📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জিবরীল (আ) রাসূল (সা)-কে সালাতের সময় নির্ধারণ করে দেন

📄 জিবরীল (আ) রাসূল (সা)-কে সালাতের সময় নির্ধারণ করে দেন


জিবরীল ( আ ) রাসূল (সা:) -কে সালাতের সময় নির্ধারণ করে দেন
ইবন ইসহাক বলেন আমাকে বনু তামীম গোত্রের আযাদকৃত দাস উতবা ইবন মুসলিম বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী নাফি ' ইবন যুবায়র ইবন মুতইমের বরাত দিয়ে এবং নাফি ' ই যুবায়র ইব্‌ন আব্বাসের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয হওয়ার পর তাঁর কাছে জিবরীল ( আ ) এলেন এবং সূর্য ঢলে পড়ার পর তাঁকে সাথে নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন । এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ছায়া যখন তাঁর সমান লম্বা হল , তখন তাঁকে সংগে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন । তারপর সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তাঁকে সংগে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন । এরপর সন্ধ্যাকালের রক্তিমাভা অন্তর্হিত হওয়ার পর তাঁকে সংগে নিয়ে ইশার সালাত পড়লেন এবং সুবহি সাদিকের পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন ।
পরের দিন জিবরীল ( আ ) আবার এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সংগে নিয়ে যোহরের সালাত এমন সময় আদায় করলেন , যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ছায়া তাঁর সমান লম্বা হলো । এরপর নবী (সা:) -এর ছায়া যখন তাঁর দ্বিগুণ হলো , তখন জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন । এরপর সূর্যাস্তের পর গত দিনের সময়ে তাঁকে সংগে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন । রাতের এক - তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন । এরপর ঊষা হওয়ার পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে তাঁকে সংগে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন । তারপর জিবরীল ( আ ) বললেন , হে মুহাম্মদ (সা:) ! আপনি আজ যে সময়ে সালাত আদায় করলেন এবং গতকাল যে সময়ে সালাত আদায় করেছিলেন , এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা চাই । '

**টিকাঃ**
S. এ হাদীসটি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হয়নি । কেননা সকল সহীহ্ হাদীস গ্রন্থ প্রণেতা এ ব্যাপারে একমত যে , এ ঘটনা মি'রাজের রাতের পরের দিন সংঘটিত হয়েছিল এবং তা ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুওয়তের সূচনার পাঁচ বছর পরের ঘটনা । কারো কারো মতে মি'রাজ হিজরতের দেড় বছর আগের ঘটনা । মতান্তরে এক বছর আগের ব্যাপার । এ জন্য ইবন ইসহাক এটিকে ওহী নাযিল হওয়ার সূচনা - পর্ব ও সালাতের প্রাথমিক অবস্থার বিবরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন । ( রওযুল উফ , প্রথম খণ্ড , ২৮৪ পূ . দ্র . )

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-কে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী পুরুষ হিসাবে বর্ণনা

📄 আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা)-কে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী পুরুষ হিসাবে বর্ণনা


আলী ইবন আবূ তালিব ( রা ) -কে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী পুরুষ হিসাবে বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর সমগ্র মানব জাতির মধ্যে যে পুরুষটি সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর ঈমান আনেন , তাঁর সংগে সালাত আদায় করেন এবং তাঁর কাছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত যাবতীয় প্রত্যাদেশকে সত্য বলে গ্রহণ করেন , তিনি ছিলেন আলী ইব্‌ন আবূ তালিব ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব ইব্‌ন হাশিম । সে সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল দশ বছর । আল্লাহ তাঁকে স্বীয় সন্তোষ ও শান্তি দ্বারা অভিষিক্ত করুন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরিবারে আলীর লালিত-পালিত হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ এ লালন-পালনের কারণ

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পরিবারে আলীর লালিত-পালিত হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ এ লালন-পালনের কারণ


আল্লাহ্ তা'আলা আলী ইব্‌ন আবূ তালিবকে যে সকল বিরল সৌভাগ্যে ভূষিত করেছিলেন , ইসলামের অভ্যুদয়ের পূর্বে , তাঁর রাসূল (সা:) -এর তত্ত্বাবধানে লালিত - পালিত হওয়া ছিল তার অন্যতম ।

