📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 মক্কার বাইরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খ্যাতির বিস্তৃতি

📄 মক্কার বাইরে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খ্যাতির বিস্তৃতি


আবূ তালিবের কবিতায় যে নামগুলো উল্লেখ রয়েছে , তা হলো : ( ইবন ইসহাক বলেন ) : গায়াতিল বন্‌ সা ইব্‌ন আমর ইবন হুসায়সের অন্তর্ভুক্ত , আবূ সুফিয়ান ইব্‌ন হারব ইন উমায়্যা । মুতঈম ইবন আদী ইব্‌ন নাওফাল ইব্‌ন আবদ মানাফ , যুহায়র ইব্‌ন আবূ উমায়্যা ইবন মুগীরা ইব্‌ন ‘ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর ইব্‌ন মাখযূম ও তার মা ‘ আতিকা বিন্ত আবদুল মুত্তালিব , ( উসায়দ ) , বিকরা , আতাব ইব্‌ন আসীদ ইবন আবূ ঈসা ইবন উমায়্যা ইব্‌ন আব্দ শামস ইব্‌ন আব্দ মানাফ ইব্‌ন কুসাঈ , উসমান ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ , তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ তায়মীর ভাই কুনফুয ইবন উমায়র ইব্‌ন জুদযান ইব্‌ন আমর ইব্‌ন কা'ব ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন তায়ম ইব্‌ন মুরা , আবূ ওয়ালীদ , উত্ত্বা ইবন রবীআ , আবূ আখনাস , ইবন শুরায়ক সাকাফী , বনূ যুহরা ইন কিলাবের মিত্র ।
ইবন হিশাম বলেন : আখনাসের এরূপ নামকরণের কারণ এই যে , সে বদরের যুদ্ধের দিন নিজের সম্প্রদায় থেকে দূরে সরে গিয়েছিল । তার আসল নাম উবায় , সে ইলাজ - ইন ওয়া ইব্‌ন আবদ মানাফ ইবন যুহরা ইন কিলাব । সুবায় ' ইবন খালিদ - হারিস ইব্‌ন ফিহরের ভাই , নাওফল ইব্‌ন খুয়ায়লিদ ইবন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইবন কুসাঈ - সে আদভিয়া গোত্রের সন্তান এবং কুরায়শদের নিকৃষ্টতম লোকদের অন্যতম । আবূ বাকর সিদ্দীক ও তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ্ , ইসলাম গ্রহণ করলে এ শয়তানই উভয়কে একটি দড়িতে বেঁধে ফেলেছিল । সেই থেকে ঐ দুই ব্যক্তিকে ‘ করীনায়ন ' ( ঘনিষ্ঠ সহচর ) বলে ডাকা হত । আবূ তালিবের পুত্র আলী ( রা ) তাদের বদর যুদ্ধে হত্যা করেন । আবূ আমর কুরযা ইব্‌ন আবদ আমর ইবন নাওফাল ইবন আবদ মানাফ , আর “ আমাদের প্রতি সন্দিহান একটি গোত্র ” বলে আবূ তালিব বনূ বাকর ইব্‌ন আবদ মানাত ইব্‌ন কিনানাকে বুঝিয়েছেন ।
যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর খ্যাতি সারা আরবে এবং আরবের বাইরে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ল , তখন মদীনাতেও তাঁর সম্পর্কে আলোচনা হতে লাগল । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ব্যাপারে যখন সর্বত্র আলাপ - আলোচনা শুরু হল , তখন এবং তার আগে , সারা আরবে আওস্ ও খাযরাজ গোত্র দু'টি তাঁর সম্পর্কে যতখানি জানত , আর কেউ ততখানি জানত না । কারণ , তারা তাদের মিত্র ইয়াহুদী পণ্ডিতদের কাছ থেকে , যারা তাদের বস্তিতে বাস করত , তাঁর কথা শুনে আসছিল । মদীনাতে যখন তাঁর সম্পর্কে চর্চা শুরু হল এবং কুরায়শের সাথে তাঁর বিরোধের কথা জানাজানি হল , তখন বনূ ওয়াকিফ গোত্রের কবি আবূ কায়স আমির ইবন আসলাত একটি কবিতা রচনা করেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ আসলাতের বংশ পরিচয়

