📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে আবূ জাহলের হুমকি
এভাবে তিনি আরো কিছু কথা বললেন । তখন তারা বলল : “ হে মুহাম্মদ ! আমরা যে সব প্রস্তাব দিলাম , তার একটিও যদি তুমি গ্রহণ না কর , তা হলে তোমার এ কথা নিশ্চয়ই জানা আছে যে , আমাদের মত এত সংকীর্ণ ও এত অল্প পানির দেশে আর কোন জাতি বাস করে না এবং এত কঠিন জীবন যাপন করে না । কাজেই তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য দু'আ কর , যিনি তোমাকে দীনের দাওয়াতসহ পাঠিয়েছেন । তিনি যেন আমাদের দেশ থেকে এই সব পাহাড় - পর্বত সরিয়ে দেন , যা আমাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছে । তিনি যেন আমাদের দেশকে প্রশস্ত করে দেন এবং আমাদের দেশে সিরিয়া ও ইরাকের মত নদনদী প্রবাহিত করে দেন । আর তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের আমাদের খাতিরে জীবিত করে দেন এবং যাদের আমাদের খাতিরে জীবিত করা হবে , তাদের মধ্যে যেন অবশ্যই কুসাই ইন কিলাব থাকেন । কেননা তিনি ছিলেন সত্যবাদী বুযর্গ ব্যক্তি । আমরা তাঁর কাছ থেকেই জেনে নেব , তুমি যা বলছ , তা সত্য না মিথ্যা । তিনি যদি তোমার কথাকে সত্য বলেন এবং আমরা আর যা যা দাবি করলাম , তা যদি তুমি পূরণ কর , তবে আমরা তোমাকে সভ্যবাদী বলে মেনে নেব । তুমি যে আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদার অধিকারী এবং তিনি যে তোমাকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন , যেমনটি তুমি দাবি কর , এটা আমরা বুঝতে পারব ।
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাদের বললেন : তোমাদের এসব অবাস্তব দাবি পূরণের জন্য আমি আল্লাহ্র তরফ থেকে তোমাদের কাছে প্রেরিত হইনি ; বরং আমি তো আল্লাহ্র তরফ থেকে ঐ দীন নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি , যা দিয়ে তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন । আমাকে যে দীনসহ তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে , তার দাওয়াত আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি । যদি তোমরা তা গ্রহণ কর , তবে তা হবে তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের উপায় । আর যদি তোমরা প্রত্যাখ্যান কর , তবে আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করব , যতক্ষণ না আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহ ফায়সালা করে দেন ।
তারা বলল : বেশ , তুমি যদি আমাদের জন্য এসব না কর , তা হলে তোমার নিজের জন্য কিছু কর । তোমার রবকে বল , তিনি যেন তোমার সংগে একজন ফেরেশতা নিয়োগ করেন , যে তোমার কথাকে সত্য বলে ঘোষণা করবে এবং সে তোমার পক্ষ থেকে তোমার কথাকে দ্বিতীয়বার আমাদের সামনে পেশ করবে । তুমি তার কাছে চাও , যেন তিনি তোমার জন্য বড় বড় ফলের বাগান , প্রাসাদ , সোনা ও রূপার খনি দান করেন , যাতে তোমার কোন অভাব না থাকে এবং আমাদের মত তোমার বাজারে ঘোরাঘুরি করতে ও জীবিকার অন্বেষণ করতে না হয় । এ থেকে আমরা জানতে পারব যে , তোমার রবের কাছে তোমার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে । তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাদের বললেন : “ আমি তা করতে পারব না । আমি আমার রবের কাছে এসব জিনিস চাইতে পারব না । আর এজন্য আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়নি । ' আল্লাহ তো আমাকে শুধু সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে পাঠিয়েছেন ।
