📄 মুসলমানদের ওপর কঠোর ফিতনা
কুরায়শ বংশীয় লোকদের মধ্যে পাপিষ্ঠ আবূ জাহল ছিল ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও বল প্রয়োগকারীদের অন্যতম । ' সে যখনই শুনত , কোন সম্ভ্রান্ত ও জনবলসম্পন্ন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে , তখন তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করত এবং বলত : তুই তোর বাবার ধর্ম ত্যাগ করেছিস । তোর চেয়ে তোর বাবা উত্তম ছিল । তোর বিবেক - বুদ্ধি যে কত কম এবং তোর ধারণা যে কত ভ্রান্ত , তা লোকদের জানিয়ে দেব । তোর মান - মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করব । আর যদি সে ব্যবসায়ী হত , তবে তাকে বলত "আল্লাহ্র কসম ! তোর ব্যবসা লাটে তুলব এবং তোর ধনসম্পদ ধ্বংস করব । আর দুর্বল হলে তাকে মারপিট করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করত ।
ইবন ইসহাক বলেন হাকীম ইবন জুবায়ার সাঈদ ইবন জুবায়র ( রা ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন ; আমি ইবন আব্বাস ( রা ) -কে জিজ্ঞেস করলাম মুশরিকরা কি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালাত যে , তারা ধর্ম ত্যাগ করলে , সে জন্য তাদের দোষারোপমুক্ত করা যেত না ? তিনি বললেন : হ্যাঁ । আল্লাহ্র কসম ! তারা তাদের কাউকে মারধর করত , কাউকে ক্ষুধা ও পিপাসায় কষ্ট দিত , যুলুমের তীব্রতায় সে ব্যক্তি এত দুর্বল হয়ে পড়ত যে , সে সোজা হয়ে বসতেই পারত না । যতক্ষণ না সে নির্যাতনকারীদের নির্দেশ পালন করত , ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তার ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখত । এক পর্যায়ে মুশরিকরা তাকে বলত : আল্লাহ্ নয় , বরং লাত ও উয্যাই তোর ইলাহ নয় কি ? তখন সে বলে ফেলত : হ্যাঁ । এমনকি একটা গুবরে পোকা তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে দেখিয়ে বলা হত , আল্লাহ্ নয় , এ পোকাটাই তোর ইলাহ্ নয় কি ? তখন সে তাদের সীমাহীন নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন বলে ফেলত : হ্যাঁ ।
📄 ওয়ালীদকে কুরায়শের কাছে সমর্পণে হিশামের অস্বীকৃতি
ইবন ইসহাক বলেন : যুবায়র ইব্ন উক্কাশা ইব্ন আবূ আহমদ আমাকে বলেছেন যে , তিনি জানতে পেরেছেন : বনূ মাখযূমের কিছু লোক হিশাম ইবন ওয়ালীদের কাছে গেল । এ সময় তার ভাই ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । তারা হিশামের কাছে এ সংকল্প নিয়ে গিয়েছিল যে , তাদের মধ্যেকার যে সকল যুবক ইসলাম গ্রহণ করেছে , তাদের পাকড়াও করবে । ইসলাম কবুলকারীদের মধ্যে সালামা ইবন হিশাম ও আয়্যাশ ইন আবূ রবীন্দ্রও ছিলেন । যেহেত তারা গোত্রের পক্ষ থেকে বিপদের আশংকা করছিল , তাই হিশামকে বলল , এ নুতন উদ্ভাবিত ধর্ম গ্রহণকারী যুবকদের আমরা একটু ভর্ৎসনা করতে চাই , যাতে অন্যরা এ কাজ না করে । হিশাম বলল , ঠিক আছে , তোমরা তাকে ( ওয়ালীদকে ) ভর্ৎসনা কর , তবে তার জীবন নাশের ব্যাপারে সাবধান । এ সময় সে নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করল :
“ খবরদার , আমার ভাই উবায়শ যেন কোনক্রমেই নিহত না হয় । অন্যথায় আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী শত্রুতার সৃষ্টি হয়ে যাবে । ”
হিশাম আরো বলল : তার জীবন নাশ সম্পর্কে সাবধান হয়ে যাও । কেননা , আমি আল্লাহ্র কসম করে বলেছি , তাকে যদি তোমরা হত্যা কর , তবে আমি তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিকে হত্যা করব । এ কথা শুনে আগন্তুক মাধ্যমীরা বলল , তার ওপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক এ খাবীসের মুকাবিলা করার ক্ষমতা তার আছে । আল্লাহ্র কসম ! যদি তার ভাই আমাদের হাতে নিহত হয় , তবে অবশ্যই হিশাম আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিতে হত্যা করবে । রাবী বলেন , ' এ কথা বলে তার ভাই ওয়ালিদ ইবন ওয়ালীদকে ছেড়ে যায় এবং এ সংকল্প বর্জন করে । বর্ণনাকারী বলেন , এভাবে আল্লাহ্ তার মাধ্যমে ঐ মুসলিম তরুণদের রক্ষা করেন ।
