📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দাহিস ও গাবরার যুদ্ধ

📄 দাহিস ও গাবরার যুদ্ধ


ইবন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা নাহভী আমাকে বলেছেন যে , দাহিস ছিল একটি ঘোড়ার নাম । এ ঘোড়াটির মালিক কায়স ইবন যুহায়র ইব্‌ন জুযায়মা ইব্‌ন রওয়াহা ইব্‌ রবীআ ইবন হারিস ইব্‌ন মাযিন ইব্‌ন কাতীআ ইব্‌ন আবস ইব্‌ন বাগীয ইবন রায়স ইন গাতফান । সে দাহিসকে গাবরা নামক অপর একটি ঘোড়ার সাথে দৌড়ের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করায় । গাবরার মালিক ছিল হুযায়ফা ইবন বদর ইবন আমর ইবন যায়দ ইবন যাবীয়া ইব্‌ন লাওযান ইব্‌ন সা'লাবা ইব্‌ন আদী ইব্‌ন ফাযারা ইব্‌ন যুবয়ান ইব্‌ন বাগীয ইব্‌ন রায়স ইব্‌ন গাতফান । হুযায়ফা একদল লোককে গোপনে নিয়োগ করল এবং তাদের এই মর্মে আদেশ দিল যে , দৌড়াতে দৌড়াতে দাহিস যদি আগে যাওয়ার উপক্রম করে , তা হলে তারা যেন তৎক্ষণাৎ দাহিসের মুখে আঘাত করে । সত্যি সত্যিই দাহিস বিজয়ী হওয়ার উপক্রম হলে , তখন তারা তার ( দাহিসের ) মুখের উপর আঘাত করে । ফলে গাবরা বিজয়ী হল । দাহিসের সহিস এসে কায়সকে পুরো ঘটনা অবহিত করল । ঘটনা শুনে কায়সের ভাই মালিক ইব্‌ন যুহায়র এসে গাবরার মুখে আঘাত করল । এরপর হামল ইব্‌ন বদর ( হুযায়ফার ভাই ) মালিকের গালে চড় দিল । এরপর জুনায়দিব আবাসী হুযায়ফার পুত্র আওফকে হত্যা করল । অপরদিকে বনূ ফাযারার এক ব্যক্তি মালিককে খুন করল । তখন হুযায়ফা ইবন বদরের ভাই হামল ই বদর নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করল :
“ আওফের বদলে আমরা মালিককে হত্যা করেছি এটা আমাদের প্রতিশোধ ; এখন তোমরা যদি আমাদের কাছে ন্যায় ছাড়া আর কিছু চাও , তবে তোমাদের অনুশোচনা করতে হবে । ” এটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
রবী ' ইবন যিয়াদ আবসী বলল :
“ মালিক ইবন যুহায়রের হত্যাকাণ্ডের পরও কি মহিলারা পবিত্র অবস্থার ফল ( সন্তান লাভের আশা করতে পারে ? ”
এটিও তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
এরপর আস ও ফাযারা গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেল । ফলে হুযায়ফা ইবন বদর ও তার ভাই হামল ইব্‌ন বদর নিহত হল । এরপর কায়স ইবন যুহায়র ইব্‌ন জুযায়মা হুযায়ফার মৃত্যুতে অস্থির হয়ে নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করে :
“ অনেক অশ্বারোহীকে অশ্বারোহী বলা হয় , অথচ সে আসলে অশ্বারোহী নয় । তবে ( গাতফানের আবাসভূমি ) হাবায়াতে একজন সর্বস্বীকৃত অশ্বারোহী রয়েছে ।
“ অতএব , তোমরা হুযায়ফার জন্য কাঁদো । কারণ তোমরা তারপরে শোক প্রকাশের জন্য আর কাউকে খুঁজে পাবে না ; এমনকি তাদেরও মরার পর , যারা এখন জন্ম নেয়নি । ” এ পংক্তিদ্বয় তার কবিতার অংশবিশেষ ।
কায়স ইবন যুহায়র বলল :
“ এতদসত্ত্বেও হামল ইব্‌ন বদর বাড়াবাড়ি করল , আর যুলুমের পরিণতি তো ভয়াবহই হয়ে থাকে । ”
এটিও কায়সের কবিতার অংশবিশেষ ।
... কায়স ইবন যুহায়রের ভাই হারিস ইবন যুহায়র বলল :
“ আমি হুযায়ফাকে হারায়াতে মেরে ফেলে রেখেছি , তার কাছে পড়ে আছে ভাঙা তীরের টুকরোগুলো । আর এটি ( একটি ঘটনামাত্র ) কোন গর্বের ব্যাপার নয় ।
এ পংক্তিটি হারিস ইবন যুহায়রের কবিতার অংশবিশেষ ।
ইবন হিশাম বলেন : এ মর্মেও জনশ্রুতি রয়েছে যে , কায়স একাই দাহিস ও গাবরা নামক দুটো ঘোড়া এবং হুযায়ফা খাতার ও হানফা নামক দুটো ঘোড়াকে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছিল । তবে প্রথম বিবরণটিই অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ । এ সম্পর্কে দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর জীবনী বর্ণনায় ছেদ পড়ার আশংকায় আমি সে কাহিনীর পূর্ণ বর্ণনা থেকে বিরত রইলাম ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাতিবের যুদ্ধ

