📄 যায়দকে হারিয়ে যায়দের পিতা যে কবিতা বলেন
আসলে যায়দ ছিলেন একটি হারানো ছেলে । সন্তান হারানোর শোকে যায়দের পিতা ব্যাকুল হয়ে আহাজারী করেন ও নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন :
“ আমি যায়দের জন্য কাঁদছি । অথচ , আমি জানি না তার কি দশা হল । সে কি জীবিত , তার আশায় কি পথ চেয়ে থাকা যায় ? নাকি মৃত্যু তাকে আড়াল করে দিল ? আল্লাহ্র কসম ! আমি জানি না , তথাপি জানতে চাই , তুমি আমার চোখের আড়াল হবার পর প্রান্তর অথবা পাহাড় কি তোমাকে গুম করে ফেলল ? হায় , যদি জানতাম , তুমি আবার আমার কাছে ফিরে আসবে ! তোমার ফিরে আসা আমার জন্য সুনিশ্চিতভাবে পুরো দুনিয়াটা পাওয়ার মত খুশির ব্যাপার হবে । সূর্য উদয়ের সময়ে একবার , আর অস্ত যাওয়ার সময় আর একবার , আমাকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । বাতাসের প্রবাহও আমার মনে তার স্মৃতির শিহরণ জাগায় । তার জন্য আমার দুশ্চিন্তা কেবল দীর্ঘায়িতই হচ্ছে ।
“ উটের পিঠে চড়ে তার সন্ধানে দুনিয়াময় ঘুরতে থাকব । উট ক্লান্ত হলেও আমি ক্লান্ত হব না । আমি তাকে আমরণ খুঁজে বেড়াব , মানুষ যতই আশার পেছনে ঘুরুক , আসলে সে তো ধ্বংসশীল । ”
অবশেষে হারিসা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে উপনীত হলেন । আর এ সময় তার পুত্র যায়দ রাসূল (সা:) -এর কাছে ছিলেন । রাসূল (সা:) যায়দকে বললেন , তুমি ইচ্ছা করলে আমার কাছে ও থাকতে পার , আবার ইচ্ছা করলে তোমার বাবার সাথেও যেতে পার । তিনি বললেন : “ না আমি বরং আপনার কাছেই থাকব । ” সেই থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছেই অবস্থান করতে লাগলেন । তিনি যখন নবুওয়ত লাভ করলেন , তখন তিনি তাঁকে সমর্থন করলেন , ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন । এরপর যখন আল্লাহ্ এ আদেশ নাযিল করলেন যে , পালিত পুত্রদের তাদের পিতার পরিচয়েই সম্বোধন কর , তখন যায়দ বললেন : আমি হারিসার পুত্র যায়দ ।