📄 খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ
খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ
ইবন ইসহাক বলেন : হিশাম ইব্ন উরওয়া তার পিতা উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্ন জা'ফর ইব্ন আবূ তালিব ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন , “ আমি খাদীজার জন্য এমন একটি গৃহের সুসংবাদ দিতে আদিষ্ট হয়েছি , যা ‘ কাসাব ’ বা ফাঁপা মুক্তা দিয়ে তৈরি এবং যা সর্বপ্রকারের হৈ - হুল্লোড় , চিৎকার ও অপ্রীতিকর বস্তু থেকে মুক্ত । ”
**টিকাঃ**
১ . ইবন হিশাম এ হাদীসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন : “ কাসাব ’ অর্থ ফাঁপা মুক্তার গৃহ
হাদীসটির সনদ বা বর্ণনা - সূত্র সাহাবী পর্যন্ত সীমিত । তবে মুসলিম শরীফে এর ধারাবাহিকতা হিশাম থেকে তার পিতা উরওয়া এবং উরওয়া থেকে হযরত আয়েশার মাধ্যমে রাসূল (সা:) পর্যন্ত বিস্তৃত । ( রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৭৭ দ্র . )
📄 জিবরীল কর্তৃক খাদীজার কাছে আল্লাহর সালাম পেশ
জিবরীল কর্তৃক খাদীজার কাছে আল্লাহ্র সালাম পেশ
ইবন হিশাম বলেন : নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমি শুনেছি যে , জিবরীল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে এসে বলেছিলেন , আপনি খাদীজাকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে দিন । তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন : হে খাদীজা ! এই যে জিবরীল , তোমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম জানাচ্ছেন । খাদীজা বললেন , আল্লাহ্ স্বয়ং সালাম ( শান্তি ) তিনি শান্তির উৎস এবং জিবরীলের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক ।
📄 ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া
ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর কিছুদিন রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর কাছে ওহী নাযিল হওয়া স্থগিত ছিল । এতে তিনি বিব্রতবোধ করেন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন । অবশেষে জিবরীল ( আ ) সূরা দুহা নিয়ে এলেন । এতে আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ইতিপূর্বে বর্ধিত অনুগ্রহ ও সম্মানের উল্লেখ করে শপথপূর্বক বলেন : “ শপথ পূর্বাহ্নের , শপথ রাতের , যখন তা হয় নিঝুম , তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি । অর্থাৎ তোমার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তোমাকে বর্জন করেননি এবং তোমাকে ভালোবাসার পর আর তোমাকে অপসন্দ করেননি । তোমার জন্য পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা শ্রেয় । ” অর্থাৎ পৃথিবীতে তোমাকে যে মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করেছি , তার চাইতে উত্তম দান তোমার জন্য রয়েছে , যখন তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে । অচিরেই তোমার রব তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন আর তুমি সন্তুষ্ট হবে । অর্থাৎ দুনিয়ায় শান্তি ও মঙ্গল এবং আখিরাতে উত্তম কর্মফল । তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি ; আর তোমাকে আশ্রয় দান করেননি ? তিনি তোমাকে পেয়েছেন দিশেহারা ; তারপর তিনি পথের দিশা দিলেন । তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব অবস্থায় , এরপর অভাবমুক্ত করলেন । ” অর্থাৎ আল্লাহ্ তাঁকে প্রথম থেকেই কিরূপ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন , তাঁর ইয়াতীম অসহায় ও দিশাহারা অবস্থায় তাঁর ওপর কিরূপ করুণা বর্ষণ করেছেন এবং কিভাবে স্বীয় মেহেরবানীতে এ সব দুরবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছেন , তা জানাচ্ছেন ।