📄 হাতিবের যুদ্ধ


ইবন হিশাম বলেন : ' হাতিবের যুদ্ধ ' প্রসংগে যে হাতিবের কথা বলা হয়েছে , সে হলো : হাতিব ইবন হারিস ইবন কায়স ইবন হায়শামা ইবন হারিস ইবন উমায়্যা ইব্‌ন মুআবিয়া ইব্‌ন মালিক ইবন আওফ ইন আমর ইবন আওফ ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন আওস । সে খাযরাজ গোত্রের প্রতিবেশী জনৈক ইয়াহুদীকে হত্যা করে । এরপর ইয়াযীদ ইবন হারিস ইবন কায়স ইন মালিক ইবন আহমার ইবন হারিসা ইব্‌ন সা'লাবা ইবন কা'ব ইব্‌ন খাযরাজ ইবন হারিস ইব্‌ন খাযরাজ একদিন রাতে হারিস ইবন খাযরাজের কতিপয় লোক সাথে নিয়ে তার পিছু নেয় এবং তাকে হত্যা করে । ইয়াযীদ ইব্‌ন হারিসের অপর নাম ইব্‌ন ফুসহাম । ফুসহাম তার মায়ের নাম । ফুসহাম কায়ন ইব্‌ন জাসর গোত্রের মেয়ে । এ হত্যাকাণ্ডের কারণে আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । এ যুদ্ধে খাযরাজ গোত্র অওস গোত্রের উপর বিজয়ী হয় । সেদিন সুওয়ায়দ ইবন সামিত ইবন খালিদ ইবন আতিয়া ইবন হাউড ইবন হাবীব ইবন আমর ইবন আওফ ইবন মালিক ইবন আওস নিহত হয় । তাকে হত্যা করে মুজাফ্ফার ইবন যিয়াদ বালাভী । মুজায্যারের নাম আবদুল্লাহ এবং সে ছিল বনূ আওফ ইব্‌ন খাযরাজের মিত্র । উহুদ যুদ্ধের দিন মুজাফ্ফার ইবন যিয়াদ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পক্ষে যুদ্ধ করেন । তাঁর পক্ষে সুওয়ায়দ ইবন সামিতের ছেলে হারিসও যুদ্ধ করেন । হারিস ইব্‌ন সুওয়ায়ন মুজাফ্ফারকে অসতর্ক অবস্থায় পেয়ে তাকে আপন পিতৃহত্যার প্রতিশোধ হিসাবে হত্যা করেন । যথাস্থানে এ ঘটনা বর্ণনা করবো ইনশাআল্লাহ্ ।
এরপর তাদের মধ্যে অনেক যুদ্ধ - বিগ্রহ সংঘটিত হয় । দাহিসের যুদ্ধের ন্যায় এ ঘটনারও বিস্তারিত বিবরণ দিলে তা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর জীবনী বর্ণনায় বিঘ্ন ঘটাবে । এ জন্য আমি সে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ প্রদান করা থেকে বিরত থাকলাম ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 হাকীম ইবন উমায়‍্যা স্বীয় গোত্রকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শত্রুতা করতে নিষেধ করে যে কবিতা আবৃত্তি করেন

📄 হাকীম ইবন উমায়‍্যা স্বীয় গোত্রকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শত্রুতা করতে নিষেধ করে যে কবিতা আবৃত্তি করেন


ইবন ইসহাক বলেন বনু উমায়া গোত্রের মিত্র , আপন গোত্রে সম্মানিত ও ভক্তিভাজন এবং পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণকারী হাকীম ইবন উমায়া ইবন হারিস ইবন আওকাস সুলামী স্বীয় গোত্রকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর শত্রুতা করার নীতি থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন । এ প্রসংগে তিনি নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করেন :
“ এমন কোন সত্যবাদী আছে কি , যে সত্য কথা না বলে চুপ থাকতে পারে ? আর এমন কোন রাগান্বিত ব্যক্তি আছে কি , যে সহজ - সরল কথা শোনে ? এমন কোন সরদার আছে কি , যা থেকে তার আপনজনেরা উপকৃত হওয়ার আশা করে ? আর যে দূরের ও নিকটের সকল স্বজনকে একত্র করতে সক্ষম ? আমি সকলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি , কেবল প্রাতঃকালীন বায়ুর অধিপতি ( আল্লাহ্ ) ছাড়া । আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মাঝে আত্মকলহ সৃষ্টিকারী ও এর নিষ্পত্তিকারী বিদ্যমান থাকবে , আমি তোমাদের কাছ থেকে দূরে থাকবো ।
“ আমি আমার সত্তাকে এবং কথাবার্তাকে সত্য মাবূদের উপর সোপর্দ করছি , যদিও এ কারণে বন্ধুদের পক্ষ থেকে আমাকে ধমকের পর ধমকও দেয়া হয় । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের গোত্রের পক্ষ থেকে যে নির্যাতন ভোগ করেন তার বর্ণনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর নিজের গোত্রের পক্ষ থেকে যে নির্যাতন ভোগ করেন তার বর্ণনা


কুরায়শের দুশ্চরিত্র মূর্খ লোক কর্তৃক তাঁর উপর নিপীড়ন
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর এবং তাঁর হাতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন , তাদের ব্যাপারে কুরায়শদের নিষ্ঠুর মনোভাব আরো কঠোর রূপ ধারণ করে । তারা তাদের মধ্যকার নির্বোধ , বখাটে ও দুশ্চরিত্র লোকদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় । তারা তাঁকে মিথ্যুক বলে , নানাভাবে কষ্ট দেয় এবং তাঁকে কখনো কবি , কখনো জাদুকর , কখনো গণক , আবার কখনো পাগল বলে অভিহিত করে । এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আল্লাহ্র বিধান প্রচার করতে থাকেন । কিছুই গোপন করলেন না । তিনি তাদের ধর্মের অসারতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে থাকেন , যা তারা পসন্দ করত না । তিনি তাদের দেবদেবীদের বয়কট করেন এবং তাদের কুফরী আচরণের জন্য তাদেরকে বর্জন করা অব্যাহত রাখলেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00