📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আসহাব কাহফ বা গুহাবাসিগণ

📄 আসহাব কাহফ বা গুহাবাসিগণ


সাঈদ অর্থ রাস্তাও । হাদীসে আছে : “ তোমরা সু উদাত অর্থাৎ রাস্তার ওপর বসা থেকে বিরত থাকবে । ”
আর ' জুরুযা ' অর্থাৎ এমন ভূমি , যাতে কোন উদ্ভিদ জন্মে না । এর বহুবচন ‘ আজরায ’ বলা হয়ে থাকে , সানাতু জরুবিন ও ' সিনুনা আজরায়ুন ' অর্থাৎ এমন বছর , যাতে কোন বৃষ্টি হয় না । ফলে , তাতে দুর্ভিক্ষ , অকাল ও দুর্দিন দেখা যায় ।
যুরবুম্মা একটি উটের বর্ণনায় বলেন : তার পেটে যা আছে তা গুটিয়ে গেছে , তার পার্শ্বদেশ পুষ্ট নয় । ”
ইবন ইসহাক বলেন এরপর আল্লাহ্ তা'আলা ঐ যুবকদের ঘটনা বর্ণনা করেন , যাদের সম্পর্কে কুরায়শরা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে প্রশ্ন করেছিল । তিনি বলেন :
“ তুমি কি মনে কর যে , গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর । ” অর্থাৎ আমি আমার বান্দাদের ওপর অকাট্য প্রমাণ হিসাবে যে সব নিদর্শন রেখেছি , এটি সেগুলোর মাঝে অধিক বিস্ময়কর ?
ইবন হিশাম বলেন : রাকীম অর্থ সেই ফলক বা তালিকা , যাতে ঐ যুবকদের অবস্থা লিপিবদ্ধ ছিল । রকীমের বহুবচন রুকুম । আজ্জাজ বলেন “ লিখিত মাসহাফের অবস্থানস্থল । ”
ইবন ইসহাক বলেন এরপর আল্লাহ্ বলেন "যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল , তখন তারা বলেছিল , ' হে আমাদের রব ! তুমি নিজ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর । ' তারপর আমি তাদের গুহার ভেতরে কয়েক বছর ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে দিলাম । পরে আমি তাদের জাগ্রত করলাম এটা জানার জন্য যে , দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থিতিকাল সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে । ”
এরপর মহান আল্লাহ্ বলেন : “ আমি তোমার কাছে তাদের বৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি । ” অর্থাৎ তাদের সম্পর্কে সত্য ও নির্ভুল ঘটনা ব্যক্ত করছি । “ তারা ছিল কয়েকজন যুবক , তারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম । আমি তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে দিলাম যখন তারা উঠে দাঁড়াল , তখন বলল : “ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রব - ই আমাদের রব । আমরা কখনই তাঁর পরিবর্তে অন্য কোন ইলাহকে আহবান করব না ; যদি তা করে বসি , তবে তা হবে অতিশয় গর্হিত । ' অর্থাৎ হে মক্কাবাসী ! তোমরা যেমন না জেনেশুনে বিভিন্ন বস্তুকে আমার সংগে শরীক করেছ , ঐ গুহাবাসী যুবকরা তা করেনি ।
ইবন হিশাম বলেন : ' শাতাত ' শব্দটির অর্থ হচ্ছে বাড়াবাড়ি ও সত্যের সীমা অতিক্রম করা । আশা ইন কায়স ইব্‌ন সা'লাবা বলেন :
“ তারা নিজেরা বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকে না এবং অপরকেও নিবৃত্ত রাখে না , ঐ বর্ণার যখমের ন্যায় , যাতে তৈল ও সলিতা উভয়ই চলে যায় । ”
এ লাইনটি আশা কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ।