📄 আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরত
ইবন ইসহাক বলেন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যখন দেখলেন যে , তাঁর সংগীরা ক্রমাগতভাবে বিপদ - আপদের সম্মুখীন হচ্ছে , আর তিনি নিজে আল্লাহর রহমতে এবং স্বীয় চাচা আবু তালিবের কারণে নিরাপদে রয়েছেন , অথচ তিনি তাদের অত্যাচার - নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারছেন না , তখন তিনি তাদের বললেন , যদি তোমরা আবিসিনিয়ায় চলে যাও , তবে তোমাদের জন্য ভাল । কারণ সেখানে এমন একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ আছেন , যার রাজত্বে কেউ যুলুমের শিকার হয় না । সে দেশটা সত্য ও ন্যায়ের ) দেশ । আল্লাহ্ যতদিন পর্যন্ত তোমাদের জন্য এ যুলুম থেকে বাঁচার পরিবেশ না করে দেন , ততদিন পর্যন্ত তোমরা সেখানে থাকতে পার । এ পরামর্শ অনুসারে রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর সাহাবীগণ , চাপের মুখে ধর্মত্যাগী হওয়ার আশংকায় এবং নিজ নিজ দীন ও ঈমান নিয়ে আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বাসনায় আবিসিনিয়া অভিমুখে রওয়ান হলেন । এটি ছিল ইসলামের প্রথম হিজরত ।
আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরতকারিগণ
বনূ উমায়্যা ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইবন মুরা , ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালিব ইবন ফিহর গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন উসমান ইবন আফ্ফান ইবন আবুল আস ইবন উমায়্যা । আর তাঁর সংগে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কন্যা রুকায়্যা ।
বনু আবদ শামস ইবন আবদ মানাফ গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস এবং তাঁর সাহলা বিকৃত সুহায়ল ইবন আমর । ইনি ছিলেন বনু আমির ইবন লুজাঈ গোত্রের লোক । আবিসিনিয়ায় মুহাম্মদ নামে আবূ হুয়ায়ফার একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে ।
বনূ আসাদ ইবন আবদুল উযযা ইবন কুসাই গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন যুবায়র ইবন আওয়াম ইবন মুওয়ায়লিদ ইবন আসাদ ।
বনূ আবদুদদার ইবন কুসাই গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ছিলেন মুস'আব ইবন উমায়র ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফ ইবন আবদুদ্দার ।
বনূ যুহরা ইব্ন কিলাব গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন আবদুর রহমান ইবন আওফ ইব্ন আবদ আওফ ইবন হারিস ইবন যুহরা ।
বনূ মাখযূম ইয়াকযা ইব্ন মুরা গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ছিলেন আবূ সালামা ইব্ন আবদুল আসাদ ইবন হিলাল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইবন মাখযূম এবং তার সাথে তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা বিন্ত আবূ উমায়্যা ইব্ন মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম ।
বনূ জুমাহ ইবন আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন উসমান ইব্ন মাধঊন ইব্ন হাবীব ইব্ন ওয়াব ইব্ন হুযাফা ইবন জুমাহ ।
বনু আদী ইব্ন কা'ব গোত্র থেকে আমির ইবন রাবীআ ইবন ওয়ায়ল । ইনি খাত্তাব পরিবারের মিত্র আনাস ইবন ওয়ায়ল ছিলেন । তাঁর সংগে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লায়লা বিনত আবূ হাসামা ইবন হুযাফা ইব্ন গানিম ইবন আমির ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আওফ ইবন উবায়দ ইব্ন উয়ায়জ ইব্ন আদী ইবন কা'ব ।
বনু আমির ইব্ন লুআঈ থেকে ছিলেন আবূ সাবরা ইব্ন আবু রুহম ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন আবূ কায়স ইব্ন আব্দ ওয়াদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির । কারো কারো মতে , আবূ সাবরা নয় , বরং আবূ হাতিম ইব্ন আমর ইব্ন আব্দ শামস ইন আবদ ইব্ন নাসর ইবন মালিক ইবন হাসাল ইব্ন আমির । কথিত আছে যে , ইনিই সর্বপ্রথম আবিসিনিয়ায় পৌঁছেন ।
