📄 রসুলুল্লাহ ও আলী মক্কার গিরিবর্তে সালাত আদায় করতে যেতেন
ইবন ইসহাক বলেন : কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন যে , সালাতের সময় সমাগত হলেই রাসূল (সা:) মক্কার পার্বত্য উপত্যকায় চলে যেতেন । তাঁর সাথী আলীও এত গোপনে যেতেন যে , তাঁর পিতা আবূ তালিব , অন্য চাচারা এবং সমগ্র কুরায়শ গোত্রের অন্য কেউ তা জানতে পারত না । দু'জনে সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং অপরাহ্নে ফিরে আসতেন । এভাবে যতদিন আল্লাহ্র ইচ্ছা , তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে রইলেন । একদিন সালাতে রত অবস্থায় আবূ তালিব তাঁদের উভয়কে দেখে ফেলেন । এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে জিজ্ঞেস করলেন , হে ভাতিজা ! এ কোন্ ধর্ম যা তুমি পালন করছ ? তিনি বললেন , চাচা ! এ হচ্ছে আল্লাহ্র ধর্ম , তাঁর ফেরেশতাদের ধর্ম , তাঁর নবী - রাসূলদের ধর্ম এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম ( আ ) -এর ধর্ম ( রাসূল (সা:) -এর ভাষা এ থেকে কিছুটা ভিন্নও হয়ে থাকতে পারে ) । আল্লাহ্ আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছেন । আমি যত লোককে উপদেশ দেই , যত লোককে সত্যের দিকে দাওয়াত দেই , যত লোক আমার দাওয়াত গ্রহণ করুক এবং আমাকে সাহায্য- সহযোগিতা করুক , আমার চাচা হিসাবে তাদের সকলের চাইতে আপনার ওপর আমার অধিকার ও দাবি বেশি । আবূ তালিব বললেন : “ ভাতিজা , আমি তো আমার চিরাচরিত পূর্বপুরুষদের ধর্ম ও রীতিনীতি ত্যাগ করতে পারব না । তবে আল্লাহ্র কসম ! আমি যতদিন বেঁচে আছি , তোমার সাথে কেউ অপ্রীতিকর আচরণ করতে পারবে না । ”
📄 আবু তালিব তাঁদের খুঁজতে যেতেন
কেউ কেউ বলেন , তিনি আলী ( রা ) -কে বললেন , ওহে আমার পুত্র , তুমি এ কোন্ ধর্ম অনুসরণ করছ ? তিনি বললেন : হে আমার পিতা , আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি , যা কিছু প্রত্যাদেশ তাঁর কাছে এসেছে , তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি এবং তাঁর সংগে আল্লাহ্র জন্য সালাত আদায় করেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি । শোনা যায় যে , একথা শুনে আবূ তালিব তাঁকে বললেন , মুহাম্মদ (সা:) তোমাকে ভালো পথেই আহবান করেছে । কাজেই তুমি এ পথে দৃঢ় থাক ।
📄 যায়দ ইবন হারিসার ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর যায়দ ইব্ন হারিসা ইবন শুরাহবীল ইবন কা'ব ইবন আবদুল উযযা ইব্ন ইমরুল কায়স কাল্ববী ইসলাম গ্রহণ করেন । ইনি ছিলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আযাদকৃত দাস এবং আলী ইবন আবূ তালিবের পর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ও সালাত আদায়কারী পুরুষ ।
📄 যায়দের বংশ পরিচয়
ইব্ন হিশাম বলেন : যায়দের বংশধারা হচ্ছে যায়দ ইবন হারিসা ইবন শুরাহবীল ইব্ন কা'ব ইবন আবদুল উযযা ইব্ন ইমরুল কায়স ইব্ন আমির ইব্ নু'মান ইব্ন আমির ইব্ন আবদে উদ্দ ইব্ন ‘ আওফ ইব্ন কিনানা ইব্ন বাকর ইবন আওফ ইবন উযরা ইবন যায়দ আল্লাত ইব্ন রুফায়দা ইব্ন সাওর ইব্ন কালব ইবন ওয়াবরা । খাদীজার ভ্রাতৃষ্পুত্র হাকীম ইব্ন হিযাম ইব্ন হুওয়ায়লিদ সিরিয়া থেকে কিছু সংখ্যক ক্রীতদাস নিয়ে এসেছিলেন , তাদের ভেতরে ছিলেন যায়দ ইব্ন হারিসা নামক ভৃত্য ।
হাকীমের ফুফু খাদীজা এ সময় রাসূলুল্লাহ্ - এর সহধর্মিণী । তিনি হাকীমের কাছে বেড়াতে গেলেন । হাকীম বলল "হে ফুফু । আপনি পসন্দ করুন , এ সব ক্রীতদাসের যেটি আপনি চাইবেন , সেটি আপনার । ” খাদীজা যায়দকে পসন্দ করলেন এবং নিয়ে নিলেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজার কাছে যায়দকে দেখে তাকে উপঢৌকন হিসাবে চাইলেন । খাদীজা তৎক্ষণাৎ উপঢৌকন হিসাবে যায়দকে দিয়ে দিলেন । রাসূল (সা:) অবিলম্বে যায়দকে মুক্ত করে নিজের পালিত পুত্র হিসাবে গ্রহণ করলেন । এ সবই ছিল রাসূল (সা:) -এর ওপর ওহী নাযিল হওয়ার আগেকার ঘটনা ।
**টিকাঃ**
১. যায়দের মাতা হলেন সুদা বিন্ত সা'লাবা । তিনি বনূ তাঈ গোত্রের বনু মা'আন শাখার সন্তান । যায়দকে নিজের বাপের বাড়ি দেখাতে সাথে নিয়ে বেরিয়েছিলেন । পথিমধ্যে বনূ কানীন ইব্ন জাসর - এর এক কাফেলা তাকে অপহরণ করে আরবের হুবাশা নামক বাজারে নিয়ে বিক্রি করে । এ সময় যায়দের বয়স ছিল আট বছর । ইন ইসহাক তার সম্পর্কে যা লিখেছেন , তা এর পরবর্তী ঘটনা ।