এরপর আল্লাহ্ বলেন : “ আমাদের এই স্বজাতি , তাঁর পরিবর্তে অনেক ইলাহ্ গ্রহণ করেছে । এরা এই সমস্ত ইলাহ সম্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপিত করে না কেন ? ”
ইবন ইসহাক বলেন : ' সুস্পষ্ট প্রমাণ ' অর্থ হৃদয়ে প্রভাব বিস্তারকারী দলীল । " যে আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে , তার চাইতে অধিক যালিম আর কে ? তোমরা যখন বিচ্ছিন্ন হলে তাদের কাছ থেকে এবং তারা আল্লাহ্ পরিবর্তে যাদের ইবাদত করে তাদের কাছ থেকে , তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর । তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি তাঁর দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন । তুমি দেখতে পেতে তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত , সূর্য উদয়কালে তাদের গুহার দক্ষিণ পার্শ্বে হেলে যায় এবং অন্তকালে তাদের বাম পাশ দিয়ে অতিক্রম করে ।
ইবন হিশাম বলেন : ‘ তাযাওয়ারু ' অর্থ হেলে যায় । এর মূল ধাতু হচ্ছে ' যত্তর । যেমন কবি ইমরুল কায়স ইবন হুজর বলেন :
“ যদি তুমি দাস অবস্থায় ফিরে এস , তবে আমি দায়ী রইলাম , এমন গতিতে ( ফিরে এসো ) যাতে সারস পাখিকেও হেলানো দেখতে পাও । ”
এটি তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ
আর আবূ যাহাফ কালবী একটি শহরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন :
“ এ শহরের উটের চারণভূমি অনুর্বর , যা আমাদের ইচ্ছা - আকাঙ্ক্ষা থেকে হেলানো ( অর্থাৎ ইচ্ছা - আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি ) । পাঁচ দিনে একবার পানি পান করার কারণে বাহনগুলো জীর্ণশীর্ণ হয়ে যায় । ”
কবিতার এ চরণ দু'টিও তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ ।
“ অস্তকালে তাদের অতিক্রম করে বাম পাশ দিয়ে । ” এর অর্থ হলো , তাদের বামদিকে রেখে চলে যায় ।
যুররুম্মা বলেন :
"কোথাও যাত্রা করার সময় বালুর গোলাকার বস্তুসমূহ অতিক্রম করে যায় , অশ্বারোহীরা ডানদিক ও বামদিক দিয়ে । "
এটাও তার একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ ।
' ফাজওয়াহ ' অর্থ প্রশস্ত চত্বর । জনৈক কবি বলেন : “ তুমি তোমার জাতিকে অবমাননা ও ক্ষয়ক্ষতির পোশাক পরিয়েছ , অর্থাৎ তুমি তাদের অপমানিত করেছ , অবশেষে তাদের অবাধ অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং তারা ঘরের প্রশস্ত চত্বর ছেড়ে চলে গেছে । ”
ফাজওয়াহর বহুবচন ফুজা'আ ।
আল্লাহ্ বলেন : “ এ সমস্তই আল্লাহর নিদর্শন । ” অর্থাৎ যে আহলে কিতাব কুরায়শ নেতাদের তোমার নবুওয়াতের সত্যতা যাচাই করার জন্য এইসব প্রশ্ন করার পরামর্শ নিয়েছে , তাদের জন্য গুহাবাসীদের এ ঘটনা একটি অকাট্য প্রমাণ । কেননা তারা তাদের ঘটনা জানত ।
