📄 আবু তালিব তাঁদের খুঁজতে যেতেন
কেউ কেউ বলেন , তিনি আলী ( রা ) -কে বললেন , ওহে আমার পুত্র , তুমি এ কোন্ ধর্ম অনুসরণ করছ ? তিনি বললেন : হে আমার পিতা , আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি , যা কিছু প্রত্যাদেশ তাঁর কাছে এসেছে , তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি এবং তাঁর সংগে আল্লাহ্র জন্য সালাত আদায় করেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি । শোনা যায় যে , একথা শুনে আবূ তালিব তাঁকে বললেন , মুহাম্মদ (সা:) তোমাকে ভালো পথেই আহবান করেছে । কাজেই তুমি এ পথে দৃঢ় থাক ।
📄 যায়দ ইবন হারিসার ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর যায়দ ইব্ন হারিসা ইবন শুরাহবীল ইবন কা'ব ইবন আবদুল উযযা ইব্ন ইমরুল কায়স কাল্ববী ইসলাম গ্রহণ করেন । ইনি ছিলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আযাদকৃত দাস এবং আলী ইবন আবূ তালিবের পর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ও সালাত আদায়কারী পুরুষ ।
📄 যায়দের বংশ পরিচয়
ইব্ন হিশাম বলেন : যায়দের বংশধারা হচ্ছে যায়দ ইবন হারিসা ইবন শুরাহবীল ইব্ন কা'ব ইবন আবদুল উযযা ইব্ন ইমরুল কায়স ইব্ন আমির ইব্ নু'মান ইব্ন আমির ইব্ন আবদে উদ্দ ইব্ন ‘ আওফ ইব্ন কিনানা ইব্ন বাকর ইবন আওফ ইবন উযরা ইবন যায়দ আল্লাত ইব্ন রুফায়দা ইব্ন সাওর ইব্ন কালব ইবন ওয়াবরা । খাদীজার ভ্রাতৃষ্পুত্র হাকীম ইব্ন হিযাম ইব্ন হুওয়ায়লিদ সিরিয়া থেকে কিছু সংখ্যক ক্রীতদাস নিয়ে এসেছিলেন , তাদের ভেতরে ছিলেন যায়দ ইব্ন হারিসা নামক ভৃত্য ।
হাকীমের ফুফু খাদীজা এ সময় রাসূলুল্লাহ্ - এর সহধর্মিণী । তিনি হাকীমের কাছে বেড়াতে গেলেন । হাকীম বলল "হে ফুফু । আপনি পসন্দ করুন , এ সব ক্রীতদাসের যেটি আপনি চাইবেন , সেটি আপনার । ” খাদীজা যায়দকে পসন্দ করলেন এবং নিয়ে নিলেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজার কাছে যায়দকে দেখে তাকে উপঢৌকন হিসাবে চাইলেন । খাদীজা তৎক্ষণাৎ উপঢৌকন হিসাবে যায়দকে দিয়ে দিলেন । রাসূল (সা:) অবিলম্বে যায়দকে মুক্ত করে নিজের পালিত পুত্র হিসাবে গ্রহণ করলেন । এ সবই ছিল রাসূল (সা:) -এর ওপর ওহী নাযিল হওয়ার আগেকার ঘটনা ।
**টিকাঃ**
১. যায়দের মাতা হলেন সুদা বিন্ত সা'লাবা । তিনি বনূ তাঈ গোত্রের বনু মা'আন শাখার সন্তান । যায়দকে নিজের বাপের বাড়ি দেখাতে সাথে নিয়ে বেরিয়েছিলেন । পথিমধ্যে বনূ কানীন ইব্ন জাসর - এর এক কাফেলা তাকে অপহরণ করে আরবের হুবাশা নামক বাজারে নিয়ে বিক্রি করে । এ সময় যায়দের বয়স ছিল আট বছর । ইন ইসহাক তার সম্পর্কে যা লিখেছেন , তা এর পরবর্তী ঘটনা ।
📄 যায়দকে হারিয়ে যায়দের পিতা যে কবিতা বলেন
আসলে যায়দ ছিলেন একটি হারানো ছেলে । সন্তান হারানোর শোকে যায়দের পিতা ব্যাকুল হয়ে আহাজারী করেন ও নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেন :
“ আমি যায়দের জন্য কাঁদছি । অথচ , আমি জানি না তার কি দশা হল । সে কি জীবিত , তার আশায় কি পথ চেয়ে থাকা যায় ? নাকি মৃত্যু তাকে আড়াল করে দিল ? আল্লাহ্র কসম ! আমি জানি না , তথাপি জানতে চাই , তুমি আমার চোখের আড়াল হবার পর প্রান্তর অথবা পাহাড় কি তোমাকে গুম করে ফেলল ? হায় , যদি জানতাম , তুমি আবার আমার কাছে ফিরে আসবে ! তোমার ফিরে আসা আমার জন্য সুনিশ্চিতভাবে পুরো দুনিয়াটা পাওয়ার মত খুশির ব্যাপার হবে । সূর্য উদয়ের সময়ে একবার , আর অস্ত যাওয়ার সময় আর একবার , আমাকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় । বাতাসের প্রবাহও আমার মনে তার স্মৃতির শিহরণ জাগায় । তার জন্য আমার দুশ্চিন্তা কেবল দীর্ঘায়িতই হচ্ছে ।
“ উটের পিঠে চড়ে তার সন্ধানে দুনিয়াময় ঘুরতে থাকব । উট ক্লান্ত হলেও আমি ক্লান্ত হব না । আমি তাকে আমরণ খুঁজে বেড়াব , মানুষ যতই আশার পেছনে ঘুরুক , আসলে সে তো ধ্বংসশীল । ”
অবশেষে হারিসা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে উপনীত হলেন । আর এ সময় তার পুত্র যায়দ রাসূল (সা:) -এর কাছে ছিলেন । রাসূল (সা:) যায়দকে বললেন , তুমি ইচ্ছা করলে আমার কাছে ও থাকতে পার , আবার ইচ্ছা করলে তোমার বাবার সাথেও যেতে পার । তিনি বললেন : “ না আমি বরং আপনার কাছেই থাকব । ” সেই থেকে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছেই অবস্থান করতে লাগলেন । তিনি যখন নবুওয়ত লাভ করলেন , তখন তিনি তাঁকে সমর্থন করলেন , ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করলেন । এরপর যখন আল্লাহ্ এ আদেশ নাযিল করলেন যে , পালিত পুত্রদের তাদের পিতার পরিচয়েই সম্বোধন কর , তখন যায়দ বললেন : আমি হারিসার পুত্র যায়দ ।