এ ধরনের আরো কিছু কথা তিনি বলেন । তিনি বললেন : আমি যে দাওয়াত নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি , তা যদি তোমরা কবুল কর , তবে তা হবে তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের ব্যাপার । আর যদি তোমরা প্রত্যাখ্যান কর , তা হলে আমি আল্লাহ্র আদেশের জন্য অপেক্ষা করব , যতক্ষণ না আল্লাহ্ আমার ও তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেন ।
তারা বললো : তা হলে আকাশ ভেংগে টুকরো টুকরো করে আমাদের মাথার উপর ফেলে দাও । এটা তো তোমার রব করতে পারেন বলে তুমি মনে কর । এটা না করলে আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব না । ”
তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন : এটা তো আল্লাহ্র ব্যাপার । যদি তিনি ' তোমাদের জন্য এরূপ করতে চান , তবে জেনে রাখ , তিনি অবশ্যই এরূপ করবেন ।
তখন তারা বললো : “ হে মুহাম্মদ ! তোমার রব কি জানতেন না যে , আমরা তোমার সাথে বৈঠক করব এবং তোমার কাছে যেসব জিনিসের দাবি জানালাম , তা জানাব । তা হলে তো তিনি তোমাকে আগেভাগেই এসব জানিয়ে দিতে পারতেন , যাতে তুমি আমাদেরকে তা জানাতে পারতে এবং তোমার দাওয়াত না মানলে আমাদের তিনি কি শাস্তি দেবেন , তা তোমাকে জানাতে পারতেন । আমরা জানতে পেরেছি যে , তোমাকে ইয়ামামার রহমান নামক এক ব্যক্তি এসব কথা শিক্ষা দেয় । আল্লাহ্র কসম ! আমরা সেই রহমানের উপর কখনো ঈমান আনব না । হে মুহাম্মদ ! আমরা তো তোমার কাছে আমাদের অপারগতার কথা ব্যক্ত করলাম । আল্লাহর কসম ! তুমি আমাদের সাথে যে পর্যায়ের বিরোধে জড়িয়ে পড়েছ , তাতে হয় তুমি আমাদের ধ্বংস করবে , নয় আমরা তোমাকে ধ্বংস করব । তার আগে তোমাকে আমরা ছাড়ব না । ”
এ সময় তাদের একজন বলল : ফেরেশতারা আল্লাহ্র মেয়ে , আমরা তাদের ইবাদত করব । তাদের আর একজন বলল : তুমি যতক্ষণ না আল্লাহ্ ও ফেরেশতাদের আমাদের মুখোমুখি হাযির করবে , ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তোমার উপর ঈমান আনব না । কুরায়শ নেতারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে এসব কথা বলল , তখন তিনি তাঁদের কাছ থেকে উঠে চলে গেলেন এবং তাঁর সংগে আবদুল্লাহ ইবন আবূ উমায়্যা ইবন মুগীরা ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মাধযূম গেল । সে ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ফুফু আতিকা বিনত আবদুল মুত্তালিবের ছেলে । সে তাঁকে বলল : “ হে মুহাম্মদ । তোমার কাছে যে সব প্রস্তাব দিয়েছে , তা তুমি গ্রহণ করলে না । তারপর তারা তাদের জন্য তোমার কাছে কয়েকটি জিনিসের দাবি জানাল , যা দিয়ে তারা বুঝতে পারত আল্লাহ্র কাছে তোমার মর্যাদা কতখানি এবং তারা তোমাকে সত্যবাদী বলে জানত এবং তোমার অনুসরণ করত । কিন্তু তুমি তাও পূরণ করলে না । তারপর তারা তোমার নিজের জন্যও এমন কিছু জিনিসের দাবি জানাল , যা দিয়ে তাদের ওপর তোমার শ্রেষ্ঠত্ব এবং আল্লাহর কাছে তোমার মর্যাদা প্রমাণিত হত । কিন্তু তুমি তাও মানলে না । তারপর তারা তোমার কাছে চাইল , যে , তুমি তাদের যে আয়ারের ভয় দেখিয়ে থাক , তার কিছু জিনিস তাদের সামনে তখনই এনে দেখিয়ে দাও । কিন্তু তুমি তাও দেখালে না । ” এ ধরনের আরো কিছু কথাও সে বলল ।
