📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ

📄 তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ


ইবন ইসহাক বলেন : বনূ আসলামের একজন প্রখর স্মৃতিধর ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে , আবূ জাহল একবার সাফা পাহাড়ের পাদদেশে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল । এ সময় সে তাঁকে গালিগালাজ ও ভর্ৎসনা করল এবং তাঁর আনীত ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় নিন্দা করল ও তাঁকে হীন বলে আখ্যায়িত করল । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তাকে জবাবে কিছুই বললেন না । কিন্তু আবদুল্লাহ্ ইবন জুলআন ইবন আমর ইবন কা'ব ইবন সা'দ ইবন তায়ম ইবন মুন্নার আযাদকৃত দাসী নিজের ঘরে বসে আবু জাহলের এসব অশ্লীল কথা শুনছিল । এরপর আবূ জাহল চলে গেল । সে কা'বার কাছে উপবিষ্ট কুরায়শের একদল সরদারের কাছে গিয়ে বসল । কিছুক্ষণ পর আবদুল মুত্তালিবের ছেলে হামযা ( রা ) তীর - ধনুক সজ্জিত অবস্থায় শিকার থেকে ফিরছিলেন । কুরায়শ বংশের সবচেয়ে দুরন্ত ও দুর্ধর্ষ যুবক বলে পরিচিত হামযার অভ্যাস ছিল নিয়মিত শিকারে যাওয়া । শিকার থেকে ফেরার পর কা'বার তওয়াফ না করে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করতেন না এবং তওয়াফ শেষে কুরায়শ নেতাদের কাছ দিয়ে যাওয়ায় সময় তিনি সেখানে থামতেন , তাদের সালাম করতেন , দাঁড়িয়ে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন । হামযা ( রা ) এ দাসীর কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় সে তাঁকে বলল "আবু উমারা ! এইমাত্র আপনার ভাতিজা মুহাম্মদ আবুল হিকাম ইবন হিশামের কাছ থেকে যে ব্যবহারটি পেল , তা যদি আপনি দেখতেন ! সে মুহাম্মদকে এখানে বসা দেখে বিনা কারণে তাকে গালাগাল করল এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য আচরণ করল , তারপর চলে গেল । মুহাম্মদ (সা:) তাকে কিছুই বলেননি । "
যেহেতু আল্লাহ্ হামযাকে ইসলামের নিয়ামত দ্বারা গৌরবান্বিত করতে চেয়েছিলেন , তাই এ খবর শুনে তিনি ক্রোধে অধীর হয়ে উঠলেন । তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যগ্রভাবে ছুটে চললেন এবং কারো কাছে থামলেন না । আবূ জাহলের দেখা পেলেই হয় , তাকে সমুচিত শাস্তি দেবেন , এই তাঁর পণ । তিনি মাসজিদুল হারামে ঢুকেই দেখলেন , সে কয়েকজন লোকের সাথে বসে আছে । তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন । একেবারে কাছে গিয়েই ধনুকটি উঁচু করে , তা দিয়ে তাকে আঘাত করে নিদারুণভাবে আহত করলেন । তারপর বললেন : তুমি কি তাকে [ মুহাম্মাদ (সা:) -কে তিরষ্কার কর ! আমি তো তার ধর্মের অনুসারী এবং সে যা বলে আমিও তা বলি । এখন পারলে আমাকেও তিরস্কার কর তো দেখি । এ সময় আবু জাহলকে সাহায্য করার জন্য বনূ মাখযূমের কিছু লোক হামযার দিকে ছুটে এল । আবূ জাহল তাদের বলল : “ থাক্ ! আব্বু উমারাকে কিছু বলো না । আল্লাহ্র কসম , আমি তার ভাতিজাকে সত্যিই খুব খারাপ গালি দিয়েছি । ” অবশেষে হামযা ( রা ) পূর্ণভাবে ইসলাম কবুল করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিঘোষিত নীতি ও আদর্শ তিনিও অনুসরণ করতে থাকেন । হামযার ইসলাম গ্রহণের পর কুরায়শরা বুঝতে পারল যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) এখন শক্তিশালী ও নিরাপদ । হামযা এখন তাঁর নিরাপত্তা বিধান করবে । তাই তাঁর উপর তাদের নিগ্রহ - নির্যাতন আংশিকভাবে কমে গেল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উত্তা ইন্ন রবী'আ আলোচনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সংগে উত্তা ইন্ন রবী'আ আলোচনা