📄 আবূ আসলাতের বংশ পরিচয়


ইবন হিশাম বলেন : ইবন ইসহাক এখানে আবূ কায়সকে বনূ ওয়াকিফের সদস্য এবং হস্তিবাহিনীর অভিযানের ঘটনায় খাতমা গোত্রের সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন । কেননা আরবদের রীতি আছে যে , দাদার ভাই যদি অধিকতর খ্যাতিমান হয় , তবে কোন ব্যক্তিকে তার দাদার পরিবর্তে দাদার ভাই - এর বংশধর হিসাবেও কখনো কখনো উল্লেখ করা হয় । এর উদাহরণ হিসাবে ইব্‌ন হিশাম বলেন , আবূ উবায়দা আমাকে বলেছেন যে , হাকাম ইবন আমর গিফারীর দাদা হচ্ছে নুয়ায়লা , গিফারীর ভাই । গিফার ও নুয়ায়লার পিতা হলেন মুলায়ল ইন যামরা ইবন বাকর ইবন আবদ মানাত । অনুরূপভাবে উত্সা ইব্‌ন গাযওয়ানকে সুলায়মী বলা হয় । অথচ তিনি মাযিন ইব্‌ন মানসূরের বংশধর । মাযিনের ভাই হচ্ছে সুলায়ম ইব্‌ন মানসূর । ইন হিশাম বলেন , আবূ কায়স ইব্‌ন আসলাত ওয়ায়লের বংশধর । আর ওয়ায়ল , ওয়াকিফ ও খামা একে অপরের ভাই এবং আওস গোত্রভুক্ত ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সমর্থনে ইব্‌ন আসলাতের কবিতা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সমর্থনে ইব্‌ন আসলাতের কবিতা


ইবন ইসহাক বলেন : আবূ কায়স ইবন আসলাত এ কাসীদা বলেন , অথচ তিনি কুরায়শদের ভালবাসতেন , তাদের জামাই ছিলেন । আর তার স্ত্রী ছিল কুরায়শ বংশীয় আরনার বিন্ত আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই । তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে কুরায়শদের মাঝে অনেক বছর কাটান । তিনি যে কবিতা রচনা করেন , তাতে তিনি হারাম শরীফের মর্যাদা বর্ণনা করেন এবং হারাম শরীফে কুরায়শদের লড়াই করতে নিষেধ করেন । তিনি একে অন্যের প্রতি অন্যায়মূলক আচরণ করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন । তিনি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞান - গরিমার কথা স্মরণ করিয়ে দেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং তাদের ওপর আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বিভিন্ন দুর্যোগ নেমে আসা এবং তা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা , বিশেষত হস্তিবাহিনীর আক্রমণ এবং তা থেকে কিভাবে আল্লাহ্ তাদের রক্ষা করেছিলেন , তাঁ স্মরণ করিয়ে দেন । এ কবিতায় তিনি বলেন :
“ হে আরোহী ! তুমি যদি হারাম শরীফের দিকে যাও , তবে তুমি আমার পক্ষ থেকে বন্ লুআঈ ইব্‌ন গালিবকে এ বার্তা পৌঁছে দাও । এখন এক রাসূলের সংবাদ , যিনি তোমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখে দুঃখিত ও মর্মাহত । আমার কাছে দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় একটা আশ্রয়স্থল ছিল , কিন্তু সেখান থেকে আমি নিজের কোন প্রয়োজন পূরণ ও উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারিনি । আমি জানতে পেরেছি যে , তোমরা দু'দলে বিভক্ত হয়ে গেছ । প্রত্যেক দল থেকে যুদ্ধের রব উঠছে — একদল যুদ্ধের ইন্ধন যোগাড় করছে এবং অন্য দল যুদ্ধের আগুন জ্বালাচ্ছে । তোমাদের এ খারাপ আচরণ , পারস্পরিক দ্বন্দ্ব - কলহ , বিচ্ছুর মত গোপন শত্ৰুতা থেকে আমি তোমাদের আল্লাহ্র আশ্রয়ে সোপর্দ করছি । আর বাইরে সৎচরিত্রের প্রকাশ ও ভেতরে বিদ্বেষপূর্ণ সলাপরামর্শ , যা খোদাই করা জিনিসের মত , অথচ তার বাস্তব রূপ ঠিক তার বিপরীত । এ থেকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহ্র নিকট পানাহ্ চাচ্ছি । অতএব তাদের প্রথম সুযোগেই আল্লাহ্ কথা স্মরণ করিয়ে দাও , আর তাদের হারাম শরীফের সীমানায় বসবাসকারী চিকন কোমরবিশিষ্ট হরিণীর শিকার করাকে বৈধ মনে করার ব্যাপারে সতর্ক করে দাও । আর তাদের বল , আল্লাহ্ তাঁর বিধান দিয়ে থাকেন , তোমরা যদি যুদ্ধ ছেড়ে দাও । তা হলে তা তোমাদের কাছ থেকে প্রশস্ত ময়দানে চলে যাবে ।
“ যখনই তোমরা কোন যুদ্ধ শুরু করবে , তখনই অত্যন্ত নিন্দনীয় হবে । কেননা , ঘনিষ্ঠ ও দূরবর্তী উভয় রকমের আত্মীয়ের জন্য যুদ্ধ একটি সর্বনাশা দানব ।
. “ যুদ্ধ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে ও জাতিকে ধ্বংস করে এবং জীবজন্তুর ক্ষতি সাধন করে । যুদ্ধ শুরু হলে পর তোমাদেরকে মূল্যবান ইয়ামানী পোশাকের পরিবর্তে মরচে ধরা লোহার বর্ম এবং এর নীচের কাপড় পরতে হবে । আর তোমাদের মিল্ক ও কর্পূরের পরিবর্তে মাথা থেকে পা পর্যন্ত লম্বা , ধূলো মিশ্রিত বর্ম পরিধান করতে হবে । যার কড়া হবে ফড়িংয়ের চোখের মত ।
“ অতএব , তোমরা যুদ্ধ পরিহার কর , তা যেন তোমাদের পেয়ে না বসে । কেননা যুদ্ধ এমন একটা কূপ , যার পানি তিক্ত এবং যা বদহজমি সৃষ্টি করে ।
“ যুদ্ধ জাতিসমূহের কাছে ( প্রথমে ) চমকপ্রদ বলে মনে হয় । কিন্তু যখন শেষ হয় , তখন তারা একে এক বৃদ্ধা নারীরূপে দেখতে পায় ।
“ এ যুদ্ধ সমাজের দুর্বল মানুষের জ্বালিয়ে - পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় । আর তোমাদের গণ্যমান্য লোকদের জন্য এটি মৃত্যুর পরোয়ানা হিসাবে আসে । তোমরা কি জান না , দাহিস এবং হাতিব যুদ্ধ কি ঘটেছিল ? এ থেকে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর ।
“ যুদ্ধ কত সম্ভ্রান্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির ক্ষতি সাধন করেছে । যারা ছিলেন সম্পদশালী এবং যাদের অতিথি ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেত না ; আর যাদের চুলোর আগুনের ছাইয়ের স্তূপ হত বড় , যাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করা হত , আর যারা ছিল মহৎ গুণের অধিকারী এবং যাদের ( তরবারির আঘাতের উদ্দেশ্যও হতো মহৎ ।
“ যার পাশ দিয়ে এত অধিক পানি প্রবাহিত হচ্ছিল , যেন দক্ষিণ ও পূর্বের বাতাসে প্রবল বৃষ্টি ছড়িয়ে দিয়েছে । সেই পানির কথা তোমাদেরকে ঐ যুদ্ধ সম্পর্কে তোমাদের এমন এক ব্যক্তি খবর দিচ্ছে , যে সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত । বস্তুত অভিজ্ঞতাই হলো সত্যিকার জ্ঞান । এ কারণে তোমাদের যুদ্ধাস্ত্রসমূহ বিক্রি করে দিয়ে ইবাদতগাহে যাও এবং নিজেদের হিসাব - নিকাশের কথা স্মরণ কর । আল্লাহ্ সে ব্যক্তির অভিভাবক যে দীনদারী ইখতিয়ার করেছে । সুতরাং নক্ষত্রমণ্ডলীর প্রভু ( আল্লাহ্ ) ছাড়া আর কাউকে তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক বানাবে না ।
