📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া

📄 ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া


ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর কিছুদিন রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর কাছে ওহী নাযিল হওয়া স্থগিত ছিল । এতে তিনি বিব্রতবোধ করেন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন । অবশেষে জিবরীল ( আ ) সূরা দুহা নিয়ে এলেন । এতে আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ইতিপূর্বে বর্ধিত অনুগ্রহ ও সম্মানের উল্লেখ করে শপথপূর্বক বলেন : “ শপথ পূর্বাহ্নের , শপথ রাতের , যখন তা হয় নিঝুম , তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি । অর্থাৎ তোমার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তোমাকে বর্জন করেননি এবং তোমাকে ভালোবাসার পর আর তোমাকে অপসন্দ করেননি । তোমার জন্য পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা শ্রেয় । ” অর্থাৎ পৃথিবীতে তোমাকে যে মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করেছি , তার চাইতে উত্তম দান তোমার জন্য রয়েছে , যখন তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে । অচিরেই তোমার রব তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন আর তুমি সন্তুষ্ট হবে । অর্থাৎ দুনিয়ায় শান্তি ও মঙ্গল এবং আখিরাতে উত্তম কর্মফল । তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি ; আর তোমাকে আশ্রয় দান করেননি ? তিনি তোমাকে পেয়েছেন দিশেহারা ; তারপর তিনি পথের দিশা দিলেন । তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব অবস্থায় , এরপর অভাবমুক্ত করলেন । ” অর্থাৎ আল্লাহ্ তাঁকে প্রথম থেকেই কিরূপ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন , তাঁর ইয়াতীম অসহায় ও দিশাহারা অবস্থায় তাঁর ওপর কিরূপ করুণা বর্ষণ করেছেন এবং কিভাবে স্বীয় মেহেরবানীতে এ সব দুরবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছেন , তা জানাচ্ছেন ।

**টিকাঃ**
১. ওহীর আগমন আড়াই বছর স্থগিত ছিল ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 সূরা দুহার শব্দের বিশ্লেষণ

📄 সূরা দুহার শব্দের বিশ্লেষণ


সূরা দুহার শব্দের বিশ্লেষণ
ইবন হিশাম বলেন : : অর্থ নিস্তব্ধ নিঝুম ও নীরব হয়ে যাওয়া । কবি উমায়্যা ইব্‌ন আবূ সালত সাকাফীর কবিতায় এ শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয় : “ আমার সাথীরা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর যখন ক্লান্তিকর হয়ে রজনী এল এবং তা ঘোর অন্ধকার ও রহস্যে আচ্ছন্ন হয়ে নিঝুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল । ” এ লাইনটি তার রচিত একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
চোখের পাতা বা ঝর্ণার পানি স্থির হলে তা বুঝাতেও ' সাজা ' শব্দের ব্যবহার হয়ে থাকে । কবি জারীর বলেন : “ সেই নারীগণ চলে যাওয়ার সময় তোমাকে তাদের পলকহীন চোখ দিয়ে যেন মারণাঘাত হেনেছে । ” এটিও জারীরের রচিত একটি দীর্ঘ কবিতায় অংশ ।
আ - ইল অর্থ দরিদ্র নিঃস্ব । আবূ খারাশ হু্যালীর কবিতা লক্ষ্য করুন :
“ শীতের আগমনে দরিদ্র হীনবল লোকেরা ছিন্ন পুরানো কাপড় পরে তারই বাড়ির দিকে ধাবিত হয় এবং বাড়ির সন্ধান পাওয়ার জন্য কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে ” ( যাতে লোকালয়ের কুকুরগুলো সাড়া দিয়ে জনপদের সন্ধান দেয় ) । ‘ আইল - এর বহুবচন ‘ আলাহ ও ঈল ।
এ কবিতা আবূ খারাশের কাসীদার অংশবিশেষ । পরবর্তীতে এ সম্পর্কে যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে ।
আ - ইল অর্থ পরিবার - পরিজনের ভরণপোষণকারীও । আবার এর অর্থ ভীরুও ; আল্লাহ বলেন : Jay jai । আবূ তালিবের নিম্নোক্ত কবিতায় আ - ইল এ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । যেমন :
“ যে ন্যায়ের তুলাদণ্ডে এক তিলও কমবেশি হয় না , ( সেইরূপ তুলাদণ্ডে তিনি ন্যায়বিচার করে থাকেন । অধিকন্তু ) তার জন্য এমন এক সাক্ষীও রয়েছে , যে ভীরু নয় । ”
এ কাবিতাটিও তার একটি কবিতা সংকলন থেকে গৃহীত , যার বিবরণ পরবর্তীতে যথাস্থানে দেওয়া হবে ইন্‌শাআল্লাহ ।
আ - ইল দ্বারা এমন ভারী বস্তুকেও বুঝায় , যা বহন করা অসম্ভব । বলা হয়ে থাকে ( Glei ~~~~ YIlia ) অর্থাৎ এ আদেশটি আমার কাছে এত ভারী লাগছে যে , তা আমি পালন করতে অক্ষম । কবি ফারাযদাক বলেন :
“ বিভিন্ন দুর্যোগ দুর্বিপাকে যখন জীবন দুঃসহ হয়ে ওঠে , তখন কুরায়শ গোত্রের খ্যাতনামা নেতাদের দেখতে পাবে । ” এটি ফারাযদাকের একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ ।
... সূরা দুহার শেষ তিনটি আয়াতে আল্লাহ্ বলেন : “ সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিও না । আর তোমার রবের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দাও । ” অর্থাৎ তুমি অত্যাচারী , স্বেচ্ছাচারী ও অহংকারী হয়ো না এবং আল্লাহ্র দুর্বল বান্দাদের প্রতি নিষ্ঠুর ও কর্কশভাষী হয়ো না । আর আল্লাহ্ নবুওয়তের আকারে তোমাকে যে নিয়ামত ও সম্মান দান করেছেন , তার কথা মানুষকে জানাও এবং তার প্রতি মানুষকে ডাক । এ শেষোক্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নিজের আপনজনদের মাঝে যাদের নিরাপদ মনে করেছেন , তাদের কাছে গোপনে নিজের নবুওয়তের কথা প্রকাশ করতে লাগলেন ।

