📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিজ কাওম কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতা ও আবূ তালিব কর্তৃক তাঁর পক্ষ সমর্থন
ইবন ইসহাক বলেন : আল্লাহ্র নির্দেশ মুতাবিক যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আপন কাওম - এর নিকট প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং সত্য ও মিথ্যাকে পৃথক করে দেখিয়ে দিলেন , তখন আমার জানামতে , তিনি মুশরিকদের দেবদবীর কথা উল্লেখ ও তাদের নিন্দা না করা পর্যন্ত তারা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়নি এবং তার প্রতি বিরূপও হয়নি । তিনি যখন এই কাজটি করলেন , তখন তারা একে গুরুতর অন্যায় মনে করল , বিক্ষুব্ধ হল এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতায় বদ্ধপরিকর হল । তবে আল্লাহ্ যাদের ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন , তাদের কথা স্বতন্ত্র । তারা ছিল সংখ্যায় কম এবং আত্মগোপনকারী । স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে তাঁর চাচা আবূ তালিব গভীর স্নেহে রক্ষা করে চললেন এবং তাঁর গায়ে কোন আঘাত লাগতে দেননি । কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আল্লাহ্ দীনের প্রচার ও একে বিজয়ী করার কাজ অব্যাহত রাখলেন এবং কোন বাধাবিঘ্নই তিনি গ্রাহ্য করলেন না । কুরায়শ গোত্র যখন দেখল যে , তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর যেসব আচরণে ক্ষুব্ধ হচ্ছে , যেমন তাদের বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের দেবদেবীর নিন্দা- সে জন্য মোটেই উদ্বিগ্ন নন এবং চাচা আবূ তালিব তাঁকে নিজ স্নেহে রক্ষা করে চলেছেন , তাঁকে তাদের হাতে সোপর্দ করছেন না , তখন কুরায়শ গোত্রের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের একটি দল আবূ তালিব - এর কাছে গেল । এই দলটির মধ্যে ছিল রবীআ ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আব্দ মানাফ ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইব্ন মুররা ইন কা'ব ইবন লুআঈ ইব্ন গালিব ইব্ন ফি - এর দু'পুত্র উত্ত্বা ও শায়বা । হারব ইবন উমায়্যা ইব্ন আব্দ শামস ইব্ন আবদ মানাফ ইব্ন কুসাই ইন কিলাব ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ইব্ন গালিব ইব্ন ফিহর এবং আবূ সুফিয়ান ইবন হারব ইবন উমায়া ইবন আবd শামস ইবন আবদ মনাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ইবন গালib ইবন ফিহর । ইবন হিশামের মতে তার আসল নাম সাখর ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই দলে আবুল বাখতারীও ছিল , যার নাম ও বংশ পরিচয় হলো , আস ইবন হিশাম ইব্ন আল - হারিস ইব্ন আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন কুসাই ইব্ন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । ইব্ন হিশাম ( রা ) -এর মতে ও আবুল বাখতারীর নাম আস ইব্ন হাশিম ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই দলে আরো ছিল আসওয়াদ ইব্ন মুত্তালিব ইব্ন আসাদ ইব্ন আবদুল উযযা ইব্ন কুসাই ইন কিলাব মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । আরো ছিল আবূ জাহল ইব্ন হিশাম ইব্ন আল - মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইব্ন মাখযূম ইব্ন ইয়াকায়া ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । আবূ জালের ডাক নাম ছিল আবুল হিকাম এবং আসল নাম আমর । আরো ছিল ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা ইব্ন আবদুল্লাহ ইব্ন ইমর ইব্ন মাখযূম ইন ইয়াকাযা ইব্ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । নুবায়হ ও মুনাব্বিহ যারা হাজ্জাজ ইব্ন আমির ইব্ন হুযায়ফা ইব্ন সা'দ ইব্ন সাহম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআঈ - এর সন্তান । আর আস ইব্ন ওয়ায়ল ।
ইবন হিশাম বলেন : আস ইবন ওয়ায়ল - এর বংশ লতিকা হল , আস ইবন ওয়ায়ল ইবন হাশিম ইবন সাঈদ ইব্ন সাম ইব্ন আমর ইব্ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ।
📄 কুরায়শ প্রতিনিধি দল আবূ তালিবকে ভর্ৎসনা করল
ইবন ইসহাক বলেন : এই প্রতিনিধি দলে আরো কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারে । তারপর তারা বলল : “ হে আবূ তালিব ! আপনার ভাতিজা আমাদের দেব - দেবীকে গালাগাল করেছে , আমাদের ধর্মে খুঁত বের করেছে , আমাদের বুদ্ধিমানদের নির্বোধ বলেছে এবং আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট বলেছে । এখন হয় আপনি তাঁকে থামান নতুবা তাঁর ব্যাপার আমাদের হাতে ছিড়ে দিন । আপনি নিজেও তো আমাদেরই ধর্মানুসারী এবং তাঁর বিরোধী । আমরাই আপনার পক্ষ হয়ে তাঁকে প্রতিহত করব । ” আবূ তালিব তাদেরকে অত্যন্ত মিষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে সুঝিয়ে বিদায় করলেন । তারা বিদায় হয়ে চলে গেল ।
📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর দাওয়াতী কাজ অব্যাহত
রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নিজের কাজ অব্যাহত রাখলেন । আল্লাহ্ দীনের প্রচার - প্রসার ও তার দিকে মানুষকে আহবান জানাতে লাগলেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ও কাফিরদের মধ্যে ঘোরতর বিবাদ বেধে গেল । লোকেরা পরস্পরের দুশমনে পরিণত হয়ে গেল । এ সময় কুরায়শ গোত্রের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আলোচনা বেড়ে গেল এবং তারা একে অপরকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিরুদ্ধে উস্কে দিতে লাগল ।
📄 আবূ তালিবের কাছে কুরায়শ প্রতিনিধি দলের দ্বিতীয়বার আগমন
তারা আবু তালিবের কাছে পুনরায় গেল । তারা তাকে বলল ? হৈ আৰু তালিব আমাদের মধ্যে আপনি একজন বয়োবৃদ্ধ , সম্মানিত ও মর্যাদাবান ব্যক্তি । আমরা আপনার ভাতিজাকে নিবৃত্ত করতে বলেছিলাম কিন্তু আপনি তাকে নিবৃত্ত করেননি । আমরা আর সহ্য করতে পারব না । সে আমাদের বাপ - দাদার সমালোচনা করে । আমাদের বুদ্ধিমানদের নির্বোধ বলে । আমাদের দেবদেবীর ত্রুটি বের করে । আপনি যদি তাঁকে নিবৃত্ত করেন , তবে ভালো কথা । নচেৎ আপনি সমেত তাঁর বিরুদ্ধে আমরা মুকাবিলায় অবতীর্ণ হব । যার ফলে উভয় দলের এক দল ধ্বংস হয়ে যাবে । ”
তারপর তারা তার কাছ থেকে ফিরে এল । আবূ তালিবের কাছে তার কাওমের শত্রুতা সম্পর্কচ্ছেদও খুবই খারাপ লাগল । অথচ তাদের হাতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সমর্পণ করা বা তাঁকে অপমান হতে দেয়া উভয়ের কোনটাতেই তিনি রাযী হলেন না ।