📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজাশী ও মুজাহিরগণের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা

📄 নাজাশী ও মুজাহিরগণের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা


উম্মে সালামা ( রা ) বলেন এরপর নাজাশী রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীদের ডাকার জন্য লোক পাঠান । নাজাশীর দূত যখন তাঁদের কাছে পৌঁছল , তখন তাঁরা সবাই একত্রিত হলেন । রাজার কাছে গিয়ে তাঁদের কি বলতে হবে , তা নিয়ে তাঁরা পরামর্শ করলেন । তাঁরা স্থির করলেন : আল্লাহ্র কসম ! আমরা যা জানি এবং যা করতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন , তাই বলব , তাতে যা - ই হোক না কেন । ”
যখন মুসলমানরা নাজাশীর দরবারে পৌঁছলেন , তখন তারা দেখলেন যে , নাজাশী তাঁর দরবারের যাজকদের উপস্থিত রেখেছেন । আর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থকে রাজার সামনে খুলে রেখেছেন । নাজাশী মুসলমানদের প্রশ্ন করা শুরু করলেন : যে ধর্মের জন্য তোমরা তোমাদের জাতিকে ত্যাগ করেছ , সেটি কি ? তোমরা তো আমার ধর্মেও দাখিল হওনি , আর প্রচলিত অন্য কোন ধর্মেও না ।
রাবী বলেন : এর জবাবে জা'ফর ইব্‌ন আবূ তালিব ( রা ) তাঁকে বললেন : হে রাজা ! আমরা অন্ধ কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিলাম । মূর্তিপূজা করতাম এবং মৃত জন্তু খেতাম । অশ্লীল কাজকর্ম করতাম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতাম । প্রতিবেশীর সাথে খারাপ ব্যবহার করতাম এবং আমাদের যারা সবল তারা দুর্বলের ওপর অত্যাচার করত । এভাবেই চলছিল আমাদের জীবন । অবশেষে আল্লাহ্ আমাদের কাছে আমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালেন । আমরা তাঁর বংশমর্যাদা , সত্যবাদিতা , আমানতদারী , পবিত্রতা এবং সততার কথা জানি । তিনি আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকলেন , যেন আমরা আল্লাহ্র একত্বে বিশ্বাস করি এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি । আর পাথর ও মূর্তির পূজা , যা আমরা করতাম এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা করত , তা বর্জন করি । তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে , আমানত রক্ষা করতে , আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে , প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে এবং হারাম কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে আদেশ দিলেন । তিনি আমাদেরকে অশ্লীল আচরণ করতে , মিথ্যা কথা বলতে , ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করতে এবং সতী - সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করতে নিষেধ করলেন । তিনি আমাদের আদেশ দিলেন যে , আমরা যেন এক আল্লাহ্ ইবাদত করি । তাঁর সংগে যেন কোন কিছুকে শরীক না করি । তিনি আমাদের সালাত আদায়ের , যাকাত প্রদানের এবং সাওম পালানের নির্দেশ দিয়েছেন ।
