📄 হিজরতকারীদের ফিরিয়ে আনতে কুরায়শ কর্তৃক আবিসিনিয়ায় দূত প্রেরণ
“ তুমি শরীফ ও মর্যাদাবান লোকদের সংগে যুদ্ধ বাধিয়ে রেখেছ , আর তুমি তাদের ধ্বংস করেছ , যাদের তুমি আশ্রয় নিতে ।
“ যখন তোমার উপর কোন বিপদ আপতিত হবে এবং অসৎ প্রকৃতির দুর্বল লোকেরা তোমাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করবে , তখন তুমি বুঝতে পারবে যে , তুমি কি করছিলে । ”
এ কবিতায় উসমান যাকে তায়ম ইব্ন আমর বলে সম্বোধন করেছেন , সে জুমাহ গোত্রের । তার নাম ছিল তায়ম ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শরা যখন দেখল যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীরা আবিসিনিয়ায় গিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে এবং তারা সেখানে নিরাপদ আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল পেয়ে গেছে , তখন তারা পরামর্শক্রমে স্থির করল যে , তারা কুরায়শের দু'জন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে নাজাশীর কাছে পাঠাবে , যাতে তিনি তাদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠান । এভাবে আবার তাদের ধর্মের ব্যাপারে কঠিন পরীক্ষায় নিক্ষেপ করবে এবং যে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আবাস তারা পেয়েছে , তা থেকে তাদের বের করে নিয়ে আসবে । এ উদ্দেশ্যে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ রবীআ ও আমর ইব্ন আস ইব্ন ওয়ায়লকে পাঠাল । তারা নাজাশী ও তাঁর উযীরদের ( সেনাপতিদের ) উপঢৌকন স্বরূপ দেয়ার জন্য এ দু'জনের কাছে প্রচুর সম্পদ জমা করল । তারপর তারা এ দু'ব্যক্তিকে মুসলমানদের ফিরিয়ে আনার জন্য নাজাশীর কাছে পাঠাল ।
📄 নাজাশীর উদ্দেশ্যে আবূ তালিবের কবিতা
আবূ তালিব যখন কুরায়শদের এ সিদ্ধান্ত ও উপঢৌকন সম্পর্কে চিন্তা করলেন , যা তারা এ দুই ব্যক্তিকে দিয়ে নাজাশীর কাছে পাঠিয়েছিল , তখন তিনি নাজাশীকে প্রতিবেশী ( মুসলমান ) -দের সাথে ভাল আচরণ করার ও বিপদে তাদের রক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তাঁর উদ্দেশে এ কবিতা রচনা করেন :
“ হায় ! যদি আমি জানতে পারতাম সুদূর প্রবাসে জা'ফর কেমন আছে , আর আমরই বা কেমন আছে , আর নিকট - আত্মীয়রাই চরম শত্রু হয়ে থাকে । নাজাশীর সদ্ব্যবহার কি জা'ফর ও তার সংগীরা পেয়েছে । না কোন ফিতনা সৃষ্টিকারী লোক এতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে ? আপনি জেনে রাখুন যে , আপনি অতীব মহৎ ও মহানুভব । কাজেই আপনার কাছে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তি বঞ্চিত হয় না । আল্লাহ্ আপনাকে বদনাম থেকে হিফাযত করুন । আপনি জেনে রাখুন যে , আল্লাহ্ আপনাকে অনেক সম্মান দান করেছেন এবং আপনাকে তিনি কল্যাণ ** ও মঙ্গলের সকল উপায় - উপকরণ দিয়েছেন ।
“ আর আপনি জেনে রাখুন যে , আপনি এমন কল্যাণস্রোতের উৎস , যা থেকে শত্রু - মিত্র নির্বিশেষে সবাই উপকৃত হয় । "