“ তোমরা আমাদের জন্য একত্ববাদী ধর্ম প্রচলিত কর । কেননা তোমরাই আমাদের আদর্শ । বস্তুত উচ্চ আদর্শের দ্বারা সুপথ লাভের পথ সুগম হয় । তোমরা এই মানব গোষ্ঠীর ( আরব জাতি ) জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ । রক্ষক , তোমাদেরই অনুসরণ করা হয় , তোমরা পথের নির্দেশ দেবে , আর বিবেক - বুদ্ধি কোন দূরের জিনিস নয় ।
“ আর যখন লোকদের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয় , তখন তাদের মাঝে তোমরা রত্ন - সদৃশ ; মক্কার কংকরময় ভূমির কর্তৃত্ব তোমাদেরই এবং তোমরাই সম্মানিত । তোমরা স্বাধীন - সম্ভ্রান্ত বংশের সংরক্ষক , যাদের বংশনামা পবিত্র ও নিষ্কলুষ । তোমরা অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের দেখতে পাবে যে , তারা দল বেঁধে একের পর এক তোমাদের ঘরের দিকে আসছে ।
“ সবাই জানে যে , তোমাদের নেতারা সর্বাবস্থায় মিনার অধিবাসীদের মধ্যে সর্বোত্তম , জ্ঞান - বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ , উন্নত ধরনের রীতিনীতির অনুসারী , জনগণের মাঝে অধিক সত্যভাষী । অতএব , তোমরা ওঠ আর তোমাদের রবের জন্য সালাত আদায় কর আর পর্বতময় মক্কার এ ঘরের স্তম্ভগুলো স্পর্শ কর । কেননা এ ঘর সম্পর্কে কিছু বাস্তব ও পরীক্ষিত ঘটনা তোমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে আছে ; সেদিনের ঘটনা , যেদিন আবূ ইয়াকসূম ( আব্রাহা ) তার বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল ।
“ যেদিন তার হস্তিবাহিনী সমভূমিতে চলছিল এবং তার পদাতিক বাহিনী অবস্থান করছিল গিরিপথে ! আর যখন তোমাদের কাছে মহান আরশের অধিপতির সাহায্য এল , তখন মহান বাদশাহ্র সৈন্যরা তাদেরকে বালু ও পাথরের ধূলা উড়ানো কংকরের বর্ষণের মাঝে ফেরত পাঠালো ।
“ এরপর তারা আমাদের কাছ থেকে পিঠ ফিরিয়ে দ্রুত পালাল এবং হাবশীদের মধ্যে কেউ - ই তার পরিবারের কাছে বিপর্যস্ত হওয়া ছাড়া ফিরে যেতে পারেনি ।
“ এখন তোমরা যদি ধ্বংস হও , তবে আমরাও ধ্বংস হব , আর ধ্বংস হবে বাঁচার উপযুক্ত ( হজ্জের ) পরিবেশও , আর এটা একজন সত্যভাষীর উক্তি । ”
ইবন হিশাম বলেন : এ কবিতাটি আমার কাছে আবূ যায়দ আনসারী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 দাহিস ও গাবরার যুদ্ধ

📄 দাহিস ও গাবরার যুদ্ধ


ইবন হিশাম বলেন : আবূ উবায়দা নাহভী আমাকে বলেছেন যে , দাহিস ছিল একটি ঘোড়ার নাম । এ ঘোড়াটির মালিক কায়স ইবন যুহায়র ইব্‌ন জুযায়মা ইব্‌ন রওয়াহা ইব্‌ রবীআ ইবন হারিস ইব্‌ন মাযিন ইব্‌ন কাতীআ ইব্‌ন আবস ইব্‌ন বাগীয ইবন রায়স ইন গাতফান । সে দাহিসকে গাবরা নামক অপর একটি ঘোড়ার সাথে দৌড়ের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করায় । গাবরার মালিক ছিল হুযায়ফা ইবন বদর ইবন আমর ইবন যায়দ ইবন যাবীয়া ইব্‌ন লাওযান ইব্‌ন সা'লাবা ইব্‌ন