সে পুনরায় বলল : আল্লাহ্র কসম ! তুমি পৃথিবী থেকে আকাশ পর্যন্ত একটা সিঁড়ি লাগাবে এবং তাতে আরোহণ করে আকাশে উঠবে এবং আমি তাঁ দেখব । তারপর তোমার সাথে চারজন ফেরেশতা এসে সাক্ষ্য দেবে যে , তুমি আল্লাহ্র রাসূল । এগুলো না করা পর্যন্ত আমি কখনো তোমার ওপর ঈমান আনব না । আর আল্লাহ্র কসম ! তুমি এগুলো করে দেখালেও , আমি মনে করি না যে , আমি তোমাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করব । তারপর সে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছ থেকে চলে গেল । আর রাসূলুল্লাহ্ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে নিজ পরিজনের কাছে চলে গেলেন । কেননা তিনি তাদের তরফ থেকে ঈমান গ্রহণের যে আশা নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন , সে আশা নস্যাৎ হয়ে যায় এবং তারা তাঁর থেকে আরো দূরে সরে যায় ।
এরপর যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাদের কাছ থেকে উঠে চলে গেলেন , তখন আবু জাহল বললো : হে কুরায়শরা ! মুহাম্মদ তোমাদের সকল দাবিই প্রত্যাখ্যান করেছে । সে তার বর্তমান নীতিতে অটল রয়েছে । সে আমাদের ধর্মের নিন্দা করছে । পূর্বপুরুষদের সমালোচনা করছে । আমাদের জ্ঞানীদের মূর্খ সাব্যস্ত করছে । আমাদের দেবদেবীদের গালিগালাজ করছে । আমি আল্লাহ্র নামে প্রতিজ্ঞা করছি , আগামীকাল আমি এমন একটা বড় পাথর নিয়ে তার অপেক্ষায় বসে থাকব , যা আমি উঠাতে পারি কিংবা এ ধরনের একটা কিছু , তারপর যেই সে সিজদায় যাবে , অমনি ঐ পাথর দিয়ে আমি ওর মাথাটা গুঁড়িয়ে দেব । এরপর তোমরা আমাকে রক্ষা কর কিংবা প্রতিশোধ গ্রহণকারীদের হাতে সোপর্দ করে দাও , তার আমি কোনই পরোয়া করি না । এরপর আব্দ মানাফের বংশধররা আমার সাথে যা খুশি তা করতে পারে । সকলে একবাক্যে বলল : আল্লাহ্র কসম ! আমরা তোমাকে কখনও কোন মূল্যেই কারো হাতে সোপর্দ করব না । কাজেই , তুমি যা চাও , তাই কর ।
পরদিন সকালে আবু জাহল যে ধরনের পাথরের কথা বলেছিল , সেই ধরনের একটা পাথর নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অপেক্ষায় বসে রইল । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যথারীতি সকালে বের হলেন । তিনি যতদিন মক্কায় ছিলেন , ততদিন তাঁর কিবলা ছিল সিরিয়ার দিকের রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝখানে থেকে তিনি সালাত আদায় করতেন এবং কা'বাকে রাখতেন নিজের ও সিরিয়ার মাঝখানে । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সালাত আদায় করার জন্য দাঁড়ালেন , আর কুরায়শরা অতি প্রত্যূষে তাদের আড্ডাখানায় বলে আবূ জাহল কি করে তা দেখার জন্য অপেক্ষায় রইল । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যেই সিজদায় গেলেন , অমনি আবূ জাহল পাথরটা তুলে নিয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেল । সে তাঁর একেবারে কাছে গিয়ে বিপর্যন্ত হয়ে ফিরে এল । তার চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং সে ভীত - বিহবল হয়ে পড়ল । এমনকি তার উভয় হাত অবশ হয়ে গেল । অবশেষে সে পাথরখানা হাত থেকে ফেলে দিল । কুরায়শ নেতারা তার কাছে ছুটে গিয়ে তাকে বলল , হে আবুল হিকাম ! তোমার কি হয়েছে ? সে বলল , গতকাল তোমাদের কাছে । যে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছিলাম , সে অনুসারে কাজ করতে মুহাম্মদের কাছে এগিয়ে গিয়েছিলাম । কিন্তু যেই তার কাছাকাছি গিয়েছি , অমনি একটি প্রকাণ্ড আকারের উট আমার গতি রোধ করে দাড়াল । আল্লাহ্র কসম ! আমি তার মত অত উঁচু ঘাড় এবং অত বড় দাঁতবিশিষ্ট আর কোন উট দেখিনি । সে আমাকে খেয়ে ফেলবে , এমন ভাব দেখাচ্ছিল ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমাকে কেউ কেউ বলেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন : স্বয়ং জিবরীল ( আ ) ছিলেন সেই উট । আবূ জাল যদি আর একটু এগুতো , তা হলে তিনি তাকে অবশ্যই পাকড়াও করতেন ।
📄 মাযর ইবন হারিস কর্তৃক কুরায়শদের উপদেশ দান
আবূ জাহলের উপরোক্ত কথা শোনার পর নাযর ইবন হারিস ইবন কালাদা ইবন আলকামা ইবন আবদ মানাফ ইবন আবদুদদার ইবন কুসাই ইবন হিশামের মতে , নাযর ইবন হারিস ইব্ন আলকামা ইব্ন কালাদা ইব্ন আবদ মানাফ উঠে দাঁড়াল ও বক্তৃতা দেয়া শুরু করল ।
ইবন ইসহাক বলেন , সে বলল : আল্লাহ্র কসম ! হে কুরায়শরা ! তোমাদের উপর এমন একটা দুর্যোগ নেমে এসেছে , যা থেকে রক্ষা পাওয়া তোমাদের সাধ্যের বাইরে । মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে একজন উঠতি যুবক । সে তোমাদের মধ্যে সবচাইতে প্রিয় , সত্যভাষী আমানতদার । অবশেষে যখন তোমরা তার মধ্যে প্রৌঢ়ত্বের ছাপ দেখলে এবং সে একটা অভিনব মতাদর্শ তোমাদের কাছে নিয়ে এল , তখন তোমরা বললে সে জাদুকর । অথচ আল্লাহর কসম ! সে জাদুকর নয় । আমরা তো জাদুকরের ঝাড়ফুঁক ও তাবিয তুমার দেখেছি । তোমরা বললে সে গণক । কিন্তু আল্লাহ্র কসম , সে গণক নয় । আমরা গণকদের সূক্ষ্ম হেঁয়ালি ও ছন্দোবদ্ধ কথাবার্তা অনেক শুনেছি । তোমরা বললে সে কবি । অথচ আল্লাহ্র কসম ! সে কবি নয় । আমরা সব রকমের কবিতা দেখেছি । তোমরা বললে সে পাগল । অথচ আল্লাহর কসম ! সে পাগল নয় । আমরা অনেক পাগল দেখেছি । তাঁর মধ্যে পাগলের কোন আলামত নেই । অতএব , হে কুরায়শরা ! তোমরা নিজেদের ব্যাপারে চিন্তা কর । আল্লাহ্র কসম ! তোমাদের উপর অবশ্যই ঘোরতর দুর্যোগ নেমে এসেছে ।
📄 নাষর কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে নির্যাতন
নাযর ইবন হারিস ছিল কুরায়শ গোত্রের কুচক্রীদের অন্যতম । অন্যদের মত সেও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর উপর নির্যাতন চালাত এবং তাঁর সংগে শত্রুতা পোষণ করত । ইতিপূর্বে সে হীরায় গিয়েছিল এবং সেখান থেকে পারস্যের রাজাদের ইতিহাস জেনে এসেছিল । রুস্তম ও ইসফিন্দিয়ারের কাহিনী শুনে এসেছিল । যখনই রাসূলুল্লাহ (সা:) কোন বৈঠকে বসে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলো নাফরমানীর কারণে আল্লাহ্র তরফ থেকে কি ধরনের শাস্তি ভোগ করেছিল , তার উল্লেখ করে স্বজাতিকে সতর্ক করতেন , তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর সে তাঁর স্থানে বসে বলত : আল্লাহ্র কসম ! হে কুরায়শরা ! আমি মুহাম্মদের চাইতে উত্তম কথা বলতে পারি । এতএব তোমরা আমার কাছে এস । ত তোমাদের তাঁর চাইতে ভাল কথা শোনাব । তারপর সে পারস্যের রাজাদের এবং রুস্তম ও ইসফিন্দিয়ারের কাহিনী শোনাত । অবশেষে সে বলত , বল তো , মুহাম্মদ আমার চাইতে কোন কথাটি ভাল বলেছে ?