**টিকাঃ**
5. আল - কুরআন , ৪ : ৩ ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ফরয সালাতের সূচনা ও তার সময় নির্ধারণ

📄 ফরয সালাতের সূচনা ও তার সময় নির্ধারণ


ফরয সালাতের সূচনা ও তার সময় নির্ধারণ
এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয করা হয় । ফলে তিনি সালাত আদায় করা শুরু করেন । প্রথমে দু'রাকাআত ফরয হয় , পরে তা বাড়ানো হয় । ইব্‌ন ইসহাক বলেন , আমার কাছে সালিহ ইব্‌ন কায়সান উরওয়া ইবন যুবায়র সূত্রে আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর উপর প্রথম পর্যায়ে প্রতি সালাত দু ' - দু রাকআত করে ফরয করা হয় । এরপর মুকীম অবস্থায় তা বাড়িয়ে চার রাকআত করেন এবং মুসাফির অবস্থায় আগের দু'রাকআতই বহাল রাখেন ? জিবরীল ( আ ) রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সালাত ও উযূ শিক্ষা দেন । ইবন ইসহাক বলেন : কতিপয় বিজ্ঞজন আমাকে জানিয়েছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর ওপর সালাত ফরয হওয়ার বিধান নাযিল হওয়ার পর তাঁর কাছে জিবরীল ( আ ) এলেন । এ সময় তিনি ছিলেন মক্কার উঁচু এলাকায় । জিবরীল ( আ ) তাঁর পেছনদিকে সমতল এলাকার এক প্রান্তে নিজের পায়ের গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলেন । তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে একটা ঝর্ণা বের হল । তখন জিবরীল ( আ ) উর্দু করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) তা দেখতে লাগলেন । জিবরীল ( আ ) -এর উযূ করার উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) যাতে জানতে পারেন যে ; সালাতের জন্য কিতাবে উযূ করতে হবে ।
এরপর রাসূল (সা:) জিবরীলকে যেভাবে উযূ কতে দেখেছেন , সেভাবে উযূ করলেন । তারপর জিবরীল ( আ ) রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -কে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করলেন । তারপর জিবরীল চলে গেলেন ।

**টিকাঃ**
১. মুযানী বর্ণনা করেন যে , মি'রাজের আগে সালাত ছিল সূর্যোদয়ের আগে একবার এবং সূর্যাস্তের পরে আর একবার । ইবন সালাম বলেন , হিজরতের এক বছর আগেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয হয় । এ বর্ণনার আলোকে হযরত আয়েশা ( রা ) -এর বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যা এই দাঁড়ায় যে , মুসাফির অবস্থায় সালাতের চাইতে মুকীম অবস্থায় থাকাকালে ওয়াক্ত ও রাকজাত দু'টোরই সংখ্যা বাড়ানো হয় । আর দুই রাকআত করে ফরয করা হয়েছিল এর দ্বারা মি'রাজপূর্বকালের কথা বুঝানো হয়েছে ।
২. সীরাত গ্রন্থে এ হাদীসটির সনদ যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে , তা রাসূল (সা:) পর্যন্ত পৌঁছেনি । এ ধরনের হাদীস শরীআতের বিধি প্রণয়নের যোগ্য বিবেচিত হয় না । তবে সনদে যায়দ ইবন হারিসা থাকায় এটি তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা:) থেকে পেয়েছেন বলে মনে করা হয় । তথাপি দুর্বল বিবেচিত বর্ণনাকারী ইবন লিহয়া'র ওপর নির্ভরশীল বিধায় বুখারী ও মুসলিমে এ হাদীস বর্ণিত হয়নি । তবে ইমাম মালিক ইব্‌ন লিয়া সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করতেন । ( পূর্ণাঙ্গ আলোচনার জন্য দেখুন , রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৮৩-২৮৪ )

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা) খাদীজাকে উযূ ও সালাতে শিক্ষা দেন

📄 রাসূলুল্লাহ (সা) খাদীজাকে উযূ ও সালাতে শিক্ষা দেন


রাসুলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজাকে উর্দূ ও সালাত শিক্ষা দেন
এরপর রাসূল (সা:) খাদীজার কাছে এলেন এবং তিনি জিবরীল ( আ ) যেভাবে তাঁকে সালাতের জন্য উযূ করার নিয়ম শিখিয়েছেন , সেভাবে উযূ করে খাদীজাকে দেখালেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর দেখাদেখি খাদীজাও উযূ করলেন । তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) খাদীজাকে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করলেন । যেমন জিবরীল ( আ ) তাঁকে সংগে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00