📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইয়ূহান্না কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সুসংবাদ প্রদান

📄 ইয়ূহান্না কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সুসংবাদ প্রদান


ইনজীলে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর বিবরণ
ইয়ূহান্না কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর সুসংবাদ প্রদান
ইবন ইসহাক বলেন : হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে হযরত ঈসা ( আ ) -এর যে বর্ণনা ও প্রতিশ্রুতি তাঁর সহচর ইয়ূহান্না কর্তৃক সংকলিত ইনজীলে বর্ণিত হয়েছে এবং যা স্বয়ং হযরত ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম ( আ ) ইনজীলের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্র তরফ থেকে প্রাপ্ত ওয়াহীর আলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন , আমার জানামতে তা নিম্নরূপ :
হযরত ঈসা ( আ ) বলেন : “ যে ব্যক্তি আমার সংগে শত্রুতা করল , সে তার পরোয়ারদিগারের সংগে শত্রুতা করল । যেসব কাজ আর কেউ কখনো করেনি , তা যদি আমি তাদের ( অবিশ্বাসীদের ) সামনে করে না দেখাতাম , তাহলে ( সেসব কাজ না করায় ) তাদের কোন দোষ হত না । কিন্তু এখন তারা আল্লাহ্র নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছে । তারা ভেবেছে যে , এভাবে তারা আমার ওপর ও আল্লাহ্ ওপর বিজয়ী হতে পারবে । এসব এজন্য ঘটেছে , যাতে আল্লাহ্র কিতাবের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয় । তারা আমার সংগে অযথা শত্রুতা করেছে । তবে যদি মুনহামান্না [ মুহাম্মদ (সা:) -এর সুরিয়ানী নাম ] আসতেন , যাঁকে আল্লাহ্ পবিত্র আত্মাসহ তোমাদের কাছে পাঠাবেন , তিনিই আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবেন এবং তোমরাও অবশ্যই আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে । কারণ তোমরা দীর্ঘদিন ধরে আমার সংগে আছ । আমি তোমাদের এসব কথা এজন্য বললাম , যাতে তোমরা অভিযোগ করতে না পার ।

📘 সিরাতে ইবন হিশাম > 📄 ইনজীল গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর গুণাবলী

📄 ইনজীল গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর গুণাবলী


ইনজীল গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর গুণাবলী
ইউহান্নাস নামক হযরত ঈসা ( আ ) -এর জনৈক শিষ্য ইনজীল থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা:) -এর নবুওয়ত প্রমাণ করেন । ইবন ইসহাক বলেন : হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে ঈসা ( আ ) প্রদত্ত যে বিবরণ ও ভবিষ্যদ্বাণী ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম ( আ ) -এর সহচর ইউহান্নাস কর্তৃক সংকলিত ইনজীলে বর্ণিত হয়েছে এবং যা ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম ( আ ) আল্লাহ্র তরফ থেকে প্রাপ্ত ইনজীলে ইনজীলধারীদের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন , আমার জানামতে তা নিম্নরূপ :
“ যে আমার সংগে শত্রুতা করল , সে যেন রবের সংগে শত্রুতা করল । যে সব কাজ আমার পূর্বে আর কেউ করেনি , আমি যদি সেসব কাজ তাদের সামনে করে না দেখাতাম , তাহলে তাদের কোন দোষ হতো না । কিন্তু এখন তারা সত্যের প্রতি হঠকারিতা করা শুরু করেছে । তারা ভেবেছে যে , এভাবে তারা আমাকে ও আল্লাহকে পরাজিত করতে পারবে । অথচ ঐশী গ্রন্থের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হওয়া অবধারিত । তারা আমার সংগে অন্যায়ভাবে শত্রুতা করেছে । তবে মুনহামান্না- যাকে মহাপ্রভু আল্লাহ্ নিজের পক্ষ থেকে পাঠাবেন , যিনি মহাপ্রভু আল্লাহ্র নিকট থেকে আগত পবিত্র আত্মা- তবে তিনি অবশ্যই আমার পক্ষে সাক্ষী হবেন , আর তোমরাও সাক্ষী হবে । কারণ প্রথম থেকেই তোমরা আমার সংগে আছ । তোমরা যাতে পরে অভিযোগ করতে না পার , সেজন্য আমি এ সব কথা বললাম । ”
উল্লেখ্য যে , সুরিয়ানী ভাষায় মুনহামান্না অর্থ প্রশংসিত বা মুহাম্মদ । আর রোমান ভাষায় এর প্রতিশব্দ পারাকালিন্তিস (সা:) ।
( যোহনের ইঞ্জীলের বর্ণিত বাক্যাবলীতে হযরত ঈসা ( আ ) বারবার সেই পয়গম্বরের আগমনের সুসংবাদ দিয়াছেন । তাহাকে তিনি ' ফারকালিত ' ( Paraclete ) বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন । এই শব্দটি ইবরানী অথবা সুরয়ানী । এই শব্দটির হুবহু আরবী অনুবাদ মুহাম্মদ এবং আহমদ অর্থাৎ প্রশংসিত , পরম প্রশংসাকিরী অথবা পরম পরম প্রশংসিত । গ্রীক ভাষায় এ শব্দটির অনুবাদ পাইরিকিলইউটাস । ইহার অর্থও অত্যন্ত প্রশংসকারী বা প্রশংসিত ( আহমদ ) । পরে খ্রিস্টানগণ শব্দটি পরিবর্তন করিয়া ' শান্তিদাতা ' অর্থে ব্যবহার করে ।
—হযরত মুহাম্মদ (সা:) : সমকালীন পরিবেশ ও জীবন : মাওলানা মো : তোফাজ্জল হোছাইন , পৃ . ৯৩-৯৪ ( সংক্ষেপিত ) ।

**টিকাঃ**
১. মূল শব্দটি মাজ্জানান অর্থ অন্যায়ভাবে , বিনাকারণে বিনালাভে বা বিনামূল্যে বিজ্ঞজনদের কথিত একটি প্রবাদ বচনে বলা হয়েছে : “ হে আদম সন্তান , বিনামূল্যে অন্যকে শিক্ষা দাও , যেমন তুমি কি মূল্যে শিক্ষা লাভ করেছ । ” অথবা অভিজ্ঞ লোকদের পরামর্শ নাও , তারা তোমাকে বিনামূল্যে এমন জ্ঞান দান করবেন , যা তারা বহু মূল্যে অর্থাৎ দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় অর্জন করেছেন ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00