📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 কুরআন নাযিল হওয়ার সময়

📄 কুরআন নাযিল হওয়ার সময়


কুরআন নাযিল হওয়ার সূচনা
কুরআন নাযিল হওয়ার সময়
ইবন ইসহাক বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হয় পবিত্র রমযান মাসে । মহান আল্লাহ্ বলেন : “ রমযান মাস , এতে মানুষের দিশারী এবং সংপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন নাযিল হয়েছে । ” ( ২ : ১৮৫ )
আল্লাহ্ আরো বলেন : “ নিশ্চয়ই আমি এ কুরআন মহিমান্বিত রাতে নাযিল করেছি । আর মহিমান্বিত রাত সম্বন্ধে আপনি কি জানেন ? মহিমান্বিত রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ । সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে । শান্তিই শান্তি , সে রাত ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত । ” ( ৯৭ : ১-৫ )
আল্লাহ আরো বলেন : “ হা - মীম , শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের । আমি তো এটি নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে । আমি তো সতর্ককারী । এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয় আমার আদেশক্রমে । আমি তো রাসূল প্রেরণ করে থাকি । ” ( ৪৪ : ১-৫ )
আল্লাহ্ আরো বলেন : “ যদি তোমরা ঈমান রাখ আল্লাহতে এবং আমি মীমাংসার দিন আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছিলাম তাতে , যখন দু'দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল । ” ( ৮ : ৪১ )
এখানে দু'দলের সম্মুখীন হওয়ার দ্বারা বদর প্রান্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ও মুশরিকদের মুখোমুখি হওয়াকে বুঝানো হয়েছে ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 বদর যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ

📄 বদর যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ


বদর যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আবদুল্লাহ ইবন হাসান ' সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে , তিনি বলেছেন : আমি আমার মাতা ফাতিমা বিনতে হুসায়নকে হযরত খাদীজা ( রা ) থেকে বলতে শুনেছি যে , তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ (সা:) -কে আমার ভিতর ঢুকিয়ে নিই , ফলে তখনই জিবরীল চলে যান । আমি বললাম : ফেরেশতা , শয়তান নয় ।
ইবন ইসহাক বলেন : আমার কাছে আবূ জা'ফর মুহাম্মদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন হুসায়ন বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) ও মুশরিকরা বদর প্রান্তরে ১৭ ই রমযান , শুক্রবার সকালে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হয়েছিল ।

**টিকাঃ**
১. ইনি আবদুল্লাহ ইবন হুসায়ন ইবন হাসান ইবন হাসান ইবন আলী ( রা ) ইবন আবু তালিব । তাঁর মা ফাতিমা বিনত হুসায়ন , যিনি সুকায়না - এর বোন । সুকায়নার আসল নাম আমিনা ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ-এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পক্ষাবলম্বন

📄 খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ-এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পক্ষাবলম্বন


ইবন ইসহাক বলেন : এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর কাছে ক্রমাগত ওহী আসতে থাকে । তিনি ছিলেন আল্লাহ্র প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসী , তাঁর কাছে আগত ওহীকে তিনি সত্য বলে মানতেন ও আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতেন এবং আল্লাহ্ তাঁর উপর যে , গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন , তা তিনি যথাযথভাবে পালন করেন । এতে কে খুশি , কে নাখোশ , তার পরোয়া তিনি করতেন না । নবুওয়ত একটি গুরুতর ও কষ্টকর দায়িত্ব । একমাত্র অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও অনমনীয় মনোবলসম্পন্ন নবী - রাসূলগণই আল্লাহ্ সাহায্য ও সহায়তার বলে বলীয়ান হয়ে এ গুরুভার বহন করে থাকেন এবং বহন করতে সমর্থ হন । কেননা তাঁরা একাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে প্রবল বাধা - বিপত্তি ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন । রাসূলুল্লাহ্ (সা:) স্বীয় জাতির পক্ষ থেকে প্রবল বিরোধিতা ও নির্যাতন - নিপীড়ন সত্ত্বেও আল্লাহ্র আদেশ পালন অব্যাহত রাখেন ।
খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ - এর ইসলাম গ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর পক্ষাবলম্বন
খাদীজা বিন্ত খুওয়ায়লিদ রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর প্রতি ঈমান আনলেন । আল্লাহ্র পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যে ওহী আসত তা সত্য বলে মেনে নিলেন এবং তাঁর কাজে সহায়তা করতে লাগলেন । তিনিই প্রথম আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনেন । আল্লাহ্র পক্ষ থেকে রাসূল (সা:) -এর কাছে যে ওহী আসে , তাকে সত্য বলে স্বীকার করেন । তাঁর ঈমান আনার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাঁর নবীর কাজকে কিছুটা সহজ করে দেন । কেননা যখনই কেউ তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করত বা তাঁকে মিথ্যুক বলত , তখন তিনি বিরক্ত ও মর্মাহত হতেন । কিন্তু যেই তিনি খাদীজার কাছে ফিরতেন , অমনি আল্লাহ্ তাঁর মনের সেই ক্ষোভ দূর করে দিতেন । কেননা খাদীজা তাঁকে সান্ত্বনা ও প্রবোধ দিতেন , তাঁর বক্তব্যের সত্যতা প্ৰতিপন্ন করতেন এবং মানুষের দুর্ব্যবহারকে হালকা ও গা সওয়া করে দিতেন । আল্লাহ্ খাদীজার ওপর রহম করুন ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ

📄 খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ


খাদীজার জন্য স্বর্ণরৌপ্য খচিত গৃহের সুসংবাদ
ইবন ইসহাক বলেন : হিশাম ইব্‌ন উরওয়া তার পিতা উরওয়া ইবন যুবায়র থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জা'ফর ইব্‌ন আবূ তালিব ( রা ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ্ (সা:) বলেছেন , “ আমি খাদীজার জন্য এমন একটি গৃহের সুসংবাদ দিতে আদিষ্ট হয়েছি , যা ‘ কাসাব ’ বা ফাঁপা মুক্তা দিয়ে তৈরি এবং যা সর্বপ্রকারের হৈ - হুল্লোড় , চিৎকার ও অপ্রীতিকর বস্তু থেকে মুক্ত । ”

**টিকাঃ**
১ . ইবন হিশাম এ হাদীসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন : “ কাসাব ’ অর্থ ফাঁপা মুক্তার গৃহ
হাদীসটির সনদ বা বর্ণনা - সূত্র সাহাবী পর্যন্ত সীমিত । তবে মুসলিম শরীফে এর ধারাবাহিকতা হিশাম থেকে তার পিতা উরওয়া এবং উরওয়া থেকে হযরত আয়েশার মাধ্যমে রাসূল (সা:) পর্যন্ত বিস্তৃত । ( রওযুল উনুফ , ১ ম খণ্ড , পৃ . ২৭৭ দ্র . )

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00