রাবী বলেন : এভাবে তিনি নাজাশীর সামনে ইসলামের বিধানগুলো এক এক করে তুলে ধরলেন । ফলে , আমরা তাঁর কথা মেনে নিলাম ও তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম । আল্লাহ্র কাছ থেকে তাঁর কাছে যত বিধি - বিধান এলো , তার সবই আমরা অনুসরণ করলাম । আমরা এক আল্লাহ্র ইবাদত করতে লাগলাম এবং তাঁর সংগে কাউকে শরীক করলাম না । তিনি আমাদের জন্য যা হারাম ঘোষণা করলেন , আমরা তা হারাম হিসাবে মেনে নিলাম । আর তিনি আমাদের জন্য যা হালাল ঘোষণা করলেন , আমরা তা হালাল হিসাবে মেনে নিলাম । এ কারণে আমাদের জাতি আমাদের শত্রু হয়ে গেল । তারা আমাদের শাস্তি দিল , নির্যাতন করল এবং আমাদের আল্লাহ্র ইবাদত থেকে ফিরিয়ে মূর্তি পূজার দিকে নেয়ার জন্য তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল । আর সমস্ত ঘৃণ্য বস্তুকে যাতে আমরা হালাল মনে করি , সে জন্যও তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল । যখন তারা আমাদের ওপর দমন নীতি চালাল , "যুলুম - নিপীড়ন করল , আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলল এবং আমাদের ধর্ম পালনে বাধা দিতে লাগল , তখন আমরা আপনার দেশে চলে এলাম । অন্য কোন লোকের তুলনায় আমরা আপনাকে বেছে নিলাম । আপনার প্রতিবেশী হওয়াকে আমরা পসন্দ করলাম । আর আমরা আশা করলাম যে , আপনার দেশে আমরা যুলুমের শিকার হব না ।
রাবী বলেন এ কথা শুনে নাজাশী তাঁকে বললেন , তোমাদের নবী যেসব বাণী আল্লাহ্র কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন , তার কিছু কি তোমাদের কাছে আছে ? জা'ফর ( রা ) তাঁকে বললেন , হ্যাঁ । নাজাশী বললেন , তা আমাকে পড়ে শোনাও । তখন জা'ফর ( রা ) নাজাশীকে সূরা মারইয়ামের প্রথম থেকে কিছু অংশ পড়ে শুনালেন । রাবী বলেন : আল্লাহ্র কসম ! নাজাশী তা শুনে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর দাড়ি ভিজিয়ে ফেললেন এবং তাঁর দরবারে সমবেত যাজকরাও কাঁদতে কাঁদতে তাদের সামনে রক্ষিত ধর্মগ্রন্থ ভিজিয়ে ফেললেন । তারপর নাজাশী বললেন , “ নিশ্চয়ই এ বাণী এবং ঈসা ( আ ) যে বাণী নিয়ে এসেছিলেন , তা একই উৎস থেকে এসেছে । তোমরা দু'জন চলে যাও । আল্লাহ্ কসম ! আমি এদেরকে তোমাদের কাছে সোপর্দ করব না এবং তারাও যেতে প্রস্তুত নয় । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজ্জাশীর সামনে ঈসা (আ) সম্পর্কে মুহাজিরদের অভিমত

