📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য

📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য


তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে রূহ সম্পর্কে যে প্রশ্ন করেছিল , তার জবাবে আল্লাহ বলেন : “ তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে । তুমি বল , রূহ আমার রবের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদের এ বিষয়ে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ”
' তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে । ' ইবন ইসহাক বলেন : ইব্‌ন আব্বাসের বরাতে আমাকে জানানো হয়েছে যে , তিনি বলেছেন , যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) মদীনায় গেলেন , তখন ইয়াহুদী আলিমরা তাঁকে বলল হে মুহাম্মদ ! তোমার এই উক্তি "তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ” এর দ্বারা কি তুমি আমাদের বুঝিয়েছ , না তোমার সম্প্রদায়কে ?
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন , কখনও এরূপ নয় , বরং আমি সকলকেই বুঝিয়েছি । তারা বলল , তোমার কাছে যে কিতাব এসেছে , তাতে তুমি পাঠ করে থাক যে , আমাদের যে তাওরাত দেয়া হয়েছে , তাতে যাবতীয় বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন : আল্লাহ্র জ্ঞানের তুলনায় তা খুবই নগণ্য । তবে তোমরা যদি তা বাস্তবায়িত করতে , তবে তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল । এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তারা তাঁকে যে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল , সে সম্পর্কে নাযিল করলেন : “ পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এই যে সমুদ্র , এর সাথে যদি আরো সাতটি সমুদ্র মিলে কালি হয় , তবুও আল্লাহ্র বাণী নিঃশেষ হবে না । আল্লাহ্ পরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময় । ” অর্থাৎ আল্লাহ্র জ্ঞানের মুকাবিলায় তাওরাতের জ্ঞান খুবই নগণ্য ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে

📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে


রাসুলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের স্বার্থে দাবি করেছিল যে , পাহাড়কে গতিশীল করা হোক , যমীনকে বিদীর্ণ করা হোক এবং তাদের মৃত পূর্বপুরুষদের পুনরুজ্জীবিত করা হোক । তাদের এ দাবি সম্পর্কে আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন : “ যদি কোন কুরআন এমন হত যা দিয়ে পাহাড়কে গতিশীল করা যেত , অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা যেত , অথবা মৃতের সাথে কথা বলা যেত , ( তবুও তারা তাতে বিশ্বাস করতো না ) কিন্তু সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত । " অর্থাৎ আমি যতক্ষণ না চাব , ততক্ষণ এগুলোর কিছুই হবে না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নিজের জন্য নাও

📄 নিজের জন্য নাও


তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বলল তুমি নিজের জন্য কিছু বাগান , প্রাসাদ ও ধন - সম্পদ অর্জন কর । আর তোমার সংগে এমন একজন ফেরেশতা আসুন , ন , যিনি তোমার বক্তব্যকে সত্য বলে প্রকাশ করবেন । তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় :
আর তারা বলে : “ এ কেমন রাসূল , যে আহার করে এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করে । তাঁর নিকট কোন ফেরেশতা কেন নাযিল করা হল না , যে তাঁর সংগে থাকত সতর্ককারীরূপে ? তাঁকে ধন - ভাণ্ডার দেওয়া হয় না কেন , অথবা তাঁর একটি বাগান নেই কেন , যা থেকে সে আহার সংগ্রহ করতে পারে ? সীমালংঘনকারীরা আরো বলে তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ । দেখ , তারা তোমার কী উপমা দেয় , তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবে না । কত মহান তিনি , যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে দিতে পারেন এর চাইতে উৎকৃষ্টতর বন্ধু অর্থাৎ বাজারে চলাফেরা করা এবং জীবিকার সন্ধান করার চাইতে উৎকৃষ্ট জিনিসের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন , আর তা হল জান্নাত , যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং দিতে পারেন তোমাকে প্রাসাদসমূহ । তাদের এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর এ আয়াত নাযিল করেন :
“ তোমার আগে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছি , তারা সকলেই তো আহার করত এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করত । হে মানুষ ! আমি তোমাদের মধ্যে এক - কে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি । তোমরা ধৈর্য - ধারণ করবে কি ? আর তোমাদের রব সব কিছুই দেখেন । অর্থাৎ তোমরা যাতে ধৈর্য ধারণ কর , সে জন্য আমি তোমাদের পরস্পরকে একটি পরীক্ষায় ফেলেছি । আর আমি যদি চাইতাম যে , সারা দুনিয়া আমার রাসূলদের সহযোগী হোক , কেউ তাদের বিরোধিতা না করুক , তবে আমি এরূপই করতাম । "

