📄 নিজের জন্য নাও
তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বলল তুমি নিজের জন্য কিছু বাগান , প্রাসাদ ও ধন - সম্পদ অর্জন কর । আর তোমার সংগে এমন একজন ফেরেশতা আসুন , ন , যিনি তোমার বক্তব্যকে সত্য বলে প্রকাশ করবেন । তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় :
আর তারা বলে : “ এ কেমন রাসূল , যে আহার করে এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করে । তাঁর নিকট কোন ফেরেশতা কেন নাযিল করা হল না , যে তাঁর সংগে থাকত সতর্ককারীরূপে ? তাঁকে ধন - ভাণ্ডার দেওয়া হয় না কেন , অথবা তাঁর একটি বাগান নেই কেন , যা থেকে সে আহার সংগ্রহ করতে পারে ? সীমালংঘনকারীরা আরো বলে তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ । দেখ , তারা তোমার কী উপমা দেয় , তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবে না । কত মহান তিনি , যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে দিতে পারেন এর চাইতে উৎকৃষ্টতর বন্ধু অর্থাৎ বাজারে চলাফেরা করা এবং জীবিকার সন্ধান করার চাইতে উৎকৃষ্ট জিনিসের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন , আর তা হল জান্নাত , যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং দিতে পারেন তোমাকে প্রাসাদসমূহ । তাদের এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর এ আয়াত নাযিল করেন :
“ তোমার আগে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছি , তারা সকলেই তো আহার করত এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করত । হে মানুষ ! আমি তোমাদের মধ্যে এক - কে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি । তোমরা ধৈর্য - ধারণ করবে কি ? আর তোমাদের রব সব কিছুই দেখেন । অর্থাৎ তোমরা যাতে ধৈর্য ধারণ কর , সে জন্য আমি তোমাদের পরস্পরকে একটি পরীক্ষায় ফেলেছি । আর আমি যদি চাইতাম যে , সারা দুনিয়া আমার রাসূলদের সহযোগী হোক , কেউ তাদের বিরোধিতা না করুক , তবে আমি এরূপই করতাম । "
📄 কুরআনে ইব্ন আবু উমায়্যার দাবির জবাব
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ উমায়্যার দাবির জবাবে আল্লাহ্ নাযিল করলেন : “ তারা বলে , কখনো তোমার উপর ঈমান আনব না , যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটা ঝর্ণা প্রবাহিত করবে , অথবা তোমার খেজুর বা আংগুরের বাগান হবে , যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দেবে নদীনালা । অথবা তুমি যেমন বলে থাক , তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড - বিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলবে , অথবা আল্লাহ্ ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবে , অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত ঘর হবে , অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে , কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল না করবে , যা আমরা পাঠ করব । বল , পবিত্র মহান আমার রব ! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ , একজন রাসূল । ”
ইবন হিশাম বলেন : "ইয়া" অর্থ হচ্ছে ঝর্ণা । এর বহুবচন ' ইয়ানাবী ' ।
ইবন হারমা ভিন্নমতে ইবরাহীম ইবন আলী ফিহরী বলেন : “ যখন তুমি প্রত্যেক ঘরে অশ্রুবর্ষণ করলে , তখন তোমার অশ্রুপাতের কারণগুলো শেষ হবে ; কিন্তু তোমার অশ্রু ঝর্ণার ন্যায় উথলে উঠবে ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
‘ কিসাফুন ' অর্থ আযাবের টুকরোগুলো । একবচনে কিফাতুন , যেমন সিদরাতুন ও সিদরুন । কিসফুন একবচনরূপে ব্যবহৃত হয় । ‘ কাবীল ' অর্থ সামনাসামনি ও চাক্ষুষ । কুরআনে আছে : “ ইয়াতিহিমুল আযাবু কুবুলা ” অর্থাৎ তাদের কাছে আযাব আসবে চাক্ষুষভাবে । কাবীল - এর বহুবচন কুকূল । ইব্ন হিশাম বলেন : আ'শা ইন কায়স ইব্ন সা'লাবার নিম্নোক্ত লাইনটি আমাকে আৰু উবায়দা পড়ে শুনিয়েছেন :
“ তোমাদের সাথে আপস করার ব্যাপারে আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করব , যাতে তোমরাও এ ধরনের আচরণে অভ্যস্ত হও ” অর্থাৎ আপসের জন্য তৈরি হয়ে যাও ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