বনু হারিস ইবনে ফিহর থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন সুহায়ল ইবন বায়যা , ওরফে সুহায়ল ইব্ন ওয়াব ইবন রাবীআ ইব্ন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইবনুল হারিস । আমার জানামতে , এ দশজনই ছিলেন আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী প্রথম মুসলিম ।
ইবন হিশাম বলেন : এ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন উসমান ইব্ন মাযউন । কতিপয় আলিম আমাকে এ কথা জানিয়েছেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর হিজরত করেন জা'ফর ইবন আবু তালিব ( রা ) । আর মুসলমানগণ একের পর এক আবিসিনিয়ায় হিজরত করে যেতে থাকেন ; এমনকি তারা সকলে সেখানে সমবেত হন এবং সেখানে অবস্থান করতে থাকেন । তাদের কারো সংগে তার পরিবার - পরিজন ছিল , আর কেউ একা ছিলেন ।
📄 আবিসিনিয়ায় প্রথম হিজরতকারিগণ
বনূ উমায়্যা ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইবন মুরা , ইবন কা'ব ইবন লুআই ইবন গালিব ইবন ফিহর গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন উসমান ইবন আফ্ফান ইবন আবুল আস ইবন উমায়্যা । আর তাঁর সংগে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কন্যা রুকায়্যা ।
বনু আবদ শামস ইবন আবদ মানাফ গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন আবু হুযায়ফা ইবন উতবা ইবন রবীআ ইবন আবদ শামস এবং তাঁর সাহলা বিকৃত সুহায়ল ইবন আমর । ইনি ছিলেন বনু আমির ইবন লুজাঈ গোত্রের লোক । আবিসিনিয়ায় মুহাম্মদ নামে আবূ হুয়ায়ফার একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে ।
বনূ আসাদ ইবন আবদুল উযযা ইবন কুসাই গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ছিলেন যুবায়র ইবন আওয়াম ইবন মুওয়ায়লিদ ইবন আসাদ ।
বনূ আবদুদদার ইবন কুসাই গোত্রের প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ছিলেন মুস'আব ইবন উমায়র ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফ ইবন আবদুদ্দার ।
বনূ যুহরা ইব্ন কিলাব গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন আবদুর রহমান ইবন আওফ ইব্ন আবদ আওফ ইবন হারিস ইবন যুহরা ।
বনূ মাখযূম ইয়াকযা ইব্ন মুরা গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ছিলেন আবূ সালামা ইব্ন আবদুল আসাদ ইবন হিলাল ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইবন মাখযূম এবং তার সাথে তাঁর স্ত্রী উম্মে সালামা বিন্ত আবূ উমায়্যা ইব্ন মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম ।
বনূ জুমাহ ইবন আমর ইবন হুসায়স ইবন কা'ব গোত্র থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন উসমান ইব্ন মাধঊন ইব্ন হাবীব ইব্ন ওয়াব ইব্ন হুযাফা ইবন জুমাহ ।
বনু আদী ইব্ন কা'ব গোত্র থেকে আমির ইবন রাবীআ ইবন ওয়ায়ল । ইনি খাত্তাব পরিবারের মিত্র আনাস ইবন ওয়ায়ল ছিলেন । তাঁর সংগে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লায়লা বিনত আবূ হাসামা ইবন হুযাফা ইব্ন গানিম ইবন আমির ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আওফ ইবন উবায়দ ইব্ন উয়ায়জ ইব্ন আদী ইবন কা'ব ।
বনু আমির ইব্ন লুআঈ থেকে ছিলেন আবূ সাবরা ইব্ন আবু রুহম ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন আবূ কায়স ইব্ন আব্দ ওয়াদ্দ ইব্ন নাসর ইব্ন মালিক ইব্ন হাসাল ইব্ন আমির । কারো কারো মতে , আবূ সাবরা নয় , বরং আবূ হাতিম ইব্ন আমর ইব্ন আব্দ শামস ইন আবদ ইব্ন নাসর ইবন মালিক ইবন হাসাল ইব্ন আমির । কথিত আছে যে , ইনিই সর্বপ্রথম আবিসিনিয়ায় পৌঁছেন ।
বনু হারিস ইবনে ফিহর থেকে প্রথম হিজরতকারী ছিলেন সুহায়ল ইবন বায়যা , ওরফে সুহায়ল ইব্ন ওয়াব ইবন রাবীআ ইব্ন হিলাল ইব্ন উহায়ব ইব্ন যাব্বা ইবনুল হারিস । আমার জানামতে , এ দশজনই ছিলেন আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী প্রথম মুসলিম ।
ইবন হিশাম বলেন : এ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন উসমান ইব্ন মাযউন । কতিপয় আলিম আমাকে এ কথা জানিয়েছেন ।