📄 নাজাশীর কাছে কুরায়শদের প্রেরিত দূতদ্বয় সম্পর্কে উম্মে সালামা (রা)-এর বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইবন মুসলিম যুহরী আমাকে বলেছেন যে , তিনি আবূ বাকর ইবন আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম মাখযূমী থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা বিনত আবূ উমায়্যা ইবন মুগীরা থেকে এ ঘটনার বিবরণ শুনেছেন । উম্মে সালামা বলেন , আমরা যখন আবিসিনিয়ায় পৌঁছলাম , তখন নাজাশী আমাদের সংগে সর্বোত্তম প্রতিবেশীর মত ব্যবহার করলেন । আমরা নিরাপদে ধর্ম পালন করতে লাগলাম । আমরা আল্লাহ্র ইবাদত করতে লাগলাম এমন নিরুপদ্রব পরিবেশে যে , কেউ আমাদের কোন কষ্ট দিত না এবং অপ্রিয় কথাও শুনতাম না । কুরায়শরা এ খবর জানতে পেরে পরামর্শ করে স্থির করল যে , আমাদের ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য নাজাশীর কাছে দু'জন বিচক্ষণ ব্যক্তি পাঠাবে । তারা মক্কার কিছু দুর্লভ বিলাস সামগ্রী নাজাশীর জন্য উপঢৌকন স্বরূপ পাঠাবে বলেও সিদ্ধান্ত নিল । নাজাশীর কাছে মক্কার চামড়াই ছিল সবচেয়ে পসন্দনীয় জিনিস । তাই তারা তাঁর জন্য প্রচুর পরিমাণে চামড়া সংগ্রহ করল । এমনকি নাজাশীর সেনাপতিদের জন্য উপঢৌকন পাঠাতেও কার্পণ্য করল না । এরপর তারা আবদুল্লাহ্ ইবন আৰু রবীআ এবং আমর ইবন আসকে ঐ সব উপঢৌকনসহ পাঠাল । তারা তাদের উভয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে বলল : নাজাশীর সংগে কথা বলার আগে প্রত্যেক সেনাপতিকে তার উপঢৌকন দিয়ে দিবে । তারপর নাজাশীর কাছে তাঁর উপঢৌকন পৌছিয়ে দিবে । তারপর নাজাশীকে অনুরোধ করবে , তিনি যেন মুসলমানদের সংগে কোন আলাপ - আলোচনা করার আগেই তাদের তোমাদের হাতে সোপর্দ করেন । তারা নাজাশীর কাছে উপনীত হল । ( রাবী বলেন :) আর আমরা এ সময় পরম নিরাপদ বাসস্থানে উত্তম প্রতিবেশীর পাশে বসবাস করছিলাম । তারা প্রত্যেক সেনাপতিকে নাজাশীর সংগে কথা বলার আগেই উপঢৌকন দিয়ে দিল এবং প্রত্যেক সেনাপতিকে তারা এভাবে বলল : দেখুন , এই রাজার রাজ্যে আমাদের দেশের কিছু কমবয়স্ক নির্বোধ যুবক আশ্ৰয় নিয়েছে । তারা তাদের স্বজাতির ধর্ম ত্যাগ করেছে । অপরদিকে তারা আপনাদের ধর্মও গ্রহণ করেনি । তারা একটা অভিনব ধর্ম উদ্ভাবন করেছে । সে ধর্ম আমাদেরও অজানা , আপনাদেরও অপরিচিত । তাদের কাওমের সবচেয়ে গণ্যমান্য মুরব্বীরা আমাদেরকে আপনাদের রাজার কাছে এজন্য পাঠিয়েছেন যে , তিনি যেন এদেরকে তাঁদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেন । অতএব , আমরা যখন রাজার সংগে তাদের ব্যাপারে আলোচনা করব , তখন আপনারা রাজাকে পরামর্শ দেবেন , তিনি যেন এদেরকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে দেন এবং তাদের সংগে কোন কথা না বলেন ।
কেননা তাদের সম্প্রদায় , তাদের ব্যাপারে অন্যের তুলনায় অধিক জ্ঞান রাখে । ( সেনাপতিরা ) সবাই এতে সম্মতি জানাল । তারপর তারা উভয়ে নাজাশীর কাছে উপঢৌকন পেশ করল এবং তিনি তা তাদের থেকে গ্রহণ করলেন । তারপর এরা নাজাশীর সংগে এরূপ কথা বলল : “ হে রাজা ! আপনার দেশে আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু অজ্ঞ বোকা যুবক আশ্রয় নিয়েছে । তারা তাদের সম্প্রদায়ের ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং আপনাদের ধর্মও গ্রহণ করেনি । তারা একটা নুতন ধর্ম উদ্ভাবন করেছে । সে ধর্ম আপনার কাছে অজানা এবং আমাদের কাছেও । তাদের জাতির সবচেয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওদের ব্যাপারে আপনার কাছে আমাদের পাঠিয়েছেন । এমনকি তাদের বাপ , চাচা , মামা ও অন্যান্য আত্মীয় - স্বজন আমাদের পাঠিয়েছে , যেন আপনি ওদেরকে