এরপর আল্লাহ্ বলেন : আল্লাহ্ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন , সে সৎপথপ্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন , তার জন্য তুমি কোন পথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না । তুমি মনে করতে তারা জাগ্রত , কিন্তু তারা ছিল নিদ্রিত , আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম ডানে ও বামে এবং তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দু'টি ঘরের দরজায় প্রসারিত করে । ইবন হিশাম বলেন : ' ওয়াসীদ ' অর্থ দরজা বা ফটক ।
কবি আৰসী উবায়দ ইবন ওয়াহ্ব বলেন : “ পানিবিহীন অংগলে ; যার দরজা আমার ওপর বন্ধ করা হয় না , আর সেখানে আমার ভালো কাজ সুপরিচিত । ”
এ লাইনটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
ওয়াসীদ ' অর্থ উঠানও । এর বহুবচন ওয়াসাইদ , উসুদ , আসউদ ও আসদান ।
আল্লাহ্ বলেন : “ তাদের ( গুহাবাসীদের ) তাকিয়ে দেখলে তুমি পেছনে ফিরে পালাতে এবং তাদের ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়তে । ” ......... তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল , তারা বলল , আমরা তো নিশ্চয়ই তাদের পার্শ্বে মসজিদ নির্মাণ করব । ( কুরায়শ নেতাদের এসব প্রশ্ন যে ইয়াহুদী পণ্ডিতেরা শিখিয়েছিল ) তারা বলবে তারা ছিল তিনজন তাদের চতুর্থটি ছিল তাদের কুকুর । কেউ কেউ বলে তারা ছিল পাঁচজন , তাদের ষষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর । অজানা বিষয়ে অনুমানের ওপর নির্ভর করে তারা এসব বলে থাকে । আবার কেউ কেউ বলে : তারা ছিল সাতজন , তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর । তুমি বল : আমার প্রতিপালকই তাদের সংখ্যা ভালো জানেন তাদের সংখ্যা অল্প কয়েকজনই জানে । সাধারণ আলোচনা ছাড়া তুমি তাদের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না এবং এদের কাউকেও তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না । অর্থাৎ ৎ তাদের সামনে অহংকার প্রকাশ করবে না । আর এদের সম্পর্কে যেহেতু তাদের জানা নেই , তাই তাদের জিজ্ঞেস করো না । “ আর কখনো তুমি কোন বিষয়ে বলো না যে , আমি আগামীকাল এটা করবো , আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে , এ কথা না বলে । ” যদি ভুলে যাও , তবে তোমার প্রতিপালককে ' স্মরণ কর এবং বলো , সম্ভবত আমার রব আমাকে এর চাইতে সত্যের নিকটতর পথ - নির্দেশ করবেন । অর্থাৎ তারা তোমাকে যে প্রশ্ন করে , সে সম্পর্কে তুমি ' ইনশাআল্লাহ্ ' না বলে তাদের বলবে না যে , আগামীকাল এ ব্যাপারে আমি তোমাদের অবশ্যই অবহিত করবো যেমন তুমি এদের ব্যাপারে বলেছ ।
তারা তাদের গুহায় ছিল তিনশ বছর , আরো নয় বছর । অর্থাৎ তারা অচিরেই এরূপ কথা বলবে । “ তুমি বল , তারা কতকাল ছিল তা আল্লাহ্ ভালো জানেন । আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই , তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা ও শ্রোতা ! তিনি ছাড়া তাদের আর কোন অভিভাবক নেই । তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না । ” অর্থাৎ তারা তোমার কাছে যা কিছু জিজ্ঞেস করেছে , তার কোন কিছুই তাঁর অজানা নয় ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 যুলকারনায়ন

