📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাওয়াতী কাজ অব্যাহত

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাওয়াতী কাজ অব্যাহত


রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নিজের কাজ অব্যাহত রাখলেন । আল্লাহ্ দীনের প্রচার - প্রসার ও তার দিকে মানুষকে আহবান জানাতে লাগলেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ও কাফিরদের মধ্যে ঘোরতর বিবাদ বেধে গেল । লোকেরা পরস্পরের দুশমনে পরিণত হয়ে গেল । এ সময় কুরায়শ গোত্রের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আলোচনা বেড়ে গেল এবং তারা একে অপরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিরুদ্ধে উস্কে দিতে লাগল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আবূ তালিবের কাছে কুরায়শ প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয়বার আগমন

📄 আবূ তালিবের কাছে কুরায়শ প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয়বার আগমন


তারা আবু তালিবের কাছে পুনরায় গেল । তারা তাকে বলল ? হৈ আৰু তালিব আমাদের মধ্যে আপনি একজন বয়োবৃদ্ধ , সম্মানিত ও মর্যাদাবান ব্যক্তি । আমরা আপনার ভাতিজাকে নিবৃত্ত করতে বলেছিলাম কিন্তু আপনি তাকে নিবৃত্ত করেননি । আমরা আর সহ্য করতে পারব না । সে আমাদের বাপ - দাদার সমালোচনা করে । আমাদের বুদ্ধিমানদের নির্বোধ বলে । আমাদের দেবদেবীর ত্রুটি বের করে । আপনি যদি তাঁকে নিবৃত্ত করেন , তবে ভালো কথা । নচেৎ আপনি সমেত তাঁর বিরুদ্ধে আমরা মুকাবিলায় অবতীর্ণ হব । যার ফলে উভয় দলের এক দল ধ্বংস হয়ে যাবে । ”
তারপর তারা তার কাছ থেকে ফিরে এল । আবূ তালিবের কাছে তার কাওমের শত্রুতা সম্পর্কচ্ছেদও খুবই খারাপ লাগল । অথচ তাদের হাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সমর্পণ করা বা তাঁকে অপমান হতে দেয়া উভয়ের কোনটাতেই তিনি রাযী হলেন না ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও আবূ তালিবের কথোপকথন

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) ও আবূ তালিবের কথোপকথন


ইবন ইসহাক বলেন : ইয়াকুব ইবন উবা ইবন মুগীরা ইবন আখনাস আমাকে বলেছেন যে , কুরায়শ নেতারা যখন আবূ তালিবকে উপরোক্ত কথাগুলো বলল , তখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে ডেকে বললেন : “ হে আমার ভাতিজা ! তোমার গোত্রের লোকেরা আমার কাছে এসেছিল । তারা এই এই কথা আমাকে বলেছে । অথএব তুমি তোমার নিজের ও আমার দিকটা বিবেচনা কর এবং আমার ওপর এমন কোন বোঝা চাপিও না , যা আমি বহন করতে অক্ষম । ” এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) মনে করলেন যে , তাঁর চাচা বোধহয় তাঁকে সমর্পণ ও অপমানিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং তার সাহায্য ও সহায়তা করতে তিনি অপারগ হয়ে পড়েছেন । তাই রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বললেন : “ হে আমার চাচা ! আল্লাহ্র কসম , তারা যদি আমার ডানহাতে সূর্য ও বামহাতে চাঁদ এনে দিয়ে চাইত যে , আমি এ কাজ পরিত্যাগ করি , তথাপি আমি তা পরিত্যাগ করতাম না , যতক্ষণ না আল্লাহ্ এ কাজকে সফল ও জয়যুক্ত করেন অথবা আমি এ কাজ করতে করতে শহীদ হয়ে যাই । ” এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর চোখ অশ্রুপূর্ণ হল এবং তিনি কাঁদতে কাঁদতে চলে যেতে লাগলেন । তিনি চলে যেতে থাকলে আবূ তালিব তাঁকে ডাকলেন । বললেন , ভাতিজা এদিকে এস ! রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তার কাছে গেলেন । তারপর তিনি বললেন : “ হে আমার ভাতিজা ! যাও , যা ভালো লাগে বল । আল্লাহ্র কসম , আমি কখনো কোন কারণেই তোমাকে তাদের হাতে সোপর্দ করব না । ”

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরায়শ কর্তৃক ওয়ালীদের পুত্র উমারাকে আবু তালিবের কাছে দত্তক দানের প্রস্তাব

📄 কুরায়শ কর্তৃক ওয়ালীদের পুত্র উমারাকে আবু তালিবের কাছে দত্তক দানের প্রস্তাব


ইবন ইসহাক বলেন : কুরায়শরা যখন নিশ্চিতভাবে জানল যে , আবূ তালিব রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে তাদের হাতে সোপর্দ করতে ও অপমানিত করতে অস্বীকার করছেন এবং এটাও বুঝল যে , এ ব্যাপারে আবূ তালিব গোটা কুরায়শ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তাদের শত্রুতার ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত , তখন তারা ওয়ালীদ ইবন মুগীরার ছেলে উমারাকে নিয়ে তার কাছ গেল । তারপর আমার জানামতে , তারা তাকে বলল : “ হে আবূ তালিব ! এই দেখুন , ওয়ালীদের ছেলে উমারা , সে কুরায়শ গোত্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুদর্শন যুবক । ওকে আপনি নিয়ে নিন , ওর বুদ্ধি ও বল আপনার উপকারে আসবে । ওকে আপনি পুত্র হিসাবে নিয়ে নিন , সে আপনারই । ওর বদলে আপনার এ ভাতিজাকে আমাদের হাতে হাতে সোপর্দ করুন । সে আপনার ও আপনার পূর্বপুরুষের ধর্মের বিরোধিতা করছে । সে আপনার বংশের ঐক্য বিনষ্ট করছে , তাদেরকে নির্বোধ বলছে । তাকে আমরা মেরে ফেলব । মানুষের বদলে মানুষ । আবূ তালিব বললেন : ছি ছি ! আল্লাহ্র কসম , তোমরা যে বিনিময় আমার সাথে করতে চাইছ , তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ধরনের ! তোমরা আমাকে তোমাদের ছেলেকে দিতে চাইছ যেন তাকে আমি লালন - পালন করে পুষ্ট করি তোমাদের জন্য , আর আমার ছেলেকে নিতে চাইছ হত্যা করার জন্য ? আল্লাহ্র কসম , এটা কখনো হবে না । এ কথা শুনে মুতঈম ইব্‌ন আদী ইব্‌ন নাওফাল ইব্‌ন আব্দ মানাফ ইব্‌ন কুসাই বলল : আল্লাহ্র কসম , হে আবূ তালিব , তোমার গোত্র তোমার প্র প্রতি সুবিচার করেছে এবং তুমি নিজেও যা অপসন্দ কর তা থেকে তোমাকে উদ্ধার করতে চাইছে । কিন্তু আমি দেখছি , তুমি তাদের কোন প্রস্তাবই মানতে চাইছ না । আবূ তালিব মুতঈমকে বললেন : “ আল্লাহ্র কসম , তারা আমার প্রতি সুবিচার করেনি । তুমি আমাকে অপমানিত করতে এবং একটি শক্তিমান পক্ষকে আমার ওপর বিজয়ী করার ফন্দি এঁটেছ । ঠিক আছে , যা ভালো বুঝ , কর । ” এরপর উভয় পক্ষে উত্তেজনা বাড়তে থাকে , যুদ্ধের পরিবেশ উত্তপ্ত হতে লাগল এবং শোরগোল করে একে অপরকে হুমকি দিতে লাগল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00