আদী ইব্‌ন ফাযারা ইব্‌ন যুবয়ান ইব্‌ন বাগীয ইব্‌ন রায়স ইব্‌ন গাতফান । হুযায়ফা একদল লোককে গোপনে নিয়োগ করল এবং তাদের এই মর্মে আদেশ দিল যে , দৌড়াতে দৌড়াতে দাহিস যদি আগে যাওয়ার উপক্রম করে , তা হলে তারা যেন তৎক্ষণাৎ দাহিসের মুখে আঘাত করে । সত্যি সত্যিই দাহিস বিজয়ী হওয়ার উপক্রম হলে , তখন তারা তার ( দাহিসের ) মুখের উপর আঘাত করে । ফলে গাবরা বিজয়ী হল । দাহিসের সহিস এসে কায়সকে পুরো ঘটনা অবহিত করল । ঘটনা শুনে কায়সের ভাই মালিক ইব্‌ন যুহায়র এসে গাবরার মুখে আঘাত করল । এরপর হামল ইব্‌ন বদর ( হুযায়ফার ভাই ) মালিকের গালে চড় দিল । এরপর জুনায়দিব আবাসী হুযায়ফার পুত্র আওফকে হত্যা করল । অপরদিকে বনূ ফাযারার এক ব্যক্তি মালিককে খুন করল । তখন হুযায়ফা ইবন বদরের ভাই হামল ই বদর নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করল :
“ আওফের বদলে আমরা মালিককে হত্যা করেছি এটা আমাদের প্রতিশোধ ; এখন তোমরা যদি আমাদের কাছে ন্যায় ছাড়া আর কিছু চাও , তবে তোমাদের অনুশোচনা করতে হবে । ” এটি তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
রবী ' ইবন যিয়াদ আবসী বলল :
“ মালিক ইবন যুহায়রের হত্যাকাণ্ডের পরও কি মহিলারা পবিত্র অবস্থার ফল ( সন্তান লাভের আশা করতে পারে ? ”
এটিও তার দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
এরপর আস ও ফাযারা গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেল । ফলে হুযায়ফা ইবন বদর ও তার ভাই হামল ইব্‌ন বদর নিহত হল । এরপর কায়স ইবন যুহায়র ইব্‌ন জুযায়মা হুযায়ফার মৃত্যুতে অস্থির হয়ে নিম্নোক্ত শোকগাথা রচনা করে :
“ অনেক অশ্বারোহীকে অশ্বারোহী বলা হয় , অথচ সে আসলে অশ্বারোহী নয় । তবে ( গাতফানের আবাসভূমি ) হাবায়াতে একজন সর্বস্বীকৃত অশ্বারোহী রয়েছে ।
“ অতএব , তোমরা হুযায়ফার জন্য কাঁদো । কারণ তোমরা তারপরে শোক প্রকাশের জন্য আর কাউকে খুঁজে পাবে না ; এমনকি তাদেরও মরার পর , যারা এখন জন্ম নেয়নি । ” এ পংক্তিদ্বয় তার কবিতার অংশবিশেষ ।
কায়স ইবন যুহায়র বলল :
“ এতদসত্ত্বেও হামল ইব্‌ন বদর বাড়াবাড়ি করল , আর যুলুমের পরিণতি তো ভয়াবহই হয়ে থাকে । ”
এটিও কায়সের কবিতার অংশবিশেষ ।
... কায়স ইবন যুহায়রের ভাই হারিস ইবন যুহায়র বলল :
“ আমি হুযায়ফাকে হারায়াতে মেরে ফেলে রেখেছি , তার কাছে পড়ে আছে ভাঙা তীরের টুকরোগুলো । আর এটি ( একটি ঘটনামাত্র ) কোন গর্বের ব্যাপার নয় ।
এ পংক্তিটি হারিস ইবন যুহায়রের কবিতার অংশবিশেষ ।
ইবন হিশাম বলেন : এ মর্মেও জনশ্রুতি রয়েছে যে , কায়স একাই দাহিস ও গাবরা নামক দুটো ঘোড়া এবং হুযায়ফা খাতার ও হানফা নামক দুটো ঘোড়াকে প্রতিযোগিতায় নামিয়েছিল । তবে প্রথম বিবরণটিই অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ । এ সম্পর্কে দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর জীবনী বর্ণনায় ছেদ পড়ার আশংকায় আমি সে কাহিনীর পূর্ণ বর্ণনা থেকে বিরত রইলাম ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00