📄 যুলকারনায়ন


তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে একজন বিশ্ব পর্যটক সম্পর্কে যে প্রশ্ন করেছিল , সে সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন :
“ আর তোমাকে জিজ্ঞেস করে যুলকারনায়ন সম্পর্কে । তুমি বল যে , আমি অচিরেই তাঁর বিষয়ে তোমাদের কাছে বর্ণনা করব । আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় - উপকরণ দিয়েছিলাম । এভাবে তিনি তার পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দিলেন ।
যুলকারনায়নের একটা বৈশিষ্ট্য এই যে , তাকে এমন সব জিনিস দেয়া হয়েছিল , যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি । তাকে এত অধিক উপায় - উপকরণ দেয়া হয়েছিল যে , তিনি সম পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য পরিভ্রমণ করেন । তিনি যেখানেই যেতেন , সেখানেই তার সার্বিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হত । তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জনবসতির সর্বশেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন ।
ইবন ইসহাক বলেন : অনারবদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে জনৈক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে , যুলকারনায়ন ছিলেন মিসরের অধিবাসী । তার আসল নাম ছিল মারযুবান ইবন মারযুবা ইউনানী । তিনি ইয়াফিস ইবন নূহের বংশধর ছিলেন । ইবন হিশাম বলেন , তাঁর নাম ইসকান্দার । ইসকান্দারিয়া শহরটি তার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত বলে তার নামে এ শহরের নামকরণ করা হয় ।
ইবন ইসহাক বলেন সাওর ইবন ইয়াযীদ আমাকে খালিদ ইবন মা'দান কালাই সূে জানিয়েছেন আর কালাঈ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর যামানা পেয়েছিলেন । তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে যুলকারনায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে , তিনি বলেন ; তিনি এমন বাদশাহ ছিলেন , যিনি উপায় - উপকরণের সাহায্যে গোটা পৃথিবীর সার্বিক জরীপ করেছিলেন ।
খালিদ বলেন : উমর ইব্‌ন খাত্তাব ( রা ) শুনতে পেলেন যে , এক ব্যক্তি কাউকে “ হে যুলকারনায়ন " বলে ডাকছে এটা শুনে উমর ( রা ) বললেন , “ আল্লাহ মাফ করুন ! তোমরা নবীদের নামে নাম রেখে তৃপ্ত হওনি । এখন ফেরেশতাদের নামে নাম রাখা শুরু করেছ ! ”
ইবন ইসহাক বলেন : যুলকারনায়ন আসলে কি ছিলেন , তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন । উমর ( রা ) যা বলেছেন , তা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছিলেন কী না ? যদি তিনি এরূপ বলে থাকেন , তবে তাঁর কথাই সঠিক ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য

📄 রূহ বা আত্মা সংক্রান্ত তথ্য


তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে রূহ সম্পর্কে যে প্রশ্ন করেছিল , তার জবাবে আল্লাহ বলেন : “ তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে । তুমি বল , রূহ আমার রবের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদের এ বিষয়ে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ”
' তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেওয়া হয়েছে । ' ইবন ইসহাক বলেন : ইব্‌ন আব্বাসের বরাতে আমাকে জানানো হয়েছে যে , তিনি বলেছেন , যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) মদীনায় গেলেন , তখন ইয়াহুদী আলিমরা তাঁকে বলল হে মুহাম্মদ ! তোমার এই উক্তি "তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে । ” এর দ্বারা কি তুমি আমাদের বুঝিয়েছ , না তোমার সম্প্রদায়কে ?
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন , কখনও এরূপ নয় , বরং আমি সকলকেই বুঝিয়েছি । তারা বলল , তোমার কাছে যে কিতাব এসেছে , তাতে তুমি পাঠ করে থাক যে , আমাদের যে তাওরাত দেয়া হয়েছে , তাতে যাবতীয় বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন : আল্লাহ্র জ্ঞানের তুলনায় তা খুবই নগণ্য । তবে তোমরা যদি তা বাস্তবায়িত করতে , তবে তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল । এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তারা তাঁকে যে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল , সে সম্পর্কে নাযিল করলেন : “ পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এই যে সমুদ্র , এর সাথে যদি আরো সাতটি সমুদ্র মিলে কালি হয় , তবুও আল্লাহ্র বাণী নিঃশেষ হবে না । আল্লাহ্ পরাক্রমশালী , প্রজ্ঞাময় । ” অর্থাৎ আল্লাহ্র জ্ঞানের মুকাবিলায় তাওরাতের জ্ঞান খুবই নগণ্য ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে

📄 পাহাড় সরানো ও মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্পর্কে


রাসুলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদের স্বার্থে দাবি করেছিল যে , পাহাড়কে গতিশীল করা হোক , যমীনকে বিদীর্ণ করা হোক এবং তাদের মৃত পূর্বপুরুষদের পুনরুজ্জীবিত করা হোক । তাদের এ দাবি সম্পর্কে আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেন : “ যদি কোন কুরআন এমন হত যা দিয়ে পাহাড়কে গতিশীল করা যেত , অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা যেত , অথবা মৃতের সাথে কথা বলা যেত , ( তবুও তারা তাতে বিশ্বাস করতো না ) কিন্তু সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত । " অর্থাৎ আমি যতক্ষণ না চাব , ততক্ষণ এগুলোর কিছুই হবে না ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00