📄 ফরয সালাতের সূচনা ও তার সময় নির্ধারণ
ফরয সালাতের সূচনা ও তার সময় নির্ধারণ
এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয করা হয় । ফলে তিনি সালাত আদায় করা শুরু করেন । প্রথমে দু'রাকাআত ফরয হয় , পরে তা বাড়ানো হয় । ইব্ন ইসহাক বলেন , আমার কাছে সালিহ ইব্ন কায়সান উরওয়া ইবন যুবায়র সূত্রে আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর উপর প্রথম পর্যায়ে প্রতি সালাত দু ' - দু রাকআত করে ফরয করা হয় । এরপর মুকীম অবস্থায় তা বাড়িয়ে চার রাকআত করেন এবং মুসাফির অবস্থায় আগের দু'রাকআতই বহাল রাখেন ? জিবরীল ( আ ) রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সালাত ও উযূ শিক্ষা দেন । ইবন ইসহাক বলেন : কতিপয় বিজ্ঞজন আমাকে জানিয়েছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয হওয়ার বিধান নাযিল হওয়ার পর তাঁর কাছে জিবরীল ( আ ) এলেন । এ সময় তিনি ছিলেন মক্কার উঁচু এলাকায় । জিবরীল ( আ ) তাঁর পেছনদিকে সমতল এলাকার এক প্রান্তে নিজের পায়ের গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলেন । তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে একটা ঝর্ণা বের হল । তখন জিবরীল ( আ ) উর্দু করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তা দেখতে লাগলেন । জিবরীল ( আ ) -এর উযূ করার উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যাতে জানতে পারেন যে ; সালাতের জন্য কিতাবে উযূ করতে হবে ।
এরপর রাসূল (সা:) জিবরীলকে যেভাবে উযূ কতে দেখেছেন , সেভাবে উযূ করলেন । তারপর জিবরীল ( আ ) রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করলেন । তারপর জিবরীল চলে গেলেন ।
**টিকাঃ**
১. মুযানী বর্ণনা করেন যে , মি'রাজের আগে সালাত ছিল সূর্যোদয়ের আগে একবার এবং সূর্যাস্তের পরে আর একবার । ইবন সালাম বলেন , হিজরতের এক বছর আগেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হয় । এ বর্ণনার আলোকে হযরত আয়েশা ( রা ) -এর বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যা এই দাঁড়ায় যে , মুসাফির অবস্থায় সালাতের চাইতে মুকীম অবস্থায় থাকাকালে ওয়াক্ত ও রাকজাত দু'টোরই সংখ্যা বাড়ানো হয় । আর দুই রাকআত করে ফরয করা হয়েছিল এর দ্বারা মি'রাজপূর্বকালের কথা বুঝানো হয়েছে ।
২. সীরাত গ্রন্থে এ হাদীসটির সনদ যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে , তা রাসূল (সা:) পর্যন্ত পৌঁছেনি । এ ধরনের হাদীস শরীআতের বিধি প্রণয়নের যোগ্য বিবেচিত হয় না । তবে সনদে যায়দ ইবন হারিসা থাকায় এটি তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থেকে পেয়েছেন বলে মনে করা হয় । তথাপি দুর্বল বিবেচিত বর্ণনাকারী ইবন লিহয়া'র ওপর নির্ভরশীল বিধায় বুখারী ও মুসলিমে এ হাদীস বর্ণিত হয়নি । তবে ইমাম মালিক ইব্ন লিয়া সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করতেন । ( পূর্ণাঙ্গ আলোচনার জন্য দেখুন , রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৮৩-২৮৪ )
📄 রাসূলুল্লাহ (সা) খাদীজাকে উযূ ও সালাতে শিক্ষা দেন
রাসুলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজাকে উর্দূ ও সালাত শিক্ষা দেন
এরপর রাসূল (সা:) খাদীজার কাছে এলেন এবং তিনি জিবরীল ( আ ) যেভাবে তাঁকে সালাতের জন্য উযূ করার নিয়ম শিখিয়েছেন , সেভাবে উযূ করে খাদীজাকে দেখালেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দেখাদেখি খাদীজাও উযূ করলেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজাকে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করলেন । যেমন জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন ।
📄 জিবরীল (আ) রাসূল (সা)-কে সালাতের সময় নির্ধারণ করে দেন
জিবরীল ( আ ) রাসূল (সা:) -কে সালাতের সময় নির্ধারণ করে দেন
ইবন ইসহাক বলেন আমাকে বনু তামীম গোত্রের আযাদকৃত দাস উতবা ইবন মুসলিম বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী নাফি ' ইবন যুবায়র ইবন মুতইমের বরাত দিয়ে এবং নাফি ' ই যুবায়র ইব্ন আব্বাসের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয হওয়ার পর তাঁর কাছে জিবরীল ( আ ) এলেন এবং সূর্য ঢলে পড়ার পর তাঁকে সাথে নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন । এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ছায়া যখন তাঁর সমান লম্বা হল , তখন তাঁকে সংগে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন । তারপর সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তাঁকে সংগে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন । এরপর সন্ধ্যাকালের রক্তিমাভা অন্তর্হিত হওয়ার পর তাঁকে সংগে নিয়ে ইশার সালাত পড়লেন এবং সুবহি সাদিকের পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন ।
পরের দিন জিবরীল ( আ ) আবার এলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সংগে নিয়ে যোহরের সালাত এমন সময় আদায় করলেন , যখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ছায়া তাঁর সমান লম্বা হলো । এরপর নবী (সা:) -এর ছায়া যখন তাঁর দ্বিগুণ হলো , তখন জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন । এরপর সূর্যাস্তের পর গত দিনের সময়ে তাঁকে সংগে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন । রাতের এক - তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন । এরপর ঊষা হওয়ার পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে তাঁকে সংগে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন । তারপর জিবরীল ( আ ) বললেন , হে মুহাম্মদ (সা:) ! আপনি আজ যে সময়ে সালাত আদায় করলেন এবং গতকাল যে সময়ে সালাত আদায় করেছিলেন , এ দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা চাই । '
**টিকাঃ**
S. এ হাদীসটি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হয়নি । কেননা সকল সহীহ্ হাদীস গ্রন্থ প্রণেতা এ ব্যাপারে একমত যে , এ ঘটনা মি'রাজের রাতের পরের দিন সংঘটিত হয়েছিল এবং তা ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুওয়তের সূচনার পাঁচ বছর পরের ঘটনা । কারো কারো মতে মি'রাজ হিজরতের দেড় বছর আগের ঘটনা । মতান্তরে এক বছর আগের ব্যাপার । এ জন্য ইবন ইসহাক এটিকে ওহী নাযিল হওয়ার সূচনা - পর্ব ও সালাতের প্রাথমিক অবস্থার বিবরণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন । ( রওযুল উফ , প্রথম খণ্ড , ২৮৪ পূ . দ্র . )
📄 আলী ইব্ন আবূ তালিব (রা)-কে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী পুরুষ হিসাবে বর্ণনা
আলী ইবন আবূ তালিব ( রা ) -কে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী পুরুষ হিসাবে বর্ণনা
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর সমগ্র মানব জাতির মধ্যে যে পুরুষটি সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর ঈমান আনেন , তাঁর সংগে সালাত আদায় করেন এবং তাঁর কাছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত যাবতীয় প্রত্যাদেশকে সত্য বলে গ্রহণ করেন , তিনি ছিলেন আলী ইব্ন আবূ তালিব ইব্ন আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিম । সে সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল দশ বছর । আল্লাহ তাঁকে স্বীয় সন্তোষ ও শান্তি দ্বারা অভিষিক্ত করুন ।