📄 আবূ বকর (রা) যাদের আযাদ করেন
তিনি মদীনায় হিজরত করার আগে বিলাল ( রা ) ছাড়া আরো ছয়জন ইসলাম গ্রহণকারী গোলামকে আযাদ করেন । বিলাল ( রা ) ছিলেন এদের সপ্তম ব্যক্তি । তিনি আমির ইবন ফুহায়রা ( রা ) -কে আযাদ করেন , যিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বীরে মাউনার যুদ্ধে শহীদ হন । তিনি উম্মে উবায়স ও যিন্নীরা দাসীদ্বয়কেও আযাদ করেন । যিন্নীরা আযাদ হওয়ার সময় তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন । এ অবস্থা দেখে কুরায়শরা বলল : লাত ও উয্যার অভিশাপেই সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে । তখন যিন্নীরা ( রা ) তাদের এ কথা শুনে বললেন : ওরা মিথ্যে বলেছে । আল্লাহ্র ঘরের কসম ! লাত ও উয্যা কোন ক্ষতিও করতে পারে না , আর উপকারও করতে পারে না । আল্লাহ্ তৎক্ষণাৎ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন । আবূ বকর ( রা ) নাহদিয়া নাম্নী এক মহিলা ও তার কন্যাকেও আযাদ করেন । তাঁর উভয়ে আবদুদদার গোত্রের এক মহিলার দাসী ছিলেন । ঐ মহিলা তাদের ( যাতাসহ ) আটা পেষণের জন্য পাঠিয়েছিল এবং সে সময় বলছিল : আল্লাহ্র কসম ! আমি ওদের কখনও আযাদ করব না । এ সময় আবূ বকর ( রা ) সে দাসীদ্বয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । ঐ মহিলার কথা শুনে তিনি বললেন , হে অমুকের মা ! তুমি তোমার কসম ভেঙে ফেল এবং এর কাফ্ফারা আদায় কর । তখন সে মহিলা বলল : আমি শপথমুক্ত ! তুমি - ই তো ওদের নষ্ট করেছ । কাজেই তুমি ওদের আযাদ করে নাও । আবূ বকর ( রা ) জিজ্ঞেস করলেন : বেশ , তুমি ওদের কত দামে বিক্রি করবে ? সে মহিলা দামের একটা পরিমাণ বলল । তখন আবূ বাকর ( রা ) বললেন : ঠিক আছে , আমি ওদের কিনে নিলাম এবং ওরা এখন থেকেই আযাদ । তোমরা মহিলার যাঁতাকল ফিরিয়ে দাও । তাঁরা বললেন : হে আবূ বকর ! এখন - ই ফিরিয়ে দেব , না কাজটি শেষ করে তা তাকে ফিরিয়ে দেব ? আবূ বকর ( রা ) বললেন : সেটা তোমাদের ইচ্ছা ।
একদা মুয়াম্মাল গোত্রের এক দাসীর কাছ দিয়ে আবূ বকর ( রা ) যাচ্ছিলেন । এটি কা'ব গোত্রের একটি শাখা । এ দাসীটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল । উমর ইবন খাত্তাব ইসলাম ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য তার ওপর নির্যাতন করছিলেন । এ সময় তিনি মুশরিক ছিলেন । তিনি তাকে পেটাচ্ছিলেন । যখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন , তখন বললেন : আমি তোর কাছে ওযর পেশ করছি । ক্লান্ত হওয়া ছাড়া আর কোন কারণে আমি তোকে পেটানো বন্ধ করিনি । দাসীটি বললো : আল্লাহ্ - ই তোমাকে এরূপ ক্লান্ত করেছেন । পরে আবূ বকর ( রা ) দাসীটিকে কিনে আযাদ করে দিলেন ।
📄 আবূ কুহাফা কর্তৃক আবু বকর (রা)-কে ভর্ৎসনা
ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ আতীক আমাকে আমির ইব্ন আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র তার পরিবারের কোন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেছেন , একদা আৰু কুহাফা আবু বকর ( রা ) -কে বললেন : হে আমার পুত্র ! আমি দেখতে পাচ্ছি , তুমি কেবল দুর্বল দাসদের আযাদ করছ । তুমি যদি শক্তিশালী লোকদের আযাদ কর , তা হলে প্রয়োজনে তারা তোমাকে রক্ষা করবে এবং তোমার ওপর থেকে শত্রুর হামলা প্রতিহত করবে । আবূ বকর ( রা ) বললেন , আব্বা ! আমি যা করতে চাই তা কেবল আল্লাহর জন্যই করতে চাই । বর্ণনাকারী বলেন , তাঁর ব্যাপারে এবং তাঁর পিতার সংগে তাঁর যে কথাবার্তা হয়েছিল , সে এ প্রসঙ্গে সূরা লায়লের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় :
