📄 আবূ কুহাফা কর্তৃক আবু বকর (রা)-কে ভর্ৎসনা
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ আতীক আমাকে আমির ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র তার পরিবারের কোন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেছেন , একদা আৰু কুহাফা আবু বকর ( রা ) -কে বললেন : হে আমার পুত্র ! আমি দেখতে পাচ্ছি , তুমি কেবল দুর্বল দাসদের আযাদ করছ । তুমি যদি শক্তিশালী লোকদের আযাদ কর , তা হলে প্রয়োজনে তারা তোমাকে রক্ষা করবে এবং তোমার ওপর থেকে শত্রুর হামলা প্রতিহত করবে । আবূ বকর ( রা ) বললেন , আব্বা ! আমি যা করতে চাই তা কেবল আল্লাহর জন্যই করতে চাই । বর্ণনাকারী বলেন , তাঁর ব্যাপারে এবং তাঁর পিতার সংগে তাঁর যে কথাবার্তা হয়েছিল , সে এ প্রসঙ্গে সূরা লায়লের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় :
“ যে দান করল , মুত্তাকী হল এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করল , ' আমি তার জন্য সুগম করে দেৰ সহজ পথ ।... থেকে সূরার শেষাংশ : “ তার প্রতি কারো অনুগ্রহের প্রতিদানে নয় , কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় , সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করবে । ” ( ৯২ : ৫-২১ )
📄 ইয়াসির পরিবারের উপর নির্যাতন
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াসির পরিবার ছিল পুরোপুরি মুসলিম পরিবার । মাথযূম গোত্র আমার , তার পিতা ইয়াসির ও মাতাকে প্রচণ্ড গরম দুপুরে মক্কার তপ্ত মরুভূমিতে নিয়ে শান্তি দিত । রাবী বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাঁদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন : “ হে ইয়াসির পরিবার ! তোমরা সবর কর । তোমাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের প্রতিশ্রুতি । ” আম্মার ( রা ) -এর মাতাকে তারা মেরে ফেলে ; আর তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলাম ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন ।
📄 মুসলমানদের ওপর কঠোর ফিতনা
কুরায়শ বংশীয় লোকদের মধ্যে পাপিষ্ঠ আবূ জাহল ছিল ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও বল প্রয়োগকারীদের অন্যতম । ' সে যখনই শুনত , কোন সম্ভ্রান্ত ও জনবলসম্পন্ন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে , তখন তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করত এবং বলত : তুই তোর বাবার ধর্ম ত্যাগ করেছিস । তোর চেয়ে তোর বাবা উত্তম ছিল । তোর বিবেক - বুদ্ধি যে কত কম এবং তোর ধারণা যে কত ভ্রান্ত , তা লোকদের জানিয়ে দেব । তোর মান - মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করব । আর যদি সে ব্যবসায়ী হত , তবে তাকে বলত "আল্লাহ্র কসম ! তোর ব্যবসা লাটে তুলব এবং তোর ধনসম্পদ ধ্বংস করব । আর দুর্বল হলে তাকে মারপিট করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করত ।
ইবন ইসহাক বলেন হাকীম ইবন জুবায়ার সাঈদ ইবন জুবায়র ( রা ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন ; আমি ইবন আব্বাস ( রা ) -কে জিজ্ঞেস করলাম মুশরিকরা কি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালাত যে , তারা ধর্ম ত্যাগ করলে , সে জন্য তাদের দোষারোপমুক্ত করা যেত না ? তিনি বললেন : হ্যাঁ । আল্লাহ্র কসম ! তারা তাদের কাউকে মারধর করত , কাউকে ক্ষুধা ও পিপাসায় কষ্ট দিত , যুলুমের তীব্রতায় সে ব্যক্তি এত দুর্বল হয়ে পড়ত যে , সে সোজা হয়ে বসতেই পারত না । যতক্ষণ না সে নির্যাতনকারীদের নির্দেশ পালন করত , ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তার ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখত । এক পর্যায়ে মুশরিকরা তাকে বলত : আল্লাহ্ নয় , বরং লাত ও উয্যাই তোর ইলাহ নয় কি ? তখন সে বলে ফেলত : হ্যাঁ । এমনকি একটা গুবরে পোকা তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে দেখিয়ে বলা হত , আল্লাহ্ নয় , এ পোকাটাই তোর ইলাহ্ নয় কি ? তখন সে তাদের সীমাহীন নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন বলে ফেলত : হ্যাঁ ।
📄 ওয়ালীদকে কুরায়শের কাছে সমর্পণে হিশামের অস্বীকৃতি
ইবন ইসহাক বলেন : যুবায়র ইব্ন উক্কাশা ইব্ন আবূ আহমদ আমাকে বলেছেন যে , তিনি জানতে পেরেছেন : বনূ মাখযূমের কিছু লোক হিশাম ইবন ওয়ালীদের কাছে গেল । এ সময় তার ভাই ওয়ালীদ ইবন ওয়ালীদ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । তারা হিশামের কাছে এ সংকল্প নিয়ে গিয়েছিল যে , তাদের মধ্যেকার যে সকল যুবক ইসলাম গ্রহণ করেছে , তাদের পাকড়াও করবে । ইসলাম কবুলকারীদের মধ্যে সালামা ইবন হিশাম ও আয়্যাশ ইন আবূ রবীন্দ্রও ছিলেন । যেহেত তারা গোত্রের পক্ষ থেকে বিপদের আশংকা করছিল , তাই হিশামকে বলল , এ নুতন উদ্ভাবিত ধর্ম গ্রহণকারী যুবকদের আমরা একটু ভর্ৎসনা করতে চাই , যাতে অন্যরা এ কাজ না করে । হিশাম বলল , ঠিক আছে , তোমরা তাকে ( ওয়ালীদকে ) ভর্ৎসনা কর , তবে তার জীবন নাশের ব্যাপারে সাবধান । এ সময় সে নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করল :
“ খবরদার , আমার ভাই উবায়শ যেন কোনক্রমেই নিহত না হয় । অন্যথায় আমাদের মধ্যে চিরস্থায়ী শত্রুতার সৃষ্টি হয়ে যাবে । ”
হিশাম আরো বলল : তার জীবন নাশ সম্পর্কে সাবধান হয়ে যাও । কেননা , আমি আল্লাহ্র কসম করে বলেছি , তাকে যদি তোমরা হত্যা কর , তবে আমি তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিকে হত্যা করব । এ কথা শুনে আগন্তুক মাধ্যমীরা বলল , তার ওপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক এ খাবীসের মুকাবিলা করার ক্ষমতা তার আছে । আল্লাহ্র কসম ! যদি তার ভাই আমাদের হাতে নিহত হয় , তবে অবশ্যই হিশাম আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিতে হত্যা করবে । রাবী বলেন , ' এ কথা বলে তার ভাই ওয়ালিদ ইবন ওয়ালীদকে ছেড়ে যায় এবং এ সংকল্প বর্জন করে । বর্ণনাকারী বলেন , এভাবে আল্লাহ্ তার মাধ্যমে ঐ মুসলিম তরুণদের রক্ষা করেন ।