কারো কারো মতে ‘ কাবীল ' অর্থ দল । আরবী প্রবাদে এ শব্দটি যে কোন অগ্রবর্তী জিনিসকে বুঝায় । কুমায়ত ইবন যায়দ বলেন : “ তাদের ব্যাপারসমূহ এদিক - সেদিক ছড়িয়ে পড়েছে । ফলে , কোনটি সামনের এবং কোনটি পেছনের , তা চিনতে পারছে না । "
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার একটি অংশ ।
' কাবীল ' শব্দের আরেক অর্থ বুনট । যেটি রুনুই পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ' কাবীল ' এবং যেটি আংগুল পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ‘ দাবীর ' বলা হয় ।
চরকায় যে সূতা কাটা হয় , তা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' কাবীল ' এবং উরু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' দাবীর ' বলা হয় । মানুষের দলকেও ' কাবীল ' বলা হয় ।
' যুখরুফ ' অর্থ স্বর্ণ । ' মুযাথরাফ ' অর্থ ' স্বর্ণমণ্ডিত ।
আজ্জাজ বলেন : “ এ ধ্বংস স্তূপের বস্তুসমূহ সন্ধ্যার সময় সোনালী কারুকার্য খচিত পবিত্র গ্রন্থের মত মনে হয় । ”
📄 ইয়ামামার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে শিক্ষা দেয়-কুরআনে এ অপবাদ খণ্ডন
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
প্রত্যেক সুসজ্জিত জিনিসকেও মুযাথরাফ ' বলা হয় ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শ নেতারা বলল , আমরা জানতে পেরেছি যে , ইয়ামামার এক ব্যক্তি তোমাকে শিক্ষা দিয়ে থাকে । সেই ব্যক্তির নাম রহমান । আমরা তার উপর আস্থাবান হব না । এ কথার জবাবে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ওপর ও আয়াত নাযিল করলেন : “ এভাবেই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির কাছে যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে , যাতে তুমি তাদের কাছে আমার ওহী পড়ে শোনাতে পার , তথাপি তারা রহমানকে অস্বীকার করে । তুমি বল : তিনিই আমার রব । তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই । তাঁরই ওপর আমি নির্ভর করি এবং তাঁরই দিকে আমার প্রত্যাবর্তন । ” ( ১৩ : ৩০ )
📄 কুরআনের আবু জাহল সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াত
আবূ জাহল রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে যা বলেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে যে চক্রান্ত করেছিল , সে সম্পর্কে আল্লাহ্ নাযিল করলেন : “ তুমি কি তাকে দেখেছ , যে বাধা দেয় এক বান্দাকে , যখন সে সালাত আদায় করে ? তুমি কি লক্ষ্য করেছ , যদি সে সৎপথে থাকে অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয় । তুমি লক্ষ্য করেছ কি যদি সে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয় , তবে সে কি জানে না যে , আল্লাহ দেখেন । সে যদি বিরত না হয় , তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব মাথার সামনের কেশগুচ্ছ ধরে মিথ্যাচারী , পাপিষ্ঠের কেশগুচ্ছ । অতএব সে তা পার্শ্বচরদের আহবান করুক । আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরিগণকে । সাবধান ! তুমি তার অনুসরণ করো না , সিজদা কর ও আমার নিকটবর্তী হও । ” ( ৯৬ : ৯-১৯ )
ইবন হিশাম বলেন : ' লানাসফাআন ' অর্থ আমি তাকে পাকড়াও করে টেনে - হেঁচড়ে আনব । কবি বলেন : “ তারা এমন এক সম্প্রদায় , যখন তারা কারো আর্তনাদ শুনতে পায় , তখন তুমি তাদের দেখতে পাবে যে , তারা লাগাম , লাগিয়ে বা লাগাম ছাড়াই বাহনে চড়ে দ্রুত ( আর্তের সাহায্যে ) ছুটে যায় । ”
' নানী ' অর্থ সেই মজলিস , যেখানে লোকেরা সমবেত হয়ে তাদের বিবাদ - বিসম্বাদ নিষ্পত্তি করে । কুরআনে আছে : “ তোমরা তোমাদের মজলিসে বসে খারাপ কাজ কর । ” নাদীতে অংশ- গ্রহণকে ' নাদা ' বলা হয় । উবায়দ ইব্ন আবরাস বলেন : “ আরে যা , আমি তো বনূ আসাদের লোক । যারা দাতা , মজলিসের সদস্য এবং সমবেত হয়ে পরামর্শক্রমে কার্য সম্পাদনকারী । "
কুরআনে আছে ' আহসান নাদীয়ান ' অর্থাৎ মজলিস হিসাবে কোনটি উত্তম । বহুবচন ‘ আনদিয়া ' । এখানে আয়াতে উল্লিখিত ' নাদী ' অর্থ - নাদীর সদস্য । যেমন কুরআনে কারিয়া বা গ্রাম বলতে গ্রামবাসী বুঝানো হয়েছে । সুলামা ইবন জনদল বনু সা'দ ইবন যায়দ মানাত ইন তামীম বলেন : “ দিন দু'ধরনের— একদিন সাহিত্য চর্চা ও সভা - সমিতি , অন্য দিন হলো- শত্রুর উপর হামলা করার জন্য সারাদিন চলার । ”