“ যে দান করল , মুত্তাকী হল এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করল , ' আমি তার জন্য সুগম করে দেৰ সহজ পথ ।... থেকে সূরার শেষাংশ : “ তার প্রতি কারো অনুগ্রহের প্রতিদানে নয় , কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টির প্রত্যাশায় , সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করবে । ” ( ৯২ : ৫-২১ )
📄 ইয়াসির পরিবারের উপর নির্যাতন
ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াসির পরিবার ছিল পুরোপুরি মুসলিম পরিবার । মাথযূম গোত্র আমার , তার পিতা ইয়াসির ও মাতাকে প্রচণ্ড গরম দুপুরে মক্কার তপ্ত মরুভূমিতে নিয়ে শান্তি দিত । রাবী বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাঁদের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন : “ হে ইয়াসির পরিবার ! তোমরা সবর কর । তোমাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের প্রতিশ্রুতি । ” আম্মার ( রা ) -এর মাতাকে তারা মেরে ফেলে ; আর তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলাম ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন ।
📄 মুসলমানদের ওপর কঠোর ফিতনা
কুরায়শ বংশীয় লোকদের মধ্যে পাপিষ্ঠ আবূ জাহল ছিল ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও বল প্রয়োগকারীদের অন্যতম । ' সে যখনই শুনত , কোন সম্ভ্রান্ত ও জনবলসম্পন্ন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে , তখন তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করত এবং বলত : তুই তোর বাবার ধর্ম ত্যাগ করেছিস । তোর চেয়ে তোর বাবা উত্তম ছিল । তোর বিবেক - বুদ্ধি যে কত কম এবং তোর ধারণা যে কত ভ্রান্ত , তা লোকদের জানিয়ে দেব । তোর মান - মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করব । আর যদি সে ব্যবসায়ী হত , তবে তাকে বলত "আল্লাহ্র কসম ! তোর ব্যবসা লাটে তুলব এবং তোর ধনসম্পদ ধ্বংস করব । আর দুর্বল হলে তাকে মারপিট করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করত ।
ইবন ইসহাক বলেন হাকীম ইবন জুবায়ার সাঈদ ইবন জুবায়র ( রা ) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন ; আমি ইবন আব্বাস ( রা ) -কে জিজ্ঞেস করলাম মুশরিকরা কি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালাত যে , তারা ধর্ম ত্যাগ করলে , সে জন্য তাদের দোষারোপমুক্ত করা যেত না ? তিনি বললেন : হ্যাঁ । আল্লাহ্র কসম ! তারা তাদের কাউকে মারধর করত , কাউকে ক্ষুধা ও পিপাসায় কষ্ট দিত , যুলুমের তীব্রতায় সে ব্যক্তি এত দুর্বল হয়ে পড়ত যে , সে সোজা হয়ে বসতেই পারত না । যতক্ষণ না সে নির্যাতনকারীদের নির্দেশ পালন করত , ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তার ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখত । এক পর্যায়ে মুশরিকরা তাকে বলত : আল্লাহ্ নয় , বরং লাত ও উয্যাই তোর ইলাহ নয় কি ? তখন সে বলে ফেলত : হ্যাঁ । এমনকি একটা গুবরে পোকা তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে দেখিয়ে বলা হত , আল্লাহ্ নয় , এ পোকাটাই তোর ইলাহ্ নয় কি ? তখন সে তাদের সীমাহীন নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন বলে ফেলত : হ্যাঁ ।