**টিকাঃ**
১. ওহীর আগমন আড়াই বছর স্থগিত ছিল ।
📄 সূরা দুহার শব্দের বিশ্লেষণ
সূরা দুহার শব্দের বিশ্লেষণ
ইবন হিশাম বলেন : : অর্থ নিস্তব্ধ নিঝুম ও নীরব হয়ে যাওয়া । কবি উমায়্যা ইব্ন আবূ সালত সাকাফীর কবিতায় এ শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয় : “ আমার সাথীরা ঘুমিয়ে যাওয়ার পর যখন ক্লান্তিকর হয়ে রজনী এল এবং তা ঘোর অন্ধকার ও রহস্যে আচ্ছন্ন হয়ে নিঝুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল । ” এ লাইনটি তার রচিত একটি দীর্ঘ কবিতার অংশবিশেষ ।
চোখের পাতা বা ঝর্ণার পানি স্থির হলে তা বুঝাতেও ' সাজা ' শব্দের ব্যবহার হয়ে থাকে । কবি জারীর বলেন : “ সেই নারীগণ চলে যাওয়ার সময় তোমাকে তাদের পলকহীন চোখ দিয়ে যেন মারণাঘাত হেনেছে । ” এটিও জারীরের রচিত একটি দীর্ঘ কবিতায় অংশ ।
আ - ইল অর্থ দরিদ্র নিঃস্ব । আবূ খারাশ হু্যালীর কবিতা লক্ষ্য করুন :
“ শীতের আগমনে দরিদ্র হীনবল লোকেরা ছিন্ন পুরানো কাপড় পরে তারই বাড়ির দিকে ধাবিত হয় এবং বাড়ির সন্ধান পাওয়ার জন্য কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করে ” ( যাতে লোকালয়ের কুকুরগুলো সাড়া দিয়ে জনপদের সন্ধান দেয় ) । ‘ আইল - এর বহুবচন ‘ আলাহ ও ঈল ।
এ কবিতা আবূ খারাশের কাসীদার অংশবিশেষ । পরবর্তীতে এ সম্পর্কে যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে ।
আ - ইল অর্থ পরিবার - পরিজনের ভরণপোষণকারীও । আবার এর অর্থ ভীরুও ; আল্লাহ বলেন : Jay jai । আবূ তালিবের নিম্নোক্ত কবিতায় আ - ইল এ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । যেমন :
“ যে ন্যায়ের তুলাদণ্ডে এক তিলও কমবেশি হয় না , ( সেইরূপ তুলাদণ্ডে তিনি ন্যায়বিচার করে থাকেন । অধিকন্তু ) তার জন্য এমন এক সাক্ষীও রয়েছে , যে ভীরু নয় । ”
এ কাবিতাটিও তার একটি কবিতা সংকলন থেকে গৃহীত , যার বিবরণ পরবর্তীতে যথাস্থানে দেওয়া হবে ইন্শাআল্লাহ ।
আ - ইল দ্বারা এমন ভারী বস্তুকেও বুঝায় , যা বহন করা অসম্ভব । বলা হয়ে থাকে ( Glei ~~~~ YIlia ) অর্থাৎ এ আদেশটি আমার কাছে এত ভারী লাগছে যে , তা আমি পালন করতে অক্ষম । কবি ফারাযদাক বলেন :
“ বিভিন্ন দুর্যোগ দুর্বিপাকে যখন জীবন দুঃসহ হয়ে ওঠে , তখন কুরায়শ গোত্রের খ্যাতনামা নেতাদের দেখতে পাবে । ” এটি ফারাযদাকের একটি দীর্ঘ কবিতার অংশ ।
... সূরা দুহার শেষ তিনটি আয়াতে আল্লাহ্ বলেন : “ সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হয়ো না এবং সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিও না । আর তোমার রবের অনুগ্রহের কথা জানিয়ে দাও । ” অর্থাৎ তুমি অত্যাচারী , স্বেচ্ছাচারী ও অহংকারী হয়ো না এবং আল্লাহ্র দুর্বল বান্দাদের প্রতি নিষ্ঠুর ও কর্কশভাষী হয়ো না । আর আল্লাহ্ নবুওয়তের আকারে তোমাকে যে নিয়ামত ও সম্মান দান করেছেন , তার কথা মানুষকে জানাও এবং তার প্রতি মানুষকে ডাক । এ শেষোক্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) নিজের আপনজনদের মাঝে যাদের নিরাপদ মনে করেছেন , তাদের কাছে গোপনে নিজের নবুওয়তের কথা প্রকাশ করতে লাগলেন ।
**টিকাঃ**
5. আল - কুরআন , ৪ : ৩ ।