📄 বনূ হারিস থেকে যাঁরা হিজরত করেন
ইবন ইসহাক বলেন : বনূ হারিস ইব্ন ফিহর থেকে ছিলেন আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ । তাঁর আসল নাম আমির ইবন আবদুল্লাহ্ ইবনুল জাররাহ ইবন হিলাল ইবন উহায়ব ইন যাব্বা ইবনুল হারিস ইব্ন ফিহর , সুহায়ল ইব্ন বায়যা , তথা সুহায়ল ইব্ন ওয়া ইন রবীআ ইন হিলাল ইবন উয়ায়ব ইব্ন যাব্বা ইবন হারিস । যেহেতু তাঁর মায়ের নাম তাঁর বংশ পরিচয়ে প্রাধান্য লাভ করে , তাই তাঁকে সুহায়ল ইব্ন বায়যা বলা হয় । তাঁর মায়ের ডাকনাম বায়যা এবং আসল নাম দাদি বিন্ত জাহদাম ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস ইব্ন ফিহর , আমর ইব্ন আবূ সারাহ ইব্ন রবীআ ইন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইন হারিস , ইয়ায ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইব্ন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইবন হারিস ; হায়য ইবন যুহায়র ইবন্ আবু শাদ্দাদ ইবন রাবীয়া ইবনে হিলাল ইবন উহায়ের ইবন যাব্বা ইবনুল হারিস । অন্য মতে রবীআ ইন হিলাল ইব্ন মালিক ইব্ন যাব্বা , আমর ইবন হারিস ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইব্ন মালিক ইব্ন যাবা ইব্ন হারিস , উসমান ইব্ন আব্দ গানাম ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইন হিলাল ইব্ন মালিক ইব্ন যাব্বা ইবনুল হারিস , সা'দ ইব্ন আব্দ কায়স ইব্ন লাকীত ইব্ন আমির ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস এবং হারিস ইব্ন আব্দ কায়স ইন লাকীত ইব্ন আমির ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস ইব্ন ফি । এঁরা মোট আটজন ।
📄 আবিসিনিয়া হিজরতকারীদের সংখ্যা
আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলমানদের সর্বমোট সংখ্যা হলো তিরাশিজন । এতে তাঁদের সংগে গমনকারী এবং আবিসিনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী শিশুদের গণ্য করা হয়নি । অবশ্য আম্মার ইবন ইয়াসিরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । তবে তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ আছে যে , তিনি হিজরত করেছিলেন কিনা ।
📄 আবিসিনিয়া হিজরত প্রসংগে আবদুল্লাহ্ ইবন হারিসের কবিতা
মুসলমান হিজরতকারিগণ যখন আবিসিনিয়ায় নিরাপত্তা লাভ করেন , নাজাশীর প্রতিবেশী হওয়ায় তাঁর প্রশংসামুখর হন , নির্ভয়ে আল্লাহ্র ইবাদত করার সুযোগ লাভ করেন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর নাজাশী তাদের সংগে অতিশয় সৌজন্যমূলক আচরণ করেন , তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ইবন কায়স ইব্ন আদী ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহম একটি কবিতা রচনা করেন । এটা ছিল আবিসিনিয়ায় রচিত ।
“ হে আরোহী ! আল্লাহর কথা ও তাঁর দীনের কথা প্রচলিত হোক এটা যারা আকাঙ্ক্ষা করে , তাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দাও ।
“ আল্লাহ্ প্রতিটি বান্দাকে আমার বাণী পৌঁছে দাও , যে মক্কার সমভূমিতে অত্যাচারিত , নির্যাতিত ও অবদমিত ।
“ আমরা আল্লাহ্র যমীন এত প্রশস্ত পেয়েছি যে , তা লাঞ্ছনা - গঞ্জনা ও অপমান থেকে নিষ্কৃতি দেয় ।
“ অতএব , তোমরা অবমাননাকর জীবন , লাঞ্ছনাকর মৃত্যু ও নিরাপত্তাহীন অবস্থানকে মেনে নিও না । আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অনুসরণ করেছি , আর মক্কাবাসীরা নবীর কথাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হক আদায়ের ব্যাপারে খিয়ানত করেছে ।
“ অতএব , হে আল্লাহ্ ! যে জাতি তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে , তাদের ওপর তোমার আযাব নাযিল কর । আর আমি তোমার পানাহ চাই , যাতে তারা আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করে আমাকে বিপথগামী করতে না পারে । ”
কুরায়শরা যেভাবে মুসলামানদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল তার উল্লেখ ও স্বজাতির কতিপয় ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করে আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস আরো একটি কবিতা রচনা করেন :
“ আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলব না , তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমার হৃদয় ও আংগুল অস্বীকার করছে । আর এমন লোকদের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ কিভাবে হতে পারে , যারা তোমাদের সত্যের ওপর থাকতে এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত না করতে শিক্ষা দিয়েছে ? তাদের ( মুসলমানদের ) পবিত্র স্বদেশ থেকে জিনের পূজারীরা বিতাড়িত করেছে । ফলে তারা কঠিন বিপদাপদে নিপতিত হয়েছে । আদী ইব্ন সা'দ গোত্রে যদি তাকওয়া ও সম্প্রীতির আমানত থাকত , তাহলে আমি প্রত্যাশা করতাম যে , এ গুণ তোমাদের মাঝেও পাওয়া যাবে । আর সেই সত্তার শোকর আদায় করতাম , যাঁর থেকে কিছুর বিনিময়ে কিছুই চাওয়া যায় না ।
“ ভ্রষ্টা নারীদের সন্তানের পরিবর্তে আমাকে এমন কিছু সংখ্যক নওজোয়ান দেয়া হয়েছে — যারা দানশীল এবং অসহায় বিধবাদের আশ্রয়স্থল । ”
আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস অন্য একটি কবিতায় বলেন :
“ কুরায়শের অবস্থা এই যে , তারা আল্লাহ্র হক অস্বীকার করছে , যেমন আদ , মাদয়ান ও হিজরের অধিবাসীরা অস্বীকার করেছিল । যদি আমি ( আল্লাহকে ) ভয় না করি , তাহলে , প্রশস্ত যমীনে কিংবা সাগরে আমার স্থান হবে না । তবে সে যমীনে আমার স্থান হবে , যেখানে আল্লাহ্ বান্দা মুহাম্মদ (সা:) রয়েছেন । আর বক্তব্য পেশের সুযোগ যখন এসেছে , তখন আমার মনে যা কিছু আছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিচ্ছি । ”
বস্তুত আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ( রা ) তাঁর ঐ কবিতার কারণে , ( যাতে তিনি ‘ আবৃরিক ' শব্দ ব্যবহার করেছেন , ) তাঁর নাম ' মুবরিক ' হিসাবে মশহূর হয়ে যায় ।
উমায়া ইবন খালাফ ইবন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইবন জুমাহকে ভর্ৎসনা করে উসমান ইবন মাযউন নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন । তিনি ছিলেন উমায়্যার চাচাতো ভাই এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি তার হাতে অনেক নির্যাতন ভোগ করেছিলেন । জাহিলী যুগে উমায়্যা তার গোত্রে খুবই গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিল :
“ হে তায়ম ইব্ন আমর ! ঐ ব্যক্তির জন্য তাজ্জব ! যে আমার সংগে শত্রুতা পোষণ করে , অথচ তার ও আমার মাঝে রয়েছে লবণাক্ত ও মিষ্টি দু'সাগরের ব্যবধান ( অর্থাৎ দুস্তর ব্যবধান ) ।
“ তুমি কি নিরাপদে থাকার জন্য আমাকে মক্কা উপত্যকা থেকে বের করে দিলে , আর আমাকে আবিসিনিয়ায় নির্বাসিত করলে , যাকে তুমি নিজে অপসন্দ কর ?
“ তুমি এমন সব তীর দুরস্ত কর , যেগুলো ঠিক করা তোমার অনুকূলে নয় । আর তুমি সে তীরগুলো কেটে ফেল , যেগুলো ঠিক করা তোমার জন্য খুবই উপকারী ।
📄 হিজরতকারীদের ফিরিয়ে আনতে কুরায়শ কর্তৃক আবিসিনিয়ায় দূত প্রেরণ
“ তুমি শরীফ ও মর্যাদাবান লোকদের সংগে যুদ্ধ বাধিয়ে রেখেছ , আর তুমি তাদের ধ্বংস করেছ , যাদের তুমি আশ্রয় নিতে ।
“ যখন তোমার উপর কোন বিপদ আপতিত হবে এবং অসৎ প্রকৃতির দুর্বল লোকেরা তোমাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করবে , তখন তুমি বুঝতে পারবে যে , তুমি কি করছিলে । ”
এ কবিতায় উসমান যাকে তায়ম ইব্ন আমর বলে সম্বোধন করেছেন , সে জুমাহ গোত্রের । তার নাম ছিল তায়ম ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শরা যখন দেখল যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীরা আবিসিনিয়ায় গিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে এবং তারা সেখানে নিরাপদ আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল পেয়ে গেছে , তখন তারা পরামর্শক্রমে স্থির করল যে , তারা কুরায়শের দু'জন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে নাজাশীর কাছে পাঠাবে , যাতে তিনি তাদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠান । এভাবে আবার তাদের ধর্মের ব্যাপারে কঠিন পরীক্ষায় নিক্ষেপ করবে এবং যে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ আবাস তারা পেয়েছে , তা থেকে তাদের বের করে নিয়ে আসবে । এ উদ্দেশ্যে তারা আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ রবীআ ও আমর ইব্ন আস ইব্ন ওয়ায়লকে পাঠাল । তারা নাজাশী ও তাঁর উযীরদের ( সেনাপতিদের ) উপঢৌকন স্বরূপ দেয়ার জন্য এ দু'জনের কাছে প্রচুর সম্পদ জমা করল । তারপর তারা এ দু'ব্যক্তিকে মুসলমানদের ফিরিয়ে আনার জন্য নাজাশীর কাছে পাঠাল ।