📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজাশীর ক্রেতা ব্যবসায়ীটির ঘটনা

📄 নাজাশীর ক্রেতা ব্যবসায়ীটির ঘটনা


এরপর সেই ব্যবসায়ী আবিসিনিয়াবাসীর কাছে এল , যারা তার কছে নাজাশীকে বিক্রি করে দিয়েছিল । সে বলল , হয় তোমরা আমার অর্থ ফেরত দেবে , নয় আমি নিজে এ ব্যাপারে নাজাশীর সাথে কথা বলব । তারা বলল , আমরা তোমাকে কিছুই দেব না । তখন সে বলল , আল্লাহ্র কসম ! এখন আমি তাঁর সংগে অবশ্যই কথা বলব ।
তারা বলল , তা তোমার আর নাজাশীর ব্যাপার । রাবী বলেন , এরপর সে নাজাশীর কাছে এসে বলল , হে রাজা ! আমি বাজারে একদল লোক থেকে ছয়শ দিরহামে অমুককে কিনেছি । তারা গোলামকে আমার হাতে সমর্পণ করে এবং দিরহাম নিয়ে নেয় । অবশেষে যখন আমি গোলামটিকে নিয়ে রওয়ানা হই , অমনি তারা গিয়ে আমাকে ধরে ফেলে এবং গোলামকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয় । আর দিরহামও তারা ফেরত দেয়নি । রাবী বলেন , তখন নাজাশী তাদের বললেন , হয় তোমরা তার দিরহাম দিবে , নচেৎ তার ক্রীত গোলাম ক্রেতার হাতে হাত রেখে যেখানে সে নিয়ে যায় সেখানে চলে যাবে । তখন তারা বলল , বরং আমরা তার দিরহাম দিয়ে দিচ্ছি । উম্মে সালামা ( রা ) বলেন : এজন্য নাজাশী বলতেন : “ আল্লাহ্ যখন আমার রাজত্ব আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন , তখন আমার কাছ থেকে ঘুষ নেননি । কাজেই এ রাজ্যে . আমার ঘুষ নেয়ার প্রশ্ন ওঠে না । আর লোকেরা আমার বিরুদ্ধে যা করতে চেয়েছিল , আল্লাহ্ তা করেননি । কাজেই আমি আল্লাহ্ দীনের ব্যাপারে না বুঝে কেমনে মানুষের কথা মেনে নেব ? ” বস্তুত এটা ছিল স্বীয় ধর্মের ব্যাপারে তাঁর অনমনীয়তা এবং স্বীয় শাসনে তার ন্যায়বিচারের স্বাক্ষর ।
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াযীদ ইব্‌ন রুমান উরওয়া ইবন যুবায়র ( রা ) থেকে এবং তিনি আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণনা করেন যে , নাজাশীর মৃত্যুর পর তাঁর কবরের ওপর সর্বক্ষণ একটা আলো থাকতে দেখা গেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজাশীর ইসলাম গ্রহণ, তাঁর বিরুদ্ধে আবিসিনিয়াবাসীদের বিদ্রোহ ও তাঁর প্রতি গায়েবানা জানাযার সালাত

📄 নাজাশীর ইসলাম গ্রহণ, তাঁর বিরুদ্ধে আবিসিনিয়াবাসীদের বিদ্রোহ ও তাঁর প্রতি গায়েবানা জানাযার সালাত


ইবন ইসহাক বলেন : জা'ফর ইব্‌ন মুহাম্মদ তাঁর পিতার বরাতে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন , একবার আবিসিনিয়াবাসী নাজাশীর কাছে জমায়েত হয়ে বলল : “ তুমি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছ । এই বলে তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল । তখন নাজাশী জা'ফর ( রা ) ও তাঁর সংগীদেরকে ডেকে তাদের জন্য কয়েকখানা নৌকার ব্যবস্থা করে বললেন : আপনারা এতে আরোহণ করুন এবং যেমন আছেন তেমন থাকুন ( অর্থাৎ নৌকায় উঠে বসে থাকুন ) । আমি যদি বিদ্রোহীদের কাছে পরাজিত হই , তা হলে আপনারা নৌকা চালিয়ে যেখানে খুশি চলে যাবেন । আর যদি আমি জয়লাভ করি , তাহলে আপনারা এখানেই থাকবেন । এরপর তিনি একখানা কাগজে লিখলেন : “ সে ( নাজাশী ) সাক্ষ্য দেয় যে , আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই । মুহাম্মদ (সা:) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং সে এরূপও সাক্ষ্য দেয় যে , ঈসা ইবন মারইয়াম ( আ ) তাঁর বান্দা , তাঁর রাসূল ও তাঁর রূহ এবং তাঁর প্রেরিত বাণী , যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেন । এরপর তিনি এ কাগজকে তাঁর জামার ভেতরে ডান কাঁধের কাছে ঢুকিয়ে রাখলেন । তারপর তিনি বিদ্রোহী হাবশীদের দিকে রওয়ানা হলেন এবং তাদের কাছে গিয়ে বললেন : “ হে আবিসিনিয়াবাসী ! আমি কি তোমাদের শাসনের অধিক যোগ্য নই । তারা বলল হ্যাঁ , অবশ্যই । তিনি বললেন , তোমরা আমার স্বভাব - চরিত্র কেমন পেয়েছ ? তারা বলল , উত্তম । তিনি বললেন , তাহলে তোমাদের হয়েছে কী ? তারা বলল : তুমি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছ এবং ঈসাকে নিছক একজন বান্দা বলে মনে কর । নাজাশী বললেন : আচ্ছা , তোমরা ঈসা সম্পর্কে কি বল ? তারা বললো : আমরা বলি , তিনি আল্লাহ্র পুত্র । তখন নাজাশী তাঁর বুকের ওপর জামায় হাত রেখে বললেন : সে ( নাজাশী ) সাক্ষ্য দেয় যে , ‘ ঈসা মারইয়ামের পুত্র । এরপর আর একটি কথাও তিনি বাড়ালেন না এবং যা কাগজে লিখেছিলেন , মনে মনে সেদিকেই ইংগিত করলেন । এতে তারা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গেল । এ খবর নবী (সা:) -এর কাছে পৌঁছল । এরপর নাজাশী যখন ইন্তিকাল করেন , তখন তিনি তাঁর ওপর গায়েবানা জানাযার সালাত আদায় করেন এবং তাঁর জন্য আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা চান ।

**টিকাঃ**
১. হিজরী নবম সনের রজব মাসে নাজাশী ইন্তিকাল করেন । যেদিন তিনি ইন্তিকাল করেন , সেদিন রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর মৃত্যুর খবর লোকদের জানান এবং যখন মিসরে খাটের উপর তার লাশ উঠানো হলো , তখন মদীনায় থেকেও তিনি তাঁকে দেখতে পেলেন এবং তাঁর ওপর ' জান্নাতুল বাকীতে ' গায়েবানা জানাযার সালাত আদায় করেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00