তাদের কাছে ফেরত পাঠান । তারা ওদের ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো জানে ও ভালো বোঝে । আর তাদের দোষত্রুটি সম্পর্কে তারা সবচেয়ে বেশি ওয়াকিবহাল । রাবী বলেন : আবদুল্লাহ্ ইবন আবু রাবীআ ও আমর ইবন আসের কাছে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি অপসন্দনীয় ছিল তা হলো , নাজাশী কর্তৃক মুসলমানদের বক্তব্য শোনা । রাবী বলেন : এ সময় রাজার পাশে উপবিষ্ট উযীররা বলল : “ হে রাজা ! ওরা দু'জন ঠিকই বলেছে । তাদের ব্যাপার তাদের জাতিই বোঝে এবং তাদের দোষত্রুটি সম্পর্কে তারাই বেশি অবহিত । সুতরাং আপনি তাদেরকে এদের দু'জনের হাতে সমর্পণ করুন , যাতে তারা ওদের দেশ ও জাতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে । ” এ কথা শুনে নাজাশী রেগে গেলেন । তিনি বললেন , আল্লাহ্র কসম , না । আমি এদের এ দু'জনের হাতে সোপর্দ করব না । একদল মানুষ আমার সান্নিধ্যে অবস্থান করছে , আমার দেশে বসবাস করছে । অন্য কোন দেশে না গিয়ে আমার দেশে এসেছে । তাদেরকে আগে আমি ডাকব এবং জিজ্ঞেস করব যে , এই দুই ব্যক্তি যা বলছে , সে ব্যাপারে তাদের বক্তব্য কি ? যদি দেখা যায় যে , এরা দু'জন যে রকম বলছে , তারা সেই রকমই , তাহলে আমি এদের সকলকে তাদের হাতে সমর্পণ করব এবং তাদের দেশবাসীর কাছে ফেরত পাঠাব । আর যদি অন্য রকম ..হয় , তা হলে আমি তাদের এ দু'জনের হাত থেকে রক্ষা করব এবং যতদিন তারা আমার রাজ্যে শান্তিপ্রিয় নাগরিক হিসাবে বাস করবে , ততদিন আমিও তাদের সাথে সদাচার করব ।
📄 নাজাশী ও মুজাহিরগণের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা
উম্মে সালামা ( রা ) বলেন এরপর নাজাশী রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীদের ডাকার জন্য লোক পাঠান । নাজাশীর দূত যখন তাঁদের কাছে পৌঁছল , তখন তাঁরা সবাই একত্রিত হলেন । রাজার কাছে গিয়ে তাঁদের কি বলতে হবে , তা নিয়ে তাঁরা পরামর্শ করলেন । তাঁরা স্থির করলেন : আল্লাহ্র কসম ! আমরা যা জানি এবং যা করতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন , তাই বলব , তাতে যা - ই হোক না কেন । ”
যখন মুসলমানরা নাজাশীর দরবারে পৌঁছলেন , তখন তারা দেখলেন যে , নাজাশী তাঁর দরবারের যাজকদের উপস্থিত রেখেছেন । আর তারা তাদের ধর্মগ্রন্থকে রাজার সামনে খুলে রেখেছেন । নাজাশী মুসলমানদের প্রশ্ন করা শুরু করলেন : যে ধর্মের জন্য তোমরা তোমাদের জাতিকে ত্যাগ করেছ , সেটি কি ? তোমরা তো আমার ধর্মেও দাখিল হওনি , আর প্রচলিত অন্য কোন ধর্মেও না ।
রাবী বলেন : এর জবাবে জা'ফর ইব্ন আবূ তালিব ( রা ) তাঁকে বললেন : হে রাজা ! আমরা অন্ধ কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিলাম । মূর্তিপূজা করতাম এবং মৃত জন্তু খেতাম । অশ্লীল কাজকর্ম করতাম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতাম । প্রতিবেশীর সাথে খারাপ ব্যবহার করতাম এবং আমাদের যারা সবল তারা দুর্বলের ওপর অত্যাচার করত । এভাবেই চলছিল আমাদের জীবন । অবশেষে আল্লাহ্ আমাদের কাছে আমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠালেন । আমরা তাঁর বংশমর্যাদা , সত্যবাদিতা , আমানতদারী , পবিত্রতা এবং সততার কথা জানি । তিনি আমাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকলেন , যেন আমরা