📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুলকারনায়ন

📄 যুলকারনায়ন


তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে একজন বিশ্ব পর্যটক সম্পর্কে যে প্রশ্ন করেছিল , সে সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন :
“ আর তোমাকে জিজ্ঞেস করে যুলকারনায়ন সম্পর্কে । তুমি বল যে , আমি অচিরেই তাঁর বিষয়ে তোমাদের কাছে বর্ণনা করব । আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় - উপকরণ দিয়েছিলাম । এভাবে তিনি তার পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিলেন ।
যুলকারনায়নের একটা বৈশিষ্ট্য এই যে , তাকে এমন সব জিনিস দেয়া হয়েছিল , যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি । তাকে এত অধিক উপায় - উপকরণ দেয়া হয়েছিল যে , তিনি সম পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য পরিভ্রমণ করেন । তিনি যেখানেই যেতেন , সেখানেই তার সার্বিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হত । তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জনবসতির সর্বশেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : অনারবদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে জনৈক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে , যুলকারনায়ন ছিলেন মিসরের অধিবাসী । তার আসল নাম ছিল মারযুবান ইবন মারযুবা ইউনানী । তিনি ইয়াফিস ইবন নূহের বংশধর ছিলেন । ইবন হিশাম বলেন , তাঁর নাম ইসকান্দার । ইসকান্দারিয়া শহরটি তার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত বলে তার নামে এ শহরের নামকরণ করা হয় ।
ইবন ইসহাক বলেন সাওর ইবন ইয়াযীদ আমাকে খালিদ ইবন মা'দান কালাই সূে জানিয়েছেন আর কালাঈ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর যামানা পেয়েছিলেন । তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে যুলকারনায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে , তিনি বলেন ; তিনি এমন বাদশাহ ছিলেন , যিনি উপায় - উপকরণের সাহায্যে গোটা পৃথিবীর সার্বিক জরীপ করেছিলেন ।
খালিদ বলেন : উমর ইব্‌ন খাত্তাব ( রা ) শুনতে পেলেন যে , এক ব্যক্তি কাউকে “ হে যুলকারনায়ন " বলে ডাকছে এটা শুনে উমর ( রা ) বললেন , “ আল্লাহ মাফ করুন ! তোমরা নবীদের নামে নাম রেখে তৃপ্ত হওনি । এখন ফেরেশতাদের নামে নাম রাখা শুরু করেছ ! ”
ইবন ইসহাক বলেন : যুলকারনায়ন আসলে কি ছিলেন , তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন । উমর ( রা ) যা বলেছেন , তা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছিলেন কী না ? যদি তিনি এরূপ বলে থাকেন , তবে তাঁর কথাই সঠিক ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য

📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য


তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে রূহ সম্পর্কে যে প্রশ্ন করেছিল , তার জবাবে আল্লাহ বলেন : “ তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে । তুমি বল , রূহ আমার রবের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদের এ বিষয়ে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ”
' তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে । ' ইবন ইসহাক বলেন : ইব্‌ন আব্বাসের বরাতে আমাকে জানানো হয়েছে যে , তিনি বলেছেন , যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) মদীনায় গেলেন , তখন ইয়াহুদী আলিমরা তাঁকে বলল হে মুহাম্মদ ! তোমার এই উক্তি "তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ” এর দ্বারা কি তুমি আমাদের বুঝিয়েছ , না তোমার সম্প্রদায়কে ?
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন , কখনও এরূপ নয় , বরং আমি সকলকেই বুঝিয়েছি । তারা বলল , তোমার কাছে যে কিতাব এসেছে , তাতে তুমি পাঠ করে থাক যে , আমাদের যে তাওরাত দেয়া হয়েছে , তাতে যাবতীয় বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন : আল্লাহ্র জ্ঞানের তুলনায় তা খুবই নগণ্য । তবে তোমরা যদি তা বাস্তবায়িত করতে , তবে তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল । এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তারা তাঁকে যে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল , সে সম্পর্কে নাযিল করলেন : “ পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এই যে সমুদ্র , এর সাথে যদি আরো সাতটি সমুদ্র মিলে কালি হয় , তবুও আল্লাহ্র বাণী নিঃশেষ হবে না । আল্লাহ্ পরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময় । ” অর্থাৎ আল্লাহ্র জ্ঞানের মুকাবিলায় তাওরাতের জ্ঞান খুবই নগণ্য ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে

📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে


রাসুলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের স্বার্থে দাবি করেছিল যে , পাহাড়কে গতিশীল করা হোক , যমীনকে বিদীর্ণ করা হোক এবং তাদের মৃত পূর্বপুরুষদের পুনরুজ্জীবিত করা হোক । তাদের এ দাবি সম্পর্কে আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন : “ যদি কোন কুরআন এমন হত যা দিয়ে পাহাড়কে গতিশীল করা যেত , অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা যেত , অথবা মৃতের সাথে কথা বলা যেত , ( তবুও তারা তাতে বিশ্বাস করতো না ) কিন্তু সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত । " অর্থাৎ আমি যতক্ষণ না চাব , ততক্ষণ এগুলোর কিছুই হবে না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 নিজের জন্য নাও

📄 নিজের জন্য নাও


তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বলল তুমি নিজের জন্য কিছু বাগান , প্রাসাদ ও ধন - সম্পদ অর্জন কর । আর তোমার সংগে এমন একজন ফেরেশতা আসুন , ন , যিনি তোমার বক্তব্যকে সত্য বলে প্রকাশ করবেন । তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় :
আর তারা বলে : “ এ কেমন রাসূল , যে আহার করে এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করে । তাঁর নিকট কোন ফেরেশতা কেন নাযিল করা হল না , যে তাঁর সংগে থাকত সতর্ককারীরূপে ? তাঁকে ধন - ভাণ্ডার দেওয়া হয় না কেন , অথবা তাঁর একটি বাগান নেই কেন , যা থেকে সে আহার সংগ্রহ করতে পারে ? সীমালংঘনকারীরা আরো বলে তোমরা তো এক জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ । দেখ , তারা তোমার কী উপমা দেয় , তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবে না । কত মহান তিনি , যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে দিতে পারেন এর চাইতে উৎকৃষ্টতর বন্ধু অর্থাৎ বাজারে চলাফেরা করা এবং জীবিকার সন্ধান করার চাইতে উৎকৃষ্ট জিনিসের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন , আর তা হল জান্নাত , যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং দিতে পারেন তোমাকে প্রাসাদসমূহ । তাদের এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর এ আয়াত নাযিল করেন :
“ তোমার আগে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছি , তারা সকলেই তো আহার করত এবং হাটে - বাজারে চলাফেরা করত । হে মানুষ ! আমি তোমাদের মধ্যে এক - কে অপরের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি । তোমরা ধৈর্য - ধারণ করবে কি ? আর তোমাদের রব সব কিছুই দেখেন । অর্থাৎ তোমরা যাতে ধৈর্য ধারণ কর , সে জন্য আমি তোমাদের পরস্পরকে একটি পরীক্ষায় ফেলেছি । আর আমি যদি চাইতাম যে , সারা দুনিয়া আমার রাসূলদের সহযোগী হোক , কেউ তাদের বিরোধিতা না করুক , তবে আমি এরূপই করতাম । "

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00