ইবন ইসহাক বলেন : মুহাম্মদ ইবন কা'ব কুরাধীর বরাতে ইয়াযীদ ইবন যিয়াদ আমাকে বলেছেন যে , কুরায়ণের অন্যতম নেতা উতবা ইবন রাবীআ একদিন তাদের এ মজলিসে বসে ছিল । সে সময় রাসূলুাহ্ (সা:) মসজিদে হারামে একাকী বসেছিলেন । তখন উতবা বলল : হে কুরায়শ জনমণ্ডলী ! আমি মুহাম্মদের কাছে গিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই , এ ব্যাপারে তোমাদের মত কি ? আমি তার সামনে কিছু প্রস্তাব রাখব । আশা করি সে তার কিছু না কিছু গ্রহণ করবে । সে যে সুবিধা চায় , তা আমরা তাকে দেব । ফলে সে আমাদের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকবে । হামযা ( রা ) -এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর অনুসরীদের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে দেখে উত্সা এ প্রস্তাব দেয় । তাতে কুরায়শ নেতারা বলল : ঠিক আছে , হে আবুল ওয়ালীদ ! তুমি যাও এবং তাঁর সাথে কথা বল ।
বচাতা হলে
রাবীবলেন , তখন রাসুলুল্লাহ (সা:) তাকে বললেন : হে আবুল ওয়ালীদ বলুন , আমি শুনছি । উত্ত্বা বলল , হে আমার প্রিয় ভাতিজা তুমি যে ব্যাপারটি নিয়ে এসেছ , তার উদ্দেশ্য যদি এই হয় যে , তুমি বিত্তশালী হতে চাও , তা হলে আমরা তোমার জন্য এত সম্পদের ব্যবস্থা করে দেব , যাতে তু তুমি আমাদের মাঝে সবচাইতে ধনী হয়ে যাও । আর যদি পদমর্যাদা চাও , তাহলে আমরা তোমাকে আমাদের নেতা বানিয়ে নেব এবং তোমাকে বাদ দিয়ে কোন ব্যাপারেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব না । এর যদি তুমি রাজা হতে চাও , তা হলে আমরা তোমাকে আমাদের রাজা বানিয়ে নেব । আর যদি মনে কর , যে অদৃশ্য ব্যক্তিটি তোমার কাছে আসে , যাকে তুমি দেখতে পাও , সে জিন জাতীয় কেউ এবং তুমি তাকে প্রতিহত করতে অক্ষম , তা হলে আমরা তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করব । আর এতে আমাদের যত অর্থই খরচ হোক না কেন , আমরা এ থেকে তোমাকে মুক্ত করবই । অনেক সময় এ ধরনের বশীকৃত জিন তার মনিবের উপর পরাক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ছাড়া তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না । এভাবে সে আরো নানা কথা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে বললেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নিবিষ্ট চিত্তে তার কথা শুনছিলেন ।
উত্তার কথা যখন শেষ হল , তখন তিনি বললেন : হে আবূ ওয়ালীদ । আপনার কথা কি শেষ হয়েছে ?
সে বলল : হ্যাঁ ।
রাসূল ( রা ) বললেন : তা হলে আমার বক্তব্য শুনুন । উত্ত্বা বলল : বল । রাসূলুল্লাহ বললেন : “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম । ( হা - মীম ! দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহ্র নামে । হা - মীম ! এটি ইহা দয়াময় পরম দয়ালুর নিকট হতে অবতীর্ণ ) । এ এক কিতাব । বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ আরবী ভাষায় কুরআনরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য , সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে , কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে । সুতরাং তারা শুনবে না । তারা বলে : তুমি যার প্রতি আমাদের আহবান করছ , সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আররণ - আচ্ছাদিত । ” ( ৪১ : ১-৫ ) ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 উত্তার অভিমত

📄 উত্তার অভিমত


এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তার সামনে এ সূরা পড়তে থাকলেন । আর উত্সা পিঠের পেছনে হাত রেখে হেলান দিয়ে নীরবে শুনতে লাগল । সূরাটির যেখানে সিজদার আয়াত রয়েছে , সে পর্যন্ত গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থামলেন এবং সিজদা করলেন । তারপর বললেন : হে আবূ ওয়ালীদ ! যা শুনলেন তাতো শুনলেনই । এখন আপনিই বিবেচনা করুন ।
এরপর উত্ত্বা সেখান থেকে উঠে তার সংগীদের কাছে ফিরে গেল । তখন তারা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল : আল্লাহ্র কসম ! আবুল ওয়ালিদ যে চেহারা নিয়ে গিয়েছিল , এখন তা থেকে ভিন্ন রকম চেহারা নিয়ে এসেছে । উত্ত্বা তাদের কাছে বসলে তারা বলল : হে আবুল ওয়ালীদ ! সেখানকার খবর কি ? উত্ত্বা বলল সেখানকার খবর এই যে , আল্লাহ্র কসম ! আমি এমন কথা শুনেছি , যার মত কথা ইতিপূর্বে আর কখনো শুনিনি । আল্লাহর কসম , তা কবিতাও নয় , জাদুও নয় , জ্যোতিষীর বাণীও নয় । হে কুরায়শরা ! তোমরা আমার কথা শোনো এবং এই সমস্ত বিষয় আমার হাতে ছেড়ে দাও । আর এ লোকটি যে কাজে নিয়োজিত , তা তাকে করতে দাও এবং তোমরা তার থেকে সরে থাক । কারণ আল্লাহ্র কসম ! তার থেকে যে কথা আমি শুনেছি , তা একদিন বিপুল খ্যাতি অর্জন করবে । আরবরা যদি তার ক্ষতি সাধন করে , তা হলে তোমরা মনে করবে যে , তারা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করে দিয়েছে । আর যদি সে আরবদের উপর জয়ী হয় , তবে তার রাজ্য ও রাজত্ব তোমাদেরই রাজ্য ও রাজত্ব হবে । তার প্রভাব- প্রতিপত্তি ও সম্মান তোমাদেরই প্রভাব - প্রতিপত্তি ও সম্মান হবে । তেমন হলে , এর অসীলায় তোমরা সবচাইতে সুখী ও সৌভাগ্যশালী জাতিতে পরিণত হবে । এ কথা শুনে সবাই বলে উঠল : আল্লাহ্র কসম । হে আবূ ওয়ালীদ , সে তোমাকে নিজের কথা দিয়ে জাদু করেছে । উত্পা বলল : এ হচ্ছে তাঁর সম্পর্কে আমার অভিমত । এখন তোমরা যা ভালো মনে কর , তাই কর । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর কুরায়শ নেতাদের নিপীড়ন

📄 ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর কুরায়শ নেতাদের নিপীড়ন


ইবন ইসহাক বলেন মক্কায় কুরায়শ বংশের বিভিন্ন গোত্রে নারী ও পুরুষদের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করতে লাগল । কুরায়শরা মুসলমানদের থেকে যাকে পারত আটক করত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাত ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00