এ লালন - পালনের কারণ
ইবন ইসহাক বলেন : মুজাহিদ ইবন জাবর ইবন আবূ হাজ্জাজের বরাত দিয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন আবু নুজায়হ আমাকে বলেছেন যে , আলী ইবন আবী তালিবের ওপর আল্লাহর একটা অনুগ্রহ , তাঁর জন্য সৃষ্টি করা আল্লাহর একটা সুযোগ এবং তাঁর জন্য আল্লাহর ঈন্সিত একটি সুবিধা ও আনুকুল্য ছিল এই যে , কুরায়শ গোত্র একবার নিদারুণ আর্থিক সংকটে পড়ে । আৰু তালিব ছিলেন অধিক সন্তানের ভারে জর্জরিত । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) স্বীয় চাচা আব্বাসকে , যিনি বনূ হাশিম গোত্রে সবচেয়ে সচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন , বললেন : হে আব্বাস ! আপনার ভাই আবূ তালিব অধিক সন্তানভারে ক্লিষ্ট । বর্তমানে লোকেরা কিরূপ আর্থিক সংকটে আছে , তাতো দেখতেই পাচ্ছেন । চলুন , আমরা দু'জন তার কাছে যাই এবং তার বোঝা কিছুটা লাঘব করি । তার সন্তানদের একজনকে আমি গ্রহণ করব , আর একজনকে আপনি গ্রহণ করবেন । এ দু'জনের ভরণ - পোষণ ও লালন - পালনের ভার আমরা গ্রহণ করব । আব্বাস বললেন : ঠিক আছে , চল । এরপর তাঁর উভয়ে আবূ তালিবের কাছে গেলেন এবং তাকে বললেন : যতদিন বর্তমান দুর্ভিক্ষাবস্থা অব্যাহত থাকে , ততদিন আমরা আপনার সাংসারিক বোঝা খানিকটা লাঘব করতে ইচ্ছুক । আবূ তালিব তাঁদের বললেন , আকীলকে আমার কাছে রেখে , আর যাকে যাকে নিতে চাও , নিয়ে যাও । ইবন হিশামের মতে , তিনি আকীল ও তালিব এ দুই ছেলেকে রেখে যেতে বলেছিলেন ।
এরপর রাসূল (সা:) আলীকে নিয়ে যান এবং তাকে নিজ পরিবারের সাথে যুক্ত করেন । আর আব্বাস নিয়ে যান জাফিরকে এবং তাকে নিজ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নবুওয়ত লাভ করা পর্যন্ত আলী তাঁর সাথে থাকেন । তাঁর নবুওয়ত লাভের পর আলী তাঁকে অনুসরণ করেন , তাঁর ওপর ঈমান আনেন ও তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন । আর জা'ফর আব্বাসের সাথে অবস্থান করতে থাকেন । অবশেষে একদিন ইসলাম গ্রহণ করে তার কাছ থেকে বিদায় নেন ।

**টিকাঃ**
১. আলী জাফরের চাইতে দশ বছরের , জা'ফর ‘ আকীলের চাইতে দশ বছরের এবং ' আকীল তালিবের চাইতে দশ বছরের ছোট ছিলেন । তালিব ছাড়া সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । সুহায়লী বলেন যে , * তালিবকে জিনরা অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল । ফলে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি অজানা রয়ে গেছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রসুলুল্লাহ ও আলী মক্কার গিরিবর্তে সালাত আদায় করতে যেতেন

📄 রসুলুল্লাহ ও আলী মক্কার গিরিবর্তে সালাত আদায় করতে যেতেন


ইবন ইসহাক বলেন : কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন যে , সালাতের সময় সমাগত হলেই রাসূল (সা:) মক্কার পার্বত্য উপত্যকায় চলে যেতেন । তাঁর সাথী আলীও এত গোপনে যেতেন যে , তাঁর পিতা আবূ তালিব , অন্য চাচারা এবং সমগ্র কুরায়শ গোত্রের অন্য কেউ তা জানতে পারত না । দু'জনে সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং অপরাহ্নে ফিরে আসতেন । এভাবে যতদিন আল্লাহ্র ইচ্ছা , তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে রইলেন । একদিন সালাতে রত অবস্থায় আবূ তালিব তাঁদের উভয়কে দেখে ফেলেন । এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে জিজ্ঞেস করলেন , হে ভাতিজা ! এ কোন্ ধর্ম যা তুমি পালন করছ ? তিনি বললেন , চাচা ! এ হচ্ছে আল্লাহ্র ধর্ম , তাঁর ফেরেশতাদের ধর্ম , তাঁর নবী - রাসূলদের ধর্ম এবং আমাদের পিতা ইবরাহীম ( আ ) -এর ধর্ম ( রাসূল (সা:) -এর ভাষা এ থেকে কিছুটা ভিন্নও হয়ে থাকতে পারে ) । আল্লাহ্ আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছেন । আমি যত লোককে উপদেশ দেই , যত লোককে সত্যের দিকে দাওয়াত দেই , যত লোক আমার দাওয়াত গ্রহণ করুক এবং আমাকে সাহায্য- সহযোগিতা করুক , আমার চাচা হিসাবে তাদের সকলের চাইতে আপনার ওপর আমার অধিকার ও দাবি বেশি । আবূ তালিব বললেন : “ ভাতিজা , আমি তো আমার চিরাচরিত পূর্বপুরুষদের ধর্ম ও রীতিনীতি ত্যাগ করতে পারব না । তবে আল্লাহ্র কসম ! আমি যতদিন বেঁচে আছি , তোমার সাথে কেউ অপ্রীতিকর আচরণ করতে পারবে না । ”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00