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরআনে ইব্‌ন আবু উমায়্যার দাবির জবাব

📄 কুরআনে ইব্‌ন আবু উমায়্যার দাবির জবাব


আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আবূ উমায়্যার দাবির জবাবে আল্লাহ্ নাযিল করলেন : “ তারা বলে , কখনো তোমার উপর ঈমান আনব না , যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি থেকে একটা ঝর্ণা প্রবাহিত করবে , অথবা তোমার খেজুর বা আংগুরের বাগান হবে , যার ফাঁকে ফাঁকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দেবে নদীনালা । অথবা তুমি যেমন বলে থাক , তদনুযায়ী আকাশকে খণ্ড - বিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলবে , অথবা আল্লাহ্ ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবে , অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত ঘর হবে , অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে , কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল না করবে , যা আমরা পাঠ করব । বল , পবিত্র মহান আমার রব ! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ , একজন রাসূল । ”
ইবন হিশাম বলেন : "ইয়া" অর্থ হচ্ছে ঝর্ণা । এর বহুবচন ' ইয়ানাবী ' ।
ইবন হারমা ভিন্নমতে ইবরাহীম ইবন আলী ফিহরী বলেন : “ যখন তুমি প্রত্যেক ঘরে অশ্রুবর্ষণ করলে , তখন তোমার অশ্রুপাতের কারণগুলো শেষ হবে ; কিন্তু তোমার অশ্রু ঝর্ণার ন্যায় উথলে উঠবে ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
‘ কিসাফুন ' অর্থ আযাবের টুকরোগুলো । একবচনে কিফাতুন , যেমন সিদরাতুন ও সিদরুন । কিসফুন একবচনরূপে ব্যবহৃত হয় । ‘ কাবীল ' অর্থ সামনাসামনি ও চাক্ষুষ । কুরআনে আছে : “ ইয়াতিহিমুল আযাবু কুবুলা ” অর্থাৎ তাদের কাছে আযাব আসবে চাক্ষুষভাবে । কাবীল - এর বহুবচন কুকূল । ইব্‌ন হিশাম বলেন : আ'শা ইন কায়স ইব্‌ন সা'লাবার নিম্নোক্ত লাইনটি আমাকে আৰু উবায়দা পড়ে শুনিয়েছেন :
“ তোমাদের সাথে আপস করার ব্যাপারে আমি অগ্রণী ভূমিকা পালন করব , যাতে তোমরাও এ ধরনের আচরণে অভ্যস্ত হও ” অর্থাৎ আপসের জন্য তৈরি হয়ে যাও ।
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
কারো কারো মতে ‘ কাবীল ' অর্থ দল । আরবী প্রবাদে এ শব্দটি যে কোন অগ্রবর্তী জিনিসকে বুঝায় । কুমায়ত ইবন যায়দ বলেন : “ তাদের ব্যাপারসমূহ এদিক - সেদিক ছড়িয়ে পড়েছে । ফলে , কোনটি সামনের এবং কোনটি পেছনের , তা চিনতে পারছে না । "
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার একটি অংশ ।
' কাবীল ' শব্দের আরেক অর্থ বুনট । যেটি রুনুই পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ' কাবীল ' এবং যেটি আংগুল পর্যন্ত বোনা হয় , তাকে ‘ দাবীর ' বলা হয় ।
চরকায় যে সূতা কাটা হয় , তা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' কাবীল ' এবং উরু পর্যন্ত পৌঁছলে তাকে ' দাবীর ' বলা হয় । মানুষের দলকেও ' কাবীল ' বলা হয় ।
' যুখরুফ ' অর্থ স্বর্ণ । ' মুযাথরাফ ' অর্থ ' স্বর্ণমণ্ডিত ।
আজ্জাজ বলেন : “ এ ধ্বংস স্তূপের বস্তুসমূহ সন্ধ্যার সময় সোনালী কারুকার্য খচিত পবিত্র গ্রন্থের মত মনে হয় । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00