ইবন হিশাম বলেন , আমার জানামতে নাযর ইবন হারিস বলেছিল আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন অচিরেই আমি তার মত কথা নাযিল করব ।
ইবন ইসহাক বলেন আমার জানামতে , ইবন আব্বাস ( রা ) বলতেন , এ ব্যক্তি সম্পর্কে কুরআনে আটটি আয়াত নাযিল হয়েছে ।
যেমন : “ যখন তার কাছে আমার আয়াত আবৃত্তি করা হয় , তখন সে বলে , এ তো সেকালের উপকথা মাত্র । ” ( ৬৮ : ১৫ )
📄 কুরায়শ কর্তৃক ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কাছে রাসূলুল্লাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ
নাযর ইব্ন হারিসের বক্তৃতার পর কুরায়শ নেতারা তাকে ও তার সাথে উক্বা ইব্ন আবূ মুআয়তকে মদীনার ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কাছে পাঠাল । তারা তাদের দু'জনকে বলল , তারা যেন মুহাম্মদ সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞেস করে , তাঁর গুণাবলী তাদের কাছে বর্ণনা করে এবং তাঁর বক্তব্য তাদেরকে অবহিত করে । কেননা তাঁরা পূর্ববর্তী কিতাবের অধিকারী । তাদের কাছে নবীদের সম্পর্কে এমন জ্ঞান রয়েছে যা আমাদের কাছে নেই ।
এরা উভয়ে মদীনায় গিয়ে ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কাছে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সম্পর্কে জিজ্ঞস করল । তারা তাদেরকে তাঁর গুণাবলী জানাল এবং তারা তাঁর কিছু কিছু কথাও তাদের শোনাল । আর তারা ইয়াহুদী পণ্ডিতদের বলল , আপনারা তো তাওরাতের অধিকারী । আমরা আমাদের মধ্যে আবির্ভূত এ লোকটি সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকে জানার জন্য এসেছি । তখন ইয়াহূদী পণ্ডিতরা তাদের বলল , আমরা তোমাদের যৈ তিনটি বিষয়ের কথা বলে দিচ্ছি , তোমরা ডাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর । যদি সে এগুলো তোমাদের জানাতে পারে , তাহলে সে নিশ্চিতভাবেই একজন প্রেরিত নবী । আর যদি সে জানাতে না পারে , তবে তোমরা মনে করবে যে , সে একজন ভণ্ড , জালিয়াত । এরপর তার সম্পর্কে তোমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে । তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করবে এমন কতিপয় যুবক সম্পর্কে , যারা প্রাচীনকালে গায়ের হয়ে গিয়েছিল , দের ব্যাপারটা কি ? তাদের ঘটনা ছিল খুবই বিস্ময়কর । আর তোমরা তাকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেসকরবে , যে সারা বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিল , তার ব্যপারটা কি ? আর তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করবে , রূহ কি জিনিস ? যদি সে এসব প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারে , তবে সে নিঃসন্দেহে নবী ; তোমরা তার অনুসরণ ব করবে । আর যদি সে তোমাদের প্রশ্নের সঠিক জবাব না দিতে পারে , তবে তোমরা বুঝবে , সে ভণ্ড , প্রতারক । তখন তোমরা তার ব্যাপারে যা ভাল মনে হয় , তা করবে । এরপর নাযর ইব্ন হারিস ও ও উকবা ইবন আবু মুআয়ত ইবন আবূ আমর ইব্ন উমায়্যা ইবন আবদ শামস ইবন আব্দ মানাফ ইবন কুসাই উভয়ে মক্কা অভিমুখে যাত্রা করল । তারা মক্কায় পৌঁছে কুরায়শ নেতাদের কাছে গিয়ে বলল , হে কুরায়শরা ! আমরা তোমাদের কাছে আমাদের ও মুহাম্মদের মধ্যকার বিরোধের একটা চূড়ান্ত মীমাংসা নিয়ে এসেছি । ইয়াহুদী পণ্ডিতরা আমাদের তাদের শেখানো কয়েকটা প্রশ্ন মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করতে বলেছেন । সে যদি তোমাদের এর জবাব দিতে পারে , তা হলে সে নবী , নচেৎ সে ৩০। কাজেই তোমরা তাঁর সম্পর্কে কি সিদ্ধান্ত নেবে , তা ভেবে দেখ ।