📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সুহায়বের বংশ পরিচয়

📄 সুহায়বের বংশ পরিচয়


ইবন হিশাম ( র ) বলেন : নামর ইব্‌ন কাসিত ইব্‌ন হিনব ইব্‌ন আফসা ইব্‌ন জাদীলা ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন রবীআ ইব্‌ন নিযার । আবার কারো মতে , আফসা ইব্‌ন দু'মা ইব্‌ন জাদীলা ইব্‌ন আসাদ । কেউ কেউ বলেন , সুহায়ব ছিলেন আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জুদআন ইব্‌ন আমর ইবন কা'ব ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন তায়মের মুক্ত দাস ।
কেউ কেউ বলেন , তিনি একজন রোমক বংশোদ্ভূত । যারা তাকে নাম্র ইবন কাসিতের বংশধর বলে আখ্যায়িত করেছেন । তাদের কেউ কেউ বলেন , তিনি রোম ভূখণ্ডের বন্দী ছিলেন । পরে তাকে সেখানে থেকে কিনে আনা হয় । একটি হাদীসে রাসূল (সা:) বলেন , সুহায়ব রোমকদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূল (সা) কর্তৃক স্বজাতির কাছে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত প্রদান ও তাঁদের প্রতিক্রিয়া

📄 রাসূল (সা) কর্তৃক স্বজাতির কাছে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত প্রদান ও তাঁদের প্রতিক্রিয়া


আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক স্বীয় রাসূলকে আপন জাতির কাছে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার আদেশ দান
ইবন ইসহাক বলেন : তারপর নারী - পুরুষ নির্বিশেষে লোকেরা পৃথক পৃথকভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল । ফলে মক্কায় ইসলামের আলোচনা প্রকাশ্য রূপ ধারণ করল এবং তা নিয়ে যত্রতত্র কথাবার্তা চলতে লাগল । এরপর আল্লাহ্ স্বীয় রাসূল (সা:) -কে তাঁর কাছে প্রেরিত বার্তা প্রকাশ্যভাবে প্রচার করা ও তার দাওয়াত দেয়ার নির্দেশ দিলেন । আমার জানামতে , নবুওয়াতপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে প্রকাশ্য দাওয়াতের নির্দেশ দানের মাঝখানে রাসূল (সা:) যে সময়টুকু গোপনে প্রচার করতে থাকেন , তা ছিল তিন বছর । তারপর আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন :
“ তুমি যে বিষয়ে আর্দিষ্ট হয়েছ , তা প্রকাশ্যে প্রচার কর এবং মুশরিকদের উপেক্ষা কর । ” ( ১৫ : ৯৪ )
আল্লাহ্ আরো ইরশাদ করেন : “ তোমার নিকট - আত্মীয়দের সতর্ক করে দাও এবং যারা তোমার অনুসরণ করে সে মু'মিনদের প্রতি বিনয়ী হও । ” ( ২৬ : ২১৪-২১৫ )
“ এবং বল , আমি তো কেবল এক প্রকাশ্য সতর্ককারী । ” ( ৪৫ : ৮৯ ) ।
ইবন হিশাম বলেন : উপরের প্রথম আয়াতে বর্ণিত gol অর্থ হচ্ছে সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করে দেখিয়ে দাও । কবি আবূ যূয়ায়ব আল - হুযালী যার প্রকৃত নাম খুওয়ায়লিদ ইবন খালিদ , বন্য গাধা ও গাধীর প্রশংসা করে বলেন :
“ এই গাধী যেন জুয়ার তীর মোড়ানোর চামড়া এবং গাধা যেন তীর নিক্ষেপের মাধ্যমে সত্য ও মিথ্যা নির্ণয় করে । ” অর্থাৎ তীর কোন্ দিক নির্দেশ করে তা নির্ণয় করে । এটা কবির একটি কাব্যের অন্তর্ভুক্ত । কবি রুবা ইবনুল আজ্জাজ বলেন :
-- "আপনি ধৈর্যশীল এবং প্রতিশোধ গ্রহণকারী সেনাপতি । আপনি সত্যকে প্রকাশ করেন এবং যুলুম প্রতিহত করেন । ” এ কবিতাও তার এক কাব্যের অন্তর্ভুক্ত ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতে পাহাড়ী উপত্যকায় গমন

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা) কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতে পাহাড়ী উপত্যকায় গমন


ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সাহাবীগণ যখন সালাত আদায় করতে চাইতেন , পাহাড়ী উপত্যকায় চলে যেতেন ও নিজের কাওমের লোকদের অগোচরে সালাত আদায় করতেন । একবার সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস ( রা ) কতিপয় সাহাবীকে নিয়ে মক্কার পাহাড়ী উপত্যকায় সালাত আদায় করার সময় একদল মুশরিক তাদেরকে দেখে ফেলে । তারা এতে ভীষণ ক্ষেপে যায় ও একে দূষণীয় মনে করে । শেষ পর্যন্ত তারা সাহাবীগণের ওপর হামলা করে বসে । তখন সা'দ ইব্‌ন আবী ওয়াক্কাস একজন মুশরিককে উটের রানের হাড় দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন । ইসলামের অভ্যুদয়ের পর এটিই ছিল প্রথম রক্তপাতের “ ঘটনা ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিজ কাওম কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতা ও আবূ তালিব কর্তৃক তাঁর পক্ষ সমর্থন

