📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি ঈমান আনতে কুরায়শদের দর্পভরে অস্বীকৃতি
এটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
কুমায়ত ইব্ন যায়দ বলেন : “ তারা মজলিসে বাজে ও অনর্থক কথা বলে না এবং প্রয়োজনের সময় কোন কারণে কথা বলা থেকে বিরত থাকে না । ”
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার একটি অংশ ।
‘ নাদী ” অর্থ একসঙ্গে উপবিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেও অনেকে মনে করেন ।
“ যাবানিয়া ” অর্থ নির্মম হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের লোক । এখানে এ শব্দ দ্বারা দোযখের প্রহরীদের বুঝানো হয়েছে । দুনিয়াতে যাবানিয়া শব্দের অর্থ হলো সাহায্য ও সহযোগিতাকারী , একৰচন ‘ যিনিয়া । ” .
ইবনু যা'আর বলেন : “ তারা অতিথিদের অধিক পরিমাণে খাদ্য পরিবেশনকারী , যুদ্ধে সুনিপুণ তীরন্দায , তারা এক অপরের সাহায্য - সহযোগিতাকারী খুবই বুদ্ধিমान "
এ লাইনটি তার কবিতার অংশবিশেষ ।
সাখর ইবন আবদুল্লাহ্ ছ্যালী , যিনি সাখরুল গাই নামে পরিচিত , তিনি বলেন : “ বনু কাবীরের কিছু লোক এমন রয়েছে , যারা অন্যের সাহায্য - সহযোগিতা করে থাকে । ”
এ লাইনটি তার এক কবিতার অংশবিশেষ ।
ইবন ইসহাক বলেন : যখন মক্কার মুশরিকরা তাঁর সামনে তাদের ধন - সম্পদ পেশ করে , তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন :
“ তুমি বল , আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চেয়ে থাকলে তা তোমাদেরই ; আমার পুরস্কার তো আছে আল্লাহর নিকট এবং তিনি সব বিষয়ের দ্রষ্টা । " ( ৪৪ )
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যখন কুরায়শ গোত্রের কাছে সেই সত্য বাণী নিয়ে আসলেন , যা তারা সত্য বলে জানত , রাসূল (সা:) -এর সত্যবাদিতার কথা তাদের জানা থাকার কারণে , তাঁর বৃক্তব্যকে যখন তারা অকাট্য সত্য বলে বুঝল এবং তাঁর কাছে অদৃশ্য তথ্যসমূহ জিজ্ঞেস করে জানার পর , তাঁর নবুওয়তের যথার্থতা সম্পর্কে যখন তারা নিশ্চিত হল , তখন নিছক হিংসা - বিদ্বেষ তাঁর অনুসরণ ও স্বীকৃতির পথে তাদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল । এরপর তারা আল্লাহ্র মুকাবিলায় হঠকারিতা করল এবং তাঁর নির্দেশ প্রকাশ্যভাবে লংঘন করল ; আর তারা তাদের কুফরীর উপর অটল থাকল ।
তাদের কেউ বলল : "তোমরা এ কুরআন শোনো না , বরং তা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর , যাতে তোমরা জয়ী হতে পার । ” ( ৪১ : ২৬ ) । অর্থাৎ তোমরা একে অসার ও বাজে জিনিস বলে সাব্যস্ত কর । বরং তোমরা একে হাসি - ঠাট্টার বন্ধু হিসাবে গ্রহণ কর , তা হলে হয়ত তোমরা এর উপর বিজয়ী হতে পারবে । কেননা যদি তোমরা তাঁর সংগে যুক্তি - প্রমাণের ভিত্তিতে বিতর্কে লিপ্ত হও , তাহলে সে একদিন তোমাদের ওপর বিজয়ী হবে ।
উপরোক্ত ধ্যান - ধারণার ভিত্তিতে একদিন আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) এবং তিনি যে সত্য দীন নিয়ে এসেছেন এ সম্পর্কে ঠাট্টা - বিদ্রুপচ্ছলে বলল : “ হে কুরায়শরা ! মুহাম্মদের দাবি এই যে , আল্লাহ্র যে বাহিনী তোমাদের দোষখে শাস্তি দেবে ও তার ভেতরে আটকে রাখবে , তারা নাকি সংখ্যায় উনিশজন । অথচ তোমরা বিপুল জনসংখ্যার অধিকারী একটি সম্প্রদায় । তোমাদের একশজনও কি তাদের একজনের সাথে পেরে উঠবে না ? ” তারা এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের উপর এ আয়াত নাযিল করেন : “ আমি ফেরেশতাদের করেছি জাহান্নামের প্রহরী । কাফিরদের পরীক্ষা স্বরূপই আমি তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি । যাতে কিতাবধারীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্যে , বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বাড়ে এবং বিশ্বাসীরা ও কিভাধারিগণ সন্দেহ পোষণ না করে । ” ( ৭৪ : ৩১ )