আল্লাহ্র একত্বে বিশ্বাস করি এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি । আর পাথর ও মূর্তির পূজা , যা আমরা করতাম এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা করত , তা বর্জন করি । তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে , আমানত রক্ষা করতে , আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে , প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে এবং হারাম কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে আদেশ দিলেন । তিনি আমাদেরকে অশ্লীল আচরণ করতে , মিথ্যা কথা বলতে , ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করতে এবং সতী - সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করতে নিষেধ করলেন । তিনি আমাদের আদেশ দিলেন যে , আমরা যেন এক আল্লাহ্ ইবাদত করি । তাঁর সংগে যেন কোন কিছুকে শরীক না করি । তিনি আমাদের সালাত আদায়ের , যাকাত প্রদানের এবং সাওম পালানের নির্দেশ দিয়েছেন ।
রাবী বলেন : এভাবে তিনি নাজাশীর সামনে ইসলামের বিধানগুলো এক এক করে তুলে ধরলেন । ফলে , আমরা তাঁর কথা মেনে নিলাম ও তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম । আল্লাহ্র কাছ থেকে তাঁর কাছে যত বিধি - বিধান এলো , তার সবই আমরা অনুসরণ করলাম । আমরা এক আল্লাহ্র ইবাদত করতে লাগলাম এবং তাঁর সংগে কাউকে শরীক করলাম না । তিনি আমাদের জন্য যা হারাম ঘোষণা করলেন , আমরা তা হারাম হিসাবে মেনে নিলাম । আর তিনি আমাদের জন্য যা হালাল ঘোষণা করলেন , আমরা তা হালাল হিসাবে মেনে নিলাম । এ কারণে আমাদের জাতি আমাদের শত্রু হয়ে গেল । তারা আমাদের শাস্তি দিল , নির্যাতন করল এবং আমাদের আল্লাহ্র ইবাদত থেকে ফিরিয়ে মূর্তি পূজার দিকে নেয়ার জন্য তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল । আর সমস্ত ঘৃণ্য বস্তুকে যাতে আমরা হালাল মনে করি , সে জন্যও তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করল । যখন তারা আমাদের ওপর দমন নীতি চালাল , "যুলুম - নিপীড়ন করল , আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলল এবং আমাদের ধর্ম পালনে বাধা দিতে লাগল , তখন আমরা আপনার দেশে চলে এলাম । অন্য কোন লোকের তুলনায় আমরা আপনাকে বেছে নিলাম । আপনার প্রতিবেশী হওয়াকে আমরা পসন্দ করলাম । আর আমরা আশা করলাম যে , আপনার দেশে আমরা যুলুমের শিকার হব না ।
রাবী বলেন এ কথা শুনে নাজাশী তাঁকে বললেন , তোমাদের নবী যেসব বাণী আল্লাহ্র কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন , তার কিছু কি তোমাদের কাছে আছে ? জা'ফর ( রা ) তাঁকে বললেন , হ্যাঁ । নাজাশী বললেন , তা আমাকে পড়ে শোনাও । তখন জা'ফর ( রা ) নাজাশীকে সূরা মারইয়ামের প্রথম থেকে কিছু অংশ পড়ে শুনালেন । রাবী বলেন : আল্লাহ্র কসম ! নাজাশী তা শুনে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর দাড়ি ভিজিয়ে ফেললেন এবং তাঁর দরবারে সমবেত যাজকরাও কাঁদতে কাঁদতে তাদের সামনে রক্ষিত ধর্মগ্রন্থ ভিজিয়ে ফেললেন । তারপর নাজাশী বললেন , “ নিশ্চয়ই এ বাণী এবং ঈসা ( আ ) যে বাণী নিয়ে এসেছিলেন , তা একই উৎস থেকে এসেছে । তোমরা দু'জন চলে যাও । আল্লাহ্ কসম ! আমি এদেরকে তোমাদের কাছে সোপর্দ করব না এবং তারাও যেতে প্রস্তুত নয় । ”