📄 বনূ আমির থেকে যাঁরা জিহরত করেন
বনূ আমির ইব্ন লুআঈ থেকে আবূ সাবরা ইব্ন আবূ রুহম ইব্ন আদুল উযযা ইব্ন আবূ কায়স ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির , তাঁর সংগে তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম বিন্ত সুহায়ল ইব্ন আমর ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির , আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাখরামা ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন আবূ কায়স ইব্ন উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির , আবদুল্লাহ্ ইবন সুহায়ল ইব্ন আমর ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির , সালীত ইব্ন আমর ইব্ন শাম্স ইব্ন আবদ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির , তাঁর ভাই সাকরান ইব্ন আমর , তাঁর সংগে তাঁর স্ত্রী সওদা বিন্ত যামআ ইব্ন কায়স ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইবন আমির , মালিক ইব্ন যামআ ইব্ন কায়স ইব্ন আবদ শামস ইব্ন আবদ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির । তাঁর সংগে তাঁর স্ত্রী ‘ আমরা বিন্ত সা'দী ইব্ন ওয়াকদান ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ উদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির এবং তাঁদের মিত্র সা'দ ইব্ন খাওলা । এঁরা মোট আটজন । ইব্ন হিশামের মতে : সা'দ ইব্ন খাওলা ইয়ামানের অধিবাসী ছিলেন ।
📄 বনূ হারিস থেকে যাঁরা হিজরত করেন
ইবন ইসহাক বলেন : বনূ হারিস ইব্ন ফিহর থেকে ছিলেন আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ । তাঁর আসল নাম আমির ইবন আবদুল্লাহ্ ইবনুল জাররাহ ইবন হিলাল ইবন উহায়ব ইন যাব্বা ইবনুল হারিস ইব্ন ফিহর , সুহায়ল ইব্ন বায়যা , তথা সুহায়ল ইব্ন ওয়া ইন রবীআ ইন হিলাল ইবন উয়ায়ব ইব্ন যাব্বা ইবন হারিস । যেহেতু তাঁর মায়ের নাম তাঁর বংশ পরিচয়ে প্রাধান্য লাভ করে , তাই তাঁকে সুহায়ল ইব্ন বায়যা বলা হয় । তাঁর মায়ের ডাকনাম বায়যা এবং আসল নাম দাদি বিন্ত জাহদাম ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস ইব্ন ফিহর , আমর ইব্ন আবূ সারাহ ইব্ন রবীআ ইন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইন হারিস , ইয়ায ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইব্ন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইবন হারিস ; হায়য ইবন যুহায়র ইবন্ আবু শাদ্দাদ ইবন রাবীয়া ইবনে হিলাল ইবন উহায়ের ইবন যাব্বা ইবনুল হারিস । অন্য মতে রবীআ ইন হিলাল ইব্ন মালিক ইব্ন যাব্বা , আমর ইবন হারিস ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইব্ন মালিক ইব্ন যাবা ইব্ন হারিস , উসমান ইব্ন আব্দ গানাম ইবন যুহায়র ইব্ন আবূ শাদ্দাদ ইব্ন রবীআ ইন হিলাল ইব্ন মালিক ইব্ন যাব্বা ইবনুল হারিস , সা'দ ইব্ন আব্দ কায়স ইব্ন লাকীত ইব্ন আমির ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস এবং হারিস ইব্ন আব্দ কায়স ইন লাকীত ইব্ন আমির ইবন উমায়্যা ইব্ন যারব ইবন হারিস ইব্ন ফি । এঁরা মোট আটজন ।
📄 আবিসিনিয়া হিজরতকারীদের সংখ্যা
আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলমানদের সর্বমোট সংখ্যা হলো তিরাশিজন । এতে তাঁদের সংগে গমনকারী এবং আবিসিনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী শিশুদের গণ্য করা হয়নি । অবশ্য আম্মার ইবন ইয়াসিরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । তবে তাঁর ব্যাপারে সন্দেহ আছে যে , তিনি হিজরত করেছিলেন কিনা ।
📄 আবিসিনিয়া হিজরত প্রসংগে আবদুল্লাহ্ ইবন হারিসের কবিতা
মুসলমান হিজরতকারিগণ যখন আবিসিনিয়ায় নিরাপত্তা লাভ করেন , নাজাশীর প্রতিবেশী হওয়ায় তাঁর প্রশংসামুখর হন , নির্ভয়ে আল্লাহ্র ইবাদত করার সুযোগ লাভ করেন এবং সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর নাজাশী তাদের সংগে অতিশয় সৌজন্যমূলক আচরণ করেন , তখন আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ইবন কায়স ইব্ন আদী ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহম একটি কবিতা রচনা করেন । এটা ছিল আবিসিনিয়ায় রচিত ।