📄 নাজ্জাশীর সামনে ঈসা (আ) সম্পর্কে মুহাজিরদের অভিমত


উম্মে সালামা ( রা ) বলেন : মক্কার দূতদ্বয় নাজাশীর দরবার থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একজন আমর ইব্‌ন আস বলল , আল্লাহ্র কসম ! আমি আগামীকাল অবশ্যই তাঁর কাছে আসব এবং মুহাজিরদের জারিজুরি তাঁর কাছে ফাঁস করে দেব ।
আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ রবীআ , যে আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে বেশি ভয় করত , সে বলল , আমাদের এমন কাজ করা উচিত হবে না । কেননা তারা আমাদের বিরোধিতা করলেও তাদের অনেক রক্ত - সম্পর্কীয় আত্মীয় - স্বজন মক্কায় রয়েছে । আমর ইব্‌ন আস বলল , আল্লাহ্র কসম ! আমি নাজাশীকে অবশ্যই এ কথা জানাব যে , মুহাম্মদ (সা:) -এর অনুসারীরা ঈসা ইবন মারইয়ামকে নিছক একজন বান্দা বলে মনে করে ( আল্লাহ্র পুত্র মনে করে না ) । এরপর সে পরদিন নাজাশীর কাছে হাযির হয়ে বলল : “ হে রাজা ! এরা ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম সম্পর্কে খুবই মারাত্মক কথা বলে থাকে । অতএব আপনি তাদের ডেকে পাঠান এবং তারা ঈসা ( আ ) সম্পর্কে কি বলে , তা জিজ্ঞেস করুন । তখন নাজাশী একজনকে তাঁদের কাছে পাঠালেন এবং এও জানালেন যে , ঈসা ( আ ) সম্পর্কে তাদের বক্তব্য জানার উদ্দেশ্যেই তাদের তলব করা হয়েছে । উম্মে সালামা বলেন : আবিসিনিয়ার মুসলিম মুহাজিরদের ওপর এমন দুর্যোগ আর কখনো আসেনি । তাই তখন সমস্ত মুহাজির একত্রিত হলেন এবং একে অপরকে বললেন , নাজাশী যখন তোমাদের কাছে ঈসা ( আ ) সম্পর্কে জানতে চাইবেন , তখন তোমরা কি বলবে ? তাঁরা বললেন , আল্লাহ্র কসম ! আল্লাহ্ যা বলেছেন এবং আমাদের নবী (সা:) আমাদের কাছে যে খবর নিয়ে এসেছেন , আমরা তা - ই বলব । এতে যা হওয়ার হোক না কেন ।
রাবী বলেন , এরপর তাঁরা যখন নাজাশীর দরবারে প্রবেশ করলেন , তখন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন , ঈসা ইবন মারইয়াম সম্পর্কে তোমরা কি বল ? জা'ফর ইবন আবূ তালিব ( রা ) বললেন , আমাদের নবী (সা:) তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন , আমরাও তাই বলি । তিনি আল্লাহর বান্দা , তাঁর রাসূল , তাঁর রূহ ও তাঁর বাণী , যা আল্লাহ্ কুমারী মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেন । এ কথা শুনে নাজাশী ভূমির ওপর হাত রাখলেন এবং সেখানে থেকে একখানা ক্ষুদ্র কাঠের টুকরো তুলে নিয়ে বললেন : “ আল্লাহ্র কসম ! তুমি যা বলেছ , তার সাথে ঈসা ইবন মারইয়ামের এই কাঠের টুকরোটি পরিমাণও ব্যবধান নেই । এ কথা শুনে নাজাশীর দরবারের উযীররা পরস্পরে ফিসফিস করে কানে কানে কি যেন বলল । নাজাশী বললেন : "আল্লাহ্র কসম ! তোমরা যতই ফিসফিস কর , তাতে কিছুই যায় আসে না । হে মুহাজিরগণ ! তোমরা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যাও । আমার দেশে তোমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ । ” এরপর তিনি তিনবার ঘোষণা করলেন : “ যে ব্যক্তি তোমাদেরকে গালাগাল করবে , তাকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে । ” পুনরায় বললেন : “ তোমাদের একটি লোককেও কষ্ট দিয়ে আমি যদি স্বর্ণের পাহাড়ও পেয়ে যাই , তথাপি আমি তা পসন্দ করব না । ” তখন তিনি রাজ কর্মচারীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন : “ এ দু'জন যেসব উপঢৌকন দিয়েছে , তা ওদের ফিরিয়ে দাও । আমার এসবের কোন প্রয়োজন নেই । আল্লাহ্র কসম ! আল্লাহ্ যখন আমাকে রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছেন , তখন আমার কাছ থেকে কোন ঘুষ নেননি । সুতরাং এ রাজ্যে আমার ঘুষ নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না । আল্লাহ্ আমার ব্যাপারে মানুষের অন্যায় আব্দার রক্ষা করেননি । কাজেই আমি আল্লাহ্ দীনের ব্যাপারে এসব অবুঝ লোকের দাবি কিরূপ রক্ষা করতে পারি ? রাবী বলেন : এরপর ঐ দূতদ্বয় তাঁর দরবার থেকে ধিকৃত অবস্থায় বেরুল এবং তাদের উপঢৌকনাদিও ফেরত দেয়া হল । আর আমরা তাঁর কাছে উত্তম প্রতিবেশী হিসাবে বসবাস করতে থাকলাম ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজাশীর বিজয়ে মুসলমানদের আনন্দ প্রকাশ

