📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরিবারে আলীর লালিত-পালিত হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ এ লালন-পালনের কারণ
আল্লাহ্ তা'আলা আলী ইব্ন আবূ তালিবকে যে সকল বিরল সৌভাগ্যে ভূষিত করেছিলেন , ইসলামের অভ্যুদয়ের পূর্বে , তাঁর রাসূল (সা:) -এর তত্ত্বাবধানে লালিত - পালিত হওয়া ছিল তার অন্যতম ।
এ লালন - পালনের কারণ
ইবন ইসহাক বলেন : মুজাহিদ ইবন জাবর ইবন আবূ হাজ্জাজের বরাত দিয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন আবু নুজায়হ আমাকে বলেছেন যে , আলী ইবন আবী তালিবের ওপর আল্লাহর একটা অনুগ্রহ , তাঁর জন্য সৃষ্টি করা আল্লাহর একটা সুযোগ এবং তাঁর জন্য আল্লাহর ঈন্সিত একটি সুবিধা ও আনুকুল্য ছিল এই যে , কুরায়শ গোত্র একবার নিদারুণ আর্থিক সংকটে পড়ে । আৰু তালিব ছিলেন অধিক সন্তানের ভারে জর্জরিত । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) স্বীয় চাচা আব্বাসকে , যিনি বনূ হাশিম গোত্রে সবচেয়ে সচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন , বললেন : হে আব্বাস ! আপনার ভাই আবূ তালিব অধিক সন্তানভারে ক্লিষ্ট । বর্তমানে লোকেরা কিরূপ আর্থিক সংকটে আছে , তাতো দেখতেই পাচ্ছেন । চলুন , আমরা দু'জন তার কাছে যাই এবং তার বোঝা কিছুটা লাঘব করি । তার সন্তানদের একজনকে আমি গ্রহণ করব , আর একজনকে আপনি গ্রহণ করবেন । এ দু'জনের ভরণ - পোষণ ও লালন - পালনের ভার আমরা গ্রহণ করব । আব্বাস বললেন : ঠিক আছে , চল । এরপর তাঁর উভয়ে আবূ তালিবের কাছে গেলেন এবং তাকে বললেন : যতদিন বর্তমান দুর্ভিক্ষাবস্থা অব্যাহত থাকে , ততদিন আমরা আপনার সাংসারিক বোঝা খানিকটা লাঘব করতে ইচ্ছুক । আবূ তালিব তাঁদের বললেন , আকীলকে আমার কাছে রেখে , আর যাকে যাকে নিতে চাও , নিয়ে যাও । ইবন হিশামের মতে , তিনি আকীল ও তালিব এ দুই ছেলেকে রেখে যেতে বলেছিলেন ।
এরপর রাসূল (সা:) আলীকে নিয়ে যান এবং তাকে নিজ পরিবারের সাথে যুক্ত করেন । আর আব্বাস নিয়ে যান জাফিরকে এবং তাকে নিজ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নবুওয়ত লাভ করা পর্যন্ত আলী তাঁর সাথে থাকেন । তাঁর নবুওয়ত লাভের পর আলী তাঁকে অনুসরণ করেন , তাঁর ওপর ঈমান আনেন ও তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন । আর জা'ফর আব্বাসের সাথে অবস্থান করতে থাকেন । অবশেষে একদিন ইসলাম গ্রহণ করে তার কাছ থেকে বিদায় নেন ।
**টিকাঃ**
১. আলী জাফরের চাইতে দশ বছরের , জা'ফর ‘ আকীলের চাইতে দশ বছরের এবং ' আকীল তালিবের চাইতে দশ বছরের ছোট ছিলেন । তালিব ছাড়া সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । সুহায়লী বলেন যে , * তালিবকে জিনরা অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল । ফলে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি অজানা রয়ে গেছে ।
📄 রসুলুল্লাহ ও আলী মক্কার গিরিবর্তে সালাত আদায় করতে যেতেন
ইবন ইসহাক বলেন : কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন যে , সালাতের সময় সমাগত হলেই রাসূল (সা:) মক্কার পার্বত্য উপত্যকায় চলে যেতেন । তাঁর সাথী আলীও এত গোপনে যেতেন যে , তাঁর পিতা আবূ তালিব , অন্য চাচারা এবং সমগ্র কুরায়শ গোত্রের অন্য কেউ তা জানতে পারত না । দু'জনে সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং অপরাহ্নে ফিরে আসতেন । এভাবে যতদিন আল্লাহ্র ইচ্ছা , তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে রইলেন । একদিন সালাতে রত অবস্থায় আবূ তালিব তাঁদের উভয়কে দেখে ফেলেন । এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে জিজ্ঞেস করলেন , হে ভাতিজা ! এ কোন্ ধর্ম যা তুমি পালন করছ ? তিনি বললেন , চাচা ! এ হচ্ছে আল্লাহ্র ধর্ম , তাঁর ফেরেশতাদের ধর্ম , তাঁর নবী - রাসূলদের ধর্ম এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম ( আ ) -এর ধর্ম ( রাসূল (সা:) -এর ভাষা এ থেকে কিছুটা ভিন্নও হয়ে থাকতে পারে ) । আল্লাহ্ আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছেন । আমি যত লোককে উপদেশ দেই , যত লোককে সত্যের দিকে দাওয়াত দেই , যত লোক আমার দাওয়াত গ্রহণ করুক এবং আমাকে সাহায্য- সহযোগিতা করুক , আমার চাচা হিসাবে তাদের সকলের চাইতে আপনার ওপর আমার অধিকার ও দাবি বেশি । আবূ তালিব বললেন : “ ভাতিজা , আমি তো আমার চিরাচরিত পূর্বপুরুষদের ধর্ম ও রীতিনীতি ত্যাগ করতে পারব না । তবে আল্লাহ্র কসম ! আমি যতদিন বেঁচে আছি , তোমার সাথে কেউ অপ্রীতিকর আচরণ করতে পারবে না । ”
📄 আবু তালিব তাঁদের খুঁজতে যেতেন
কেউ কেউ বলেন , তিনি আলী ( রা ) -কে বললেন , ওহে আমার পুত্র , তুমি এ কোন্ ধর্ম অনুসরণ করছ ? তিনি বললেন : হে আমার পিতা , আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি , যা কিছু প্রত্যাদেশ তাঁর কাছে এসেছে , তাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি এবং তাঁর সংগে আল্লাহ্র জন্য সালাত আদায় করেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি । শোনা যায় যে , একথা শুনে আবূ তালিব তাঁকে বললেন , মুহাম্মদ (সা:) তোমাকে ভালো পথেই আহবান করেছে । কাজেই তুমি এ পথে দৃঢ় থাক ।
📄 যায়দ ইবন হারিসার ইসলাম গ্রহণ
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর যায়দ ইব্ন হারিসা ইবন শুরাহবীল ইবন কা'ব ইবন আবদুল উযযা ইব্ন ইমরুল কায়স কাল্ববী ইসলাম গ্রহণ করেন । ইনি ছিলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর আযাদকৃত দাস এবং আলী ইবন আবূ তালিবের পর প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ও সালাত আদায়কারী পুরুষ ।