
ইবন হিশাম বলেন : আমাকে কোন কোন বিদ্বান ব্যক্তি বলেছেন যে , আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ( রা ) তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করেন : হে আমার পিতা ! আপনার ইসলাম গ্রহণের দিন ক্ষুব্ধ জনতাকে যিনি ধমক দিয়ে আপনার কাছ থেকে হটিয়ে দেন , তিনি কে ছিলেন ? আল্লাহ্ তাঁকে উত্তম বিনিময় দান করুন । উমর ( রা ) বলেন , হে আমার প্রিয় পুত্র । তিনি ছিলেন আস ইবন ওয়ারল । আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান না নিন ।
ইবন ইসহাক বলেন উমর ( রা ) -এর পরিবারের অথবা আত্মীয় - স্বজনের মধ্য থেকে কোন একজনের বরাতে আবদুর রহমান ইবন হারিস আমাকে বলেছেন যে , উমর ( রা ) বলেন : সেই রাতে ইসলাম গ্রহণ করার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে , মক্কাবাসীদের মধ্যে যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সবচেয়ে কট্টর দুশমন , আমি তার কাছে যাব এবং তাকে জানাব যে , আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি । তিনি বলেন আমি ভেবে দেখলাম , সে তো আৰু জাহল ছাড়া আর কেউ নয় । উল্লেখ্য যে , উমর ( রা ) ছিলেন আবূ জাহলের বোন হান্তামা বিনৃত হিশাম ইব্ন মুগীরার পুত্র । উমর ( রা ) বলেন : পরদিন সকালে আমি তার দরজায় গিয়ে করাঘাত করলাম । তখন আবূ জাহল আমার কাছে বেরিয়ে এলো এবং বলল : আমার ভাগ্নেকে স্বাগতম ! তুমি কি খবর নিয়ে এসেছ উমর ? আমি বললাম : “ আমি আপনাকে জানাতে এসেছি যে , আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা:) -এর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তিনি যে বিধান নিয়ে এসেছেন , তাও সত্য বলে মেনে নিয়েছি । ” উমর ( রা ) বলেন : তখন সে আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল এবং বলল , আল্লাহ্ তোমাকে এবং তুমি যে খবর নিয়ে এসেছ , তা বরবাদ করুন !
টিকাঃ
১. কারণ ইসলাম কবুল করা ব্যতীত ভাল কাজের প্রতিদান পাওয়া যায় না , আস ইবন ওয়ায়ল মুশরিক অবস্থায় এ কাজটি করেন এবং তিনি ইসলাম কবুল করেন নি ।
ইবন ইসহাক বলেন উমর ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে উপরোক্ত ঘটনা দু'টির কোটি সঠিক , তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ( রা ) -এর আযাদকৃত গোলাম নাফে ' উমর ( রা ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেন । তিনি বলেন : আমার পিতা উমর ( রা ) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন , তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন যে , কুরায়ণের কোন ব্যক্তি সর্বাধিক প্রচারমুখরা তাকে বলা হল , জামীল ইবন মা'মার জুমহী । তিনি তৎক্ষণাৎ তার উদ্দেশ্যে বের হলেন । আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ( রা ) বলেন , আমি তাঁর পেছনে ছুটলাম এবং তিনি কি করেন তা দেখতে লাগলাম । তখন আমি বালক হলেও , যা কিছু দেখতাম সবই বুঝতে পারতাম । উমর ( রা ) জামীলের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন , “ হে জামীল । তুমি কি জান , আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মদ (সা:) -এর দীন কবুল করেছি । ” ইবন উমর বলেন : আল্লাহর কসম ! আমার পিতা দ্বিতীয়বার এ কথা বলার আগেই আমিল তার চাদর ঘটিয়ে হাঁটা শুরু করল । উমর ( রা ) তার পিছু পিছু চললেন । আমিও আমার পিতার পিছু পিছু চললাম । সে ( জামীল ) চলতে চলতে মাসজিদুল হারামের দরজার কাছে পৌঁছে বিকট চিৎকার করে বলল : “ হে কুরায়শ জনমণ্ডলী শুনে নাও , উমর স্বধর্মত্যাগী হয়ে গেছে । এ সময় কুরায়শ নেতৃবৃন্দ । কা'বার চত্বরে তাদের আড্ডায় বসে ছিল । উমর ( রা ) তার পেছনে দাঁড়িয়ে বললেন : জামীল মিথ্যা বলেছে আমি ধর্মচ্যুত হইনি ; তবে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি । আমি সাক্ষ্য দিয়েছি যে , আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা:) তাঁর বান্দা ও রাসূল । সংগে সংগে সকলে তাঁর দিকে মারমুখী হয়ে ছুটে এলো । উমর ( রা ) ও কুরায়শদের মধ্যে দুপুর পর্যন্ত লড়াই চলল । রাবী বলেন : এক সময় উমর ( রা ) ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে বসে পড়লেন । কুরায়শরা তখনো তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে ছিল । উমর ( রা ) বলতে লাগলেন : “ তোমরা যা খুশি কর । আল্লাহ্র কসম ! আমরা যদি তিনশ লোক হতাম , তাহলে আমরা তোমাদের জন্য মক্কা ছেড়ে দিতাম অথবা তোমরা আমাদের জন্য মক্কা ছেড়ে দিতে । ” রাবী বলেন : উভয় পক্ষ যখন এ পর্যায়ে , তখন সহসা সেখানে একজন প্রবীণ কুরায়শ সরদারের আবির্ভাব ঘটল , যার গায়ে মূল্যবান ইয়ামানী চাদর ও নকশাদার জামা ছিল । তিনি তাদের কাছে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন , তোমাদের কি হয়েছে ? সকলে বলল : উমর স্বধর্মত্যাগী হয়ে গেছে । বৃদ্ধ বললেন : তাতে কি হয়েছে , থামো ! একজন মানুষ নিজের ইচ্ছায় একটা জিনিস গ্রহণ করেছে , তোমরা তার কি করতে চাও ? তোমরা কি ভেবেছ যে , বন্ আদী ইবন কা'ব [ উমুর ( রা ) -এর গোত্র ) তাদের সদস্যকে তোমাদের হাতে এভাবেই ছেড়ে দেবে ? ওকে ছেড়ে দাও । ইবন উমর ( রা ) বলেন , আল্লাহ্র শপথ ! এ কথার পর তারা গুটিয়ে নেয়া কাপড়ের মত নিজেদের ভাবাবেগকে সংযত করল । পরে মদীনায় হিজরত করার পর আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলোম : আ : ! বৃদ্ধটি কে ছিলেন , যিনি আপনার ইসলাম গ্রহণের দিন বিক্ষুব্ধ জনতাকে ধমক দিয়ে আপনার কাছ থেকে হটিয়ে দিয়েছিলেন ? তিনি বললেন : হে আমার পুত্র । তিনি ছিলেন আস ইবন ওয়ায়ল সামী ।