📄 নাজাশীর বিজয়ে মুসলমানদের আনন্দ প্রকাশ


উম্মে সালামা ( রা ) বলেন : আমরা যখন এরূপ নিরাপদ পরিবেশে অবস্থান করছিলাম , তখন হঠাৎ আবিসিনিয়ায় এক উচ্চাভিলাষী ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে , যে ঐ দেশটির রাজত্ব নিয়ে নাজাশীর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় । আল্লাহ্র কসম ! আমরা ঐ সময় যেরূপ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন হয়েছিলাম , ইতিপূর্বে আর কখনো সেরূপ হইনি । আমাদের ভয় ছিল , ঐ লোকটি নাজাশীর ওপর বিজয়ী হলে সে নাজাশীর মত আমাদের অধিকার স্বীকার নাও করতে পারে । রাবী বলেন , নাজাশী সসৈন্যে তার মুকাবিলা করার জন্য রওয়ানা হলেন । উভয় পক্ষের মাঝখানে ছিল নীলনদ । রাবী বলেন , এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীগণ পরস্পর বলাবলি করলেন , আমাদের মধ্যে এমন কে আছে , যে বের হয়ে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে আমাদের খবর দিতে পার ? তখন যুবায়র ইবন আওয়াম ( রা ) বললেন , আমি পারব । তাঁরা বললেন : তুমি পারবে ? আর তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সব চাইতে কম বয়সের । তাঁরা একটি চামড়ার মশকে বাতাস ভরে যুবায়র ( রা ) -কে দিলেন , যা তিনি নিজের বুকের নিচে রাখলেন এবং এর উপর ভর করে তিনি সাঁতার কেটে নীলনদের অপর পাড়ে পৌঁছলেন , যেখানে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়েছিল । রাবী বলেন , এদিকে আমরা আল্লাহর কাছে দু'আ করছিলাম , যাতে নাজাশী তাঁর শত্রুর ওপর জয়লাভ করতে পারেন এবং তাঁর দেশের ওপর তাঁর সার্বিক কর্তৃত্ব বহাল থাকে । রাবী বলেন , আল্লাহ্র কসম ! আমরা যে খবরের জন্য অধীরভাবে অপেক্ষা করছিলাম , তা একটু পরেই পাওয়া গেল । সহসা যুবায়রকে ছুটে আসতে দেখা গেল । তিনি কাপড় উড়িয়ে বলছিলেন , তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর । নাজাশী বিজয়ী হয়েছেন এবং আল্লাহ্ তাঁর শত্রকে ধ্বংস করেছেন এবং তাঁর কর্তৃত্ব রাজ্যে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । রাবী বলেন : আল্লাহ্র কসম ! আমরা ইতিপূর্বে আর কখনো এতো আনন্দিত হইনি ।
রাবী বলেন : নাজাশী বিজয়ীর বেশে ফিরে আসলেন । আল্লাহ্ তাঁর শত্রুকে ধ্বংস করলেন এবং আবিসিনিয়ার ওপর তাঁর শাসনকে সুদৃঢ় করলেন । আর আমরা মক্কায় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাঁর নিকট অতি সম্মানের সংগে অবস্থান করতে থাকি ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নাজাশী কর্তৃক আবিসিনিয়ার কর্তৃত্ব লাভের কাহিনী

📄 নাজাশী কর্তৃক আবিসিনিয়ার কর্তৃত্ব লাভের কাহিনী


নাজাশী পিতার নিহত হওয়া এবং তাঁর চাচার রাজত্ব লাভ
ইবন ইসহাক বলেন যুহরী বলেছেন যে , নবী (সা:) -এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা ( রা ) থেকে আবূ বাকর ইবন আবদুর রহমান ( রা ) কর্তৃক বর্ণিত ঘটনাটি আমাকে উরওয়া ইবন যুবায়র ( রা ) অবহিত করেন । তিনি বলেন : নাজাশীর এ কথাটার তাৎপর্য কি জান যে , “ আল্লাহ্ আমাকে আমার রাজত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সময় আমার কাছ থেকে ঘুষ নেননি । সুতরাং আমার নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং মানুষ আমার বিরুদ্ধে যা করতে চাইত , আল্লাহ্ তা করেননি । কাজেই আমি আল্লাহ্ দীনের ব্যাপারে না বুঝে মানুষের কথা কেন মেনে নেব ? ” যুহরী ( রা ) বললেন , না । উরওয়া ( রা ) বললেন , উন্মুল মু'মিনীন আয়েশা ( রা ) আমাকে বলেছেন যে , নাজাশীর পিতা ছিলেন সে সম্প্রদায়ের রাজা এবং নাজাশী ছাড়া তাঁর আর কোন সন্তান ছিল না । নাজাশীর এক চাচা ছিল । যার বারটি পুত্র সন্তান ছিল । তারা আবিসিনিয়ার রাজ - পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল । আবিসিনিয়ার জনগণ বলাবলি করল , আমরা যদি নাজাশীর পিতাকে হত্যা করি এবং তার ভাইকে সিংহাসনে বসাই , তাহলে তা উত্তম হবে । কেননা নাজাশী ছাড়া তার আর কোন সন্তান নেই , অথচ তাঁর ভাইয়ের বারটি ছেলে রয়েছে । এরা পরবর্তীতে রাজ্যের উত্তরাধিকারী হবে এবং এভাবে আবিসিনিয়ার রাজত্ব দীর্ঘকাল টিকে থাকবে । এরপর তারা একদিন অতি প্রত্যুষে নাজাশীর পিতার ওপর হামলা করে তাকে হত্যা করল এবং তাঁর ভাইকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করল । এভাবে তারা কিছুকাল অতিবাহিত করল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00