📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ-এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পক্ষাবলম্বন

📄 খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ-এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পক্ষাবলম্বন


ইবন ইসহাক বলেন : এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে ক্রমাগত ওহী আসতে থাকে । তিনি ছিলেন আল্লাহ্র প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী , তাঁর কাছে আগত ওহীকে তিনি সত্য বলে মানতেন ও আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতেন এবং আল্লাহ্ তাঁর উপর যে , গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন , তা তিনি যথাযথভাবে পালন করেন । এতে কে খুশি , কে নাখোশ , তার পরোয়া তিনি করতেন না । নবুওয়ত একটি গুরুতর ও কষ্টকর দায়িত্ব । একমাত্র অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও অনমনীয় মনোবলসম্পন্ন নবী - রাসূলগণই আল্লাহ্ সাহায্য ও সহায়তার বলে বলীয়ান হয়ে এ গুরুভার বহন করে থাকেন এবং বহন করতে সমর্থ হন । কেননা তাঁরা একাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে প্রবল বাধা - বিপত্তি ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) স্বীয় জাতির পক্ষ থেকে প্রবল বিরোধিতা ও নির্যাতন - নিপীড়ন সত্ত্বেও আল্লাহ্র আদেশ পালন অব্যাহত রাখেন ।
খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ - এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পক্ষাবলম্বন
খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রতি ঈমান আনলেন । আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যে ওহী আসত তা সত্য বলে মেনে নিলেন এবং তাঁর কাজে সহায়তা করতে লাগলেন । তিনিই প্রথম আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনেন । আল্লাহ্র পক্ষ থেকে রাসূল (সা:) -এর কাছে যে ওহী আসে , তাকে সত্য বলে স্বীকার করেন । তাঁর ঈমান আনার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাঁর নবীর কাজকে কিছুটা সহজ করে দেন । কেননা যখনই কেউ তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করত বা তাঁকে মিথ্যুক বলত , তখন তিনি বিরক্ত ও মর্মাহত হতেন । কিন্তু যেই তিনি খাদীজার কাছে ফিরতেন , অমনি আল্লাহ্ তাঁর মনের সেই ক্ষোভ দূর করে দিতেন । কেননা খাদীজা তাঁকে সান্ত্বনা ও প্রবোধ দিতেন , তাঁর বক্তব্যের সত্যতা প্ৰতিপন্ন করতেন এবং মানুষের দুর্ব্যবহারকে হালকা ও গা সওয়া করে দিতেন । আল্লাহ্ খাদীজার ওপর রহম করুন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ

📄 খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ


খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ
ইবন ইসহাক বলেন : হিশাম ইব্‌ন উরওয়া তার পিতা উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন আবূ তালিব ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন , “ আমি খাদীজার জন্য এমন একটি গৃহের সুসংবাদ দিতে আদিষ্ট হয়েছি , যা ‘ কাসাব ’ বা ফাঁপা মুক্তা দিয়ে তৈরি এবং যা সর্বপ্রকারের হৈ - হুল্লোড় , চিৎকার ও অপ্রীতিকর বস্তু থেকে মুক্ত । ”

**টিকাঃ**
১ . ইবন হিশাম এ হাদীসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন : “ কাসাব ’ অর্থ ফাঁপা মুক্তার গৃহ
হাদীসটির সনদ বা বর্ণনা - সূত্র সাহাবী পর্যন্ত সীমিত । তবে মুসলিম শরীফে এর ধারাবাহিকতা হিশাম থেকে তার পিতা উরওয়া এবং উরওয়া থেকে হযরত আয়েশার মাধ্যমে রাসূল (সা:) পর্যন্ত বিস্তৃত । ( রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৭৭ দ্র . )

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 জিবরীল কর্তৃক খাদীজার কাছে আল্লাহর সালাম পেশ

📄 জিবরীল কর্তৃক খাদীজার কাছে আল্লাহর সালাম পেশ


জিবরীল কর্তৃক খাদীজার কাছে আল্লাহ্র সালাম পেশ
ইবন হিশাম বলেন : নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমি শুনেছি যে , জিবরীল রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে এসে বলেছিলেন , আপনি খাদীজাকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে দিন । তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেন : হে খাদীজা ! এই যে জিবরীল , তোমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম জানাচ্ছেন । খাদীজা বললেন , আল্লাহ্ স্বয়ং সালাম ( শান্তি ) তিনি শান্তির উৎস এবং জিবরীলের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া

📄 ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া


ওহী স্থগিত হওয়া ও সূরা দুহা নাযিল হওয়া
ইবন ইসহাক বলেন : এরপর কিছুদিন রাসূলুল্লাহ (সা:) -এর কাছে ওহী নাযিল হওয়া স্থগিত ছিল । এতে তিনি বিব্রতবোধ করেন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন । অবশেষে জিবরীল ( আ ) সূরা দুহা নিয়ে এলেন । এতে আল্লাহ্ তাঁর প্রতি ইতিপূর্বে বর্ধিত অনুগ্রহ ও সম্মানের উল্লেখ করে শপথপূর্বক বলেন : “ শপথ পূর্বাহ্নের , শপথ রাতের , যখন তা হয় নিঝুম , তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি । অর্থাৎ তোমার প্রতি বিরাগভাজন হয়ে তোমাকে বর্জন করেননি এবং তোমাকে ভালোবাসার পর আর তোমাকে অপসন্দ করেননি । তোমার জন্য পরবর্তী সময় তো পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা শ্রেয় । ” অর্থাৎ পৃথিবীতে তোমাকে যে মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করেছি , তার চাইতে উত্তম দান তোমার জন্য রয়েছে , যখন তুমি আমার কাছে ফিরে আসবে । অচিরেই তোমার রব তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন আর তুমি সন্তুষ্ট হবে । অর্থাৎ দুনিয়ায় শান্তি ও মঙ্গল এবং আখিরাতে উত্তম কর্মফল । তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি ; আর তোমাকে আশ্রয় দান করেননি ? তিনি তোমাকে পেয়েছেন দিশেহারা ; তারপর তিনি পথের দিশা দিলেন । তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব অবস্থায় , এরপর অভাবমুক্ত করলেন । ” অর্থাৎ আল্লাহ্ তাঁকে প্রথম থেকেই কিরূপ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করেছেন , তাঁর ইয়াতীম অসহায় ও দিশাহারা অবস্থায় তাঁর ওপর কিরূপ করুণা বর্ষণ করেছেন এবং কিভাবে স্বীয় মেহেরবানীতে এ সব দুরবস্থা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছেন , তা জানাচ্ছেন ।

**টিকাঃ**
১. ওহীর আগমন আড়াই বছর স্থগিত ছিল ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00