📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শ বংশের লোকেরা ইসলাম গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা প্রদর্শন করতে লাগল

📄 কুরায়শ বংশের লোকেরা ইসলাম গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা প্রদর্শন করতে লাগল


ইবন ইসহাক বলেন : এরপর কুরায়শ গোত্রের লোকেরা গোত্রের বিভিন্ন শাখায় যে সব লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল , তাদের একে অপরকে উস্কে দিতে লাগল । ফলে প্রতিটি গোত্র তাদের ভেতরকার মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ও নির্যাতন চালাতে লাগল এবং তাদের ধর্ম থেকে তাদেরকে বল প্রয়োগে ফেরাতে উদ্যত হল । কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে আবূ তালিবের মাধ্যমে রক্ষা করলেন । আবূ তালিব যখন দেখলেন , সমগ্র কুরায়শ গোত্র বন্ হাশিম ও বনূ মুত্তালিবের সাথে খারাপ আচরণ করছে , তখন দু'টি শাখার লোকদেরকে ডেকে নিজের অনুসৃত নীতি অনুসরণ পূর্বক রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে রক্ষা করা ও তাঁর ওপর থেকে সকল আক্রমণ প্রতিহত করার আহবান জানালেন । সকলে তাকে সমর্থন করল ও তার আহবানে সাড়া দিল । কেবল অভিশপ্ত আবূ লাহাব মানল না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আপন গোত্রের সাহায্য ও সমর্থন পেয়ে আবূ তালিব তাদের প্রশংসায় যে কবিতা রচনা করেন

📄 আপন গোত্রের সাহায্য ও সমর্থন পেয়ে আবূ তালিব তাদের প্রশংসায় যে কবিতা রচনা করেন


আবূ তালিব যখন দেখলেন , তার গোত্রের লোকেরা তার সহযোগিতায় সক্রিয় , তখন তিনি খুবই আনন্দিত হলেন , তাদের প্রতি খুবই প্রীত হলেন , তাদের প্রশংসা করলেন এবং তাদের অতীত গৌরবের উল্লেখ করলেন । সে সাথে সমগ্র গোত্রের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) কত মর্যাদাবান ব্যক্তি , তাও ব্যাখ্যা করলেন , যাতে তাদের মতামত আরো মযবূত হয় এবং সব সময় তারা তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকে । এ বিষয়ে তিনি তার কবিতায় বললেন :
“ কুরায়শ যখন কোন অতীত গৌরবের ব্যাপারে একমত হবে , তখন ( দেখা যাবে ) আবদে মানাফই তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ । আর যদি আবদ মানাফের শরীফ ব্যক্তিদের গণনা করা হয় , তবে . বনূ হাশিমের মধ্যেই রয়েছে শরাফত ও আভিজাত্য ।
আর কুরায়শরা যদি কোন দিন গৌরববোধ করে , তবে মুহাম্মদই হবেন তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম এবং তিনিই হবেন তাদের মধ্যে মহান ও অধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি । কুরায়শ আমাদের ওপর তাদের খাঁটি ও ভেজাল সকল লোককে উস্কে দিয়েছিল , কিন্তু তারা সফল হয়নি , তাদের জ্ঞান - বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়েছে । আমরা প্রাচীনকাল থেকেই কোন যুলুমকে সমর্থন করিনি , তবে কেউ ( অহংকারের সাথে ) মুখ বাঁকা করলে তা সোজা করে দিতাম । সব সময়ই আমরা কুরায়শকে সংকটকাল ও দুর্যোগে রক্ষা করতাম আর যারা তাদের সীমানায় প্রবেশ করতে চায় , আমরা তাদেরকে দূরে হটিয়ে দিতাম ।
“ আমাদের কল্যাণেই শুকনো কাঠে জীবনের সঞ্চার হত , আমাদের ঘন অরণ্যেই তার মূল বিকাশ লাভ করত । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শত্রুদের বিরুদ্ধে ওয়ালীদ ইব্‌ মুগীরার চক্রান্ত ও কুরআনের ব্যাপারে তার ভূমিকা

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর শত্রুদের বিরুদ্ধে ওয়ালীদ ইব্‌ মুগীরার চক্রান্ত ও কুরআনের ব্যাপারে তার ভূমিকা


