📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরআনে ইব্‌ন আবু উমায়্যার দাবির জবাব

📄 কুরআনে ইব্‌ন আবু উমায়্যার দাবির জবাব


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ উমায়্যার দাবির জবাবে আল্লাহ্ নাযিল করলেন : “ তারা বলে , কখনো তোমার উপর ঈমান আনব না , যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটা ঝর্ণা প্রবাহিত করবে , অথবা তোমার খেজুর বা আংগুরের বাগান হবে , যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দেবে নদীনালা । অথবা তুমি যেমন বলে থাক , তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড - বিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলবে , অথবা আল্লাহ্ ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবে , অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত ঘর হবে , অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে , কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল না করবে , যা আমরা পাঠ করব । বল , পবিত্র মহান আমার রব ! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ , একজন রাসূল । ”
ইবন হিশাম বলেন : "ইয়া" অর্থ হচ্ছে ঝর্ণা । এর বহুবচন ' ইয়ানাবী ' ।
ইবন হারমা ভিন্নমতে ইবরাহীম ইবন আলী ফিহরী বলেন : “ যখন তুমি প্রত্যেক ঘরে অশ্রুবর্ষণ করলে , তখন তোমার অশ্রুপাতের কারণগুলো শেষ হবে ; কিন্তু তোমার অশ্রু ঝর্ণার ন্যায় উথলে উঠবে ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
‘ কিসাফুন ' অর্থ আযাবের টুকরোগুলো । একবচনে কিফাতুন , যেমন সিদরাতুন ও সিদরুন । কিসফুন একবচনরূপে ব্যবহৃত হয় । ‘ কাবীল ' অর্থ সামনাসামনি ও চাক্ষুষ । কুরআনে আছে : “ ইয়াতিহিমুল আযাবু কুবুলা ” অর্থাৎ তাদের কাছে আযাব আসবে চাক্ষুষভাবে । কাবীল - এর বহুবচন কুকূল । ইব্‌ন হিশাম বলেন : আ'শা ইন কায়স ইব্‌ন সা'লাবার নিম্নোক্ত লাইনটি আমাকে আৰু উবায়দা পড়ে শুনিয়েছেন :
“ তোমাদের সাথে আপস করার ব্যাপারে আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করব , যাতে তোমরাও এ ধরনের আচরণে অভ্যস্ত হও ” অর্থাৎ আপসের জন্য তৈরি হয়ে যাও ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
কারো কারো মতে ‘ কাবীল ' অর্থ দল । আরবী প্রবাদে এ শব্দটি যে কোন অগ্রবর্তী জিনিসকে বুঝায় । কুমায়ত ইবন যায়দ বলেন : “ তাদের ব্যাপারসমূহ এদিক - সেদিক ছড়িয়ে পড়েছে । ফলে , কোনটি সামনের এবং কোনটি পেছনের , তা চিনতে পারছে না । "
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার একটি অংশ ।
' কাবীল ' শব্দের আরেক অর্থ বুনট । যেটি রুনুই পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ' কাবীল ' এবং যেটি আংগুল পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ‘ দাবীর ' বলা হয় ।
চরকায় যে সূতা কাটা হয় , তা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' কাবীল ' এবং উরু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' দাবীর ' বলা হয় । মানুষের দলকেও ' কাবীল ' বলা হয় ।
' যুখরুফ ' অর্থ স্বর্ণ । ' মুযাথরাফ ' অর্থ ' স্বর্ণমণ্ডিত ।
আজ্জাজ বলেন : “ এ ধ্বংস স্তূপের বস্তুসমূহ সন্ধ্যার সময় সোনালী কারুকার্য খচিত পবিত্র গ্রন্থের মত মনে হয় । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়ামামার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে শিক্ষা দেয়-কুরআনে এ অপবাদ খণ্ডন

📄 ইয়ামামার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে শিক্ষা দেয়-কুরআনে এ অপবাদ খণ্ডন


এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
প্রত্যেক সুসজ্জিত জিনিসকেও মুযাথরাফ ' বলা হয় ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শ নেতারা বলল , আমরা জানতে পেরেছি যে , ইয়ামামার এক ব্যক্তি তোমাকে শিক্ষা দিয়ে থাকে । সেই ব্যক্তির নাম রহমান । আমরা তার উপর আস্থাবান হব না । এ কথার জবাবে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ওপর ও আয়াত নাযিল করলেন : “ এভাবেই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির কাছে যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে , যাতে তুমি তাদের কাছে আমার ওহী পড়ে শোনাতে পার , তথাপি তারা রহমানকে অস্বীকার করে । তুমি বল : তিনিই আমার রব । তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই । তাঁরই ওপর আমি নির্ভর করি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন । ” ( ১৩ : ৩০ )

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরআনের আবু জাহল সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াত

📄 কুরআনের আবু জাহল সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াত


আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে যা বলেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে যে চক্রান্ত করেছিল , সে সম্পর্কে আল্লাহ্ নাযিল করলেন : “ তুমি কি তাকে দেখেছ , যে বাধা দেয় এক বান্দাকে , যখন সে সালাত আদায় করে ? তুমি কি লক্ষ্য করেছ , যদি সে সৎপথে থাকে অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয় । তুমি লক্ষ্য করেছ কি যদি সে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয় , তবে সে কি জানে না যে , আল্লাহ দেখেন । সে যদি বিরত না হয় , তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব মাথার সামনের কেশগুচ্ছ ধরে মিথ্যাচারী , পাপিষ্ঠের কেশগুচ্ছ । অতএব সে তা পার্শ্বচরদের আহবান করুক । আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরিগণকে । সাবধান ! তুমি তার অনুসরণ করো না , সিজদা কর ও আমার নিকটবর্তী হও । ” ( ৯৬ : ৯-১৯ )
ইবন হিশাম বলেন : ' লানাসফাআন ' অর্থ আমি তাকে পাকড়াও করে টেনে - হেঁচড়ে আনব । কবি বলেন : “ তারা এমন এক সম্প্রদায় , যখন তারা কারো আর্তনাদ শুনতে পায় , তখন তুমি তাদের দেখতে পাবে যে , তারা লাগাম , লাগিয়ে বা লাগাম ছাড়াই বাহনে চড়ে দ্রুত ( আর্তের সাহায্যে ) ছুটে যায় । ”
' নানী ' অর্থ সেই মজলিস , যেখানে লোকেরা সমবেত হয়ে তাদের বিবাদ - বিসম্বাদ নিষ্পত্তি করে । কুরআনে আছে : “ তোমরা তোমাদের মজলিসে বসে খারাপ কাজ কর । ” নাদীতে অংশ- গ্রহণকে ' নাদা ' বলা হয় । উবায়দ ইব্‌ন আবরাস বলেন : “ আরে যা , আমি তো বনূ আসাদের লোক । যারা দাতা , মজলিসের সদস্য এবং সমবেত হয়ে পরামর্শক্রমে কার্য সম্পাদনকারী । "
কুরআনে আছে ' আহসান নাদীয়ান ' অর্থাৎ মজলিস হিসাবে কোনটি উত্তম । বহুবচন ‘ আনদিয়া ' । এখানে আয়াতে উল্লিখিত ' নাদী ' অর্থ - নাদীর সদস্য । যেমন কুরআনে কারিয়া বা গ্রাম বলতে গ্রামবাসী বুঝানো হয়েছে । সুলামা ইবন জনদল বনু সা'দ ইবন যায়দ মানাত ইন তামীম বলেন : “ দিন দু'ধরনের— একদিন সাহিত্য চর্চা ও সভা - সমিতি , অন্য দিন হলো- শত্রুর উপর হামলা করার জন্য সারাদিন চলার । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি ঈমান আনতে কুরায়শদের দর্পভরে অস্বীকৃতি

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর প্রতি ঈমান আনতে কুরায়শদের দর্পভরে অস্বীকৃতি


এটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
কুমায়ত ইব্‌ন যায়দ বলেন : “ তারা মজলিসে বাজে ও অনর্থক কথা বলে না এবং প্রয়োজনের সময় কোন কারণে কথা বলা থেকে বিরত থাকে না । ”
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার একটি অংশ ।
‘ নাদী ” অর্থ একসঙ্গে উপবিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেও অনেকে মনে করেন ।
“ যাবানিয়া ” অর্থ নির্মম হৃদয় ও কঠোর স্বভাবের লোক । এখানে এ শব্দ দ্বারা দোযখের প্রহরীদের বুঝানো হয়েছে । দুনিয়াতে যাবানিয়া শব্দের অর্থ হলো সাহায্য ও সহযোগিতাকারী , একৰচন ‘ যিনিয়া । ” .
ইবনু যা'আর বলেন : “ তারা অতিথিদের অধিক পরিমাণে খাদ্য পরিবেশনকারী , যুদ্ধে সুনিপুণ তীরন্দায , তারা এক অপরের সাহায্য - সহযোগিতাকারী খুবই বুদ্ধিমान "
এ লাইনটি তার কবিতার অংশবিশেষ ।
সাখর ইবন আবদুল্লাহ্ ছ্যালী , যিনি সাখরুল গাই নামে পরিচিত , তিনি বলেন : “ বনু কাবীরের কিছু লোক এমন রয়েছে , যারা অন্যের সাহায্য - সহযোগিতা করে থাকে । ”
এ লাইনটি তার এক কবিতার অংশবিশেষ ।
ইবন ইসহাক বলেন : যখন মক্কার মুশরিকরা তাঁর সামনে তাদের ধন - সম্পদ পেশ করে , তখন আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন :
“ তুমি বল , আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চেয়ে থাকলে তা তোমাদেরই ; আমার পুরস্কার তো আছে আল্লাহর নিকট এবং তিনি সব বিষয়ের দ্রষ্টা । " ( ৪৪ )
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যখন কুরায়শ গোত্রের কাছে সেই সত্য বাণী নিয়ে আসলেন , যা তারা সত্য বলে জানত , রাসূল (সা:) -এর সত্যবাদিতার কথা তাদের জানা থাকার কারণে , তাঁর বৃক্তব্যকে যখন তারা অকাট্য সত্য বলে বুঝল এবং তাঁর কাছে অদৃশ্য তথ্যসমূহ জিজ্ঞেস করে জানার পর , তাঁর নবুওয়তের যথার্থতা সম্পর্কে যখন তারা নিশ্চিত হল , তখন নিছক হিংসা - বিদ্বেষ তাঁর অনুসরণ ও স্বীকৃতির পথে তাদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল । এরপর তারা আল্লাহ্র মুকাবিলায় হঠকারিতা করল এবং তাঁর নির্দেশ প্রকাশ্যভাবে লংঘন করল ; আর তারা তাদের কুফরীর উপর অটল থাকল ।
তাদের কেউ বলল : "তোমরা এ কুরআন শোনো না , বরং তা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর , যাতে তোমরা জয়ী হতে পার । ” ( ৪১ : ২৬ ) । অর্থাৎ তোমরা একে অসার ও বাজে জিনিস বলে সাব্যস্ত কর । বরং তোমরা একে হাসি - ঠাট্টার বন্ধু হিসাবে গ্রহণ কর , তা হলে হয়ত তোমরা এর উপর বিজয়ী হতে পারবে । কেননা যদি তোমরা তাঁর সংগে যুক্তি - প্রমাণের ভিত্তিতে বিতর্কে লিপ্ত হও , তাহলে সে একদিন তোমাদের ওপর বিজয়ী হবে ।
উপরোক্ত ধ্যান - ধারণার ভিত্তিতে একদিন আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) এবং তিনি যে সত্য দীন নিয়ে এসেছেন এ সম্পর্কে ঠাট্টা - বিদ্রুপচ্ছলে বলল : “ হে কুরায়শরা ! মুহাম্মদের দাবি এই যে , আল্লাহ্র যে বাহিনী তোমাদের দোষখে শাস্তি দেবে ও তার ভেতরে আটকে রাখবে , তারা নাকি সংখ্যায় উনিশজন । অথচ তোমরা বিপুল জনসংখ্যার অধিকারী একটি সম্প্রদায় । তোমাদের একশজনও কি তাদের একজনের সাথে পেরে উঠবে না ? ” তারা এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের উপর এ আয়াত নাযিল করেন : “ আমি ফেরেশতাদের করেছি জাহান্নামের প্রহরী । কাফিরদের পরীক্ষা স্বরূপই আমি তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি । যাতে কিতাবধারীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্যে , বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বাড়ে এবং বিশ্বাসীরা ও কিভাধারিগণ সন্দেহ পোষণ না করে । ” ( ৭৪ : ৩১ )

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00