📄 রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিজ কাওম কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতা ও আবূ তালিব কর্তৃক তাঁর পক্ষ সমর্থন


ইবন ইসহাক বলেন : আল্লাহ্র নির্দেশ মুতাবিক যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আপন কাওম - এর নিকট প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং সত্য ও মিথ্যাকে পৃথক করে দেখিয়ে দিলেন , তখন আমার জানামতে , তিনি মুশরিকদের দেবদবীর কথা উল্লেখ ও তাদের নিন্দা না করা পর্যন্ত তারা তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়নি এবং তার প্রতি বিরূপও হয়নি । তিনি যখন এই কাজটি করলেন , তখন তারা একে গুরুতর অন্যায় মনে করল , বিক্ষুব্ধ হল এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতায় বদ্ধপরিকর হল । তবে আল্লাহ্ যাদের ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন , তাদের কথা স্বতন্ত্র । তারা ছিল সংখ্যায় কম এবং আত্মগোপনকারী । স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে তাঁর চাচা আবূ তালিব গভীর স্নেহে রক্ষা করে চললেন এবং তাঁর গায়ে কোন আঘাত লাগতে দেননি । কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (সা:) আল্লাহ্ দীনের প্রচার ও একে বিজয়ী করার কাজ অব্যাহত রাখলেন এবং কোন বাধাবিঘ্নই তিনি গ্রাহ্য করলেন না । কুরায়শ গোত্র যখন দেখল যে , তারা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর যেসব আচরণে ক্ষুব্ধ হচ্ছে , যেমন তাদের বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের দেবদেবীর নিন্দা- সে জন্য মোটেই উদ্বিগ্ন নন এবং চাচা আবূ তালিব তাঁকে নিজ স্নেহে রক্ষা করে চলেছেন , তাঁকে তাদের হাতে সোপর্দ করছেন না , তখন কুরায়শ গোত্রের শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের একটি দল আবূ তালিব - এর কাছে গেল । এই দলটির মধ্যে ছিল রবীআ ইব্‌ন আব্দ শামস ইব্‌ন আব্দ মানাফ ইব্‌ন কুসাই ইন কিলাব ইব্‌ন মুররা ইন কা'ব ইবন লুআঈ ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফি - এর দু'পুত্র উত্ত্বা ও শায়বা । হারব ইবন উমায়্যা ইব্‌ন আব্দ শামস ইব্‌ন আবদ মানাফ ইব্‌ন কুসাই ইন কিলাব ইব্‌ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ইব্‌ন গালিব ইব্‌ন ফিহর এবং আবূ সুফিয়ান ইবন হারব ইবন উমায়া ইবন আবd শামস ইবন আবদ মনাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ইবন গালib ইবন ফিহর । ইবন হিশামের মতে তার আসল নাম সাখর ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই দলে আবুল বাখতারীও ছিল , যার নাম ও বংশ পরিচয় হলো , আস ইবন হিশাম ইব্‌ন আল - হারিস ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইব্‌ন কিলাব ইবন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । ইব্‌ন হিশাম ( রা ) -এর মতে ও আবুল বাখতারীর নাম আস ইব্‌ন হাশিম ।
ইবন ইসহাক বলেন : এই দলে আরো ছিল আসওয়াদ ইব্‌ন মুত্তালিব ইব্‌ন আসাদ ইব্‌ন আবদুল উযযা ইব্‌ন কুসাই ইন কিলাব মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । আরো ছিল আবূ জাহল ইব্‌ন হিশাম ইব্‌ন আল - মুগীরা ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইব্‌ন মাখযূম ইব্‌ন ইয়াকায়া ইব্‌ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । আবূ জালের ডাক নাম ছিল আবুল হিকাম এবং আসল নাম আমর । আরো ছিল ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা ইব্‌ন আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইমর ইব্‌ন মাখযূম ইন ইয়াকাযা ইব্‌ন মুররা ইবন কা'ব ইবন লুআঈ । নুবায়হ ও মুনাব্বিহ যারা হাজ্জাজ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন হুযায়ফা ইব্‌ন সা'দ ইব্‌ন সাহম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআঈ - এর সন্তান । আর আস ইব্‌ন ওয়ায়ল ।
ইবন হিশাম বলেন : আস ইবন ওয়ায়ল - এর বংশ লতিকা হল , আস ইবন ওয়ায়ল ইবন হাশিম ইবন সাঈদ ইব্‌ন সাম ইব্‌ন আমর ইব্‌ন হুসায়স ইবন কা'ব ইবন লুআঈ ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00