“ হে আরোহী ! আল্লাহর কথা ও তাঁর দীনের কথা প্রচলিত হোক এটা যারা আকাঙ্ক্ষা করে , তাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দাও ।
“ আল্লাহ্ প্রতিটি বান্দাকে আমার বাণী পৌঁছে দাও , যে মক্কার সমভূমিতে অত্যাচারিত , নির্যাতিত ও অবদমিত ।
“ আমরা আল্লাহ্র যমীন এত প্রশস্ত পেয়েছি যে , তা লাঞ্ছনা - গঞ্জনা ও অপমান থেকে নিষ্কৃতি দেয় ।
“ অতএব , তোমরা অবমাননাকর জীবন , লাঞ্ছনাকর মৃত্যু ও নিরাপত্তাহীন অবস্থানকে মেনে নিও না । আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অনুসরণ করেছি , আর মক্কাবাসীরা নবীর কথাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হক আদায়ের ব্যাপারে খিয়ানত করেছে ।
“ অতএব , হে আল্লাহ্ ! যে জাতি তোমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে , তাদের ওপর তোমার আযাব নাযিল কর । আর আমি তোমার পানাহ চাই , যাতে তারা আমার ওপর প্রভাব বিস্তার করে আমাকে বিপথগামী করতে না পারে । ”
কুরায়শরা যেভাবে মুসলামানদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল তার উল্লেখ ও স্বজাতির কতিপয় ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করে আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস আরো একটি কবিতা রচনা করেন :
“ আমি তোমার কাছে মিথ্যা বলব না , তাদের সাথে যুদ্ধ করতে আমার হৃদয় ও আংগুল অস্বীকার করছে । আর এমন লোকদের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ কিভাবে হতে পারে , যারা তোমাদের সত্যের ওপর থাকতে এবং সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত না করতে শিক্ষা দিয়েছে ? তাদের ( মুসলমানদের ) পবিত্র স্বদেশ থেকে জিনের পূজারীরা বিতাড়িত করেছে । ফলে তারা কঠিন বিপদাপদে নিপতিত হয়েছে । আদী ইব্ন সা'দ গোত্রে যদি তাকওয়া ও সম্প্রীতির আমানত থাকত , তাহলে আমি প্রত্যাশা করতাম যে , এ গুণ তোমাদের মাঝেও পাওয়া যাবে । আর সেই সত্তার শোকর আদায় করতাম , যাঁর থেকে কিছুর বিনিময়ে কিছুই চাওয়া যায় না ।
“ ভ্রষ্টা নারীদের সন্তানের পরিবর্তে আমাকে এমন কিছু সংখ্যক নওজোয়ান দেয়া হয়েছে — যারা দানশীল এবং অসহায় বিধবাদের আশ্রয়স্থল । ”
আবদুল্লাহ্ ইবন হারিস অন্য একটি কবিতায় বলেন :
“ কুরায়শের অবস্থা এই যে , তারা আল্লাহ্র হক অস্বীকার করছে , যেমন আদ , মাদয়ান ও হিজরের অধিবাসীরা অস্বীকার করেছিল । যদি আমি ( আল্লাহকে ) ভয় না করি , তাহলে , প্রশস্ত যমীনে কিংবা সাগরে আমার স্থান হবে না । তবে সে যমীনে আমার স্থান হবে , যেখানে আল্লাহ্ বান্দা মুহাম্মদ (সা:) রয়েছেন । আর বক্তব্য পেশের সুযোগ যখন এসেছে , তখন আমার মনে যা কিছু আছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিচ্ছি । ”
বস্তুত আবদুল্লাহ্ ইব্ন হারিস ( রা ) তাঁর ঐ কবিতার কারণে , ( যাতে তিনি ‘ আবৃরিক ' শব্দ ব্যবহার করেছেন , ) তাঁর নাম ' মুবরিক ' হিসাবে মশহূর হয়ে যায় ।
উমায়া ইবন খালাফ ইবন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইবন জুমাহকে ভর্ৎসনা করে উসমান ইবন মাযউন নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করেন । তিনি ছিলেন উমায়্যার চাচাতো ভাই এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি তার হাতে অনেক নির্যাতন ভোগ করেছিলেন । জাহিলী যুগে উমায়্যা তার গোত্রে খুবই গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিল :
“ হে তায়ম ইব্ন আমর ! ঐ ব্যক্তির জন্য তাজ্জব ! যে আমার সংগে শত্রুতা পোষণ করে , অথচ তার ও আমার মাঝে রয়েছে লবণাক্ত ও মিষ্টি দু'সাগরের ব্যবধান ( অর্থাৎ দুস্তর ব্যবধান ) ।
“ তুমি কি নিরাপদে থাকার জন্য আমাকে মক্কা উপত্যকা থেকে বের করে দিলে , আর আমাকে আবিসিনিয়ায় নির্বাসিত করলে , যাকে তুমি নিজে অপসন্দ কর ?
“ তুমি এমন সব তীর দুরস্ত কর , যেগুলো ঠিক করা তোমার অনুকূলে নয় । আর তুমি সে তীরগুলো কেটে ফেল , যেগুলো ঠিক করা তোমার জন্য খুবই উপকারী ।