📄 খাত্তাব কর্তৃক যায়দ ইন্ন নুফায়লের ওপর নির্যাতন ও অবরোধ এবং যায়দের সিরিয়ায় পলায়ন ও মৃত্যু
খাত্তাব কর্তৃক যায়দ ইবন নুফায়লের ওপর নির্যাতন ও অবরোধ এবং যায়দের সিরিয়ায় পলায়ন ও মৃত্যু
খাত্তাব যায়দকে প্রায়ই নির্যাতন করত । শেষ পর্যন্ত মক্কাবাসীর ধর্ম নষ্ট হওয়ার ভয়ে সে যায়দকে মক্কার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে নির্বাসিত করে । মক্কার ঠিক বিপরীত দিকে হেরা পর্বতের ওপর তিনি থাকতে লাগলেন । কুরায়শ বংশের দুষ্ট প্রকৃতির একদল তরুণকে খাত্তাব যায়দের পাহারার কাজে নিয়োজিত করল এবং কিছুতেই যাতে যায়দ মক্কায় ঢুকতে না পারে , সেজন্য সর্বক্ষণ তাদের পাহারা দিতে বলল । মাঝে মাঝে যায়দ গোপনে মক্কায় ঢুকতেন । আর যুবকরা তা টের পেলেই খাত্তাবকে জানাত এবং তাকে নির্যাতন করে আবার বের করে দিত , যাতে মক্কাবাসীর ধর্ম নষ্ট না হয় এবং যায়দের কোন অনুসারী সৃষ্টি না হয় । এ জন্য যায়দ সব সময় আল্লাহ্র কাছে এ বলে ফরিয়াদ করতেন : “ হে আল্লাহ্ ! আমি তো হারাম শরীফেরই অধিবাসী , বহিরাগত নই , আমার ঘর ‘ মাহিল্লা'র মাঝে সাফার নিকটে অবস্থিত , যা বিভ্রান্তকারী ঘর নয় । ”
অবশেষে যায়দ হযরত ইবরাহীমের ধর্ম অনুসন্ধানের জন্য সফরে বেরিয়ে পড়েন এবং ধর্মীয় পণ্ডিত ও দরবেশদের খুঁজতে থাকেন । এ উদ্দেশ্যে তিনি ইরাক ও সমগ্র আরব উপদ্বীপ সফর করেন । তারপর চলে যান সিরিয়ায় । সেখানে এক পার্বত্য উপত্যকায় এক দরবেশের সাক্ষাত পান । এ স্থানটি সিরিয়ার বালকা অঞ্চলে অবস্থিত । জনশ্রুতি ছিল যে , ঐ দরবেশ খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় বিদ্বান ছিলেন । যায়দ তাকে হযরত ইবরাহীমের আসল ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন । দরবেশ বললেন , তুমি যে দীনের অনুসন্ধান করছ , তা তোমাকে শিক্ষা দিতে পারে এমন কোন লোক তুমি এখন আর পাবে না । তবে তুমি যে দেশ থেকে এসেছ , সেখান থেকেই একজন নবীর আবির্ভাবের সময় ঘনিয়ে এসেছে । তিনি নবী ইবরাহীম ( আ ) -এর আসল ধর্মসহ প্রেরিত হবেন । তুমি তোমার দেশে চলে যাও । কেননা অচিরেই তিনি আবির্ভূত হবেন এবং এটাই তাঁর যুগ । ইতিপূর্বে তিনি ইয়াহুদী ও খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন , কিন্তু এর কোনটাই তার পসন্দ ছিল না । এরপর তিনি ঐ দরবেশের কথা শুনে সিরিয়া থেকে বেরিয়ে দ্রুত মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন । কিন্তু যখন তিনি বনূ লাখামের বস্তিতে পৌঁছান , তখন তারা তাঁর উপর হামলা করে তাঁকে মেরে ফেলে । এ খবর শুনে ওয়ারাকা ইবন নাওফাল ইন আসাদ যায়দের জন্য অনেক কাঁদেন এবং নিম্নোক্ত কবিতার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন :
“ তুমি সঠিক পথ পেয়েছ , অনুগৃহীত হয়েছ , হে ইব্ন আমর , তুমি জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডকে দূরে রেখেছ , আর ধর্মদ্রোহিতামূলক মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করেছ । যে ধর্মের সন্ধানে তুমি যত্নবান ছিলে , তা তুমি অর্জন করেছ , তুমি কখনো আল্লাহ্র একত্বের কথা ভোলনি । পরম সম্মানিত বাসস্থানে তুমি স্থান লাভ করেছ , যেখানে তুমি সম্মানের সাথে তোমার কৃতকর্মের ফল লাভ করবে । তুমি কখনো স্বেচ্ছাচারী ও যালিম ছিলে না , যার অবধারিত ঠিকানা হলো দোযখ । মানুষ অবশ্যই আল্লাহ্র রহমত লাভ করে , চাই সে যতই দুর্গম স্থানেই থাকুক । ”