একদিন কুরায়শ গোত্রের একটি দল ওয়ালীদ ইবন মুগীরার কাছে সমবেত হল । তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন বর্ষীয়ান ব্যক্তি । তখন হজ্জের মওসুম সমাগত । তিনি বললেন , কুরায়শের লোকেরা , হজ্জের মওসূম সমাগত । এ সময় আরবের সব এলাকা থেকে প্রতিনিধি দল আসবে । তোমাদের সংগী মুহাম্মদের ব্যাপার তো তারা শুনেছেই । কাজেই তার ব্যাপারে তোমরা একটা সর্বসম্মত মত স্থির কর । এ ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হলে একজন আরেকজনকে মিথ্যুক প্রতিপন্ন করবে এবং একজন আরেকজনের কথার জবাব দেবে । তারা সবাই বলল , হে আবূ আব্দ শাম্‌স , আপনিই বলুন এবং আপনিই আমাদের জন্য একটি মত স্থির করে দিন , আমরা সে মতই কাজ করব ।
আমি শুনব ।
ওয়ালীদ বললেন , বরং তোমরাই বল , তারা বলল , আমরা তো বলি মুহাম্মদ একজন জ্যোতিষী ।
ওয়ালীদ বললেন , না , আল্লাহ্র কসম , তিনি জ্যোতিষী নন । আমরা বহু জ্যোতিষী দেখেছি । জ্যোতিষীর রহস্যময় ও গোপন কথার সাথে মুহাম্মদের কথাবার্তার কোন মিল নেই ।
জনতা বলল , তা হলে আমরা বলবো তিনি পাগল ।
ওয়ালীদ বললেন : না , তিনি পাগল নন । আমরা পাগলামি দেখেছি ও জানি । মুহাম্মদের মধ্যে সে ধরনের মানসিক প্ররোচনা অস্থিরতা ও কুমন্ত্রণার ভাব নেই ।
জনতা বলল , তাহলে আমরা তাকে কবি বলি ।
ওয়ালীদ বললেন , না তিনি কবি নন । আমরা সকল ধরনের কবিতা পড়েছি এবং জানি । যুদ্ধের কবিতা , শান্তির কবিতা , ছোট কবিতা , বড় কবিতা সবই দেখেছি । কিন্তু মুহাম্মদ যা বলে তা কবিতা নয় ।
সবাই বলল , তাহলে আমরা তাকে জাদুকর বলি ।
ওয়ালীদ বললেন , না , তিনি জাদুকর নন । আমরা বহু জাদুকর ও জাদু দেখেছি । জাদুকররা যেভাবে সূতায় গিরে দিয়ে তাতে ফুঁক দেয় , মুহাম্মদ তা করে না ।
সবাই বলল , তাহলে হে আবূ আব্দ শাসস , ( ওয়ালীদের ডাক নাম ) আপনার মত কি !
ওয়ালীদ বললেন , মুহাম্মদের কথাবার্তা বড়ই মিষ্টি , তার মূল বড়ই মযবৃত এবং তার ফল খুবই সুস্বাদু ।
ইবন হিশাম বলেন : কেউ কেউ বলেছেন , ওয়ালীদ বলেছিলেন , মুহাম্মদের কথাবার্তা খুবই রস ও তাৎপর্যে পরিপূর্ণ । ওয়ালীদ আরো বললেন , তোমরা এ সব যাই বলবে , সেটাই ভ্রান্ত প্রমাণিত হবে । তবে জাদুকর বলাই অপেক্ষাকৃত সঠিক হবে । কেননা সে এমন বক্তব্য নিয়ে এসেছে র্যাঁ পিতা - পুত্রে , ভাইয়ে ভাইয়ে , স্বামী -স্ত্রীতে এবং খান্দানের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় । আর সেই বক্তব্যের ফলে বাস্তবিকই পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে ।
ওয়ালীদের পরামর্শ মুতাবিক হজ্জের মওসুম যখন সমাগত হল , তখন কুরায়শের লোকেরা লোকজনের চলার পথে বসে পড়ল । রাস্তা দিয়ে যে - ই যায় , তাকেই তারা মুহাম্মদের ধর্ম প্রচারের বিরূদ্ধে সাবধান করে দিত । এ জন্য আল্লাহ্ তা'আলা ওয়ালীদ ইবন মুগীরা সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন :
“ আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে , যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারণ করে ।
আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন - সম্পদ ,
এবং নিত্যসংগী পুত্রগণ ,
এবং তাকে দিয়েছি সচ্ছল জীবনের প্রচুর উপকরণ—
এরপরও সে কামনা করে যে , আমি তাকে আরো অধিক দিই ।
না , তা হবে না , সেতো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী । ” ( ৭৪ : ১১-১৬ )
ইবন হিশাম বলেন : ' আনীদ ' অর্থ চরম শত্রু ।
কবি রুবা ইব্‌ন আজ্জাজ বলেন : “ আমরা পরম শত্রুর শির বিচূর্ণ করে থাকি । ” ...... “ আমি অচিরেই তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তি দ্বারা আচ্ছন্ন করব ।
সে তো চিন্তা করল এবং সিদ্ধান্ত করল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওয়ালীদের সংগীদের উক্তির জবাবে কুরআন

📄 ওয়ালীদের সংগীদের উক্তির জবাবে কুরআন


অভিশপ্ত হোক সে । কেমন করে সে এ সিদ্ধান্ত করল । অভিশপ্ত হোক সে কেমন করে সে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হল ?
সে আবার চেয়ে দেখল । এরপর ভ্রূ - কুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল । ” ( ৭৪ : ১৮-২২ ) । ইবন হিশাম বলেন : “ বাসারা ' অর্থ মুখ বিকৃত করা । আজ্জাজ বলেন : l i ball side সে চেহারা বিকৃতির বর্ণনা দিতে গিয়ে এ কথা বলেছে ।
“ তারপর সে পিছনে ফিরল এবং দম্ভ প্রকাশ করল ।
এবং ঘোষণা করল , এতো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ছাড়া আর কিছু নয় , এতো মানুষেরই কথা । ” ( ৭৪ : ২৩ , ২৪ , ২৫ )
ইবন ইসহাক বলেন : যারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সম্পর্কে এ সব উক্তি করল , তাদের জবাবে আল্লাহ্ নাযিল করলেন :
“ যেভাবে আমি অবতীর্ণ করেছিলাম ( কুরআনকে ) বিভক্তকারীদের ওপর ।
যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে ।
তাই শপথ তোমার প্রতিপালকের ! আমি তাদের সকলকে প্রশ্ন করবই ,
সে বিষয়ে , যা তারা আমল করে । ” ( ১৫ : ৯০-৯৩ ) ।
ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শের ঐ সকল কুচক্রী লোকজন যে ব্যক্তির সাথেই দেখা হয় , তাকেই রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সম্পর্কে অনুরূপ বলতে থাকে । ফলে সে মওসুমে আরবরা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) সম্পর্কে তাদের প্রচার করা খবর নিয়ে দেশে ফিরল । তারপর তাদের মাধ্যমে আরবের সর্বত্র এ খবর ছড়িয়ে পড়ল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00